এরপর দীর্ঘ নীরবতা। প্রিন্সেসই নীরবতা ভঙ্গ করল, কিন্তু আমার কাকার কথা জানলেন কি করে? আমার সম্পর্কে এত খবর সংগ্রহ করলেন কি ভাবে?
সব খবরই আমি রাখি প্রিন্সেস, হকের রহস্যের হাসি উঠতে দেখা যায়, আমার সরকারকে সাহায্য কর, আমরাও তোমাকে দেখব। অভাবই রাখব না। তুমি চাইলে আমেরিকান পাসপোর্টও করে দিতে পারব। এমন কি তোমার আত্মমর্যাদা পেতে আমরা সাহায্য করতে পারি।
তবু অসাধ্য কাজ সফল করার জন্য একবার চেষ্টা করে দেখতে পার। রাজি থাকলে এখন থেকেই শুরু করা যাক। তার আগে ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে তোমাকে। আশা করি, তুমি সঠিক উত্তর ও সত্য কথা বলবে নিশ্চয়ই!
মেয়েটিঃ যদি না দিই।
হক : তাহরে লন্ডনের পুর্তগীজ দূতাবাসের হাতে তুলে দেবার ব্যবস্থা করব। খুব খুশি হবে। তোমার সরকারকে ফাঁকি দিয়ে আসছ। আমার বিশ্বাস তোমার কাকা লিসরনের ক্যাবিনেটের উচ্চস্থানীয় সদস্য। তোমাকে ফিরে পেয়ে সেও কম খুবি হবে না।
অনেক পরে মেয়েটির কণ্ঠস্বর শুনতে পেল বন্ড। আমার কাকা–ঐ বেজন্মা লোকটা!
ঠিক আছে আমি রাজি। বলুন উত্তর দেব। পুর্তগালে ফিরে যাব না। আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।
সেই ভাল প্রিন্সেস, আর অত নিষ্ঠুর হতে যাব না। ফটোটা দেখ। কয়েক মাস আগে সংগ্রহ করেছি হংকং থেকে। এখন বল, এ ছবি তোমার?
বন্ড বুঝল, হক তাকে তার নোংরা ছবি দেখাল, বন্ড জানে প্রিন্সেস খরচ চালাবার জন্য উলঙ্গ ছবির মডেল হয়েছে।
হ্যাঁ, আমার ছবি। সেই সময় মাতাল হয়ে গিয়েছিলাম, নেশার ঘোরে অমন নগ্ন দেহের ছবি তোলবার জন্য।
হকঃ লোকটা চাইনিজ, যে তোমার নগ্ন দেহের ওপর শুয়ে আছে তোমার মধ্যে প্রবেশরত, ওর নাম জান?
না, আগে কখনো দেখিনি, মাতাল হলে কিছুই খেয়াল থাকে না। মনে পড়ে, স্টুডিওয় প্রথম দেখি।
তোমার সঙ্গী কে, সেটা জানবার দরকার নেই। বিভিন্ন জায়গা খবর নিয়ে জেনেছি, কয়েক বছর পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বেহিসেবী ভাবে মাতলামি করার জন্য গ্রেফতার হও। ড্রাগ রাখার জন্য ফ্রান্সে গ্রেফতার করা হয়েছিল। লোকমুখে শুনেছি, তুমি লোকের সঙ্গে ঘনিষ্ট হও, আর খারাপ কাজ কর। এমন কি ন্যাংটা হয়ে তুমি নাকি তাদের তোমার দেহের মধ্যে প্রবিষ্টও হতে দাও। স্বাভাবিক হলে তাদের কথা একদম মনে থাকে না।
হকঃ তোমার কথা শুনে আমরা অনায়াসে ধারণা করে নিয়েছি যে তুমি একজন মাতাল মদ্যম মহিলা, উত্তেজক মাদক দ্রব্য সেবন করে থাক। উত্তেজিত অবস্থায় যে কোন পুরুষের সঙ্গে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হতে পার। বন্ড আশা করেছিল, হকের কথা শুনে প্রিন্সেস বুঝি কেঁদে ফেলবে। কিন্তু তা হল না, উল্টে প্রিন্সেস এবার রেগে গিয়ে বলল, হা, আমি চরিত্রহীনা, তাতে আপনি খুশি তো?
হকঃ শোন শ্রীমতী, এ আমার কোন ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়। তোমার ভালর জন্যই অপ্রিয় সত্য প্রকাশ করলাম।
মেয়েটিঃ ঠিক আছে, আপনার জানতে আর কিছু বাকি নেই তো?
