বেশ তো আরেক পায়ের জুতাটা খুলে যান।
তা হয় না মিঃ কার্টার। লন্ডনের তৈরি জুতা, হংকং পুলিশ সহজেই ধরতে পারে খুনীকে।
তা ঠিক, বন্ড বলল, তবে চলে আসুন।
আসকারি বন্ডের দিকে তাকিয়ে, ওল্ড ম্যান, প্রিন্স এর সঙ্গে এভাবে কেউ কথা বলে না।
বন্ড বললেন, কিন্তু আমি বলে থাকি। এখন আসুন তো, সেই সঙ্গে আপনার মনস্থির করে ফেলুন। আমাকে ঠকাবার চেষ্টা করবেন না। আপনি বিপদে পড়েছেন এবং আমিও। এই সময়ে আমাদের পরস্পরকে খুবই প্রয়োজন। তাই আমরা দুজনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেই হল।
বন্ডের থেকে একটা সিগারেট চাইলেন প্রিন্স। হংকং-এ আমার লোকবল কেউ নেই। তিনজন ছিল কালই খতম হয়ে গেছে। তাছাড়া, আমার পোশাক নেই, লুকোবার জায়গা নেই। তাই আপনি ছাড়া আমার গতিও নেই। আমেরিকান দেশাত্মবোধক গান এত বেশি অনুভূতিশীল
দু জনে জনির কামরা থেকে বেরিয়ে এল, প্রিন্স-এর দুটো পা জুতোহীন, প্যান্টের পা অনেকখানি গুটোন। বন্ডেরও সেই রকম। দু জন আমেরিকান মাতাল নাবিকের মত ওরা এগিয়ে চলল। তারা একটি বারে ঢুকল। একটি মেয়ে এসে। তাদের কাছে অর্ডার নিয়ে গেল।
একটু বাদেই মেয়েটি হুইস্কির বোতল এনে তাদের টেবিলে দিল। বন্ড একবার মেয়েটির সৌন্দর্য লক্ষ্য করল। এবার কাজের কথায় আসল বন্ড। আচ্ছা প্রিন্স, আপনি জানেন জেনারেল আগাস্টে বুলেঙ্গার এখন কোথায়?
ম্যাকাও-র টাই টপ হোটেলে। লোকটা দারুণ সেক্সি, যে কোন বয়সের ছুকরি পেলে সব কিছু ভুলে যায় ও। ভীষণ বিপদজ্জনক লোক।
বন্ড কিন্তু প্রিন্সের কথাগুলো খুব মন দিয়ে শুনল। জেনারেলের এই দুর্বলতার কথা সে কিংবা হক্ জানেন না। এমন কি তাদের ইনটেলিজেন্স-ও এসব খবর রাখে না। আশ্চর্য।
দ্য গল অনেক চেষ্টা করেও জেনারেলকে ধরে রাখতে পারেননি, প্রিন্স আরো বলল, শেষ পর্যন্ত তারা তাকে ফাঁসি দেবার জন্য সাব্যস্ত করে। তখন জেনারেল আমার কাছে চলে আসে এ্যাংগোলায়। জেনারেল গেরিলা লড়াইয়ে ওস্তাদ, কিন্তু সে এখন আমাকে হত্যা করে নিজে ডিরেক্টর হবে।
বন্ড মাথা নাড়ল, হক ঠিকই বলেছেন। বন্ড এবার জিজ্ঞেস করল, কর্নেল চুন লি কে ম্যাকাওতে দেখেছেন? লোকটা চৈনিক। আপনি হয়ত তাকে চিনবেন না, তাদের দেশের কাউন্টার ইনটেলিজেন্স-এর লোক সে। ওকে আমি চাই।
প্রিন্স বলল, তোমার চুন লিও এখন টাই পি হোটেলে রয়েছে। আমরা তিনজনে গতকাল এক সঙ্গে ছিলাম। ড্রিঙ্ক করিয়ে ওরা আমাকে মাতাল করে দিয়েছে, ওরা নিজেরাও মাতাল হয়েছে। নেশার ঝোঁকে আমাকে খুন করার চক্রান্ত, আমার সামনেই করেছিল। কিন্তু ওরা ভুল করেছিল, ওরা ভেবেছিল খুব সহজেই আমাকে খুন করতে পারবে। দ্বিতীয়তঃ ওরা ভেবেছিল আমি খুন হওয়ার পর ওরা ওদের মতলবের কথা বেমালুম চেপে যাবে, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করবে। প্রিন্স হেসে বলল, অতএব, মিঃ কার্টার আপনি হয়ত একটা ভুল করেছেন। আপনি যা মনে করছেন ব্যাপারটা কিন্তু ঠিক তার বিপরীত। হয়ত আমার থেকে আপনার প্রয়োজনটাই বেশি। আর তাই জিজ্ঞেস করছি সেই মেয়েটি এখন কোথায়? প্রিন্সেস মরগ্যান দ্য গামা? মেয়েটিকে কয়েকটা কাগজে সই করাতে হবে। আমি ওর কোন ক্ষতি করব না। বরং ব্যক্তিগত ভাবে ওকে আমি অনুরোধ জানাব নোংরা পথ ছেড়ে দেবার জন্য।
নোংরা পথ? বন্ড বলল, তার মানে আপনি কি ওর নগ্ন দেহের ফিলম দেখেছেন?
