কিন্তু ব্রেকারের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রিন্সেস জড়িত, বিশ্বাস হল না বন্ডের। তার সন্দেহ, প্রিন্সেসের নামটা ইচ্ছে করে জড়িয়েছে যাতে পুলিশকে ভুল পথে নেওয়া যায়। ব্রেকারকে সে প্রথম ও শেষ দেখেছিল র-ফিল্ম বিক্রেতা হিসেবে। কোন নগ্ন ছবি বিক্রি করতে গিয়ে চড়া দাম নিয়ে ঝামেলা হয়েছে, তাই সে খুন হয়েছে। বন্ড ঘরের ভেতরটা তন্ন তন্ন। করে খুঁজে দেখল। প্রজেক্টর মেশিন ভাঙা, গোপন ক্যামেরায় কোন ফিল্ম নেই। বন্ডের অনুমান সত্য হতে চলেছে। দুটো কার্ডই পকেটে চালান করে ভাবল এর মধ্যে প্রিন্সেস দ্য গামার কার্ডে অনেক সত্য লুকিয়ে আছে হয়ত। প্রিন্সেস এখন তার বিছানায় শুয়ে আছে নিশ্চিন্তে। বন্ডের কাছে এখন প্রিন্সেসকে অনেক প্রশ্নের সামনে মুখোমুখি হতে হবে।
কীল মাস্টার দরজার দিকে এগিয়ে যায়। অনেকক্ষণ হল সে এখানে এসেছে, কেউ দেখার আগেই পালাতে হবে। তার বিশ্বাস প্রিন্সেস এই ব্যাপারে জড়িত নেই। বন্ডের মনে হল অত্যন্ত জটিল কেস, হক যদি এই কেস হাতে নেয়। তাহলে তাকে বেশ ঝামেলায় পড়তে হবে।
বন্ড দেখল, ড্রাগনের দরজা ভেজানো। সে বাইরে এসে ভাবল থ্রেনীডস স্ট্রীটে যেতে পারলে সেখান থেকে একটা ট্যাক্সি পেয়ে যেতে পারে। কিন্তু এ পথে যাওয়া মানে একেবারে বিপরীত পথে যাওয়া।
কিন্তু ড্রাগন ক্লাবের প্রবেশ পথের বড় কাঁচের দরজার সামনে এসে দেখে ভোর হয়ে আসছে। রাস্তায় একটি কালো রঙের গাড়ি দাঁড়ান। গাড়ির আরোহী দু জনের চেহারা বড় মাপের, বেঁটে লোকটা চালক আসনে। তাদের গায়ের রঙ ও চেহারা দেখে বন্ডের মনে হল, ওরা নিগ্রো হলেও হতে পারে।
বন্ড চালে ভুল করল। কাঁচের দরজা পেরিয়েই ছুটতে শুরু করল। গাড়ির চালকের আসনে উপবিষ্ট লোকটি দীর্ঘাকৃতি লোক দুটিকে কি নির্দেশ দিল এবং সঙ্গে সঙ্গে তারা বন্ডকে অনুসরণ করার জন্য ১৪নং হাফ ক্রিসেন্ট মিউজ এর দিকে এগিয়ে আসতে থাকল।
লবি পেরিয়ে ছোট্ট একটা প্যাসেজে পা দিল বন্ড, উদ্দেশ্য পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর রাস্তা খোঁজা, পয়েন্ট টুয়েনটি-টু ক্যালিবার পিস্তলটা বন্ডের হাতে উদ্যত। পিছনের দরজায় তালা ছিল। বন্ড পকেট থেকে চাবির গোছা বার করে তালা খুলল। বাইরে এসে আবার তালা লাগিয়ে দিল।
বিরাট পাঁচিল সামনে, পাঁচিলের ওপর কাঁচ লাগানো। বন্ড পরণের জ্যাকেটটা খুলে ভাঙ্গা কাঁচের টুকরো ঢাকবার জন্য পাঁচিলের ওপর ছুঁড়তে যাবে ঠিক নিচে জঙ্গলপের উপর দুটি গলা কাটা মৃতদেহ পড়ে আছে।
বন্ড দেরী না করে জোরে ভল্ট দিয়ে দেহটা শূন্যে নিক্ষেপ করে পাচিলের এপাশে এসে পৌঁছল। ছোট্ট একটা গলির মত রাস্তা মুরগেট রোডের সমান্তরাল। বন্ড বাঁদিকে যাবে ঠিক করল।
