ছোটখাটো বেঁটে নিগ্রো লোকটা ওর সঙ্গীতে সাহায্য করতে এগিয়ে এসে বন্ডকে বলল, এখন তুমি এখানে থেকে পালিয়ে যাও মিস্টার। আবার দেখা হবে, হাঃ হাঃ। আশা করি বোকামি করে এ খবরটা পুলিশকে জানাবে না।
দৈত্যের মত চেহারার লোকটা তাঁর ক্ষতস্থান দেখছিল, বেঁটে লোকটা এক ধমক দিয়ে তাকে গাড়িতে নিয়ে গিয়ে এগিয়ে চলল। বন্ড লক্ষ্য করে দেখল এদের গাড়ির নাম্বার প্লেটে কাদা মাখানো ইচ্ছাকৃত যাতে গাড়ির নাম্বার কেউ নিতে না পারে।
বন্ড গভীর বিস্ময়ে ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত পায়ে হেঁটে সে টিউব ট্রেনের সামনে গিয়ে কিনিংটন পোরে যাবার ট্রেনে। উঠে বসল। এবার তার প্রিন্সেসের কথা মনে পড়ল। সে হয়ত এতক্ষণে জেগে অবাক হচ্ছেন আবার ভয়ও পাচ্ছে। বন্ড মনে মনে খুশি হয়ে ভাবল, যত ঝামেলা বাধল প্রিন্সেসকে নিয়ে।
একটি লোক ট্রেনের কামরায় প্রভাতী কাগজ পড়তে পড়তে তাকাল বন্ডের দিকে। চোখ দুটো লালচে। হঠাৎ ব্রেকারের কথা মনে পড়ল। হয়ত লোকটা নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য খুন করেছিল। হক-এর নির্দেশ আছে, নিজের প্রাণ বাঁচাতে যে কোন শত্রুকে তুমি খুন করতে পার। কিল মাস্টার বন্ডের যে পেশী তাতে দু-একটা খুন হতেই পারে, সে কথা ভেবে লাভ নেই।
কোমরে গোঁজা চামড়ার খাপ থেকে ষ্টীল টোটা বার করে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করল বন্ড। শয়নকক্ষের দেওয়ালে টাঙানো মোষের মাথায় একটা ষ্টীল টোটা নিক্ষেপ করলে সেটা বিধল মোষের ডান চোখে। এবার সে উৎসাহ পেল যে সে এখনো পুরোপুরি ফিট। বন্ড এবার বসার ঘরে এসে অনিগেট হোটেলে ফোন করে।
একটু বাদেই এক যুবতীর কণ্ঠস্বর ভেসে আসে ফোনে, অনিগেট হোটেল, সুপ্রভাত।
দয়া করে প্রিন্সেস দ্য গামাকে লাইনটা দিন, বন্ড ভাবল এখানেই আছে কিন্তু পুরুষ কণ্ঠস্বর। ফোরটিন হাফ ক্রিসেন্ট মিউজ!
তবু সহজ ভঙ্গিমায় বন্ড বলল, আমি প্রিন্সেসের সঙ্গে কথা বলতে চাই। কিছুক্ষণ নীরবতার পর, হবে না, এই মুহূর্তে প্রিন্সেস এখানে নেই, আপনি কে কথা বলছেন? লোকটি ইংরেজিতে বললেও সামান্য ইতালীয় টান আছে। ওরাও মনে হল প্রিন্সেসকে খুঁজছে।
লোকটা খুব চিন্তিতভাবে বলল, হ্যালো, হ্যালো, আপনি কি এখনো লাইনে আছেন?
ঝাকড়া চুল লোকটিকে বন্ড পাত্তা দিল না। তার মাথায় তখন অনেক চিন্তা। ফিরে গিয়ে প্রিন্সেসের সঙ্গে দেখা। হতেই তার প্রথম প্রশ্ন; এ আমি কোথায়?
সেই লোকটা তখনো বন্ডের দিকে তাকিয়ে আছে। কি বিরক্তিকর। সন্দেহজনক তার চাহনি। বন্ড এবার তাকে নিরীক্ষণ করল। কিনিংটন পোরে ট্রেনটা থামতেই লোকটা বন্ডের পিছন পিছন অনুসরণ করল।
.
০৩.
বন্ড প্রিন্সেস দ্য গামাকে পেল না, সে চলে গেছে। কিন্তু শয়নকক্ষে প্রসাধনীর গন্ধ তখনো ম ম করছিল। আর তাছাড়া যে মেয়ের জ্ঞান ছিল না।….
