বন্ড যেভাবে অপারেশন এ্যান্ড স্ল্যাসের মোকাবিলা করেছেন M তাতে সন্তুষ্ট। কিন্তু ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড এখনো গোল্ডফিংগারের সেই দু কোটি ডলার মূল্যের সোনা নিয়ে চিন্তিত। পুরো সোনাটা নিউইয়র্কের প্যারাগন সেফ ডিপোজিট কোম্পানিতে এনে জমা করেছিলেন গোল্ডফিংগার। অভিযানের আগের দিন সব ট্রাকে চাপিয়ে নিয়ে চলে যান। সোনার সন্ধান পেলেই তা বাজেয়াপ্ত করা হবে। কারণ এই সোনা যে মূলতঃ ইংল্যান্ড থেকে চোরাপথে বাইরে পাচার হয়েছিল সেটা প্রমাণ করা শক্ত হবে না। কিন্তু যেহেতু আমেরিকায় M-এর কোন কর্তৃত্ব নেই তাই অর্থদপ্তরও কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী এ ব্যাপারে তদন্ত চালাচ্ছে। বন্ড যেন এখনই দেশে ফিরে M-কে ব্যাপারটা সেরে ফেলতে সাহায্য করে।
আরেকটা ব্যাপার হয়েছে, কথাবার্তার শেষে M কর্কশভাবেই জানালেন–ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ এসেছিল বন্ডকে যেন আমেরিকান বীরত্ব পদকটি গ্রহণ করতে দেওয়া হয়। অবশ্য M জানিয়ে দিয়েছেন তাদের গুপ্তচর বাহিনীর লোকেরা এসব পদক টদক নেয় না বিদেশী রাষ্ট্রের কাছ থেকেও না, নিজেদের কাছ থেকেও না। ব্যাপারটা খারাপ হলেও M জানতেন বন্ডও এই ব্যাপারে একমত হবে। বন্ড জানিয়ে দিল পরের প্লেনে সে লন্ডনে আসছে আর তিনি যা করেছেন ঠিকই করেছেন।
গাড়ি চড়ে এয়ারপোর্টের দিকে যেতে যেতে বন্ড একটু অসন্তোষ বোধ করছিল। কোন ব্যাপারে খোঁচা রেখে দেওয়া তার অপছন্দ। দস্যুসর্দারদের ধরা হয়নি, আর যে কাজের ভার বন্ডের ওপর দেওয়া হয়েছিল তার কোনটাই করতে পারেনি সে। গোল্ডফিংগার আর গোল্ড দুটিই তার হাত ফসকে বেরিয়ে গেছে। বড় অভিযানটা শেষ পর্যন্ত বানচাল করা গেছে এটাই আশ্চর্যের ব্যাপার কেননা প্লেনটা দুদিন পড়েছিল পরিষ্কার না হয়ে। তারপর যখন ঝাড় দারটি প্লেন সাফ করতে গিয়ে দেখতে পায় এবং প্যাকেট নিয়ে পিংকারটনে পৌঁছায়, তার ঠিক আধঘণ্টা পরে লিটারের উপকূল অঞ্চলে যাবার কথা এক ঘোড়দৌড় ঘটিত কেলেংকারীর তদন্তের জন্য।
তবে কাগজটা পড়ামাত্র ঝড়ের গতিতে কাজ শুরু করে দেয়। প্রথমে বড় কর্তার কাছে তারপর আমেরিকার কেন্দ্রীয় পুলিশে, শেষে সামরিক সদরদপ্তর পেন্টাগনে। বন্ডের পরিচয় কেন্দ্রীয় পুলিশের অজানা নয়। তার ওপর CIA-র মাধ্যমে M-এর সঙ্গে যোগাযোগ করামাত্র ব্যাপারটার অসীম গুরুত্ব বুঝতে পারল সবাই। অতএব পুরো দায়িত্ব। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে প্রেসিডেন্টের হাতে।
