প্রেস্টন তখন মাইকে কথা বলছিল, স্পিনার ওয়ানঃ হ্যাঁচেট ওয়ান-এর মেসেজ। আমাদের মিশন শুরু হচ্ছে এবার। উইলকো। কামিং। আউট…আমার কথা বুঝলে স্পিনার ওয়ান?
কিন মাস্টার এবার প্রেক্টনের দিকে ফিরে বলল, ঠিক আছে প্রেস্টন। ট্রাফিক জ্যামের বন্দোবস্ত কর। এবার আমাদের বন্ধুরা হেলিকপ্টারকে অনুসরণ করে, আমি চাই না। বুমন্দারিন হোটেলের ছাদটা বিরাট। হেলিকপ্টার ওঠা নামা করার পক্ষে উপযোগী। ডিকেন্সন আগেই প্রিন্সেসকে ছাদের ওপরে নিয়ে গিয়েছিল। বন্ড পরে ছাদে এল। ওদিকে হেলিকপ্টার নিঃশব্দে ছাদে নামল। বন্ডের নির্দেশ মত ডিকেন্সন মেয়েটিকে হেলিকপ্টারে তুলে নিল। পাঁচ মিনিট পরেই প্রিন্সেসকে একটা স্টীমলঞ্চে নামিয়ে দেওয়া হবে। ওকে তখন খুঁজে পেতে ওদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে, বন্ড ভাবল। ট্রাফিক-জ্যামে এতক্ষণে যারা আটকা পড়েছে তাদের মধ্যে চুন লির লোকও আছে।
.
০৭.
হংকং-এর আইস হাউস স্ট্রীটটা বেরিয়েছে কনট রোডের চৌমাথা থেকে। মুচি, ধোপা, প্লাস্টিক ফুলের কারবারি থেকে দাঁতের ডাক্তার এখানে সবই আছে।
এরই মধ্যে জনি, জনি ওয়াইজ গাই-এর আস্তানাটা খুঁজে নিল বন্ড। পিতলের পাতের ওপর ইংরেজি ও চীনা হরফে জনি হোয়, প্রাইভেট ইনটেলিজেন্স লেখা রয়েছে।
চারতলায় তার অফিসে বন্ড উঠল তাকে হঠাৎ চমকে দেবে ভেবে। দরজা ভেজানো ছিল। নতুন ধরনের এ্যাক্স এর হোল্টারে রাখা লুগারটা হাতে নিয়ে দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকতে যাবে পানি পড়ার ছপ ছপ আওয়াজ তার কানে ভেসে এল। ঘরের ভেতর চোখ বুলোতে দেখল এক কোণায় দীর্ঘাকৃতি একজন নিগ্রো ল্যাভেটরিতে হাত ধুচ্ছে। তাকে দেখা মাত্র নিক সেদিকে এগিয়ে গেল। তার হাতে উদ্যত লুগার।
ঠিক ঐভাবে ওখানে দাঁড়িয়ে থাক, কঠিন সুরে বলল বন্ড, এক চুলও নড়বে না, ওপর দিকে হাত তুলে দেওয়ালে পিঠ দিয়ে দাঁড়াও।
লোকটা তার হুকুম মান্য করল। পরণে দামী স্যুট। তবে শার্টটা ছেঁড়া, কারোর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে ছিঁড়ে গিয়ে থাকবে হয়ত। কেবল একটা পায়ে জুতা। চাহনি উদভ্রান্তের মত। বন্ড তার দিকে একটা চেয়ার ছুঁড়ে দিয়ে বলল, বস।
পরক্ষণেই জনির রক্তাক্ত দেহটা বুকে ছুরি বিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেল। সে যদি মৃত না হত, যদি কথা বলতে পারত তাহলে নিশ্চয়ই আমাকে বলত, বন্ধু সেই এলে, কিন্তু বড় দেরী করে ফেললে।
বন্ড আবার বাস্তবে ফিরে এল। এবার সে লোকটার মুখোমুখি হল। অসম্ভব সুগঠিত চেহারার মনে হল নিগ্রো প্রেত। মৃত জনির দিকে তাকিয়ে বন্ড বলল, তুমি ওকে খুন করেছ? হ্যাঁ, সে আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমাকে খুন করতে চেয়েছিল। নিখুঁত ইংরেজি উচ্চারণ, অক্সফোর্ড ঈটন কায়দায়। কিন্তু বন্ড অবাক হল তার পঁাত দেখে দাঁতগুলো সরু করাতের মত।
