সবই তো বুঝলাম কিন্তু এক্ষেত্রে টেড ব্লেকারের ভূমিকা যে কি ছিল তা তো বুঝলাম না স্যার?
খুবই সহজ, বলে, হক তাকে বোঝাতে থাকেন, প্রিন্সেসকে মাদক দ্রব্যে আসক্ত করে তাকে দিয়ে ব্লুফিল্ম তুলে পরে সেই ব্লু ফিল্ম দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেল করা। কিন্তু পরে যখন জানল যে প্রিন্সেসের কাছে কোন টাকা নেই তখন সে অন্য ধান্দায় মেতে ওঠে। ব্লেকার জানতো প্রিন্সেসের কাকা লুইস দ্য গামা লিসবনে ক্যাবিনেট পর্যায়ের একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি। তাই সে তাকে প্রিন্সের নগ্ন ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছিল। যাই হোক প্রিন্সেসের কাকা পুর্তগীজ ইনটেলিজেন্সকে সতর্ক করে দিয়ে হুকুম দেয়, যেভাবেই হোক প্রিন্সেসকে পুর্তগালে ফিরিয়ে আনা চাই। কিন্তু শেষ খবর হল, পুর্তগীজ চায় প্রিন্সেসকে কেন্দ্র করে তার কাকা কেসটা প্রফুঁকো স্ক্যান্ডালে পরিণত হোক। মনে আছে তোমার, প্রফুঁকো কেলেঙ্কারির দরুণ তখনকার ব্রিটিশ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়েছিল! প্রিন্স আসকারি প্রিন্সেস এবং ব্রেকারের বু ফিল্ম দু টোকেই কাজে লাগাতে চায়। পুর্তগীজ সরকারকে উচ্ছেদ করতে চায় প্রিন্সেসের কাকাকে এই কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে। জেনারেল বুলেঙ্গারের কথা তো আগেই বলেছি তোমাকে। সে মেয়েটির নগ্ন ছবি দেখে এত বেশি গরম হয়ে আছে যে, তাকে সে তার শয্যাসঙ্গিনী করতে চায় চিরদিনের জন্য। তাই সে প্রিন্সেসকে পাবার জন্য চীনা বন্ধুদের সাহায্য পেতে চায়। লন্ডনে চীনাদের গুপ্তচর সংস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জেনারেলের মত আছে। চীনারা ব্লেকারকে খুন করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা দুজন নিগ্রোকেও খতম করেছে। জেনারেল হয়ত বু ফিল্ম পেয়ে গেছে, আর এখন মেয়েটিকে পেতে চায়। সে জানে মেয়েটি এখন আমাদের কাছে। আমরা তার হাতে মেয়েটিকে তুলে দেব তার কাছে মোটা টাকার হীরে সংগ্রহের বিনিময়ে। আর সেই সঙ্গে চুন লিকে তোমার হাতে তুলে দিতে হবে তাকে।
কিংবা সে আমাকে চুন লি র হাতে তুলে দেবে, এই তো? আমি তো তোমাকে আগেই বলেছি বস, তোমাকে একঝাক হাঙরের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
প্লেনের মধ্যে ইংরেজি, ফরাসী এবং চীনা ভাষায় উচ্চারিত হল–আপনারা যে যার আসনের বেল্ট শক্ত করে বেঁধে নিন ধূমপান করবেন না। তারা তখন কাকটাই এয়ারপোর্টে পৌঁছেছিল। বন্ড ঘুমন্ত প্রিন্সেসকে জাগিয়ে তুলে ফিসফিসিয়ে বলল, আমার সুন্দরী বৌ উঠে পড়। আমাদের গন্তব্যস্থলে প্রায় এসে গেছি।
প্রিন্সেস বাঁকা চোখে বন্ডের দিকে তাকিয়ে, ঐ কথাটা কি তোমার ব্যবহার না করলেই নয়?
