বন্ড সিগারেটের ছাই ঝেড়ে জিজ্ঞেস করল, তা হলে এটাই হল মিশণ, তাই না স্যার? এখন কথা হচ্ছে আমি কার বিরুদ্ধে লড়ব? প্রিন্স আসকারি নাকি জেনারেল বুলেঙ্গার? নাকি দুজনের বিরুদ্ধেই। কারণ বন্ড ভাল করেই জানে, হক তার ব্যাখ্যা করে দেবেন।
হক প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে, একটা কাগজ তুলে চোখ বুলিয়ে নিয়ে বললেন, তুমি কর্নেল চুন লি কে চেন?
খুব সহজ প্রশ্ন! কর্নেল চুন লি চীনা কাউন্টার ইনটেলিজেন্সের লোক, হকের বিরোধী। পৃথিবীর দুই প্রান্তে দুজন প্রধান আন্তর্জাতিক দাবার ছক নিয়ে বসে আছে, ওকে দাবার চালে হারাতে হবে।
চুন লি তোমাকে মৃত দেখতে চায়। হক বললেন, খুবই স্বাভাবিক। আমিও তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে চাই। অনেক দিন থেকে আমার ব্ল্যাক বুকে লেখা আছে। সে অত্যন্ত দক্ষ। খুন করতে ওস্তাদ সে। ছ মাসে ঐ বেজন্মাটা আমার দক্ষ আধ ডজন এজেন্টকে খুন করেছে। তাই আমি পথের কাঁটা চুন লিকে সরাতে চাই।
তাহলে এটাই হবে আসল কাজ, বন্ড বলল, এই তো?
হ্যাঁ, ঠিক তাই। আমার জন্য চুন লিকে খতম কর!
কিন্তু কি করে?
হক রহস্যের হাসি হাসলেন। অনেক কাগজ তুলে দিয়ে বললেন, এগুলো পড়ে দেখ, তাহলে তোমার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে। তাছাড়া, এখন আসল খে। প্রিন্সেস, ব্রেকারের ছিন্ন মস্তক, তিনজন নিগ্রোর খুন হওয়া, কালোর মৃত্যু সবার খেল এখানেই শেষ। একটু থেমে আবার বললেন, এদের মধ্যে কেউই উল্লেখযোগ্য লোক নয়। আমি খুশি, তুমি ওদের কাউকেই খুন করনি। যেমন মেজর অলিভিয়েরার কথাই ধরা যাক–ওর খুন হওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু নিগ্রোরা এ্যাঙ্গোলিয়ান, আর মেজর পুর্তগীজ। তাই নিগ্রোরা ওকে খুন তো করবেই। তারা চায়নি মেজর প্রিন্সেসকে পাক। তারা তাদের স্বার্থে প্রিন্সেসকে পেতে চায়।
সবাই প্রিন্সেসকে চায়! বন্ড বিস্ময় প্রকাশ করল।
ওরা প্রিন্সেসকে চায়ই, আর একটা জিনিষও চায়, যতদূর মনে হয় ব্লেকার প্রিন্সেসের নগ্ন ছবি তুলেছিল। হক বললেন একটু সহজ করে, নিশ্চয়ই ব্ল্যাকমেল করার তালে ছিল সে। যাক, প্রিন্সেসকে দিয়ে আমাদের স্বার্থে কাজ করাব।
ও যদি রাজি না হয়, জোর করে? বন্ড প্রশ্ন করে তাকাল হকের দিকে।
হ্যাঁ, দরকার হলে তাই করতে হবে। আমরা প্রিন্সেসকে শর্ত দেব, আমাদের কাজ না করলে আমরা পুর্তগাল সরকারের হাতে তুলে দেব। ওরা ওকে পাগলাগারদে পুরবে…
বন্ড জানাল, হ্যাঁ, আমিও একথা প্রিন্সেসের মুখে শুনেছি।
তাহলে তো ভালই হল, ওর সঙ্গে একা কথা বলব, তুমি আমাদের কথা টেপ করে শুনতে পার। এখন একটু বিশ্রাম নাও, তোমাকে হংকং-এ যেতে হবে। সঙ্গে প্রিন্সেস যাবে। এবং স্বামী-স্ত্রী সেজে। তোমাদের পার্সপোর্ট তৈরি আছে।
হংকং? বন্ড দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাস করল, তাহলে হংকং-এ চুন লিকে বধ করতে হবে?