বন্ডের বিস্ময় দেখে সে বলল, অবাক হওয়ার কিছু নেই আমার দাঁত দেখে। আমি চৌকি–আমাদের চৌকি জাতের লোকদের এটাই নিয়ম। পাঁচশ বছর তারা বন্দী ছিল। তাদের এবার মুক্তিযুদ্ধ শুরু–আমিও তাদের একজন। আমাকেও কিছু একটা, সবই পলিটিক্স, তোমাদের কংগ্রেসের সেনেটরদের মত কিছু করতে হবে।
আমি তোমার কথা মেনে নিলাম কিন্তু তুমি জনিকে খুন করতে গেলে কেন? –বস্ত বলল।
আমার সঙ্গে ও নোংরা খেলা খেলতে চেয়েছিল। শুধু তাই নয়, ওরা আমাকে কাল রাতে খতম করতে চেয়েছিল ম্যাকাওয়েতে–আমি শ্রীমার থেকে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে এসেছি হংকং-এ-এখানে আসতে জনি পুলড এ গান অন মি…তারই বদলা নিয়ে হাতের রক্ত ধুচ্ছিলাম, আর তখুনি এলেন আপনি। ওয়েল মিঃ কার্টার, সে নিশ্চয়ই বেশি কিছু হারায়নি, হারিয়েছে কি সে?
কি আশ্চর্য। আপনি আমাকে চেনেন? কিন্তু কেমন করে?
খুব সহজেই মিঃ কার্টার, আমি আপনাকে চিনেছি যেমন করে আপনিও জেনেছেন আমি কে। আমার নিজের ইনটেলিজেন্স সার্ভিস খুব একটা পাকাঁপোক্ত নয়, তবে পুর্তগীজ ইনটেলিজেন্স-এর উপর আমার আস্থা আছে। তাদের কাছে আপনাদের একটা সম্পূর্ণ ফাইল আছে মিঃ কার্টার। এ্যাংগোলায় আমাদের হেডকোয়ার্টারের মাধ্যমে আপনার সেই ফাইলের একটা ফটোস্ট্যাট কপি সংগ্রহ করে রেখেছি, আরো অনেক বিগ এক্সিকিউটিভদের সঙ্গে। আশা করি আপনি তাতে আপত্তি করবেন না।
হেসে ফেলল বন্ড। আর আপনি তো সভূদি আসকারি?
লোকটা বিনা অনুমতিতেই উঠে দাঁড়াল। ছ ফুট তিন চার ইঞ্চি লম্বা, বয়স তিরিশ থেকে চল্লিশের মধ্যে।
হ্যাঁ, আমি প্রিন্স সভুদি আসকারি। আমার লোকেরা আমাকে দাবকা বলে–দ্য নায়ন। কয়েক বছর আগে পুর্তগীজরা আমার বাবাকে হত্যা করে–তার অপরাধ, তিনি প্রথম বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পাঁচশ বছর ওরা আমাদের ক্রীতদাস করে রেখেছে, এবার আমরা ওদের মারব। আমাদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেব। বিশ্বের সর্বত্র আজ মুক্তির জন্য লড়াই চলছে। যেমন আফ্রিকায় চলছে। আমার বিশ্বাস, আমরা জয়ী হব।
আমি আপনার পাশে আছি। আমরা দুজনে এক সঙ্গে কাজ করতে চাই আমাদের নিজেদের স্বার্থে, বলল বন্ড।
হ্যাঁ, আমিও তাই মনে করি, প্রিন্স আসকারি বেরিয়ে যাবার আগে জনির মৃতদেহটাকে ঘৃণায় ও অবজ্ঞায় দেখে নিল। এখানে আবার হংকং পুলিশের খুনের ব্যাপারে ভীষণ কঠোর। কিন্তু এভাবে একপায়ে জুতা নেই এই পোশাকে তো যাওয়া যায় না।
