টেড ব্লেকার একেবারে টপ ফ্লোরে এসে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে পকেট হাতড়ে চাবি বার করল। কালো দরজা। ওপরে সোনালি আর লাল দাগে আঁকা একটি ড্রাগন। থিওডোরের গোপন আস্তানা–ড্রাগন ক্লাব। এই ক্লাবে যারা আসে সবাই আধুনিক যুবক, গো-গো গ্যাং অর্থ ও প্রতিপত্তি দুই-ই আছে তাদের।
কালো দরজা পথে ঘরে ঢুকে সে দরজা বন্ধ করে দিল। ঘরটা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত-বিলাস বহুল। এইভাবে প্রাইভেট ক্লাবগুলোতে অনেক সমস্যা। টাকা হাতে এল সব ঠিক হয়ে যাবে। তার হাতে এখন পঞ্চাশ পাউন্ডও নেই। তাতে কি হয়েছে?
থিওডোর হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে উঠল। এবার তার হাতে আসবে দুশ পঞ্চাশ হাজার পাউন্ড। সাত লক্ষ ডলার। সে একটি ফিল্ম বিক্রি করে এই টাকা পাবে।
ঘরের এক কোণায় মিনি বারের দিকে এগিয়ে গিয়ে ওয়াই ক্যাবিনেট থেকে ব্লেকার হাল্কা স্কচ এবং সোডার বোতল বার করল। উত্তেজক মাদ্রদ্রব্যে তার রুচি নেই, কিন্তু অবাধে সে বিক্রি করে এসেছে ম্যারি জুয়ানা, কোকেন, গাঁজা, নানা ধরনের রগরগে পিল, এল, এস, ডি। হ্যাঁ, এল এস ডিতে পয়সা আছে, তাতে দামী দামী খদ্দেরদের আকর্ষণ করা যায়।
ঠোঁটের ওপর লেগে থাকা মদ মুছে ভাবল থিওডোর–তার এখন অনেক ঝামেলা। ঘোড়ার পিছনে এবং জুয়া খেলতে গিয়ে অনেক টাকা লোকসান করেছে সে। বাজারে তার পাঁচশ ডলার দেনা। তারা আবার যখন আসবে তখন আমি প্রচুর টাকা নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকায়, সেখানে আমি নিরাপদ। নাম বদলে আমার জীবনধারা পাল্টে দেব, সহজ সরল জীবন যাপন করব।
ব্লেকার আবার ভেবে নিল, ওরা এলে কোথায় কোথায় ওদের দাঁড় করাবে। দু জন সামনে, দু জন পেছনে আর ওস্তাদ আনিফা থাকবে তার পাশে। কিন্তু তার অনুমতি ছাড়া কেউ ঘর ছেড়ে যেতে পারবে না।
ব্লেকার মদের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে ক্লাব ঘরের ভেতরে চোখ বুলাল। এই ঘরটা তার মানস কন্যা, তবু সে এখন একে ঘৃণা করছে, এই ঘরটা ছেড়ে পালাতে চাইছে। ঘরটা তৈরি করার সময় তার হাতে এক পয়সাও ছিল না কিন্তু। যেভাবে টাকা জোগাড় করেছে, জুয়েলারী লুঠ, ব্যাংক ডাকাতি, ইনস্টার রাইফেলের দু জন কর্মকর্তাকে ব্ল্যাকমেল করে মোটা টাকা আদায় করা, এসবের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার কথা ভেবেই তার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া। এখানকার সব সম্পর্ক ছিন্ন করে, তার পালিয়ে যাওয়ার আরও একটা কারণ হল, গায়ে-গতরে যত শক্তিই থাকুক না কেন, মনের দিক থেকে ভীষণ দুর্বল সে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড এবং নারকোটিক ব্রাঞ্চের ভয়ে। সেই সঙ্গে