আর এখন! এখন জানা গেল তার শিকার খরগোশের মত নিরীহ নয়, শিয়ারের মত ধূর্তও নয়, একেবারে কেউটে সাপ। পৃথিবীর সব থেকে শক্তিশালী ও মারাত্মক এই মানুষটি। বন্ড ক্লান্ত নিঃশ্বাস ফেলে ভাবল আরও একবার বিশাল দায়িত্ব তার কাঁধে। কিন্তু কি করতে পারবে সে? কি করবার আছে
গোল্ডফিংগার হাত তুলে আশ্বস্তের বাণী শোনালেন। এ অস্ত্র সম্পূর্ণ নিরাপদ। এখনো এ বোমা বিস্ফোরণের জন্য তৈরি হয়নি, এখনই যদি হাতুড়ি দিয়ে পেটাই তাহলেও ফাটবে না। অভিযানের দিন এই বোমা ফাটবার জন্য তৈরি করব। তার আগে এটা ফাটতেই পারে না।
মিঃ বিলি রিঙের ফ্যাকাশে মুখ মাঝে চকচক করছে। ঠিকমত দাঁতের ফাঁক দিয়ে কাঁপা কাঁপা কথা বেরিয়ে এল, মিস্টার ঐ ঐ পারমাণবিক ভস্ম, কি যেন বলে, তার কি হবে?
পারমাণবিক ভম খুব কম জায়গা জুড়ে ছড়াবে। সর্বাধুনিক মডেল এটি ভস্মহীন বোমা। অবশ্য ধ্বংসস্তূপের মধ্যে যারা ঢুকবে তাদের প্রত্যেককেই তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধক সুট পরতে হবে। এদের কাজ হবে কোষাগার থেকে হাতে সোনা বাইরে নিয়ে আসা, অন্যরা তা ট্রাকে তুলবে।
আর ঐ বিস্ফোরণে যে গাদা ইট পাথর পড়বে সেগুলো থেকে মাথা বাঁচাব কি করে? মিডনাইটের পেটের ভেতর থেকে কথাগুলো বেরিয়ে এল।
কোষাগারের বাইরের ইস্পাতের পাঁচিলগুলোর আড়ালে আশ্রয় নেব আমরা। প্রত্যেকের কানে তুলো আঁটা থাকবে। কয়েকটা ট্রাক হয়ত জখম হবে, কিন্তু এটুকু ক্ষতি স্বীকার তো করতেই হবে।
-আর বাইরের ঘুমন্ত লোকগুলো? ওদের কি নিরদ্রিয় পাঠিয়ে দেওয়া হবে? মিঃ শোলোর প্রশ্ন!
-যতগুলো সম্ভব দেহ নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে দেব কিন্তু সামনের তালিকায় প্রত্যেকের পাশে যোগচিহ্ন দিয়েছে বিলি রিং ও স্প্রিংগার ছাড়া। রিঙের পাশে শূন্য স্ট্রিংগারের পাশে বিয়োগচিহ্ন। তার সেঁতো হাসি ও নির্বিকার ভাব দেখে লোকটি সম্পর্কে বন্ড কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি।
একবার টেবিলের দিকে তাকিয়ে বীভৎস মুখে তাকালেন গোল্ডফিংগারের দিকে। বললেন, মিস্টার আজ অনেকদিন হল আমি ও আমার বন্ধুরা অপরাধ জগতের বাসিন্দা হয়েছি। আজ মনে হচ্ছে পুরনো দিনগুলো শেষ হয়ে গেছে, সেই বড় বড় দস্য সম্রাটরা বিগ জিন কলোসিমো। জানি টোরিও, ডিয়েন ও ব্যানিয়ন, আল ক্যাপোন তারা আজ নেই। আপনি হয়ত দেখেননি সে সব দৃশ্য। যখন দলে দলে লড়াই বাধত, মানুষের মৃতদেহ ভর্তি পথঘাট, গোলাগুলির ঝড় বইত।
