সাদা ফুলক্যাপ কাগজ। পরিষ্কার করে লেখা আছে, এই বিষয়সূচি দশ কপি তৈরি কর– মিঃ গোল্ড-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলন
সেক্রেটারিঃ
জেঃ বন্ড
মিস্ টিলি মাস্টারটন
উপস্থিত সদস্যবৃন্দঃ
হেল মুট এম স্প্রিংগার
জেড মিডনাইট
বিলি (দেতো রিংগার)
জ্যাক স্ট্র্যাপ
মিঃ শোলো
মিস্ পুসি গ্যালোর
সদস্যের নামঃ
রক্ত সংঘ (ডেট্রয়েট)
ছায়া সংঘ (মায়ামি ও হাভানা)
যন্ত্ররাজ (শিকাগো)
উজ্জ্বল সংঘ (লাম ভেগাস)
মাফিয়া
দ্য সিকেন্ট মিক্সার্স (হার্লেম নিউইয়র্ক)
বিষয় সূচি : অপারেশন গ্র্যান্ড স্ল্যান নামক পরিকল্পনা।
(জলোযোগ)
পাতার শেষে লেখা, তোমাকে এবং মিস মাস্টারটনকে দুটো বিশে নিয়ে আসা হবে। দুজনেই নোট নেবার সরঞ্জাম নিয়ে আসবে। আনুষ্ঠানিক পোষাক পরে এসো অনুগ্রহ করে।
কোরিয়ানরা চলে গেলে বন্ড ডেস্কে বসে টাইপরাইটারে কাগজ ও কার্বন লাগিয়ে কাজ শুরু করে দিল। অন্তত মেয়েটা তো দেখবে যে বন্ড তার ভূমিকাটুকু ঠিক পালন করে যাচ্ছে। মিটিং বটে একখানা। আমেরিকায় মারাত্মক দস্যুদলের প্রতিনিধি সব, মাফিয়া পর্যন্ত বাদ পড়েনি। কি করে রাজি করালেন এদের? আর এই পুসি গ্যালোরটিই বা কোন চিড়িয়া?
দুটোর মধ্যে বন্ডের কপি করা শেষ হয়ে গেল। মেয়েটার ঘরে গিয়ে তাকে কাগজ, শর্টহ্যান্ড নোটবুক ও পেন্সিল দিয়ে বলল, মুখস্থ করে নাও। ওদেরকে চেনা বোধহয় শক্ত হবে না। আটকে গেলে জিজ্ঞেস করবে। আমি ততক্ষণে রেডি হয়ে নিই, আর কুড়ি মিনিট বাকি।
মেয়েটা ঘাড় নাড়ল।
অডজবের পেছন পেছন করিডোর বেয়ে হেঁটে যেতে গিয়ে নদীর শব্দ শুনতে পেল বন্ড। পানির আওয়াজ, ফেরি নৌকার ভো। ডিজেল ইঞ্জিনের শব্দ…। করিডোরের শেষে পৌঁছে এক বিশাল, উজ্জ্বল সূর্যের আলোয় ভরা ঘরে ঢুকল তারা। বড় জানালা দিয়ে দূরের শহর ও নদী দেখা যাচ্ছে। এই ঘরটাকেই সম্মেলনের জন্য সাজান হয়েছে। বিরাট গোল টেবিলটার ওপারে জানালার দিকে পিছন করে বসে আছেন গোল্ডফিংগার। টেবিলের চারপাশে নটি চেয়ার, টেবিলে লেখবার প্যাড ও পেন্সিল। তাছাড়া ছটি চেয়ারের সামনে প্যাডের ওপর ছোট্ট একটি আয়তাকার সাদা বাক্স রয়েছে। ডানদিকের টেবিলে থরে থরে খাবার সাজান।
পুরু লাল কার্পেটের ওপর দিয়ে টিলি মাস্টারটন ও বন্ড এগিয়ে এসে যথাক্রমে বাঁদিকে ও ডানদিকের চেয়ারে বসলেন গোল্ডফিংগারের।
-বিষয়সূচিটা তৈরি? গোন্ডফিংগার কপিগুলো নিয়ে টিলিকে বললেন, প্রত্যেক চেয়ারের সামনে একটা করে কপি রেখে আসতে। পেছনের দরজা খুলে একজন কোরিয়ান এসে দাঁড়াল। গোল্ডফিংগার বললেন, সব তৈরি? লোকটা ঘাড় নাড়ল। লিস্টে যে ক জনের নাম আছে তারা বাদে আর কেউ এ ঘরে ঢুকবে না। মনে আছে তো? ভাল ওদের অনেকেই, হয়ত বা সকলেই একজন করে সঙ্গী নিয়ে আসবেন। এই সব সঙ্গীদের পাশের ঘরে বসাবে। তাদের যা যা লাগে দিও। …অডজব! বন্ডের চেয়ারের পেছনে দাঁড়ান কোরিয়ানটির দিকে তাকিয়ে গোল্ডফিংগার বললেন, ..তুমি নিজের জায়গায় গিয়ে দাঁড়াও। সংকেত মনে আছে তো? দুটো ঘন্টি। এবার তুমি যাও, অন্যান্য চাকররা ঠিকমত কাজ করছে কিনা দেখ।
