এটা একটা কাকতালীয় ব্যাপার, বড় ব্যাখ্যা করে বলল, মেয়েটি হাতে এসে পড়ল, আর এমন একটা গোলমালে জড়িয়ে পড়লাম। কিন্তু স্যার, কিছুতেই বুঝতে পারছি না, এ ব্যাপারে প্রিন্সেস দ্য গামাকে কেন এত প্রয়োজন? কেন সবাই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
হকের ঠোঁটে স্মিত হাসি। সত্যি কথা এই নিজেকে নিয়ে আমি এত বেশি বিব্রত যে, এখন মনে হচ্ছে, এই মেয়েটিই আমাদের একমাত্র ভরসা। ওকে পাশার ঘুটির মত ঠেলে দেওয়া হয়েছে, মাঝখানে আমরা ওকে ধরছি মাত্র।
ওদিকে বন্ড চোখ বুজে হকের মুখটা মনে করে তার মনে এখন কি চিন্তা উপলব্ধি করার চেষ্টা করল। হক বিস্ময় প্রকাশ করে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার, মন-গুহায় কেউ কি হানা দিয়েছে।
স্যার, মেয়েটির সম্পর্কে কিছু বলবেন?
হক কাঁধ ঝাঁকালেন। বললাম তো ওর সম্পর্কে আমি তেমন কিছুই জানি না। কোন্ কারণে এমন বিখ্যাত হল ও। ওয়াশিংটন ছেড়ে আসার আগে ভেলাস্টোককে ডেকে পাঠিয়ে বলে এসেছি মেয়েটির সম্পর্কে খবর নিয়ে আমাকে টেলেক্স করার জন্য। তবে খবরের কাগজ থেকে যেটুকু জানি তা হল, প্রিন্সেস একালের ভাষায় স্রেফ জেট-সেট মেয়ে। ওর এক কাকা পুর্তগীজ সরকারের একজন হোমরা-চোমরা। এমন শুনেছি মেয়েটা মদের নেশায় পুরুষের সঙ্গে মিলিত হয়, আর নোংরা ছবির জন্য পোজও দেয়?
হকের দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে বন্ড ভাবতে থাকে হ্যাঁ, তার মনে আছে ব্লেকারের ফ্ল্যাটে ক্যামেরা আর প্রোজেক্টার মেশিন দেখেছিল সে। প্রথমে ভেবেছিল ভাল ফিল্ম-এর সঙ্গে প্রিন্সেসের সেই নোংরা ছবিটা মিশে গিয়ে থাকবে। কিন্তু কার্যতঃ মনে হচ্ছে, আসলে তা নয়। ব্রেকারের ফ্ল্যাটে সব ছবিই নোংরা পোজের ছিল।
হক তাকে চুপ করে থাকতে দেখে নিজের থেকেই বলল,, হংকং-এর এজেন্টের খবর হল, প্রিন্সেস সেখানে নোংরা পোজ দিত টাকা রোজগারের জন্য। টাকার প্রয়োজন। পুর্তগীজ সরকার ওর টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। বিদেশের যাওয়ার মেয়াদ কমিয়েছে। তারা ওকে পুর্তগালে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু প্রিন্সেস এখানেই থাকতে চায়। এখানে থাকতে অনেক খরচ
হ্যাঁ স্যার। ও এ্যাভগেটে থাকে। ওখানে থাকার খরচ প্রচুর।
সেখানে এজেন্ট ফিট করা আছে। মেয়েটির সম্পর্কে খবর সংগ্রহ করার জন্য। এখন প্রথম কাজ হবে।
ঠিক সেই সময়ে ফোনটা বেজে উঠতেই হক রিসিভারটা নিয়ে নিচু গলায় সংক্ষেপে কিছু বললেন, রিসিভারটা যথাস্থানে রেখে বন্ডের দিকে ফিরে বললেন, আমাদের এজেন্ট খবর দিল। এ্যান্ডগেটে প্রিন্সেসের দু হাজার ডলার ধরা পড়েছে। এবার তোমার প্রশ্নের উত্তর দাও।
বন্ড বলল, প্রশ্নটা তার নয়। হক অবাক চোখে তাকালেন বন্ডের দিকে, কদাচিত তোমাকে উপদেশ দিয়ে থাকি, তাই না?