হক : সেকি। এই তো সবে শুরু। এবার আমি কয়েকটি ঘটনার কথা বলব। মিথ্যে বল না। ফোরটিন হাফ ক্রিসেন্ট মিউজ-এর থিওডোর ব্রেকার। যে এখন মৃত, তার ব্যাপার তুমি কি জান? আর তার সঙ্গে তোমার সম্পর্কই বা কি ছিল? সে কি তোমাকে ব্ল্যাকমেল করেছিল?
মেয়েটিঃ কয়েক মাস আগে রাত্রে হঠাৎ ওর ওখানে গিয়ে পড়ি। ড্রাগন ক্লাবের নাম শুনেছি কিন্তু সেখানে যাইনি। কয়েকজন বন্ধুকে সেখানে দেখে বিস্মিত হই কিন্তু তারা আমাকে দেখেই অদৃশ্য হয়ে যায়। থিওডোর ব্লেকার আমাকে মদ খেতে দেয়। তার সঙ্গে এল. এস. ডি মিশিয়ে দিয়ে নেশায় আমাকে বেহুশ করে দেয়। সেই সুযোগে সে আমাকে নগ্ন অবস্থায় আমার সঙ্গে যৌন সংসর্গ করায় তার এক নিগ্রো সহচরকে দিয়ে। আর সেই দৃশ্যের ছবি তুলে রাখে। সম্পূর্ণ ছবি না দেখেই আমার মাথা ঘুরে যায়।
হকঃ আর তারপর থেকে রেকার তোমাকে ব্ল্যাকমেল করতে চায়। সেই ফিল্মের বিনিময়ে সে মোটা টাকা দাবী করে। এই তোর
মেয়েটিঃ হ্যাঁ, ঠিক তাই। তার দাবী অনুযায়ী অতটাকা আমার কাছে ছিল না। সে বিরক্ত হয়।
হক : তুমি ওর ক্লাবে গিয়েছিলো।
মেয়েটিঃ না, তবে বার কিংবা রেস্তোরাঁয় ওর সঙ্গে দেখা হত। একদিন ও আমাকে বলে ও আমার কাছে আর টাকার দাবি করবে না। তার কারণ ও নাকি সেই ফিল্ম, নিলামে চড়া দামে বিক্রি করতে যাচ্ছে।
হকঃ এরপর আর তোমার সঙ্গে রেকারের দেখা হয়নি বন্ড কান পেতে টেপ শোনে আর মনে মনে বলে। প্রিন্সেস, তুমি ঐ বুড়োটার ফাঁদে পড় না। সব খুলে বললো না।
মেয়েটিঃ না, তারপর আর ওর সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। কিল মাস্টার চিৎকার করে উঠল।
এবার হক রুম্মস্বরে বলে উঠলো। এক্ষেত্রে তোমার কথা সত্যি নয় প্রিন্সেস। তুমি আমাকে একটিও মিথ্যে কথা বলবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে, মনে আছে।
মেয়েটিঃ আপনার কথা আমি বুঝতে পারছি না। আমি আবার বলছি, ব্রেকারের সঙ্গে তারপর আমার আর দেখা হয়নি।
হকঃ তোমার হাতের এই দস্তানা দুটি ভাল করে দেখ। তোমাকে আর মিথ্যে বলার জন্য উপদেশ দেব না।
হা, এগুলো আমারই বটে।
হকঃ তোমার হাতের দস্তানায় রক্তের দাগ; রক্তের দাগ তোমার পোশাকে, হাঁটুতেও অস্বীকার করতে পার?
মেয়েটি কান্নায় ভেঙে পড়ল। না আমি অস্বীকার করছি না। সত্যি আমি বলছি, আমার টাকার বড় অভাব যাচ্ছিল। ব্লেকারের কাছে গিয়েছিলাম কিছু টাকা চাইতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি ওর সারাঘর তছনছ, গলা কাটা হয়ে ব্লেকার সোফায়। সারা ঘরে রক্ত। আমি ভয়ে পালিয়ে আসতে যাই। টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যাই। তখনই আমার গায়ে রক্ত লেগে যায়। আমি তখন দিশাহার হয়ে পার্স থেকে এল, এস. ডি বার করে মুখে দিই। জ্ঞান হারাবার আগে আমার মনে হয় কেউ এসে গেলে তাহলে আমাকে পুলিশ খুনের কেসে জড়াতে পারবে না। আর সত্যিই একজন আমার মত ব্রেকার ক্লাবে গিয়েছিল। তারপরে আর জানি না। সেই ভদ্রলোকই আমাকে এখানে নিয়ে আসে।
