একদল লোকের চিৎকারে তার কণ্ঠস্বর চাপা পড়ে গেল। একজন বলে উঠল, রাজকুমারী তোমার জামাটা খুলে ফেল, আমরা তোমার নগ্ন দেহ দেখতে চাই।
বন্ড দৃশ্যটা উপভোগ করে। সেও কম উত্তেজিত হয়নি। মেয়েটি সত্যিই লোভনীয়, তার দেহের সৌন্দর্য উপভোগ করার মতন।
কে এই মেয়েটি? বৃদ্ধা বারটেন্ডারকে বন্ড বলল। মেয়েটির উপর দৃষ্টি রেখেই সে উত্তর দিল। প্রিন্সেস দ্য গামা স্যার। পুর্তগীজের রাজ পরিবারের নীল রক্ত ওর দেহে–উঁচু মহলে ওর খুব নাম–সবাই ওর দেহ উপভোগ করতে চায়। এখন সে সম্পূর্ণ মাতাল। বেচারী মাতাল হলে ওর কোন জ্ঞান থাকে না, হায়, সৃষ্টিকর্তা! ঐ দেখুন স্যার, সব খুলে ফেলার চেষ্টা করছে।
জনতাও তাকে উৎসাহ দিয়ে চিৎকার করতে থাকে, সব খুলে ফেল, সব খুলে ফেল —
পেটমোটা এক মাঝবয়সী লোক তার মনের ভাব এরকম যেন ওকে পেলে সে ছিঁড়ে খাবে। মেয়েটি কিন্তু তাকে পাত্তা দিল না। মাতাল হলেও সে এক ধাক্কায় দূরে ঠেলে ফেলে দিয়ে বলল, বুড়ো ভাম, তুই কি আমার গরম ঠাণ্ডা করতে পারবি? মেয়েটি প্রায় তার সব পোশাক খুলে ফেলেছিল।
সেই দৃশ্যটা দেখে বন্ডের মনে হল সে যেন ইটালিয়ান ফিল্ম দেখছে। প্রিন্সেস সেই মুহূর্তে আদিম এক নৃত্যের তালে তালে পোশাক খুলে যাচ্ছে এক এক করে।
বন্ড খালি গ্লাস হাতে বার-এর দিকে চেয়ে। বারটেন্ডারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য মেয়েটি হঠাৎ ছুটে তার কাছে এসে স্কার্টটা খুলে ফেলল। এখন পরণে শুধু ব্রা আর প্যান্টি। এই অবস্থায় মেয়েটি বন্ডকে জড়িয়ে ধরল। তার শরীর থেকে দামী প্রসাধনীর গন্ধে ম ম করছে।
জনতা তাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখে উল্লাসে চিৎকার করে বলে, চালিয়ে যাও –বন্ডের শরীর উত্তেজিত, এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির মধ্যে একটু একটু করে ডুবে যেতে থাকে সে।
চোখ বন্ধ করে মেয়েটি নাচছিল মাথা দুলিয়ে, কোমর দুলিয়ে, কখনও একটি পা পিছনদিকে ছড়িয়ে নিতম্ব প্রদর্শনের ভঙ্গিমায়। বয়স্ক পুরুষেরা চিৎকার করে ওঠে, আর একবার, আর একবার, আর একবার পিছন ফিরে আমাদের দিকে দাঁড়াও প্রিন্সেস। প্যান্টিটা খুলে ফেল। আপন খেয়ালে সে নেচে চলে, নাচের উত্তেজনায় বাঁদিকে ব্রা থেকে মুক্ত হয়ে পড়ে তার বা স্তনটা। খয়েরি বোঁটা, আঙুরের মত সাইজ।
এক সময়ে মেয়েটি বন্ডের সামনাসামনি এসে নাচ বন্ধ করে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। উত্তেজিত জনতা চিৎকার করে উঠল, বাঘটার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়– ওরা বাঘ আর বাঘিনীর মিলনের দৃশ্য দেখতে চায়। খুলে ফেল, সব খুলে ফেল।
মেয়েটির সঙ্গে বন্ডের চোখাচোখি হতেই মেয়েটি হেসে ফেলল, তার চোখে কামনা থিকথিক করছিল।
তুমি কত সুন্দর! আমার রাজপুত্তুর। তোমাকে আমার ভীষণ ভাল লাগছে। তোমাকে কি বিশ্বাস করা যায়। বন্ড বিপন্ন বিস্ময়ে তাকাল মেয়েটির দিকে। মেয়েটি গাঢ় স্বরে বলল, দয়া করে আমাকে বাড়িতে নিয়ে চল।
প্রিন্সেস তখন বন্ডের গলা জড়িয়ে ধরেছে। তার বুকের উত্তাপ, উষ্ণ নিঃশ্বাস বন্ডের বুকে লাগছে।
ওদিকে সেই মোটা লোকটা তখন বন্ডকে বলল, ও মশাই শুনছেন, মেয়েটিকে আমি নিতে চাই। ও আমাদের বুঝলেন? তোমার নয়! আমরা ওকে চাই। তুমি ওকে আমার হাতে তুলে দাও!