না হংকং-এ নয়, ম্যাকাওতে! হক রহস্য করলেন, চুন লি তোমার জন্য ফাঁদ পেতে বসেছে। ফাঁদে ধরা দিয়ে বেরিয়ে আসতে হবে।
কি করে?
বুদ্ধি খাঁটিয়ে, হক রহস্য করে বললেন, তাছাড়া কথায় আছে, অতি চালাকের গলায় দড়ি! আর নিজের ফাঁদে নিজেকেই পড়তে হবে। চুন লির অবস্থাও সেইরকম করতে হবে তোমাকে। তোমার ওপর অগাধ বিশ্বাস আছে। তুমি ঠিকই জয়ী হবে! যাও গভীর ঘুম দিয়ে নাও।
বৃদ্ধ বসের কথা অমান্য করতে পারল না বন্ড। পাশের ঘরে বিশ্রাম নেবার জন্য গেল। শুয়ে প্রিন্সেসের কথা মনে পড়ল তার। আমিও তার পাশে শুয়ে থাকব, রাতটা ভালই কাটবে, ভাবল সে।
.
০৫.
হক যে ধুরন্ধর লোক তা জানত বন্ড। কিন্তু তাজ্জব বনে গেল টেপ চালাতে গিয়ে। হক পুর্তগীজ ভাষাও জানেন।
বন্ড টেপ-এর সংলাপ শুনতে থাকল। দ্র-স্বচ্ছ-কণ্ঠে হক কথা বলছেন,–সিউ লোমে ডেভিড হক। কোন ই ও সিউ লোমে?
প্রিন্সেস দ্য গামা কেন জিজ্ঞেস করছেন? আমি নিশ্চিত, আপনি তা জেনে গেছেন। নাম জেনে আমার কোন লাভ নেই। কিন্তু কে আপনি ইচ্ছের বিরুদ্ধে কেন বন্দিনী করে রাখা হয়েছে!
পুর্তগীজ ভাষায় কথোপকথন শুনে মজা করে বন্ড।
আপনার ইচ্ছে হয় আমার তাতে কিছু এসে যাবে না। কিন্তু চমৎকার পুর্তগীজ ভাষায় কথা বলতে পারেন দেখছি।
তুমি স্পষ্ট ইংরেজি বলতে পার তেমনি পুর্তগীজ ভাষায় আমি কিন্তু বলতে পারি না।
তারপরেই শুরু হল সংলাপ।
হকঃ আমেরিকা সম্পর্কে কি ধারণা প্রিন্সেস?
মেয়েটিঃ আপনার ধারণার মানে, ঠিক বুঝতে পারলাম না।
হকঃ ঠিক আছে, আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি। তুমি কি আমেরিকাকে পছন্দ কর? সেখানে তোমার বন্ধু-বান্ধব আছে? তোমার কি মনে হয় না, বিশ্বে শান্তি স্থাপনের জন্য আমেরিকা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে।
এ তো রাজনীতির কথা। আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে, আপনি কোন সিক্রেট এজেন্ট! সি. আই. এ-র কি?
না, আমি সি. আই. এ করি না। আমার উত্তর দাও! তুমি কি আমেরিকাকে সমর্থন কর? যদি কর তাহলে তোমাকে কিছু কাজ করতে হবে, অবশ্য অনেক ঝুঁকি আছে, তা হলে উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাবে। খুব অভাবে আছ, শুনেছি তোমার টাকার দরকার তাই না?
হ্যাঁ, টাকার প্রয়োজন বৈকী। আমেরিকার বিরুদ্ধে কিছু বলারও নেই। টাকার জন্য যে কোন কাজ করতে পারি, কিন্তু এ যে রাজনৈতিক ব্যাপার…।
হককে চেনে বন্ড। তাঁর উত্তর শুনে খুশি হল সে মনে মনে, স্পষ্ট উত্তরের জন্য ধন্যবাদ। শুনেছি কাকা লুইস দ্য গামা মাসোহারার টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। এই দুরবস্থার জন্য ঐ লোকটি একান্ত দায়ী
