বন্ড আবার সিগারেট ধরিয়ে ভাবল লোকটা কি প্রিন্সেসকে খুঁজছে। এবার সে কোচে গা এলিয়ে সমস্ত ব্যাপারটা ভেবে দেখার চেষ্টা করল।
ফ্যাক্ট-অনিগেট হোটেলে দ্বিতীয়বার ফোনের লোকটির স্বরে পুর্তগীজের টান।
ফ্যাক্ট-বেঞ্চের উপর বসে থাকা লোকটিও পুর্তগীজ হতে পারে।
ফ্যাক্ট–প্রিন্সেস দ্য গামা পুর্তগীজ। মেয়েটি ধনী, সুন্দরী তবে বড্ড বেশি সেক্সী আর আর ড্রাগ এ্যাডিকটেড।
ফ্যাক্ট–থিওডোর ব্লেকার, যার সম্পর্কে সে কিছুই জানে না, সে নৃশংসভাবে খুন, তার মুণ্ডটা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন।
ফ্যাক্ট–প্রিন্সেস যেভাবেই হোক ব্লেকারের দলে মিশেছে। ব্লেকারের কার্ড প্রিন্সেসের পার্সে আর প্রিন্সেসের কার্ড ব্রেকারের হীপ পকেটে যাতে লেখা ছিল, কিল হিম। কেনই বা প্রিন্সেস সবসময় তার পকেটে সাইলেন্সর লাগানো পিস্তল রাখত?
ফ্যাক্ট–তিনজন নিগ্রো প্রিন্সের পিছু নিলেও তারা কিন্তু প্রিন্সেসকে কিডন্যাপ করেনি। সমস্ত ব্যাপারটাই একটা ধাঁধা-র মত মনে হল কিল মাস্টারের কাছে। কেবল একটি জিনিস বড় মনে হচ্ছে : পুর্তগীজ আর পুর্তগাল যার কেন্দ্রবিন্দু প্রিন্সেস।
হঠাৎ একটি ট্যাক্সি আসে এবং প্রিন্সেস গাড়ি থেকে নামে। আর বেঞ্চে বসা লোকটি দ্রুতপায় ট্যাক্সিটার দিকে গেল। প্রিন্সেসের পা কাঁপছিল। কোন রকমে ট্যাক্সির ভাড়া মিটিয়ে সে এগিয়ে আসতে চায়। পারে না, পা টলে ওঠে। ওদিকে লোকটা পৌঁছানোর আগেই সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত পায়ে বন্ড এগিয়ে গেল। প্রিন্সেস কাঁচের সুইংডোের ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই লোকটাও ভেতরে ঢুকতে চায়। বন্ড তার পথ আড়াল করে দাঁড়ায়। লোকটা চিৎকার করে বলে, প্লীজ আমাকে ছেড়ে দিন। বন্ড অসম্মতি জানায়। লোকটি তখন আবার চিৎকার করে, প্রিন্সেস দ্য গামা…ঐ মেয়েটিকে আমাদের দরকার, ওকে আমাদের হাতে তুলে দিন।
প্রিন্সেস তখন বন্ডের বুকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে করুণস্বরে বলে। প্লীজ ওর হাতে আমাকে তুলে দিও না। ওর থেকে রক্ষা পাবার জন্য তুমি আমাকে সাহায্য কর, প্লীজ
বন্ড দু হাত জড়িয়ে ধরে তার গালে গাল ঘষে বলে, তোমার কোন চিন্তা নেই প্রিন্সেস। আমার হাতে যখন এসে পড়েছ, তোমাকে বাঁচানো আমার একান্ত কর্তব্য। নিজের মনে বলল, এ্যাক্স-এর এজেন্টের কাজই হল, বিপদের মুখোমুখি হওয়া।
এবার সেই লোকটার দিকে ফিরে দরজার এপার থেকে চিৎকার করে বলল, আপনি এখন ফিরে যান। মিথ্যে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে আপনার বিপদ হতে পারে।
লোকটা এবার কঠিন স্বরে পুর্তগীজ ভাষায় বলল, প্রিন্সেসের সঙ্গে আমি অবশ্যই কথা বলব এবং কথাটা খুব জরুরী।
তার দিকে কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বন্ড বলল, কিন্তু আপনার পরিচয়?