তখুনি বন্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে বলে, মনে হয় আপনার অনুরোধ রাখতে পারব না। মেয়েটি তাকে ঘরে পৌঁছে দিতে বলল, শুনতে পাননি?
মেয়েটিকে ঘিরে তাদের পরিকল্পনার কথা বন্ড এবার বুঝতে পারে। নিউইয়র্ক বা লন্ডনের দলবাজির খবর সে জানে। পুরুষগুলো সব জানোয়ারেরই নামান্তর। বারের প্রতিটি লোক তার দিকে লাল চোখে তাকিয়েছিল। বারের বৃদ্ধ মালিক ভয়ে একবার বারের লোকগুলোর দিকে একবার বন্ডের দিকে তাকিয়ে ভাবছে–এই বুঝি বড় রকমের সংঘর্ষ বেধে গেল।
সেই বুড়ো ভাম গর্জে উঠল; শ্লা–আমরা কতদিন ওর জন্য রাতের পর রাত মদ কিনেছি, ওর পিছনে ঘুরেছি, আমার কোন অধিকারই নেই ওর ওপর? আর একদিনের ছোকরা এসেই ওকে জয় করে নেবে? ইয়ার্কি পেয়েছ?
বন্ড খুব সতর্ক ছিল, সে কেবল তার দু-তিনটি আঙুল দিয়ে একটু ধাক্কা দিল, লোকটা পেটে হাত দিয়ে বসে পড়ল হঠাৎ। অন্য সবাই হায় হায় করে ছুটে এল। বন্ড কঠোর দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে বলল, ঐ লোকটির মত আপনারা যদি পড়তে না চান তো ভালয় ভালয় কেটে পড় ন।
ওদিকে মেয়েটির দেহ তার বাঁ-হাতের মধ্যে আবদ্ধ। বন্ড তাকে নিয়ে চলল অন্ধকারে ক্লোকরুমে। বন্ড বৃদ্ধ। বারটেন্ডারকে নির্দেশ দেয়, আলোটা জ্বেলে দাও।
হলুদ আলোয় বেহুশ মেয়েটার দেহটা চোখের সামনে ভেসে উঠল। বন্ড বার বার টেন্ডারকে বলল, এক মিনিট। এস, এবার ওর গায়ে পোশাক চাপিয়ে দিই।
লোকটাকে নড়তে না দেখে বন্ড বলল, কি ব্যাপার বুড়ো ভাম? আগে কখনো অর্ধনগ্ন নারীর দেহ তুমি দেখনি?
লোকটা দাঁত বার করে হাসে, না স্যার, চল্লিশ বছর হল স্ত্রী মারা গেছে। তাই…যাই হোক, এবার আমি আপনাকে সাহায্য করব।
হ্যাঁ, তই কর। একটু তাড়াতাড়ি–দেহে পোশাক চাপাতে গিয়ে বন্ড বলল, মেয়েটির হাতে কোন বটুয়া বা লেডিজ পার্স দেখনি?
হ্যাঁ, দেখেছিলাম তো।
খুঁজে দেখ, তাতে এর বাড়ির ঠিকানাটা পেতে পারি–আর তুমি যদি…জান নাকি?
না স্যার। তবে কাগজে পড়েছিলাম, অলিডগেট হোটেলে থাকে সে। চেনেন সেই হোটেল টা?
