থিওডোর প্রায় একশবার ফিল্মটা দেখেছে কিন্তু তা সত্ত্বেও মদের গ্লাস নিয়ে বড় সোফার উপর বসে অবচেতন মনে একসময় সুইচটিতে চাপ দিতেই একটা যান্ত্রিক আওয়াজ ভেসে এল। সঙ্গে সঙ্গে একেবারে শেষ প্রান্তের ছাদ থেকে একটি সাদা পর্দা নেমে এল। আর একটি সুইচ টিপতেই পেছনের দেওয়ালে লুকিয়ে রাখা প্রোজেক্টর থেকে তীব্র আলো বিচ্ছুরিত হল সেই সাদা পর্দায়। ঠোঁট থেকে মদ মুছে একটা সিগারেট ধরিয়ে পায়ের ওপর পা রেখে পর্দার ওপর দৃষ্টি ফেলল ভাল করে। এই ফিল্ম এই তার শেষ দেখা, কারণ এটা এক দামী খদ্দেরের হাতে চলে যাবে। ফিল্ম-এর নেগেটিভটাও সে বিক্রি করে দিতে চায়। কারণ সে খদ্দেরকে ঠকাতে চায় না। সে তার টাকার সদ্ব্যবহার করতে চায় পুরোপুরি।
ছবির পর্দায় প্রথমেই তার চেহারা প্রতিফলিত হতে দেখা গেল। গোপন ক্যামেরাটা সে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পরীক্ষা করে দেখছিল–এ কাজে সফল হতে পারলে একদিন সে টাকার কুমীর হতে পারবে।
পর্দায় নিজের ছবি দেখতে দেখতে সে ভাবছিল কতই না ভয় হচ্ছিল। প্রিন্সেস যদি ক্যামেরার যান্ত্রিক আওয়াজ শুনতে পায় তাহলে রক্ষা নেই। পরক্ষণেই প্রিন্সেসকে তো সে জানে একবার এল, এস, ডি টানলেই তার কেবল শ্রবণশক্তি কেন, সব অনুভূতি, চেতনা সব কিছু লুপ্ত হয়ে যায়। তখন তার একটাই চিন্তা কি করে তার সঙ্গী পুরুষকে উপভোগ করা যায়। কোন্ কোন্ পোজে সে সেই পুরুষটি কর্তৃক ধর্ষিতা হবে।
ব্লেকার ঘড়ি দেখল, দুটো পনের। এখনও হাতে ঢের সময় আছে, ফিল্মের শেষটুকু দেখা যাবে।
পর্দায় তখন তার উত্তেজিত দেহটা থেকে থেকে কেঁপে উঠতে দেখা যাচ্ছিল। হঠাৎ সে দরজার দিকে তাকাতেই। দেখে প্রিন্সেস দ্য গামার অবয়বটা ভেসে উঠল। প্রিন্সেস ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে তার দিকে এদিকে তার দেহটা সোফায় টান টান হয়ে ওঠে। প্রোজেক্টর মেশিনটা অফ করে দিতেই পর্দাটা কালো হল। তারপর উঠে গিয়ে ক্যাবিনেট থেকে ড্রিঙ্ক বার করে ফিরে এল সোফায় এবং তারপর সুইচ টিপল প্রোজেক্টের মেশিনের। ব্লেকার জানে এর পরের দৃশ্যগুলি কি হবে। প্রিন্সেসের নগ্ন দেহের মধ্যে প্রবিষ্ট হয়ে গিয়েছিল সে প্রায় আধঘণ্টার ওপর। খুশির আমেজে প্রতিটি দৃশ্য খুঁটিয়ে ভাবতে থাকে ব্লেকার।
প্রিন্সেস আশা করেছিল আরও অনেকে উপস্থিত থাকবে সেখানে। প্রথমে তার কাছে একা থাকতে চায়নি সে। কিন্তু ব্লেকার জানে কি করে তার ইচ্ছেটা পূরণ হবে। ড্রাগন ক্লাবে ঢোকা মাত্র মদের গ্লাস তার ঠোঁটের সামনে তুলে ধরেছিল সে, তার সঙ্গে মেশানো ছিল এল. এস. ডি।
