বন্ড স্থির দৃষ্টি রাখল লাল এম, জির ওপরে। কোলোন ট্রাফিক পাতলা হয়ে আসছিল। জনি এবার একটা গাড়ি টপকে তার ট্যাক্সি দুটো গাড়ির পিছনে পিছনে চলতে থাকল। কিল মাস্টার অবাক হয়ে ভাবে। বুলেঙ্গার চৈনিক, চুন লি চৈনিক, আবার হক ও একজন চৈনিক–তারা সবাই মিলে জনিকে তাদের এজেন্ট হিসেবে মনোনীত করেনি তো?
বন্ড হাসলো। জনি আর যাইহোক তার পুরনো বন্ধু, তার চেনা-জানার মধ্যে একজন সুতরাং খুব একটা অসুবিধা হবে না তাকে সামলাতে।
হ্যাপি জনির সামনে রেস ট্র্যাকের উল্টো দিকে কুইনস রোডের ধারে বু মান্দারিন হোটেল। মেয়েটির হাত থেকে হাতকড়া খুলে দিল বন্ড। মৃদু হেসে প্রিন্সেসকে সামনের দিকে তাকাতে বলল। হোটেলের সামনে সুইমিং পুল, নীল পানি, টেনিস কোর্ট, বাগানে চীনে অশ্বথের গাছ, লাকসারির চূড়ান্ত এই মারিন হোটেল।
মধু চন্দ্রিমার স্বরে বন্ড মৃদু উচ্ছ্বসিত হয়ে প্রিন্সেসকে বলল, লাভলি ডার্লিং। এসব যেন আমাদের জন্যই তৈরি, তাই নয় কি?
প্রিন্সেসের মুখ কঠিন হয়ে উঠল, তুমি নিজেকে বোকা বানানোর চেষ্টা করো না।
বন্ড তার কথায় কান দিল না। চুক্তিমত স্বামীর দাবীতে হঠাৎ সে প্রিন্সসের হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় চেপে ধরে আবেগ কম্পিত স্বরে বলে উঠল, এসো প্রিন্সেস, এবার স্বর্গে আরোহণ করা যাক। দিনে পাঁচশ ডলারের স্যইট। মন্দ কি?
এবার প্রিন্সেস হেসে ফেলল। বন্ড বলল, লন্ডন ছেড়ে আসার পর থেকে এই প্রথম তুমি হাসলে। প্রিন্সেস হাসিমুখেই বলল, হোটেল ঘরে ঢুকেই যত শীঘ্র পার আমার জন্য মদের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের মধুচন্দ্রিমা উৎসব মধুময় করার জন্য। চেষ্টা করব। এখান এস আমার সঙ্গে।
লাল এম. জির কোন পাত্তা নেই। ওদিকে কুইন্স রোডে দু জন লোকসমেত নীল হাম্বার থেমে পড়ল। সংক্ষেপে ড্রাইভারকে নির্দেশ দিয়ে মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলের লবিতে এসে উঠল বন্ড। মেয়েটি একবারও তার হাত ছাড়ল না, নিখুঁত স্বামী-স্ত্রীর অভিনয় করছে। বন্ড লক্ষ্য করল হোটেলের লবিতে প্রত্যেকটি পুরুষের চোখে তুরপুনের মত বিধনো প্রিন্সেসের সৌন্দর্য্য। সম্ভবতঃ তারা বন্ডের সৌভাগ্যের প্রতি হিংসা প্রকাশ করতে থাকল ভেতরে ভেতরে। ডেভম্যানকে শুনিয়ে বন্ড কার্টার প্রিন্সেসের চিবুকের কাছে মুখ নামিয়ে শুধাল, ডার্লিং, আমি তোমাকে খুব ভালবাসি। তাই নিলজ্জের মত তোমার হাতটা ছাড়তে পারছি না, দেখছ না?