লোকটা তার পরিচিতির কার্ডটা বের করে বন্ডকে দেখায়, আমি পুর্তগাল সরকারের একজন প্রতিনিধি। আপনি পুর্তগাল এমবাসিতে খোঁজ নিয়ে সত্যি যাচাই করতে পারেন। কিন্তু তার আগে এক্ষুনি একবার প্রিন্সেসের সঙ্গে কথা বলতে চাই।
ঠিক আছে। আমি একবার প্রিন্সেসের সঙ্গে কথা বলে দেখি উনি রাজি আছেন কিনা। ততক্ষণ আপনি বেঞ্চে গিয়ে বসুন। উনি রাজি হলে আপনাকে ডেকে পাঠাব। ও, কে।
লোকটা ভ্রূ কুচকালো, প্রিন্সেস কখনোই রাজি হবে না স্যার। প্রিন্সেস অসুস্থ। সরকারের পক্ষ থেকে আমি তাকে নিতে এসেছি। অতএব, আপনি এখুনি দরজা খুলে দিন।
না, আমি তা করতে পারি না। অবশ্য আপনি দরকার হলে পুলিশের সাহায্য নিতে পারেন, বন্ড কঠিন স্বরে বলল।
লোকটা মাথা নাড়ল, না, এ ব্যাপারে আমরা পুলিশকে জড়াতে চাই না।
তাহলে লক্ষ্মী ছেলের মত ঐ বেঞ্চে গিয়ে বসুন।
লোকটা লাল চোখে বন্ডের দিকে তাকাল। তারপর গজরাতে গজরাতে বেঞ্চের দিকে গেল। বন্ড ফ্ল্যাটের দিকে, প্রিন্সেস অনেক আগেই ওপরে উঠে গেছে।
সেই বিল্ডিং-এ আরো অনেক ফ্ল্যাট আছে এবং সেখানে অধিকাংশই পুর্তগীজ। তাহলে প্রিন্সেস এখানে নিশ্চিন্ত।
বন্ড ফ্ল্যাটে ঢুকে দেখল প্রিন্সেস সোফায় বসে, তার পরণে সেই সবুজ রঙের মিনি স্কার্টটা যা পরার এখন অযোগ্য। সবুজ চোখের নীচে কালো দাগ।
বন্ড দরজা বন্ধ করে ঘরে ঢুকতেই প্রিন্সেস রুক্ষ স্বরে ঝাঁঝিয়ে উঠল, কে তুমি? এখানে তুমি কি করছ? দরজা বন্ধ করার সাহস পেলে কোত্থেকে?
বন্ডের চোয়াল দুটো শক্ত হয়ে ওঠে, তার ইচ্ছে হয় একটা চড় মেরে বুঝিয়ে দেয় কে সে? কিন্তু তক্ষুনি ফোনটা বেজে উঠল। কে ফোন করতে পারে এসময় আমেরিকান এ্যাম্বাসাডার এবং ডেভিড হক ছাড়া কাউকে তো তার ফোন নম্বর দেওয়া হয় নাই।
বন্ড ভাল করে দরজার খিলে চেন লাগিয়ে মেয়েটিকে বলল, পালাবার চেষ্টা কর না
মেয়েটি কথায় কান না দিয়ে সোফার উপর চোখ বন্ধ করে পড়ে রইল। ফোনটা তুলতেই পরিচিত কণ্ঠস্বর, হ্যাঁ, আমি বন্ড কথা বলছি
বন্ড, আমি বাড়ি থেকে বলছি। তোমার ঘর থেকে মেয়েটিকে এক্ষুণি বার করে দাও।
বন্ড তার বস ডেভিড হককে ভাল করেই চেনে। লোকটা যখন ভাঁড়ের অভিনয় করে তখন এই রকমই ঝামেলায় পড়তে হয় তাকে।
বন্ডও একজন পাকা অভিনেতার মত জবাব দিল, দুঃখিত স্যার, আর কিছু বলার আছে?
নিশ্চয়ই! রুক্ষস্বরে বলল হক, এখন আমার প্রশ্ন শুনে সংক্ষেপে হ্যাঁ কিংবা না বল। এটা হল কোড বো।
পৃথিবীর অন্তিম মুহূর্ত এসে গেছে। এই কোড এ্যাক্স এজেন্সির ভয়ঙ্কর জরুরী। এর ওপর সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এবারে বন্ড বুঝতে পারল যে হক এবার যা করবেন বা বলবেন সবই বাস্তব ও সত্য। তাই তাঁর কথায় গুরুত্ব দিয়ে বলল, হ্যাঁ স্যার। আমি বুঝেছি।
