হক : তোমার কি মনে হয় ব্লেকার খুন হয়েছে।
মেয়েটি? হ্যাঁ, তাতে কোন সন্দেহ নেই।
হক : কিন্তু কে তাকে খুন করতে পারে বলে তোমার মনে হয় প্রিন্সেস?
মেয়েটি? জানিনা, তবে ওর মত শয়তানের অনেক শত্রু থাকতে পারে।
হকঃ গুড! আচ্ছা পুর্তগাল ইনটেলিজেন্সির লোকটা তোমার চেনা?
মেয়েটিঃ না, তবে লোকটা আমাকে অনুসরণ করেছে।
হক : ঠিক আছে প্রিন্সেস, এখন থেকে তুমি আমাদের লোক। আমাদের দলের একজন এজেন্টের সঙ্গে তোমাকে হংকং-এ যেতে হবে। সম্ভবতঃ ম্যাকাওতে যেতে হতে পারে, সেই লোকটা আর তুমি হবে স্বামী-স্ত্রী। ম্যাকাও হচ্ছে পুর্তগীজ কলোনি। মনে রেখ, সেখানে যদি তুমি কোন বেয়াদপি কর, তাহলে সমূহ বিপদ তোমার। তোমার সরকার তোমাকে ঘরে নিয়ে পাগলাগারদে পুরে রাখবে। মেয়েটি কাঁপা কাঁপা গলায় বলে, বুঝেছি। আমি তো বলছি আমি আপনাদের হয়ে কাজ করব। আমাকে যেতে দিন। মনে হচ্ছে আমি আবার অসুস্থ হয়ে পড়ব।
হক : ঠিক আছে, তুমি এখন যেতে পার। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ম্যাকাও যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে নাও। আর তোমার প্রয়োজনীয় পোশাক ও জিনিষপত্রের একটা তালিকা দিও। আমরা ব্যবস্থা করব। আর শোন, তোমাকে হোটেলে একাই যেতে হবে। তোমার সঙ্গে আমাদের লোক থাকলে, তোমার শত্রুপক্ষ জানতে পারলে তোমার ক্ষতি হবে বেশি। যথা সময়ে আমি আবার তোমাকে ডেকে আনব, গুড বাই।
বউ আশ্চর্য হল হকের ক্ষমতা দেখে। হক সেই টেপটা বন্ডের হাতে তুলে দিয়ে বলেছিলেন, টেপটা চালিয়ে দেখ আমার বিশ্বাস, মেয়েটি আমাদের দারুণ উপকারে আসবে। ওকে তুমি তোমার স্ত্রী হিসেবে ম্যাকাওতে নিতে পারলে আমাদের নিজেদের স্বার্থে এবং তোমার ব্যক্তিগত স্ফুর্তির কাজে লাগবে। উইশ ইউ গুড লাক মাই বয়।
টেপটা বন্ধ করতেই বন্ড দেখল তার ঘরের সামনে এক জোড়া জুতোর শব্দ এসে থেমে গেল।
ভেতরে আসতে পার, বন্ড বলল।
দরজা ঠেলে টম বক্সার ঘরে ঢুকে বন্ডের দিকে তাকিয়ে দাঁত বার করে হাসল, ক্যারাটে, কেউ নেই।
বন্ডও হাসল, কেন থাকবে না। আমরা মিলেমিশে অনেক ভাল কাজ করতে পারি। এক মিনিট এগিয়ে গিয়ে বন্ড ডেস্কের থেকে একটু লুগার বার করল। লুগারের দিকে তাকিয়ে টম বলল, মানুষের সব থেকে উপকারী বন্ধু হল ওটা।
বন্ড তার কথায় হাসল। তার হাসিটা অর্থপূর্ণ।
.
০৬.
