এই মুহূর্তে প্রিন্সেস নিশ্চয়ই তোমার কাছে আছে?
হ্যাঁ।
খুব ভাল কথা। হকের কণ্ঠস্বরে খুশির ছোঁয়া, যেভাবে হোক ওকে আটকে রাখ। হ্যাঁ, যে কোন মূল্যে বুঝলে?
বুঝেছি।
ওর সম্পর্কে আর কেউ আগ্রহী?
হ্যাঁ স্যার। একজন পুর্তগীজ সরকারের প্রতিনিধি। এখন সে পার্কে বসে আছে, বলল সে পুর্তগীজ। কিন্তু
তা হতে পারে হক সবজান্তার মত বললেন, ও হচ্ছে মেজর কার্লো ওলিভিয়ার, পুর্তগাল ইন্টেলিজেন্সের লোক। সে কি একা?
তাই তো মনে হচ্ছে।
ভাল কথা, বললেন হক, আচ্ছা তুমি একটা কাজ করতে পার? সবার নজর এড়িয়ে মেয়েটিকে নিয়ে বেরিয়ে আসতে পার?
চেষ্টা করতে পারি।
তাহলে চটপট কর। আমি এখন লন্ডন এয়ারপোর্টে যাচ্ছি। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে। আমি কক্ এন্ড বুল-এ পৌঁছে যাব বুঝলে?
বুঝেছি।
হঠাৎ নিচে রাস্তা থেকে পরপর গুলির আওয়াজ। বন্ড তার বসকে বলল, এক মিনিট স্যার।
জানালার কাছে উঁকি দিল সে। দেখল সেই কালো রংয়ের গাড়িটা বেরিয়ে গেল সেই মাত্র। বেঞ্চের ওপর চোখ রাখতেই বন্ড দেখল বেঞ্চের ওপর কালো ওলিভিয়ারের দেহটা এলিয়ে পড়ে আছে। একটা পা তার তখনো কাঁপছিল– আবার সে রিসিভার তুলে নিল স্যার, এইমাত্র খুন হল কার্লো ওলিভিয়ার। কালো গাড়ি কালো মানুষ, কালো মেশিনগান ব্যবহার হয়েছে আর আজ সকালে এই কালো লোকগুলিই আমাকে অসুবিধায় ফেলেছিল।
এটা একটা হুমকি বলে ধরে নিতে পার; হক তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, একটু আগে যা বললাম, চটপট মেয়েটিকে নিয়ে চলে এসবুক এ্যান্ড বুল-এ। ঐ মেয়েটির ওপর সব কিছু নির্ভর করছে।
সব কিছু মানে হক কি বোঝাতে চাইছেন। চিন্তিতভাবে সোফায় বসল কিল মাস্টার সে ভেবেছিল প্রিন্সেসের কেসটা সে নিজে সমাধান করবে কিন্তু তা হল কই?
প্রিন্সেস তখন আরামে ঘুমাচ্ছে, তার স্কার্টটা হাঁটুর অনেক ওপরে। উপযুক্ত প্যান্টিজ-মাংসল শ্ৰেণীদেশ শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। প্রিন্সেসকে ডেকে বন্ড বলল, চটপট তৈরি হয়ে নাও। এক্ষুণি আমাদের পালাতে হবে এখান থেকে। ওরা আমাদের খুঁজছে। তারপর মৃদু হেসে বন্ড বলল, তোমার নগ্ন পা দুটো দেখতে সুন্দর হলেও এ দুটো ঢেকে ফেল। সুন্দর সুডোল পা দুটোর সঙ্গে ফাউ হিসেবে যেটা দৃশ্যত সে বড় দৃষ্টিকটু।
সঙ্গে সঙ্গে স্কার্টটা হাঁটুর নিচে নামিয়ে প্রিন্সেস এবার বলল, আমি ক্লান্ত, আমার ঘুম পাচ্ছে। আর শরীরও খারাপ, খুব খারাপ।
আমাকে হুকুম করার কে তুমি প্রিন্সেস এবার ফুঁসে উঠল, এর আগে তোমাকে দেখেছি বলে মনে হচ্ছে না।
