বাজারের মেয়ে কথাটা শোনামাত্র প্রিন্সেসের লাল মুখ কেমন যেন সাদা ফ্যাকাসে হয়ে উঠল। একজন চীনা মেয়ের কাছে বাজারের মেয়ে কথাটা খুবই খারাপ। মেয়েটি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। ঠিক সেই সময় দরজায় নক করার শব্দ হল।
দরজা খুলে বন্ড দু জন সাদা চামড়ার লোককে ভেতরে আহ্বান করল। বড় মাপের, তবে তাদের তেমন আকর্ষণীয় চেহারা নয়। তারা এক্স-এর লোক। ম্যানিলা থেকে হক তাদের পাঠিয়েছে।
তাদের মধ্যে একজনের হাতে একটা স্যুটকেশ। বন্ডের দিকে হাত বাড়িয়ে সে তার পরিচয় দিল, স্যার। আমার নাম প্রেস্টন। ট্যাক্সিতে ছেয়ে গেছে চারদিক।
বন্ড মাথা নেড়ে জিজ্ঞেস করল, কোন্ কোন্ রঙ সেই ট্যাক্সিগুলোর।
তার অপর সঙ্গী ডিকেন্সন এই প্রথম মুখ খুলল, সাদা আর হলুদ রঙের স্যার।
বন্ড ভ্রূ কোঁচকালো, কালো রঙের ট্যাক্সি নেই?
এ্যাক্স-এর লোকেরা দৃষ্টি বিনিময় করল। প্রেস্টন বলল, না স্যার। কেন, কালো রঙের কি থাকার কথা?
-খবর কখনো ঠিক হয় না, এমন কি এ্যাক্স-এরও। নিক তাদের বলল, সে যাই হোক, কালো গাড়ির কথা ভুলে যাও।
প্রেস্টন এবার স্যুটকেশটা খুলে একটা ছোট রেডিও ট্রান্সমিটার চালু করবার কাজে লেগে পড়ল। ডিভানের ওপর পড়ে থাকা মেয়েটির দিকে কেউ তাকাল না। রেডিও ট্রান্সমিটার চালু করে প্রেস্টন জিজ্ঞেস করল বন্ডকে, আপনার কখন হেলিকপ্টারের প্রয়োজন হবে স্যার?
এখন নয়। যতক্ষণ না তারা যোগাযোগ করে ততক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে আমাদের। বন্ড বলে, আমি যে এখানে, এ খবর তাদের জানাতে হবেই।
তারা আপনাকে এয়ারপোর্টেই লক্ষ্য করে থাকবে, ডিকেন্সন বলল, দুজনেই চৈনিক। এ ওর ওপর নজর রাখছে, সেই সঙ্গে আপনাদের ওপরেও আর জনিও অবশ্যই।
তাহলে জনিকে তোমরাও দেখেছ? বন্ড জিজ্ঞেস করল, এখানে আসার উদ্দেশ্য কি জান?
তারা দুজনেই মাথা নাড়ল, না স্যার, ওর ব্যাপারে আমাদের কোন ধারণা নেই। বরং জনিকে দেখে আমরা একটু আশ্চর্যই হয়েছি। আপনি যে কালো গাড়ির কথা বলেছিলেন, সেই গাড়ির আরোহীদের সঙ্গে তার কি কোন সম্পর্ক আছে
হ্যাঁ হতে পারে। খোঁজ নিয়ে দেখব। জনির অতীত ইতিহাস আমার জানা আছে—
ইতিমধ্যে ফোনটা বেজে উঠল। বন্ড রিসিভারটা তুলে নিল। ওরা হতে পারে। মাউথ পীসে মুখ রেখে বলল সে,
মিঃ ফ্র্যাঙ্ক ম্যানিং সদ্য বিবাহিত! হানিমুন করতে এসেছেন? পরিষ্কার ওরিয়েন্টাল ধাঁচে ইংরেজি উচ্চারণ।
হ্যাঁ, আমি ফ্র্যাঙ্ক ম্যানিং কথা বলছি। বন্ড উত্তর দিয়ে ভাবে, ওদের তাহলে বোকা বানাতে পেরেছে সে। তার আসল পরিচয় ওরা জানতে পারেনি। এখন তার কাজ হল জেনারেল বুলেঙ্গারের সঙ্গে যোগাযোগ করা–হংকং কিংবা ম্যাকাও কর্তৃপক্ষ যেখানেই হোক না কেন।আপনি? দূরভাসে সেই কণ্ঠস্বর ভেসে আসে, ম্যাকাওতে এলে আপনার শুধু আগ্রহই নয় লাভও হবে অনেক। আর এখুনি আসতে হবে। হংকং থেকে পঁচাত্তর মিনিট। আপনি চাইলে আপনার সেখানে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারি।
দরকার হবে না। বন্ড বলল। আমি নিজেই আমার যাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব। তবে আমার মনে হয়, আজ যেতে পারব না।
কিন্তু আজ আসতেই হবে। তীক্ষ্ণ কণ্ঠস্বর, সময় নষ্ট করবেন না।
না, আজ হবে না।
রাতের দিকে?
