আমার নাম জেনে কোন লাভ নেই মিঃ ব্লেকার আমি প্রিন্স সোরাজ, আংকারির প্রতিনিধি।
ড্রিঙ্ক, স্মোক?
ধন্যবাদ কোনটাই লাগবে না।
দরজায় আবার টোকা, তৃতীয় আগন্তুক শ্বেতাঙ্গ তবে তার ইংরেজি উচ্চারণে ল্যাটিনী ঝোঁক। মাথায় ঝাঁকড়া চুল।
আপনিই তো মিঃ থিওডোর ব্লেকার, তাই না? আগন্তুক মৃদু হেসে বলল, আমি মেজর কার্লো ওলিভার, পুর্তগীজ ইনটেলিজেন্স। পুর্তগালের প্রিন্সেস দ্য গামার কথাটা হঠাৎ মনে পড়ল ব্লেকারের।
দরজাটা ভাল করে বন্ধ করে এসে পকেট থেকে তিনটি কার্ড বার করেন ব্লেকার, ব্লু-ফিল্ম দেখার পর এই পোষ্টকার্ডে সর্বনিম্ন দাম লেখা আছে আড়াই মিলিয়ন পাউন্ড। তবে যে বেশি দাম দেবে আমি তার হাতেই তুলে দেব। ফিল্মের পজেটিভ ও নেগেটিভ। এবার ভদ্রমহোদয়গণ, এই ছবিতে প্রিন্সেস মরগ্যান দ্য গামার সব থেকে চাঞ্চল্যকর যৌন জীবন দৃশ্য উপভোগ করুন। তারপর আপনাদের দেশে গিয়ে আপনাদের বড় কর্তার সঙ্গে আলোচনা করে আপনাদের সর্বোচ্চ দর আমাকে জানান। এই কার্ডে আপনাদের অর্ডার দেবার সময় ফোন নম্বর দিতে ভুলবেন না। পরে আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব।
বড় সোফায় তিনজনকে বসিয়ে থিওডোরের নির্দেশে মাঝখানে বসল কর্নেল মেজর ওলিভার।
প্রজেক্টর মেশিন চালু হল। অলস বেড়ালের মত ঘুম ঘুম চোখ প্রিন্সেসের, ঠোঁটে রহস্যময় হাসি। ছবির প্রথম দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে, প্রিন্সেসের ফ্রকের বোতাম খুলছে ব্লেকার। পর্দার উপর প্রিন্সেসের সমৃদ্ধ স্তন, মাংসল উরু, ভারী নিতম্ব, নাভীর নিচে ঢল নেমেছে। লোমশ সেই অংশটা দেখা গেল…।
.
০২.
দ্য ডিপ্লোম্যাট লন্ডনের নামীদামী জুয়া খেলা, নাচগান, হৈ-হুল্লোড়ের ক্লাবগুলোর মধ্যে অন্যতম। থ্রী কিংস ইয়ার্ডের ঠিক বিপরীত দিকে, গভর্নর স্কোয়ার থেকে খুব বেশি দূরে নয়। সেদিন বেশি লোকজন ছিল না, কয়েকজন ভদ্রলোককে সেই ক্লাবে যাতায়াত করতে দেখা গেল। তখন রাত নটা। লন্ডনে গরমের সময় এই সব ক্লাবে জুয়ার আড্ডা বেশ জমে। কেউ জুয়া খেলতে আসে, কেউ রগড় দেখতে আসে।
কীন মাস্টার বন্ড কার্টার তাদের ব্যতিক্রম নয়। গরমের মধ্যেই সে পথে বেরিয়েছে। তার এখন একটাই চিন্তা, হাতে কোন কাজ নেই, হক ডেভিড হক তার বস, তার সঙ্গে দেখা হলেই সে নতুন কাজ চাইবে। পুরুষ মানুষ, খালি হাতে বসে থাকতে ভাল লাগে না তাই মাঝে মাঝে এই বারে এলে জ্যাক চৌহাল্ডারটার তাকে সঙ্গ দেয়। জ্যাকের কাছে শুনেছে, সে, তার বাবা নাকি একজন সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মচারি। এসব লোকের সঙ্গে আলাপ রাখা ভাল। তার যা পেশা, কখন কাকে কি কাজে লাগে কে জানে।
গরমে গলাটা শুকিয়ে গেছে, গলাটা একটু ভিজিয়ে নেওয়ার জন্যই এই ক্লাবে আসা।