রাস্তায় দাঁড়াতেই বন্ড চমকে উঠল। দেখে পাচিলের ওপরে একটা দৈত্যাকারের লোক তার দিকে হাত বাড়াচ্ছে। সাক্ষাৎ যেন যমদূত, তার ঠোঁটে ব্যাঙ্গের হাসি। সে পাঁচিল টপকে বন্ডের পেছনে ছুটতে লাগল।
নানান রাস্তা ঘুরে ফিনসবারি সারকাসে ঢুকতেই দেখে সেই কালো সেজন গাড়িটা। এখানে পালাবার পথ নেই, সারি সারি বাড়ি আর দোকান। দোকানগুলি সব বন্ধ। বন্ড হাঁটতে শুরু করল পকেটে হাত ঢুকিয়ে। প্রয়োজনে পিস্তলটা বার করবে।
গাড়ির পেছনের তিনজন আরোহীর মধ্যে একজন বলল, থাম, আমাদের গাড়িতে উঠে এস মিস্টার। তোমার সঙ্গে অনেক কথা আছে।
বন্ড কোন কথা না বলে হাঁটতে থাকে। তারা বারবার বাধা দিলে বন্ড বিরক্ত হয়ে বলে, জাহান্নামে যাও তোমরা তোমাদের সঙ্গে আমার কোন কথা নেই। বন্ডের উপকার হল, তাদের কথায় বুঝতে পারল তারা আফ্রিকার লোক।
তারা তাকে ১৪নং হাফ ক্রিসেন্ট মিউজের সামনে দেখেছে তাই বন্ড ভাবছে, ক্লাব থেকে কি খোলা গেছে তারা জানতে চায়, তারা রেকারের খুনের কারণ জানতে চায়।
ডানদিকে মোড় নিল বন্ড। সেই সঙ্গে সেই কালো গাড়িটাও। লোকটা তিনবার কঠোর ভাষায় বলল, এবার তুমি যদি গাড়ির ভেতরে উঠে না আস আমরা তাহলে তোমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে বাধ্য হব। আমরা কেবল তোমার সঙ্গে দুমিনিট কথা বলতে চাই।
বন্ড ঠিক তেমনি হাঁটতে থাকে। জাহান্নামে যাও। আমাকে একটু একা থাকতে দাও।
বিরাট চেহারার নিগ্রো দুজন গাড়ি থেকে নেমে এবার বন্ডকে অনুসরণ করতে লাগল আর বেঁটে নিগ্রোটা খোলা দরজায় মুখ বাড়িয়ে। তার হাতে সেই অটোমেটিক রিভলবার।
বন্ড বুঝতে পারল, এবার সংঘর্ষ আসন্ন, সে ভাবছে প্রয়োজনে ওদের খুন করবে কি না? সাড়ে ছ ফুট লম্বা গেরিলার মত দেখতে লোকটা খুব কাছাকাছি হাঁটছিল, লোকটা খালি হাতে লড়াই করলেই সে খতম হবে।
আগুয়ান নিগ্রোটা দুহাত বাড়িয়ে সাক্ষাৎ মৃত্যুর মত ছুটে এল। তার ঠোঁটে ভয়ঙ্কর ব্যঙ্গের হাসি। বন্ডও প্রস্তুত হয়ে দাঁড়াল, তারপর আচম্বিতে লাফ দিয়ে নিগ্রো গেরিলার গলা টিপে ধরার চেষ্টা করতেই প্রচণ্ড এক ঘুষি এসে পড়ল বন্ডের মুখে। তারপর আর একটা
নিগ্রোটা বন্ডকে শূন্যে উত্তোলন করল, যেন কোন শিশুকে নিয়ে খেলা করছে। বন্ড বুঝতে পারল যে সে তাকে খতম করতে চায় না, তার দলের কাছে নিয়ে গিয়ে কোন জরুরী খবর শুনতে চায়। কিন্তু বন্ড তাদের পাত্তা দেয় না।
বন্ডের মনে পড়ল, প্রিন্সেস দ্য গামার সাইলেন্সার দেওয়া ছোট্ট পিস্তলটা আছে সে সেটা বার করল এবং নিগ্রোর কাঁধে গুলি ছুড়ল। কোন শব্দ নেই তাই প্রথমে রক্ত দেখে নিগ্রোটা আঁতকে উঠল। কিন্তু পরক্ষণেই বন্ডের হাতে পিস্তলটা দেখে বলল। ও! এ তোমার কাজ তাহলে? কিন্তু তোমাকে আমি এক্ষুণি শেষ করতে পারব না, তোমাকে আমাদের খুব প্রয়োজন। তুমি একটু শান্ত হয়ে আমার কথাটা বোঝার চেষ্টা কর