তেমনি বাঁকা চোখে তাকিয়ে বন্ড বলল, হ্যাঁ, এর প্রয়োজন খুবই জরুরী, আর এ কথাটা তোমাকে অবশ্যই মনে। রাখতে হবে। আমাদের পরিচয় হল, মি. এ্যান্ড মিসেস ফ্রাঙ্গ ম্যানিং, বাফেলো, নিউইয়র্ক, সদ্য বিবাহিত। হংকং-এ এসেছি মধুচন্দ্রিমা যাপন করতে।
বৃষ্টি পড়ছিল। তবু গরমের যেন ঘাটতি নেই। প্লেন থেকে নেমে তারা কাষ্টমস-এর দিকে এগিয়ে গেল। আকাশের অবস্থা ভাল নয়। যে কোন সময় হংকং দ্বীপে ঝড় উঠতে পারে, সমুদ্রে টাইফুন দেখা দিতে পারে।
কাষ্টমস চেকিং নির্বিঘ্নেই কাটল। বন্ড তবু সতর্ক হয়ে পকেটে হুগার এবং ট্যাকে গোঁজা স্টিলটো ভাল করে দেখে নিল। সে জানে এ্যাক্স-এর লোকেরা তাকে এখানে আড়াল করে রাখছে, সে তাদের কর্তব্য সম্পর্কে যে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল সেটা ভাল করেই জানে। বন্ড এও জানে জেনারেল বুলেঙ্গার চুন লি র এজেন্টরাও নজর রাখবে তাদের ওপর। দু পক্ষই চৈনিক।
নির্দেশ অনুযায়ী সে ভিক্টোরিয়ায় বু মান্দারিন হোটেলে উঠবে। সেখানে তাকে অপেক্ষা করতে হবে যতক্ষণ জেনারেল যোগাযোগ না করেন। বন্ড কাষ্টমস পার হয়ে আসতেই নির্দিষ্ট ট্যাক্সি এসে গেল। প্রিন্সেসকে নিয়ে বন্ড ট্যাক্সিতে উঠেই আবার তাকে হাতকড়াটা পরিয়ে দিল। প্রিন্সেস তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল। বন্ড চীনা ড্রাইভারকে নির্দেশ দিল র মান্দারিন হোটেলে যেতে এবং সেই সঙ্গে বলল, একটু আস্তে চালাতে, রাস্তাটা সে ভাল করে চিনে রাখতে চায়।
তোমার ভালর জন্যই বন্ড বোঝাল প্রিন্সেসকে, এই অপ্রিয় কাজটা আমাকে করতে হল। এখানে বহুলোক তোমার সম্পর্কে দারুণ আগ্রহী। ওরা তোমাকে যে কোন সময়ে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারে।
প্রিন্সেস তার কথায় ভোলবার পাত্রী নয়। সে কঠিন মুখ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল। বন্ড তার কঠিন মনোভাবের অর্থ বুঝতে পারে না। সেই সময় বন্ড জনিকে দেখতে পেয়ে মেয়েটির কথা ভুলে গেল। তার ট্যাক্সি থেকে তিনটি গাড়ির পিছনে জনি একটা ছোট্ট লাল রঙের এম. জি. গাড়ি চালাচ্ছিল। একটা সিগারেট ধরিয়ে বন্ড জনির কথা বলল। জনি তার পুরনো বন্ধু, দু জনেই আমেরিকায় বড় হয়েছিল। জনিও তাকে নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছে তাই সে তার ট্যাক্সিটাকে ছাড়িয়ে যেতে চাইল না। মনে হয় সে পেছন থেকে অনুসরণ করে জানতে চায়, তারা কোথায় যায়।
কিল মাস্টার বন্ড তাকে লক্ষ্য করে সাইড মীররের ওপর দৃষ্টি রাখে। স্টার ফেরীর কাছে এসে এক সময় জনির লাল এম. জি. তার দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেল। বন্ড ভাবল, জনি এখানে কি করছে? জনির আসল নাম সে জানে না, জানে না সে তার চৈনিক নাম। জনির সম্পর্কে তার কাছে শেষ খবর হল, সে নাকি হংকং-এ প্রাইভেট ডিটেকটিভ এজেন্সির অফিস খুলে বসেছে।