কিন্তু একদিন সবাই এই মরণ খেলায় ক্লান্ত হয়ে পড়ল। পঞ্চাশ দশকে আমি যখন দলের সর্দার হলাম তখন গোলাগুলির ঝামেলা থেকে এসেছে। আমরা শুরু করলাম আরও আধুনিক ব্যাপার–মেয়েচুরি, মাদকদ্রব্য ঘোড়দৌড়ের ফাটকা বাজি ইত্যাদি। আর এখন দেখছি ওসবও সেকেলে হয়ে গেছে, আর আপনি ইতিহাসের বৃহত্তর ডাকাতিতে আমাদের দলের সাহায্য চাইছেন। সব কিছুরই একটা ন্যায্য মূল্য আছে তা সেই হিসেবে দেখতে গেলে এক বিলিয়ন ডলার কম নয়। আমি যোগদানে রাজি।
তিক্ত গলায় মন্তব্য করলেন মিডনাইট মারধর দেব একটা হ্যাঁ বলতে এত সময় লাগালে।
গোল্ডফিংগার ভদ্রভাবে বললেন, আপনার সুন্দর বক্তৃতার জন্য ধন্যবাদ, মিঃ রিং। আপনাকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছি। …মিঃ শোলো? কিছু লোকের প্রাণ তো যাবেই। আমার হিসেব মত ফোর্ট নকসের রাস্তায় বিভিন্ন দুর্ঘটনার তিন দিনে যত লোক মারা পড়ে তার সমান। এই অভিযানে অন্তত তিনদিন ঐ এলাকার যানবাহন বন্ধ থাকবে। অতএব বলা যায় মৃত্যুর হার বেশি থাকবে না, সমানই থাকবে।
আমরা কি ভাল! মিডনাইটের সাহস ও রসিকতা অনেকটা ফিরে এসেছে।
–আর কোন প্রশ্ন আছে? স্মিতকণ্ঠে বললেন গোল্ডফিংগার। অভিযানের প্রতিটি খুঁটিনাটি ঠিক করে ফেলতে হবে। এ বিষয়ে আমার দুই সহকারী আমাকে সাহায্য করবে। বলে বন্ড ও টিলির দিকে তাকালেন। এই অভিযানের সাংকেতিক পরিচয় অপারেশন এ্যান্ড স্ল্যান। আমরা সর্বদা ঐ নামই ব্যবহার করব।
এবার আপনারা নিজ নিজ সংঘের প্রতিনিধি হিসাবে আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর দিন। আপনারা কে কে এতে যোগ দিতে ইচ্ছুক? এতে লাভ অত্যন্ত বিশাল, অথচ ঝুঁকি অত্যন্ত কম। আপনিই আগে বলুন মিঃ মিডনাইট, হ্যাঁ অথবা না–গোল্ডফিংগার মাথা ঘুরিয়ে একসূরে দৃষ্টিতে পাশে বসা লোকটিকে জিজ্ঞাসা করল।
.
গোপন পরিচ্ছেদ
মিঃ গোল্ড, অপরাধ জগতের দীর্ঘ ইতিহাসে আপনিই যে সবচেয়ে বড় তাতে আর কোন সন্দেহ নেই। একটু থেমে বেশ জোর দিয়ে আবার বললেন, এই অভিযানে সঙ্গী হতে পারলে নিজেকে সম্মানিত মনে করব।
ধন্যবাদ মিঃ মিডনাইট। এবার আপনি, মিঃ রিং। মিঃ বিলি রিঙের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বন্ডের সন্দেহ ছিল, তাই কালো বন্দুকের নলের মত শোলোর চোখ সুতীব্র দৃষ্টি ফেলল গোল্ডফিংগারের দিকে, তার গোলমুখের প্রতিটি খুঁটিনাটি যেন একে একে পর্যবেক্ষণ করল। ঘরের আবহাওয়া থমথমে করে বলে উঠলেন, মিস্টার আমি অনেকক্ষণ তোমাকে লক্ষ্য করছি। এত ঠাণ্ডা মেজাজে এত কথা বলে যাওয়া সহজ নয়। কিছুদিন আগে তোমার মত একটি লোক চোখে পড়েছিল আমার, তার মেজাজটা স্টেনগানের গুলিতে ঠাণ্ডা করে দিতে হয়েছিল আমাকে। যাইহোক, হেলান দিয়ে বসে হাত প্রসারিত করে হাল ছেড়ে দেবার মত বলে উঠলেন, যোগ দিতে আমি রাজি আছি। কিন্তু মিস্টার ঐ এক বিলিয়ন ডলার যদি ঠিকমত আমার হাতে না আসে তাহলে তুমি খতম হয়ে যাবে। ঠিক আছে। জোরাল গলায় বললেন শোলো।