ব্লেকার জানত স্বাভাবিক অবস্থায় প্রিন্সেস তাকে ঘৃণা করত। কিন্তু একবার এল. এস. ডি. তার পেটে পড়লে সে আর প্রিন্সেস থাকত না, রাজকুমারী থেকে একেবারে বারবধূতে পরিণত হয়ে যেত। কিন্তু তার টাকা, অনেক অনেক। টাকা আছে। সে যদি একবার তার শয্যাসঙ্গিনীর যৌন মিলনের দৃশ্যগুলি চিত্রায়িত করে রাখতে পারে, পরে সেই ফিল্ম দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেল করতে পারবে; তাছাড়া পুর্তগালে নামীদামী লোকদের সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে। তার বাবা, লোকটা হাই ক্যাবিনেট পোস্টে কাজ করে। হ্যাঁ, প্রিন্সেসের পিছনে বিনিয়োগে লাভ আছে। তবে ভাল কি মন্দ, এ স্বপ্ন শুরুতে দেখনি, দেখেছি পরে, অনেক পরে।
প্রিন্সেসকে এল. এস. ডি গলাধঃকরণ করানোর পরেও সুইচ টেপেনি ক্যামেরার আরও আধঘণ্টা তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কারণ একটু একটু করে চেতনা হারাতে থিওডোর তাকে বড় সোফায় শুইয়ে দেয় যখন প্রিন্সেসের স্বাভাবিক সত্তা বলতে কিছু ছিল না, তখন থিওডোর ক্যামেরার সুইচ টেপে। নেশার ঘোরে প্রিন্সেস তাকে প্রিয় বন্ধু বলে গলা জড়িয়ে ধরে যে সব কথা বলেছিল রাজকুমারীর কণ্ঠে তা মানায় না। পুর্তগালের নীল রক্তে জন্ম প্রিন্সেস তখন বাজারের সস্তা কলগার্ল। পুর্তগালে ফিরে যাব? না, না প্রিয়তম। আমি তোমার কাছেই থাকব চিরদিনের জন্য এই তো তোমার কাছে কত সুখ। থিওডোরের গালে গাল ঘষতে ঘষতে সে বলে। পুর্তগালে ওরা ভাবে আমি পাগল, ওরা আমাকে তালা চাবি দিয়ে রাখবে। ওরা আমার খ্যাতি, প্রতিপত্তি সব জানে। তবু আমাকে সাধারণভাবে বাঁচতে দেবে না। আমার অভিভাবক কাকা, তার ধারণা–আমি মাদক দ্রব্য সেবন করি, যত্রতত্র ঘুরে বেড়াই, যে কোন পুরুষকে আমার শয্যাসঙ্গী করি। আমি তাদের সব অভিযোগ মানছি, কিন্তু ওরা যে আমাকে পাগল বলে এটাই মানতে পারি না। বিশ্বাস কর প্রিয়তম, আমি সুস্থ স্বাভাবিক পুরুষের সঙ্গে ছাড়া থাকতে পারি না। এইজন্যই আমি পুর্তগালে যেতে চাই না।
মাতাল হলে প্রিন্সেসের জ্ঞান থাকে না, সে তখন যে কোন পুরুষকে দেহ উপভোগ করতে দেয়; এই কারণেই থিওডোরের প্রথমেই ভাল লেগেছিল প্রিন্সেসকে। প্রথমে তার দেহ উপভোগ ভাল লাগলেও পরবর্তীকালে থিওডোর তার দেহ উপভোগের বদলে তাকে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কাজে লাগিয়েছিল। তার বেশ মনে আছে অর্থের প্রয়োজনে সে একদিন গোপন ক্যামেরায় তাকে উপভোগ করার অছিলায় ব্লু-ফিল্ম তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল, সেদিন প্রিন্সেস একদম টের পায়নি। এখন টের পেলেও কিছু করার নেই। প্রিন্সেস এখন কোথায় কে জানে। সে শুধু জানে, একটু পরেই তার তিনজন দামী খদ্দের আসবে ফিল্মটি কেনার জন্য। চড়া দামে সেইটি বিক্রি করে সে পাড়ি দেবে দক্ষিণ আমেরিকায়। তখন আর তাকে পায় কে?