বন্ড কিচেনে গিয়ে এক কাপ কফি করে ফিরে এল খাবার ঘরে। কফিতে এক চুমুক দিয়েই আবার সেই কফির সঙ্গে একটু স্কচ মিশিয়ে নিল। হাতে সোনালি টিপের সিগারেট টার্কিশ এবং ভার্জিনার মিশ্রণ। সিগারেটের নীল ধূসর রঙের ধোয়ার দিকে তাকিয়ে সে প্রিন্সেসের কথা ভাবতে থাকে। প্রেমের খেলায় ওস্তাদ সে, আশ্চর্য একটুও যেন ক্লান্তি। নেই। একই বিছানায় পাঁচ-ছ বার যে কোন পুরুষকে তৃপ্তি দেবার ক্ষমতা রাখে মেয়েটি। কিন্তু এত ক্ষমতা, এত উৎসাহ সে পায় কোথা থেকে? বন্ডের মনে পড়ল, জ্ঞান হারানো প্রিন্সেসের ট্রাউজারের পকেট হাতড়াতে গিয়ে পয়েন্ট টোয়েন্টি টু ক্যালিবারের পিস্তলটার সঙ্গে তার একটা পার্সও ছিল। আর সেই পার্সের ভেতর ছিল দারুণ উত্তেজক কয়েকটি পিল। মনে হয় ঐ পিলগুলিই তাকে যৌন উত্তেজনায় সাহায্য করে।
প্রিন্সেসের চিন্তা থেকে এবার বন্ড মন দিল নিগ্রোদের দিকে। আবার ফোন করাতে, হু, মিষ্টি সুরে বলল বন্ড, আর এখনো আমি প্রিন্সেসের সঙ্গে কথা বলার জন্য অপেক্ষারত।
লোকটা একটু জোর দিয়ে কথা বলতে মনে হল পুর্তগীজের চাপ রয়েছে। বললাম তো সে এখানে নেই এখন, সত্যি কথা বলতে কি স্যার, ওর জন্য আমরা খুবই চিন্তিত। আপনার নামটি কি যেন?
কীল মাস্টার পাল্টা প্রশ্ন করল, তাহলে আপনি বলছেন, প্রিন্সেস এখন কোথায় থাকতে পারে সে খবর আপনি জানেন না?
না। লোকটা বলল, আমরা ওর খবর জানতে চাই। আপনি ওর বন্ধু, যদি ওর খবরটা দেন তবে খুবই বাধিত হব। হ্যাঁ, আমি বাজী ধরে বলতে পারি, অবশ্যই তা হবেন, কিন্তু কথাটা অসমাপ্ত রেখেই বন্ড কেটে দিল ইচ্ছা করে। এবার ওরা গরু খোঁজার মত খুজুক তাকে।
ফিরে গ্লাসে স্কচ ঢেলে এক চুমুক দিয়ে গ্লাস হাতে জানলার ধারে গিয়ে দাঁড়াল সে। নিচে প্রশস্ত বাগান, বড় বড় গাছের নিচে ফুলের বাগান, বসার বেঞ্চ। একটা বেঞ্চের দিকে তাকাতেই সে অবাক হল–সেই টিউব ট্রেনের লোকটার হাতে এখন সেই কাগজটা, তার হাতেই হয়েছে। বন্ড ভাল করে দেখল লোকটাকে। টুপিহীন মাথা, চুলগুলো বেশ বড়, বয়সের তুলনায় লোকটা দেখতে বুড়োটে ধরনের। বন্ড তার একটা সিগারেট ধরিয়ে আবার জানালার ধারে এল। এবার লোকটা কাগজটা মুড়ে পাশে রেখে দিয়েছে।
এ্যাক্স-এর এজেন্ট, বন্ড মাথা নাড়ল–লোকটা সুপুরুষ বটে, তবে আর্থিক স্বচ্ছলতা নেই নিশ্চয়ই। নইলে এমন মামুলি পোশাকে লন্ডন শহরে মানায়, লোকটা কাউন্টার এজেন্ট নয় তো? ব্লেকারের খুনের জায়গা থেকেই সে নিশ্চয়ই বন্ডকে অনুসরণ করছে। সে নিশ্চয়ই খুন হতে দেখেছে কিন্তু যত আগ্রহ তার বন্ড কার্টারের ওপর।
