হ্যাঁ, বন্ড বলল, তবু তুমি এর পার্স খুঁজে বার কর তারপরের ভাবনা আমার।
মেয়েটির চোখ বোজা, বন্ডের বাহুপাশের মধ্যে, ওর দেহে দামী প্রসাধনী বন্ডকে আসক্ত করে। লাল পাতলা ঠোঁট, সমৃদ্ধ স্তন মেয়েটি অসম্ভব লোভনীয় সুন্দরী। না আজ রাতে সে তাকে গ্রহণ করবে না।
বুড়ো বারটেন্ডার একটা সাদা রঙের পার্স নিয়ে আসে। বন্ড একহাতে পার্সটা পকেটে রেখে তার পার্স থেকে একগাদা পাউন্ডের বিল বুড়োকে দিয়ে বলে দ্যাখ, একটা ট্যাক্সি পাও কিনা।
লোকটা চলে যাওয়ার পর দু হাতের চেষ্টায় মেয়েটির চিবুক তুলল। মেয়েটি একটু চোখ মেলে তাকাতেই বন্ড বলল, হাঁটতে পারবে?
মেয়েটি অসম্মতি জানিয়ে তার গলা জড়িয়ে ধরল। পারবে না? তাহলে তোমাকে কোলে নিয়ে যেতে হবে। ঠিক আছে– সেই রকম জড়ানো অবস্থাই সে ক্লোকরুম থেকে বেরিয়ে এল।
বাইরে আসতেই বার-এর ম্যানেজারের সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময়, তার পরেই তার দৃষ্টি মেয়েটির স্কার্টের উপর।
স্যার, ঐ দেখুন। দেখলাম কোলে করে নিয়ে যাওয়ার ঝাঁকুনিতে স্কার্টটা নাভীর ওপরে উঠে গেছে–এর ফলে টাইট উরু এবং প্যান্টিটা একেবারে স্পষ্ট। স্যার। বন্ড স্কার্টটিকে নিচে নামিয়ে ঠিক করে দিয়ে বলল, তুমি কি কিছু চাও?
বন্ড বলে, প্রিন্সেসকে আমি সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি।
খুব ভাল কথা লোকটি বলল, যত তাড়াতাড়ি পার এখান থেকে নিয়ে যাও। লন্ডনের যে কোন ক্লাবের কাছেই মেয়েটি একটি অভিশপ্ত।
হ্যাঁ, যাব, নিশ্চয়ই যাব! বন্ড আক্ষেপ করে বলে, বেচারা, ঠিক সময়ে আমি না এলে এতক্ষণে ওর সতীত্বের কিছুই থাকত না। জানেন, একটু আগে পেট ফোলা মোটা লোকটি ওকে প্রায় ধর্ষণ করতে যাচ্ছিল। আমি বাধা দিয়ে বাঁচাই মেয়েটিকে।
আমার বারে ধর্ষণ। তাও কেবল পুরুষদের নির্দিষ্ট বারে। আপনি কি স্বপ্ন দেখছিলেন তখন, নাকি একটু বেশি ড্রিঙ্ক করেছিলেন?