হ্যাঁ স্যার।
তার মানে যখন দরকার পড়ে তখন। এখন আমার মনে হল, তোমাকে উপদেশ দেওয়া প্রয়োজন, একটু থেমে হক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে বললেন, হ্যাঁ, বলছিলাম, মেয়েটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা কর না। আমি ওকে জানি। ও আন্তর্জানিক তুরুপের তাস। সেই সঙ্গে ড্রাগ ও দেহের ক্ষুধা আছেই! তুমি যদি খেলাতে চাও, তাহলে এখন নয়। ব্যাপারটা সহজ হয়ে যাক, পরে সময় পাবে ওকে মনের মত ব্যবহার করার জন্য।
হকের কথায় সায় দিল সে। কিন্তু মেয়েটির কথাও ভাল করে ভেবে দেখল সে, বিশেষ করে ফ্ল্যাটে মেয়েটির ব্যবহার খারাপ ছিল না, যতটা সম্ভব সংযত রাখার চেষ্টা করেছিল। হ্যাঁ, সেই সব কথা ভেবেই হকের সঙ্গে একমত হতে পারল না। প্রিন্সেসের বদ অভ্যাসের মধ্যে কয়েকটা ভালদিকও ছিল বৈকি! একথাও ভাবল বন্ড। ওদিকে হক কাগজের শীট দলা পাকিয়ে ফেলে দিয়ে বললেন, এখন তুমি ঐ মেয়েটির কথা একেবারে ভুলে যাও। আটচল্লিশ ঘণ্টা বসে থাকতে হবে এখানে। এর মধ্যে মেয়েটি সুস্থ হয়ে উঠলে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করব। এখন জানতে চাই, তুমি প্রিন্স শোভুতি আস্কারি ও জেনারেল আগাস্টের বুলেঙ্গারের নাম শুনেছ কিনা?
এ্যাক্স-এর প্রতিটি টপ অফিসারদেরও নামী দামী তোক আর জরুরী খবরা-খবর ওয়াকিবহাল হওয়া উচিত। হঠাৎ এক সময় এসব ব্যাপারে সেমিনার হয়ে থাকে, সেখানে এই সব প্রশ্ন করা হয়ে থাকে।
উত্তরে বন্ড বলল, প্রিন্স আসকারি আফ্রিকার লোক, আমার ধারণা, অক্সফোর্ডে পড়াশুনা করেছে। পূর্তগীজদের বিরুদ্ধে এ্যাংগোলার বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিচ্ছে সে। পুর্তগীজদের বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধে জয়ী হয়ে কিছু ভূখন্ডও অধিকার করে নিয়েছে সে।
বন্ডের সম্যক জ্ঞান দেখে মুগ্ধ হক। থামলে কেন বলে যাও। জেনারেলের সম্পর্কে কিছু বল?
এ লোকটা বড় জটিল। বঙ-এর ব্রেন কোন কাজ করছে না, বিশেষ করে জেনারেলের প্রসঙ্গে সে কেমন বোকা বনে যায় যেন। তাছাড়া ইদানীং জেনারেলের খবরও পাওয়া যাচ্ছে না।
অনেকক্ষণ পরে মাথাটা হাল্কা মনে হল, সে তখন জেনারেলের কথা ভাবতে বসল। হ্যাঁ, এবার মনে পড়েছে। জেনারেল একজন দলত্যাগী ফ্রেন্ড জেনারেল। গোঁড়া আলজিরিয়ানও বলা যেতে পারে। সন্ত্রাসবাদী দলের সদস্য। ও, এ, এস-এর একজন প্রথম সারির নেতা, এখনো সেই দলে আছে সে। সব শেষে জেনেছিলাম, ফ্রান্সে মৃত্যুদন্ড হয়েছে।
হ্যাঁ, ঠিক তাই, বললেন হক, আর সেই কারণেই এ্যাংগোলার বিদ্রোহীরা শেষ পর্যায়ে জিতেছিল। ফরাসীরা বুলেঙ্গারকে বন্দী করে ফাঁসির হুকুম দিলে, সে তখন পালিয়ে যায়। তারপর সে প্রিন্স আসকারীর সঙ্গে হাত মেলায়। দেরীতে হলেও প্রিন্স আসকারি জেনারেল বুলেঙ্গারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কিছু টাকা সংগ্রহ করার ধান্দায় আছে। এখন অনেক টাকার প্রয়োজন। তারা যদি এভাবে অর্থ সংগ্রহ করে যেতে পারে, তাহলে এ্যাঙ্গোলার যুদ্ধে তাদের জয় নিশ্চিত। তখন আফ্রিকায় নতুন একটা দেশের জন্ম হবে। আসকারি ভাবে, সে নিজে এ্যাংগোলার বিদ্রোহ পরিচালনা করছে। বুলেঙ্গার ভাবে, সে-ই এই বিদ্রোহের একমাত্র নেতা। নিজেকে সে ডিরেক্টর ভাবে, বাজী ধরে বলতে পারি, আগাস্টে বুলেঙ্গার এ ধরনেরই লোক। অতএব এসব কথা স্মরণ রেখে তোমাকে একাজে এগুতে হবে, বুঝলে বাছা?