প্রিন্সেসের সুন্দর লাল ঠোঁটে বিরক্তির ভাব দেখা গেল। আমার কাছে তুমি একটা স্টুপিড ভাড় ছাড়া আর কিছু নও।
হোটেল ক্লার্ক হেসে বিনীত সুরে বলল, আপনাদের জন্য হানিমুনের স্যুইট প্রস্তুত স্যার, ফুলে ফুলে সাজানো। আশা করি, মিঃ এ্যান্ড মিসেস ম্যানিং আমাদের সঙ্গে কিছুদিন এখানে থেকে আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। যদি কোন প্রয়োজন হয় তো বলবেন
বন্ড দ্রুত তার সঙ্গে কথাবার্তা সেরে মেয়েটিকে ইশারায় এলিভেটরের দিকে যেতে বলল, দু টো বয় তাদের মালপত্র সঙ্গে নিয়ে অনুসরণ করল।
মিনিট পাঁচেক পরে ওরা ওদের কামরায় এল। জ্বলন্ত লাল গোলাপ আর ম্যাগনোলিয়ার আমন্ত্রণ। কামরায় এসেই প্রিন্সেস আবদারের সুরে বলল, উঃ অনেকক্ষণ ড্রিঙ্ক করিনি। আমি এখন খুব ভাল মেয়ে হয়েছি, তোমার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করছি, তাই নয় কি? আমার সঙ্গে তোমার এক মত নয় কি?
বন্ড তার কব্জি ঘড়ির দিকে তাকাতেই মনে পড়ে গেল, তার এখন অনেক কাজ। প্রিন্সেসকে একটা ডিভানের ওপর ঠেলে দিয়ে বলল, দেখ প্রিন্সেস দ্য গামা, এবার একটু আলোচনা করে নেওয়া যাক। প্রথমেই তোমাকে বলে রাখি, তুমি ড্রিঙ্ক পাচ্ছ না, কোন ড্রিঙ্ক নয়, কোন ড্রাগ নয়। তোমাকে যা যা বলা হয়েছে, এখানে তুমি ঠিক তাই করে যাবে।
মেয়েটির সবুজ চোখ হঠাৎ এক কঠিন পাথরে পরিণত হল, তার সুন্দর ঠোঁট এখন বিবর্ণ, কথায় বিরক্তি, তুমি, তুমি, একটা ভাঁড় কোথাকার। তুমি কি ভেবেছ মেয়েরা তোমার কাছে সৃষ্টিকর্তার দান? ভাবনি? মেয়েটির আবার পাগলামি শুরু হল।
বন্ড তাকে সামলাতে তার বুকের ওপর তার দেহের সমস্ত ভার দিয়ে চেপে ধরে। তার দৃষ্টি কঠিন হয়ে ওঠে নিমেষে, তুমি যদি তোমার সেই হিস্ট্রিয়া রোগটা প্রকাশ করতে চাও তো এখুনি কর। তাড়াতাড়ি
প্রিন্সেস ডিভানে তার নরম শরীরটা এলিয়ে দিল। এরপর তার স্কার্ট শালীনতার সীমা অতিক্রম করল। উন্মাদিনীর মত একটানে ব্রাটা সরিয়ে দিয়ে স্তন দুটি টেনে বের করে প্রিন্সেস বলল, প্লিজ, একটা বোতল দিলে আমি তোমাকে সেই স্বাভাবিক আদিম শব্দ উচ্চারিত হল প্রিন্সেসের কণ্ঠে।
মুহূর্তের মধ্যে বন্ড প্রচন্ড এক চড় বসাল প্রিন্সেসের গালে। প্রিন্সেসের গালের লাল আরো লাল হল। প্রিন্সেস তখন ক্ষেপে লাল, নখ দিয়ে আঁচড়ে ক্ষত-বিক্ষত করল বন্ডের মুখ। বন্ড গম্ভীরভাবে প্রিন্সেসকে চেপে ধরল ডিভানের ওপর, স্টপ! তুমি আমাদের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছ। আমাদের চুক্তি মত এখন আমি তোমাকে যা বলব তাই তোমাকে করতে হবে। কাজ শেষ হলে তোমার পাওনা গণ্ডা মিটিয়ে দেওয়া হবে। আমাদের মিশন শেষ হওয়ার আগে ফের যদি তুমি বেয়াদপি কর, তাহলে আমরা তোমাকে পুর্তগীজ সরকারের হাতে তুলে দিতে একটুও দ্বিধা করব না। আমি জানি, তুমি একটা বাজারের নষ্টা মেয়ে।