তারপরই শুরু হল বিশাল ধাক্কার প্রস্তুতি, যাতে গোটা দলশুদ্ধ গোল্ডফিংগারকে ফাঁদে ফেলা যায়। ফোর্ট নকসের প্রায় প্রতিটি বাসিন্দা আংশিকভাবে এতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। গোল্ডফিংগারের দুই জাপানি অনুচরদের ধরে তাদের কাছ থেকে যে পরিমাণ GB বিষ পাওয়া গেছিল তা ফোর্ট নকসের যাবতীয় বাসিন্দাকে মেরে ফেলার পক্ষে যথেষ্ঠ। কাজ শেষ হলে লোক দুটিকে যে সাংকেতিক বার্তা পাঠাতে বলা হয়েছিল তা গায়ের জোরে বার করা হয়েছিল। তারপর সামরিক বাহিনী ফোর্ট নকস অঞ্চলে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে যাবতীয় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। শুধু ডাকাতদের আসার রাস্তা খোলা রাখা হয়েছিল। বাকি সবটুকুই অভিনয়–এমন কি সেই গোলাপী ফেনা ও বাচ্চার কথা পর্যন্ত সাজান।
আমেরিকানদের দিক দিয়ে সমস্ত কাজ শেষ কিন্তু ইংরেজদের কাজ শেষ হয়নি। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের সোনা নিয়ে আমেরিকা মাথা ঘামাবে কেন? দু জন ইংরেজ মেয়ে যে এইজন্য খুন হয়েছে তাতে আমেরিকার কি এসে যায়? আমেরিকার রক্ষা পেয়েছে অতএব গোল্ডফিংগারকে ধরার আর কোন ব্যস্ততা নেই।
বন্ড গাড়ি থেকে তার ব্যাগ নামিয়ে নিয়ে লিটারকে বিদায় জানাল। বলল, যাবতীয় সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ ফেলিক্স। চিঠি লিখিস।
লিটার জোরে তার হাত চেপে ধরল। বলল, নিশ্চয়ই, ইয়ার, তুই ভাল থাকিস। তোদের ঐ বুড়ো বজ্জাত M লোকটাকে বলে একবার চলে আয়। এসব গণ্ডগোল থেকে ছুটি নিয়ে তোকে আমার দেশের বাড়িতে নিয়ে যাব। আমার তেলের খনিটাও দেখাব তোকে। …চলি।
গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে গেল লিটার। বন্ড হাত নাড়তে, স্টুডিল্যাকের জানালায় লিটারের ইস্পাতের হাত একবার দেখা দিয়েই মিলিয়ে গেল।
বন্ড একটা নিঃশ্বাস ফেলে ব্যাগটা তুলে নিয়ে এগিয়ে গেল বি.ও.এ. সির টিকিট কাউন্টারের দিকে।
সঙ্গে কেউ না থাকলে এয়ারপোর্টে বেড়াতে ভালই লাগে বন্ডের। এখনো আধঘণ্টা সময় আছে। সুতরাং সে ভীড়ের মধ্যে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াল, রেস্তোরাঁয় বসে মদ খেল, তারপর বইয়ের দোকানে গিয়ে একটা গলফ খেলার বই ও গোয়েন্দা উপন্যাস কিনল। শেষে এগোল অন্য একটা ছোটখাট জিনিসের দোকানে। সেক্রেটারি মেয়েটার জন্য মজার কোন জিনিস নিয়ে যেতে হবে।
এবার বি. ও. এ. সি.-র ঘোষণা শোনা গেল। লম্বা যাত্রী তালিকা থেকে এক একজন করে টিকিট কাউন্টারে ডাকা হচ্ছে। দশ মিনিট পরে বন্ড একটা দামী বলপয়েন্ট পেন কিনে দাম মেটাতে যাবে এমন সময় তার ডাক পড়ল। বি. ও. এ. সি-র মনার্ক ফ্লাইট নং ৫০০-এর লন্ডন গামী যাত্রী মিঃ জেমস্ বন্ড অনুগ্রহ করে টিকিট কাউন্টারে আসুন। নির্ঘাৎ ট্যাক্স ফ্যাক্সের ঝামেলা। আমেরিকায় থাকাকালীন বন্ড এত রোজগার করেছে তার হিসেব চাইবে। বন্ড দোকান। থেকে বেরিয়ে কাউন্টারে ঢুকল। অফিসারটি ভদ্রভাবে বললেন, আপনার হেলথ সার্টিফিকেটটা একবার দেখতে পারি মিঃ বন্ড
