গোল্ডফিংগার বিদ্রূপ করে বললেন, ধন্যবাদ মিঃ শোলো। আপনার প্রস্তাবে আমি রাজি, বেঁচে থাকতে কার না ইচ্ছা করে। মিঃ হেলমুট স্প্রিংগার?
মিঃ স্প্রিগারের চোখ আরও যেন নির্জীব হয়ে গেল। দম্ভের সঙ্গে বললেন তিনি, আমি এখনও বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছি, আপনি বরং অন্যদের মতামত জেনে নিন।
মিঃ মিডনাইট অধীরভাবে মন্তব্য করলেন–এটা ঠিক আগের মতই আছে। সিদ্ধান্ত নেবার আগে এমন ভাবভঙ্গি করবে যেন ওপর থেকে সৃষ্টিকর্তা এসে কোন উপায় বাতলে দিয়ে যাবেন।
আপনি মিঃ স্ট্রাপ?
হাসি হাসি মুখ করে তাকালেন স্ট্র্যাপ গোল্ডফিংগারের দিকে, মিস্টার মনে হচ্ছে যেন সবদিক বুঝেই আপনি কাজে নেমেছেন। তাছাড়া লাভটাও বেশি। অতএব আমরা যদি ঠিকমত লোকজন, অস্ত্রশস্ত্র যোগাতে পারি তো কাজটা হয়ে যাবে। আমি যোগ দিতে রাজি। পরক্ষণেই কড়া চোখে পুসি গ্যালোর দিকে তাকালেন।
মিস গ্যালোর চোখ নামিয়ে নিয়ে বলল, আমাদের অবস্থা তেমন ভাল নয়। দীর্ঘ রূপালি রঙ করা নখ দিয়ে সোনাটাকে আঘাত করে বলল তা বলে ভাববেন না ব্যাংকে দেনা পড়ে আছে, বরং বলা যায় যতটা জমা উচিত ছিল ততটা জমেনি। হ্যাঁ আমি যোগ দেব এ কাজে। আমার আর মেয়েদের পেট চালাতে হবে তো!
গোল্ডফিংগার সমবেদনার হাসি হাসলেন, খুব ভাল কথা মিস্ গ্যালোর, আচ্ছা এবার মিঃ স্প্রিংগার আপনি মনস্থির করছেন?
মিঃ স্প্রিংগার উঠে দাঁড়িয়ে ছোট একটা হাই তুললেন। তারপর একটা রুমাল বার করে মুখ মুছে নিয়ে আস্তে করে ঘাড় নাড়লেন গোল্ডফিংগারের দিকে তাকিয়ে। গম্ভীর চালে বললেন, এক ব্যাংক ম্যানেজার ঋণের আবেদন খারিজ করে দিচ্ছেন এমন ভাব। মিঃ গোল্ড, ডেট্রয়েটে আমার সহকর্মীরা আপনার প্রস্তাবে রাজি হবে বলে মনে হয় না। সকলের উদ্দেশ্যে মাথা নোয়ালেন একবার এই চমৎকার সম্মেলনের জন্য আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ। বিদায় ভদ্রমহোদয়গণ ও মহোদয়া। হিমশীতল নিস্তব্ধতার মধ্যে মিঃ স্প্রিংগার শান্ত পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
খট করে বন্ধ হল দরজাটা। বন্ড লক্ষ্য করল গোল্ডফিংগারের হাত টেবিলের নিচে চলে গেছে। বুঝল বোতাম টিপে অডজবকে সংকেত পাঠালেন। কিন্তু সঙ্কেতটা কিসের?
মিঃ মিডনাইট বিকৃত স্বরে বললেন ভালই হল, লোকটা মহাবদ। আচ্ছা এবার, বলে উঠে দাঁড়িয়ে বন্ডকে বললেন, দু এক পাত্র হবে নাকি?