বন্ড সহজভাবে প্রশ্ন করল, ক জন চাকর আছে তোমার? -কুড়িজন। দশজন কোরিয়ান আর দশজন জার্মান। প্রত্যেকেই বাছাই করা চৌখশ লোক। গোল্ডফিংগার সামনের টেবিলের ওপর দু হাত ছড়িয়ে দিয়ে বললেন, এবার তোমাদের কর্তব্যগুলো বলে দিই। মিস্ মাস্টারটন, তোমার কাজ হবে এই মিটিংয়ে যে যে দরকারী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে অর্থাৎ আমার মাথা ঘামানোর প্রয়োজন সেগুলো টুকে নেবে। আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে যে সব তর্কাতর্কি হবে সেগুলো যেন টুকতে যেও না। ঠিক আছে?
টিলি মাস্টারটনকে প্রাণবন্ত দেখে বন্ড খুশি হল, কারণ গোল্ডফিংগারের জবাবে সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় নেড়ে উত্তর দিল নিশ্চয়ই।
-আর মিঃ বন্ড, তোমার কাছ থেকে সবার সম্পর্কে অভিমত চাই। এদের প্রত্যেকের সম্বন্ধে অনেক কিছু জানা। থাকলেও নিজের এলাকায় এরা দস্যু সম্রাট, আর আমি ঘুষ দিয়েছি বলেই এখানে এসেছে। আমার বিষয় এরা কিছুই জানে না, ওদেরকে বোঝাতে হবে আমি বাজে বকছি না, আর আমার সঙ্গে কাজ করলে সাফল্য অবশ্যম্ভাবী। টাকার লোভ ওদের বাকি দ্বিধা কাটিয়ে দেবে।
এদের মধ্যে দু একজন পিছিয়ে যেতে পারে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা আছে। এক আধজন সন্দেহজনক ব্যক্তিও আসতে পারে যারা সোজাসুজি না বলবে না। তাদের নামের পাশে চিহ্ন বসাবে বিয়োগ চিহ্ন, অর্থাৎ যারা বিপক্ষে। আর স্বপক্ষে হলে যোগ চিহ্ন। কোন নামের পাশে কি চিহ্ন বসান হল তা আমার এখন থেকে ভালভাবে দেখা যাবে। তোমার মতামত খুব কাজে লাগবে। তবে একটা কথা ভুলে যেও না মিঃ বন্ড, এদের মধ্যে একজন বিশ্বাস ঘাতক থাকলে আমরা সবাই জেলে যেতে পারি কিংবা মারা যেতে পারি।
-হার্লেমের এই পুসি গ্যালোর কে?
-ও হচ্ছে আমেরিকার একমাত্র দস্যুনেত্রী। ওর দলের সবাই মেয়ে। এই কাজে কিছু মেয়ের প্রয়োজন আছে। সম্পূর্ণ বিশ্বাস করতে পার মেয়েটিকে। আগে ট্রাপিজের খেলা দেখাত, নিজের একটা দুলও ছিল, তবে সে ব্যবসা চলল না। তখন দলের সবাইকে চুরি বিদ্যা শেখাল। রাতের অন্ধকারে চুরি করতে শুরু করল তারা, ক্রমশ দুঃসাহসী দস্যদলে পরিণত হল। এরা এখন এক সমগোষ্ঠী নারীসংঘ নাম দ্য সিকেণ্টমিকসার্স। আমেরিকার বড় বড় দস্য দলগুলোও এদেরকে সমীহ করে চলে। গ্যালোর মেয়েটি সত্যিই অসামান্যা।