প্রিন্স বিরক্তিস্বরে, যা দেখেছি। তবে কোন উৎসাহ পাইনি, বরং দেখতে দেখতে ঘৃনা হয়েছে, চুন লি রও। শুধু জেনারেল একান্ত মনে দেখেছে। আমার মনে হয় জেনারেল, এই সব নোংরা ছবি দেখে চাঙ্গা হওয়ার চেষ্টা করে। প্রিন্সেস-এর নগ্নফিল্ম দেখে জেনারেল এখন খ্যাপা কুকুরের মত। যেভাবেই হোক প্রিন্সেসকে দখল করতে চায় সে। কিন্তু ঐ জেনারেলের হাত থেকে ওকে বাঁচাতে হবে, ওকে আমার চাই। প্রয়োজনে লিসবনের সাহায্য নিতে পারি।
লিসবন তথা পুর্তগীজ সরকার যদি একবার প্রিন্সেস-এর হদিশ পায়, তাহলে ওরা ওকে পুর্তগালে নেবেই। আর ওর কাকা ওকে পাগলা গারদে পুরে দেবে। বন্ড তা চায় না। তাই সে বলে, আমরা দুজনে একসঙ্গে কাজ করলে। প্রিন্সেসকে বাঁচাতে পারব। আমি জানি প্রিন্সেস এখন কোথায় আছে। সে খবর আপনার জানা নেই। আমার বিশ্বাস, সব খবর আপনি এখনো আমাকে খুলে বলেননি।
সঙ্গে সঙ্গে হকের কথা মনে পড়ে বন্ডের। তার নির্দেশ ম্যাকাওতে তার একা যেতে হবে, এমনকি এ্যাক্সের কোন এজেন্টকেও নয়। ম্যাকাও হংকং নয়। বিট্রিশ দেখল দারুণ কঠোর হলেও তারা আমেরিকানদের সহযোগিতা করবেই। আর পুর্তগীজ? ওরা লেড়ি কুত্তার জাত। কেবল চিৎকারই করে, কামড়াতে পারে না। ভুলে যেও না, হক। তাকে বার বার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন কেপ ভারদি দ্বীপের কথা। আর সেখানে সঞ্চিত মূল্যবান ধনরত্নের কথা। প্রিন্স আসকারি বন্ডের দিকে হাত বাড়ায়, আমি আপনার সঙ্গে চুক্তি করতে চাই মিঃ কাটার। আমি এ্যাংগোলার প্রিন্স, আমার কথার খেলাপ হয় না।
বন্ড বিশ্বাস করল বটে, কিন্তু প্রিন্সের সঙ্গে হাত মিলালো না। বলল সে, হতে পারে, তবে চুক্তি করার, আগে আমরা উভয়ে উভয়কে কতটা দিতে পারি, তার বিনিময়ে কতটা পেতে পারি। আর আমাদের প্রয়োজনটা কি?
প্রিন্স তার হাতটা গুটিয়ে নিয়ে ক্লান্তস্বরে বলল, ঠিক আছে মিঃ কার্টার। আপনি যা ইচ্ছে করেন।