সকলে উঠে বুফে টেবিলের কাছে এল। বন্ড দাঁড়াল দুই মহিলা গ্যালোর ও টিলির মাঝখানে। তাদের শ্যাম্পেন অফার করল কিন্তু গ্যালোর তাকে বলল, সরে দাঁড়াও কার্তিক চন্দ্র, আমরা দুজনে কিছু গোপন আলোচনা করব। কি বলিস তাই না? মিস মাস্টারটন লজ্জায় লাল হয়ে উঠল, গভীর প্রীতিতে ফিসফিস করে বলল হা নিশ্চয়ই মিস গ্যালোর।
বন্ড টিলির দিকে তাকিয়ে তেতো হাসি হেসে চলে গেল।
জেড মিডনাইট ঘটনাটি লক্ষ্য করেছিলেন, বন্ডের কাছে এসে বললেন আন্তরিকতার সঙ্গে–মিস্টার, ওটি যদি তোমার বান্ধবী হয় তাহলে ওখান থেকে সরিয়ে নিয়ে এস। একটা মেয়েকে গ্রাস করতে পুসির এক মিনিট সময় লাগে না, স্রেফ আঙ্গুরের মত গেলে ফেলে, বুঝেছ তো কি বলতে চাইছি
বন্ড আমুদে গলায় বলল, আমি লক্ষ্য রাখব। কিন্তু এ ব্যাপারে আমার কিছুই করবার নেই কারণ টিলি খুবই স্বাধীন প্রকৃতির।
-তাই নাকি? মিঃ মিডনাইট, গলায় উৎসাহ ফুটিয়ে তুলে বললেন, তাহলে আমি বরং একবার চেষ্টা করি। গলার টাই সোজা করে বললেন, মাস্টারটন মেয়েটাকে বাগাতে পারলে মন্দ হয় না। মেয়েটার প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। আসছি এক্ষুণি বন্ডের দিকে হেসে তাকিয়ে ওদের দিকে পা বাড়ালেন।
বন্ড একা একা ক্যাভিয়ের ও শ্যাম্পেন খেয়ে চলেছে। এমন সময় দরজা খুলে এক কোরিয়ান গোল্ডফিংগারের দিকে দ্রুতপদে এগিয়ে এল। মাথা নিচু করে চাপা গলায় বলা কথাগুলো শুনতে শুনতে মুখ গম্ভীর হয়ে উঠল গোল্ডফিংগারের। সকলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিজের গ্লাসে আওয়াজ করলেন।
-ভদ্র মহোদয়, বিষণ্ণ দৃষ্টিতে সকলের দিকে তাকিয়ে আবার শুরু করলেন, এইমাত্র একটা দুঃসংবাদ এসেছ, আমাদের বন্ধু হেলমুট স্প্রিংগার সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন।
হোঃ হোঃ মিঃ রিঙ বিচিত্র হেসে বললেন তিনিও সিঁড়ি থেকে পড়ে নিহত হয়েছেন।
গম্ভীর গলায় গোল্ডফিংগার বললেন, তিনিও সিঁড়ি থেকে পড়ে নিহত হয়েছেন।
মিঃ শোলো এক নতুন সম্ভ্রমের দৃষ্টিতে গোল্ডফিংগারকে দেখলেন–আস্তে বললেন, মিস্টার আমি ও আমার বন্ধু গিলি সিঁড়ি দিয়ে নামবার আগে আপনি বরং ওটা মেরামতের ব্যবস্থা করুন।
গোল্ডফিংগার আন্তরিক সুরে বললেন, সিঁড়ির মেরামত এখুনি শুরু হবে। তারপর চিন্তিত মুখে বললেন, আমার মনে হচ্ছে ডেট্রয়েটে হয়ত এই দুঘটনার অন্য মানে করা হবে।
জেড মিডনাইট সতেজ গলায় বললেন, কিছু ভাববেন না স্প্রিংগারের দলের লোক খুশিই হবে এতে। হেলমুটও আর বেশি দিন থাকত না। গত বার বাস ধরে ওকে ধরার বন্দোবস্ত করা হচ্ছিল। ঠিক বলিনি জ্যাকো? পাশে বসা মিঃ স্ট্রাপকে সাক্ষী মানলেন।
নিশ্চটই জেড, বিজ্ঞের মত বললেন মিঃ স্ট্র্যাপ। ঠিকই বলেছে, মিঃ স্প্রিংগারকে পেটানির ব্যবস্থা করা হয়ে গিয়েছিল।
পেটানো কথাটি স্থানীয় দস্যুমহলে খুন করার প্রতিশব্দ বলা হয়। সেদিন রাত্রে শুতে যাবার আগে ঐ কথাটাই বন্ডের মাথায় ঘুরছিল। গোন্ডফিংগার দু বার ঘন্টা বাজিয়ে অডজবকে সংকেত পাঠালেন।