একথা সত্যি যে, সবসময় যে কাজেই ব্যস্ত থাকে, তবু অন্য কাজের মধ্যেও তাকে প্রয়োজনীয় সেই সব কাজ সারতে হয়, যোগ-ব্যায়াম তার মধ্যে অন্যতম। লন্ডনে টম মিতুবাশির সঙ্গে সে কাজ করেছে। জুডো, ক্যারাটে এখন তার কাছে ভালই লাগে।
এই সবই প্রতিদিনের চর্চার উপর নির্ভর করে। কিন্তু তার এখন প্রয়োজন একটা সাড়া জাগানো কাজ। এখন হাতে অফুরন্ত সময়। বাড়িতে বৃদ্ধ পিতার দেখাশুনা করা ছাড়া আর কোন কাজ নেই, ওয়াশিংটনে রাত হতে তখনো দেরি ছিল। হকের মনে কি আছে কে জানে। সে উদ্দেশ্য ছাড়া কাজ করে না। এই যে এখন তাকে কাজের বাইরে রেখেছে। কি উদ্দেশ্যে সেই জানে।
অফুরন্ত অবসর হাতে নিয়ে তাই দ্য ডিপ্লোম্যাট ক্লাবে চলে এসেছিল বন্ড। ক্লাবে ঢুকেই সে দেখল হাল্কা ভীড় অথচ একটা সম্মিলিত কোলাহল ভেসে এল। বন্ড সিঁড়ির সামনে থমকে দাঁড়ায়। সিঁড়িটা নিচে আন্ডারগ্রাউন্ডে নেমে গেছে। সিঁড়ির ওপর লেখা ছিল ও প্রাইভেট, মেনস বার।
উচ্চ কোলাহল আবার কানে আসতেই দৃষ্টি সজাগ হল বন্ডের। পুরুষদের বার, অথচ সেখান থেকে নারীর হাস্য কলরব ভেসে আসছে, বুঝতে পারে না সে। বন্ড সিঁড়ির তিনটে ধাপ নেমে এল। হকের সঙ্গে দেখা করার প্রসঙ্গে তার হাসি পেল। কে জানে এই প্রাইভেট মেনস্ বারেই আজ রাতে সে তার কাজের খোরাক পেতে পারে।
সিঁড়িপথে ধীরে ধীরে নীচে নেমে এল সে। একটা আবছা অন্ধকারে ঢাকা ছিল বারটা। ব্যতিক্রম একটা বার– সেখানে আলোর রোশনাই, বার টেন্ডারদের আনাগোনা, ব্যস্ততা।
অসাধারণ সুন্দরী এক বিদেশিনী মাতাল হয়ে বারের মধ্যে নাচছিল অবিরত। কিন্তু ঠিক চিনতে পারল না বন্ড। হলঘরের এক কোণে একজন আমেরিকান বাজনা বাজিয়ে চলেছে একটানা। প্রায় আধ ডজন পঞ্চাশোর্ধ বয়সের প্রৌঢ়। লোক অর্ধনগ্ন মেয়েটির নাচ দেখে হাততালি দিয়ে উৎসাহিত করছিল, হাসিতে ফেটে পড়ছিল। বয়স্ক বারটেন্ডার চোখ দু টি আড়াআড়িভাবে বুকের ওপর রেখে অবাক হয়ে নাচ দেখছিল আর ভাবছিল এরকম দৃশ্য সে এখানে এর আগে ঘটতে দেখেনি।
কীন মাস্টার ও কম অবাক হয়নি। এই ক্লাবে এটা অস্বাভাবিক ঘটনা, পুরুষদের বারে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা নিশ্চয়ই ম্যানেজমেন্ট জানে না।
অন্ধকারে চলতে গিয়ে বন্ড বারটেন্ডারের সঙ্গে ধাক্কা খেল। লোকটা নাচ দেখতে দেখতে যাচ্ছিল আর ভাবছিল একবার যদি আমার বাহুপাশে পেতাম। কিন্তু বন্ডের সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় হতেই মুখের ভাব বদলে গেল। এটা একটা লজ্জার ব্যাপার তাই না স্যার? সত্যি মেয়েটির জন্য করুণা হয়। এর জন্য পুরুষরা দায়ী, তারাই আজ ওকে এই অবস্থায় এনে ফেলেছে। মোটেই না, মেয়েটিও বোয়া তুলসী পাতা নয়। পুরুষদের সঙ্গে এমন ন্যাক্কারভাবে ঢলাঢলি করার ইচ্ছে না থাকলে কেউ জোর করে পারে না। বিশ্বাস করুন স্যার, মেয়েটি রীতিমত ভয়ঙ্কর। মেয়েটিকে আমি প্রথম দেখছি না। ও