ইন্টারপোলের ভয় তো আছেই। এই কারণে বেশি দামে ফিল্মটা বিক্রি করে এখানকার আস্তানা গোটাতে চাইছে। ইংল্যান্ড তাকে কিছুই দিতে পারল না। একটা অভিমান ব্লেকারের মনে দানা বাঁধতে শুরু করেছিল ইনস্টার রাইফেলস-এর চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার দিন থেকে। এবং কর্নেল এ্যালিস্টেয়ার পনসোবির উক্তিটাও মনে জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছিল।
কর্নেল বলেছিল, ব্লেকার, তুমি এতই অবজ্ঞেয় যে, কিছুই ভাবতে না পারলেও করুণা বোধ করি। হ্যাঁ, এখানকার ভদ্রলোকদের মত তুমি না পারবে ঠিক মত চুরি করতে, না পারবে ঠকাতে।
সেই কথাটাই আজ ফিরে মনে পড়ল তার। যত ভাবে তার কথা ভাববে না, ভুলে যাবে তার কথা, কিন্তু তা হল কই! যাইহোক লোকটা এখন মৃত। তাহলে হবে কি? পৃথিবীটা অনেক বড়, অনেক চেনা-অচেনা মুখ আছে। তাদের মধ্যে যেমন একজন-কথাটা মনে হতেই প্রিন্সেসের কথা মনে পড়ে গেল ব্লেকারের।
প্রিন্সেস মরগান দ্য গামা।
থিওডোরের মুখে ক্রুর হাসি দেখা গেল। মুখের চোয়াল দুটি কঠিন হয়ে উঠল। একটা ভয়ঙ্কর অনুভূতি তার সারা দেহে ঝড় তুলল। প্রিন্সেস পুরো দাম দেবে। তাকে সে হাড়ে হাড়ে চিনেছে। ঐ ঠাণ্ডা এক জোড়া সবুজ চোখে যত শীতল ঘৃণাই জমা থাক না কেন, তা তার রাজকীয় কাম দংশনে চাপা রাখতে পারেনি কোনদিন। এল. এস. ডি. টানলেই প্রিন্সেসের মজা বাড়ে এবং মজার পর রগড় শুরু হয়।
হ্যাঁ, থিওডোর বলতে পারে, প্রিন্সেসের প্রতিটি শারীরিক বাঁক তার নখদর্পণে। মনে মনে এক হিংস্র আনন্দ অনুভব করল সে, প্রিন্সেস ঐ সোফায় উজ্জ্বল হয়ে কত কিই না করেছে তার সঙ্গে এল. এস. ডির নেশায় বুঁদ হয়ে। সেই সব দৃশ্যগুলি চিত্রায়িত হয়ে আছে। তার ইচ্ছে বিশ্বের প্রতিটি অগ্রণী সংবাদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রিন্সেসের কামোত্তেজক নগ্ন দেহের ছবি ছাপা হোক।
এক চুমুকে অনেকটা মদ খেয়ে চোখ বুজল সে। ভাবছে প্রিন্সেসকে নিয়ে সামাজিক পৃষ্ঠায় তার অবৈধ জীবনের কেচ্ছা কাহিনী ছাপার অক্ষরে দেখতে পাচ্ছে। পুর্তগীজদের নীল রঙের বাহক সুন্দরী প্রিন্সেস মরগান দ্য গামা শহরের নাম করা ব্যাভিচারিণী, দেহ পসারিণী। অন্ডগেটে প্রিন্সেসের একটা রয়্যাল সুইট আছে। সাংবাদিকদের কাছে ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে প্রিন্সেস বলেছে, ড্রাগন ক্লাবে না গিয়ে কিছুতেই সে থাকতে পারে না। সেখানে সে পুরুষের সঙ্গে অবৈধ যৌন মিলনে লিপ্ত হয়, টাকার জন্য তো বটেই, তবে তার থেকেও বেশি প্রয়োজন তার যৌন ক্ষুধা। এক ঢিলে দুই পাখি সে বধ করে।
হঠাৎ ঘরের ভিতরে বিকট হাসি শুনতে পেল সে। একটু পরেই সম্বিত ফিরে পেল থিওডোর, সে হাসি তারই। কল্পনার জগৎ ছেড়ে ফিরে এল বাস্তবে।