রাতের দিকে হতে পারে। তবে একটু দেরী হবে। বন্ড হাসল, বেশি রাতেই বেশি সুবিধে তার।
ঠিক আছে, ওপার থেকে জবাব এল, গোল্ডেন টাইগার, রুয়াদাস রোডের সরাই খানায় চলে আসবেন। সঙ্গে মাল আনতে ভুলবেন না। মাল মানে বুঝেছেন তো প্রিন্স
হ্যাঁ বুঝেছি।
আপনারা দুজনে মানে, আপনি আর প্রিন্সেস কেবল আসবেন। কথা না শুনলে, কিংবা চালাকি করলে বিপদ হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব আমরা নিতে পারব না।
ঠিক আছে, তাই হবে। ফোন ছেড়ে দিয়ে বন্ড এ্যাক্স-এর দু জন লোকের দিকে তাকাল। প্রেস্টন। তোমার রেডিও ট্রানজিস্টার চালু করে বলে দাও, চটপট একটা হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দেবার জন্য। আর কুইন্স রোডে ট্রাফিক জ্যাম করার বন্দোবস্ত কর। ঠিক আছে স্যার। প্রেস্টন রেডিও ট্রানজিস্টার চালু করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয় তাদের দলের লোকদের।
এবার ডিকেন্সনের দিকে তাকিয়ে বন্ড বলল, এখানে বেশি রাত বলতে কখন বোঝায়?
এগারটা।
ধন্যবাদ। তোমাদের কাছে হাতকড়া আছে।
হাতকড়া, স্যার? ওরা বিস্মিত হল। ডিকেন্সন উত্তরে বলল, না তো স্যার। আসার সময় আমাদের তো বলা হয়নি হাতকড়ার প্রয়োজন হতে পারে।
বন্ড তখন তার নিজের হাতকড়াটা পকেট থেকে বের করে ডিকেন্সনের হাতে তুলে দিয়ে প্রিন্সেসকে দেখিয়ে দিল। কান্নায় প্রিন্সেসের চোখ রাঙা। বন্ড ছোট্ট করে বলল, ওকে ছাদে নিয়ে যাও। ওর জিনিষপত্র এখানেই থাকুক। হেলিকপ্টারে তোলার পর ওর হাতের হাতকড়া খুলে নেবে। ওর প্রয়োজন খুব জরুরী আমাদের কাছে। ওই আমাদের বিজনেসের মূলধন। তাই ওর ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখবে। যাতে করে ও কিডন্যাপ হয়।
প্রিন্সেস মুখের ওপর থেকে হাত সরিয়ে ভাঙা ভাঙা গলায় অনুরোধ জানাল, প্লিজ, একটু ড্রিঙ্ক…
বন্ড ডিকেন্সনের চোখে চোখ রেখে বলল, আমার নির্দেশ ছাড়া এক চুমুক ড্রিঙ্কও দেবে না। তোমার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে দেবে না ওকে। ও চেষ্টা করতে পারে, এ ব্যাপারে অনেক ছেনালী জানে ও।
প্রিন্সেস তার পা দুটো আড়াআড়ি ভাবে রাখল। স্বচ্ছ নাইলনের প্যান্টিজের আড়াল থেকে সবই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ডিকেন্স দাঁত বের করে হাসল বন্ডের দিকে তাকিয়ে। আমার বিবাহিত জীবন বেশ সুখের স্যার। কোন মেয়েই আমাকে ভোলাতে পারবে না, সে যত সুন্দরী আর সেক্সিই হোক না কেন। আপনি চিন্তা করবেন না।