বলে কি মেয়েটা? অসম্ভব জেদী মেয়ে তো। কার্লো কি সত্যিই বলেছে, ও কি পাগল হয়ে গেছে? এইজন্যই কি ওরা পুর্তগালে নিয়ে ওকে পাগলা গারদে রাখতে চায়? হঠাৎ প্রিন্সেসের হাত ধরে বন্ড হিড়হিড়িয়ে টেনে জানালার কাছে গিয়ে, দ্যাখ, সামনে তাকিয়ে দ্যাখ একবার–
প্রিন্সেস ভয়ে আঁতকে উঠল। নিচে পার্কের চারপাশে বিক্ষিপ্ত ভিড়, উত্তেজনা, পুলিশের আনাগোনা, বেঞ্চের ওপর পড়ে থাকা কার্লোর মৃতদেহ
প্রিন্সেসের চোখেমুখে উত্তেজনা। সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে থরথর করে কেঁপে উঠল। বন্ডকে অনুরোধ করল সে, আমাকে একটু ড্রিঙ্ক দাও প্লীজ, আমি আর পারছি না।…।
স্কচের একটা বোতল এগিয়ে দিল বন্ড। এক নিঃশ্বাসে অর্ধেকটা শেষ করে একটু সুস্থ হয়ে বলল। এবার আমি তোমাকে চিনেছি। তুমি আমার পিস্তল, কার্ড নিয়েছ, যাক, এ সব আমি চাই না। কিন্তু আমাকে পিলগুলো ফেরত দাও।
বন্ড কয়েকটা পিল দিল–বেনিজ। এ্যামফিটামাইন! প্রিন্সেসের চোখ দুটো উজ্জ্বল হল, হ্যাঁ আমার নার্ভ ঠিক রাখার জন্য খাই।
হঠাৎ বন্ড দেখল প্রিন্সেসের হাতে ও হাঁটুর কাছে রক্তের দাগ। প্রিন্সেসও স্কার্টটা টেনে দিল হাঁটুর নিচে।
ঐ রক্ত কোত্থেকে এল? বন্ড তার দৃষ্টি অনুসরণ করে বলল, এ দাগ কি ফোরটিন হাফ ক্রিসেন্ট মিউজ থেকে?
বন্ডের প্রশ্নে প্রিন্সেস কেঁপে উঠল ভয়ে। লাল ঠোঁট দুটো মুহূর্তে বর্ণহীন, কাঁপা কণ্ঠস্বরে বলল, কে তুমি?
তার পার্সটা মেলে ধরে বলল, আমি যেই হই না কেন, প্রিন্সেস তোমার খেল খতম। চল এবার আমার কোর্টে! তারপর বস্তু নিজের মনে বলল তোমাকে এবার ঠিক চিনেছি। তোমাকে ভাঙিয়ে আমাদের অনেক কাজ হাসিল হবে।
প্রিন্সেস শীতল নিরুত্তাপ কণ্ঠে বন্ডকে প্রশ্ন করল, তুমি কি পুলিশের লোক?
না, ঠিক পুলিশের নই। তোমার ব্যাপারে আমার একটা আগ্রহ আছে। অবশ্যই ব্যক্তিগত। শোন শ্ৰীমতী, আমি তোমাকে একটি শর্তে সাহায্য করতে পারি। একজনের সঙ্গে তোমাকে দেখা করতে হবে।
এবার বেশ উদ্ধত্তস্বরে বলল, কার সঙ্গে এবার স্কচ ও পিলের কাজ শুরু হয়ে গেছে।
বন্ড হাসল। এবার তার শর্তটার কথা বললে তার পরিকল্পনা সফল হতে পারে। তোমাকে সাহায্য করতে ইচ্ছুক এমন একজনের সঙ্গে।
প্রিন্সেসের ঠোঁটে ব্যঙ্গের হাসি হেসে গেল, আমি মাতাল হতে পারি, কিন্তু কচি খুকি নই। বোতলের দিকে হাত বাড়াতেই বন্ড বোতলটা নিয়ে বলল, উঁহু, এখন আর এক ফোঁটাও নয়।
তারপর উল্টোপাল্টা ডায়েল করল, আমি পুলিশ ডাকছি, পুর্তগালের ইনটেলিজেন্সকে জানাচ্ছি।
প্রিন্সেস ছুটে এল বন্ডের কাছে। না, না, প্লীজ ওসব কর না, আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি, তোমার সঙ্গে যাব। কিন্তু দোহাই তোমার, পুর্তগীজদের হাতে তুলে দিও না। ওরা আমাকে নিয়ে পাগলা গারদে পুরে দেবে।