টোকিও হয়ে হংকং-এ ওদের যাত্রা শুরু বি ও এ সি ৭০৭ বিমানে। যাওয়ার আগে মেয়েটি সারক্ষণ ঘুমিয়ে কাটাল। হক তার পোশাক, লাগেজ সবকিছুর পরিবর্তন ঘটাল–হাঁটুর নীচে স্কাটের ঝুল। আলগা শার্ট। আর মেয়েটিও তারপর কেমন যেন বদলে গেছে। বন্ড তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে প্লেনে তুলল–মেয়েটিকে যদি কেউ অপহরণ করে সেই ভয়ে।
হংকং-এ পাড়ি দেবার আগে বন্ড তার বসের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার কক্ষে তিনঘন্টা আলোচনা করে। ফিরে এলে ঘুমন্ত মেয়েটিকে দেখে ভাবে হংকং-এ সে আমার স্ত্রী হয়ে যাচ্ছে। হকের নির্দেশ, প্রিন্সেস আর সে এমনভাবে চলবে কেউ যেন কোন প্রকারে সন্দেহ না করে যে তারা স্বামী-স্ত্রী নয়। দিনের আলোয় চঞ্চলা হরিণীর মত তারা বিচরণ করবে আর রাতের অন্ধকারে হোটেলে ফিরে এসে তাদের জন্য নির্দিষ্ট কক্ষে সে হবে তার শয্যাসঙ্গিনী।
প্লেনে ওঠার আগে হক তাকে একটা টাটকা খবর দিল। তার মুখে হাসি দেখা গেল। জেনারেল আগাস্টে বুলেঙ্গার এখন ম্যাকাওতে রয়েছে সম্ভবতঃ চুন লি র সঙ্গে দেখা করবার জন্য। তোমার সঙ্গে সে মিলিত হতে চায়। আর প্রিন্সেসকেও হাতাতে চায়। আমি তোমাকে আগেই বলেছি, জেনারেলের সুন্দরী নারীর প্রতি প্রচণ্ড দুর্বলতা আছে। আমার ধারণা, হংকং-এ থাকার সময় প্রিন্সেসের নগ্ন ছবি নিশ্চয়ই দেখে থাকবে। এখন সে আবার ব্লেকারের র-ফ্লিমটাও হাতিয়েছে আর সেই ছবি দেখেই সে প্রিন্সেসকে চিনে থাকবে। তাই মেয়েটিকে তার চাই। তার ব্যবসায়। সওদা করার ব্যাপারে প্রিন্সেসকে সে কাজে লাগাতে চায়। কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের কাঁচা হীরের বিনিময়ে আমরা তার সঙ্গে একটা রফা করতে পারি। মেয়েটি আমাদের হাতের মুঠোয় এখন, কি বল?
বন্ড কার্টার জিজ্ঞেস করে, আপনার ঐ কাঁচা হীরের কথা তো বুঝলাম না স্যার? আর আমাকে এত দ্রুত এগুতে বলছেন। চীনারা কম তৎপর নয়।
খুবই সহজ অর্থ। এই কাঁচা হীরের বিনিময়ে পুর্তগীজদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য প্রিন্স আসকারি আর বুলেঙ্গার অর্থ সংগ্রহ করছে। দক্ষিণ পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অংশ অ্যাংগোলা বিদ্রোহীরা দখল করেছে। অ্যাংগোলায় পুর্তগীজদের কয়েকটা হীরের খনি আছে। বিদ্রোহীদের প্রচুর চাই। কাজেই ওরা জানে আসকারি, বুলেঙ্গার হংকং কিংবা ম্যাকাওতে হীরে বেচার চেষ্টা করবে। ওদিকে চুন লি হীরে কেনার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছে।
কিন্তু চীনেদের হীরে কিনতে এত আগ্রহ কেন তা বুঝলাম না।
কারণ চীনারা ব্যবসা করতে চায় এই কাঁচা হীরে নিয়ে। বুঝেছি কিল মাস্টার মাথা নেড়ে বলে, এক্ষেত্রে আমরা জেনারেল এবং প্রিন্সে আসকারিকে তাদের কাঁচা হীরের জন্য ভাল দাম দেব, আর তারা কর্নেল চুন লিকে আমাদের হাতে তুলে দেবে। বিশেষ করে আমাদের স্বার্থে, এই তো?
তোমার অনুমান আংশিকভাবে ঠিক। কারণ বুলেঙ্গির লোকটা দারুণ ধূর্ত ও শয়তান। তার নীতি হল দু মুখো সাপের মতন। অ্যাংগোলিয়ার বিদ্রোহীরা সফল হলে আসকারিকে খতম করার চেষ্টা করবে সে। আসকারিকে সরাতে পারলেই বিদ্রোহীদের নেতা হবে সে। যাই হোক আসকারি সম্পর্কে যেটুকু জানি তাতে লোকটা আদর্শবাদী, সৎ এক অবস্থাপন্ন লোক। আমি তোমাকে এমন একটা জলাধারে নিক্ষেপ করছি, যেখানে রাশি রাশি হিংস্র হাঙ্গর ওৎ পেতে বসে আছে তোমার জন্য। অতএব মাই বয়, খুব সাবধান।