না, কোনটাই নয়। বন্ড ম্লান হেসে বলল, খাঁটি সত্য ঘটনা। তাছাড়া বেশি মদ খেলেও আমি কখনো মাতাল হই না।
স্যরি।
কে এই লোকটিং বন্ড জানতে চাইল–ঐ পেট মোটা লোকটা? ম্যানেজার প্রত্যুত্তরে বলল, স্যার চার্লস ফদারিংগে। এই ক্লাবের একজন নিয়ন্ত্রণ কর্তা উনি।
বন্ড বলে, উনি যেই হোন না কেন, আপনি ওকে ব্ল্যাকমেল করতে পারেন। ও. কে, গুডবাই
বাই
বন্ড কার্টার ট্যাক্সিতে উঠে চালককে নির্দেশ দিলেন, কিনিংটন। অলিড়গেট হোটেলে বন্ড ওকে নিতে চায় না। প্রিন্সেস গামার একটি বিশেষ পরিচিতি আছে, রিপোর্টার দেখতে পেলে নানা প্রশ্ন। পরদিন খবরের কাগজে বড় বড় হেড লাইন হয়ে যাবে সে। এদিকে দেহের তাগিদও তাকে তাড়া দিচ্ছে। অনেক মেয়েকে দেখেছে সে কিন্তু এমন সুন্দরী এর আগে চোখে পড়েনি। বিছানায় মেয়েটি তৃপ্তি অনুভব না করলেও তার দেহ তো শীতল হবে। আজ সে প্রিন্সেসের দেহের প্রতিটি ইঞ্চি জরিপ করে দেখতে চায়।
এইসব কথা যখন সে হঠাৎ ভাবছিল ট্যাক্সিটা জোরে ঝাঁকুনি দিতেই মেয়েটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বন্ড তাকে আবার জড়িয়ে ধরে আবেগে। বন্ড তার তপ্ত ঠোঁটের ওপর ঠোঁট দুটি ঘষতে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে ঠোঁট ঘষার পর নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিতেই প্রিন্সেস আবেগ কম্পিত গলায় বলে, প্লিজ, আর একবার, আর একবার–
মেয়েটির ঠোঁটে গভীরভাবে চুম্বন এঁকে দিতে দিতে তার বুকে পিঠে হাত বোলাতে থাকে বন্ড। এবার বন্ডের মনে। পড়ে বন্ধুদের মুখে প্রিন্সেস দ্য গামার নাম শুনেছে অনেকবার, রয়্যাল পুর্তগীজ রক্ত, ভাস্কো দ্য গামার বংশের মেয়ে–
ইতিমধ্যে ট্যাক্সিটা তার ফ্ল্যাটের সামনে এসে গেছে। ড্রাইভার ভদ্রতা করে বলে, স্যার আমি কি আপনাকে সাহায্য করব।
না, ধন্যবাদ। ট্যাক্সি থেকে নেমে দেখল প্রিন্সেস হাঁটতে পারছে না। বন্ড তখন তাকে কাঁধে তুলে নিয়ে ফ্ল্যাটের দিকে গেল। দুদিনে প্রিন্সেসকে সুস্থ করে তুলে তারপর কবে জানাবে, ভাবল বন্ড।
চৌদ্দ নম্বর হাফ ক্রিসেন্ট মিউজ-এ ড্রাগন ক্লাবে মিনিট দশেক স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল বন্ড। প্রিন্সেসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার দরুন তাকে এখানে আসতে হয়েছে।
চারটে বেজে পাঁচ মিনিট তখন। ড্রাগন ক্লাবে ঢোকার আগে সে ছিল প্লে-বয়, এখন ড্রাগন ক্লাবে ঢুকেই সে একজন কীলমাস্টার, পেশাদার টাইগার।
ড্রাগন ক্লাবে ঢুকে হঠাৎ যেন তাজা রক্তের গন্ধ পেল। থিওডোর ব্লেকারের জিনিসপত্র, সোফা-ডিভানের গদিগুলো টুকরো টুকরো করে কাটা। একটি সোফার ওপর ব্লেকারের মৃতদেহ। মনে হল, প্রথমে তাকে খুন করে, তারপর তার দেহ থেকে মুণ্ডটা ধারাল ছুরির আঘাতে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। পরিষ্কার, পেশাদার হাতে গলাটা কাটা।
একপাশে গাদা করা মৃত রেকারের পোশাক। বন্ড নিচু হয়ে ব্লেকারের ট্রাউজারে পকেট থেকে তোয়ালেটা টেনে বার করল, অবশ্য রুমালে হাত চাপা দিয়ে। ওয়ালেটের ভেতর একটা সাদা কার্ড তুলে নিয়ে ভাল করে দেখল বন্ড, কার্ডের এক কোণায় লেখা রয়েছে ক্যাপ্টেন থিওডোর ব্লেকার। হিজ হাইনেশ ইনস্টার রাইফেলস। হঠাৎ দেখল একটা কার্ডে প্রিন্সেস দ্য গামা লেখা। পেছনে লেখা রয়েছে–ওকে খুন কর। ওকে খুন কর। ওকে খুন কর!
বন্ড গম্ভীর হল। হাতের লেখাটা যদি প্রিন্সেসের হয় তাহলে এই খুনের পেছনে এর হাত আছে। বন্ড পকেটে হাত রাখল। পিস্তলটা প্রিন্সেসের পয়েন্ট বাইশ ক্যালিবারের ঠিক জায়গাতেই আছে। সাইলেন্সর লাগানো আছে, গুলি ছুঁড়লে শব্দ হবে না। প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হবে।
