আধঘণ্টা পরে খাটের ধারে বসে চিন্তা করছিল এমন সময় হাতলবিহীন দরজাটা খুলে গেল। অডজব দাঁড়িয়ে। বন্ডের দিকে চেয়ে সতর্ক দৃষ্টিতে ঘরের চারদিক দেখে নিল। বন্ড কড়া গলায় বলে, অডজব, আমার এক্ষুনি কিছু খাবার। চাই। সেই সঙ্গে এক বোতল বুবো, শোডা বরফ আর এক কার্টন কিং সাইজ চেস্টারফিল্ড সিগারেট। আর গোল্ডফিংগারকে বল সে যেন আমার সঙ্গে দেখা করে, খাওয়া হয়ে যাওয়ার পর। যাও, যাও হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছ। কি? আমার ক্ষিদে পেয়েছে।
অডজব চোখ লাল করে বন্ডের দিকে তাকাল, যেন মনস্থির করছে বন্ডের কোন হাড় ভাঙবে। মুখ খুলে মেঝেতে থুথু ফেলে বেরিয়ে গেল।
এই ছোট ঘটনায় তার মেজাজ আরও ভাল হয়ে উঠল। যে কারণেই হোক গোল্ডফিংগার তাকে শেষ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণটা যতক্ষণ না জানা যাচ্ছে সে তার মর্জিমত বাঁচবে। কিছুক্ষণ পরে একজন কোরিয়ান চাকর মারফৎ কিছু খাবার, মদ, সিগারেট এমনকি ঘড়িও পেল। ঘড়িটা বন্ধ হয়ে গেছে দেখে চাকরটার কাছে সময় জানতে চেয়ে কোন জবাব পেল না।
ট্রের খাবার শেষ করে বুর্বে খেতে খেতে ধূমপান করছে এমন সময় গোেল্ডফিংগার ঘরে ঢুকলেন। বেশ প্রশান্ত ও প্রফুল্ল দেখাচ্ছে তাঁকে। দরজা বন্ধ করে বস্তের দিকে তাকালেন।
সুপ্রভাত মিঃ বন্ড। বেশ ভাল হয়ে উঠেছ দেখছি। আশা করি ইহলোক না ছেড়ে গিয়ে তুমি খুশি হয়েছ। তোমার পেটে অনেক প্রশ্ন জমে আছে, কি কি হয়েছিল? বলা শেষ হলে একটা প্রস্তাব আছে আমার, সেটার উত্তর চাই আমি। গোল্ডফিংগার কথাগুলো বলে থামলেন।
তুমি যথেষ্ট বুদ্ধিমান সুতরাং এবার তোমায় সতর্ক করে দিচ্ছি, কোনরকম নাটক করার চেষ্টা কর না। ছুরি, কাঁটা, বোতল নিয়ে আক্রমণ করলে এইটা দিয়ে তোমায় গুলি করব। ডান হাতে ছোট্ট একটা পিস্তল। সেটা দেখিয়ে আবার পকেটে পুরলেন–এসব জিনিস আমি খুব কম ব্যবহার করি, আর করতে হলে একটাই যথেষ্ট, ডান চোখে গুলি করি যাতে লক্ষ্যভ্রষ্ট না হয়–মিঃ বন্ড।
বন্ড বলল, ভয় পেয়ো না। বোতল ছোঁড়ার ব্যাপারে তেমন দক্ষ নই। বলে যাও। পায়ের উপর পা তুলে বসল সে।
–মিঃ বন্ড ধাতু ছাড়াও অন্যান্য অনেক বস্তু সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান আছে আমার। খাঁটি সোনার মত খাঁটি জিনিসের ওপর আমার খুব আগ্রহ। কিন্তু সোনা যেমন খাঁটি তেমনি খাঁটি মানুষ পাওয়া যায় না। এমন কিছু মানুষ আছে যাদেরকে নিচু শ্রেণীর কাজে লাগানো যায়। অডজব এই শ্রেণীর লোক–সরল, অসংস্কৃত এসব লোক বিশেষ কাজে লাগে না।
তোমাকে আমি মারতেই চেয়েছিলাম কিন্তু পারিনি। তোমার মত একজন নকল লোককে ধ্বংস করে না ফেলে হয়ত ভুল করেছি। তবে হঠকারিতায় আমার যাতে কোন ক্ষতি হতে না পারে সেজন্য সব রকম ব্যবস্থা নেব আমি। একটি মাত্র কথা তোমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছে। কারণ তুমি বলেছিলে তোমরা দুজনে আমার হয়ে কাজ করবে। আমার হাতে একটা বড় কাজ এসেছে এবং সেই কারণেই তোমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখার ঝুঁকি নিয়েছি। নইলে আমার কোন কাজেই লাগতে না তোমরা।
গোল্ডফিংগার বলে চললেন, তোমাদের দুজনকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান হয়েছিল। বার্গেস হোটেল থেকে সব মালপত্র আনিয়ে বিল মিটিয়ে দিয়েছিলাম। মিস্ মাস্টারটন ঐ হোটেলে সকালে উঠেছিল। ইউনিভার্সাল এক্সপোর্টে এই বলে টেলিগ্রাম পাঠিয়েছি যে কানাডায় একটা চাকরির প্রস্তাব পেয়ে সেখানে যাচ্ছ বিশদ জানবার জন্য। সেক্রেটারি হয়ে যাচ্ছে মিস্ মাস্টারটন। বাকি চিঠিতে জানবে। টেলিগ্রামটা অগোছাল হলেও যে আর কদিন তোমাদেরকে দরকার তার পক্ষে এই যথেষ্ঠ।
বন্ড মনে মনে হাসল। তার টেলিগ্রামে সবসময় একটা সংকেত যাতে M বুঝতে পারেন ওটা সত্যিই বন্ডের কাছ থেকে এসেছে। এই টেলিগ্রামে সেটা নেই, সুতরাং ব্রিটিশ গুপ্তচর বিভাগ তার কাজ শুরু করে দিয়েছে। গোল্ডফিংগার বললেন, আর যদি ভাব আমার সতর্কতায় ফাঁক থেকে গেছে এবং তোমাকে খুঁজে বার করা শক্ত হবে না তাহলে বলি আসল পরিচয় বা তোমার সংস্থার প্রতিপত্তি সম্পর্কে একটুও আগ্রহ নেই আমার।
তুমি ও মিস্ মাস্টারটন পৃথিবী থেকে স্রেফ অদৃশ্য হয়ে গেছ। আমার ও কর্মচারিদের হদিশ কেউ পাবে না। এয়ারপোর্ট থেকে জানবে হার্কনেস হাসপাতালে এসেছ কিন্তু সেখানে তারা জানাবে মিঃ গোল্ডফিংগার বা তীর রুগীদের নাম জীবনে শোেনননি।
আপাতত আমরা রয়েছি একটা বিখ্যাত সংস্থা হাই স্পীড ট্র্যাকিং কর্পোরেশন -এর গুদামঘরে। মিঃ বন্ড এই বাড়ি আমি কিনে নিয়েছি আর আমার সদর দপ্তরে পরিণত করেছি, এইমাত্র যে বড় কাজটা কথা বলছিলাম তার প্রয়োজনে। তোমরা দুজনে এই করেই থাকবে, কাজ করবে। ইচ্ছে হলে প্রেমও করতে পার, যদিও এ বিষয়ে মেয়েটির আগ্রহ সম্পর্কে আমার বিশেষ সন্দেহ আছে।
-তোমার এই বড় কাজটা কি, সেটা জানতে পারি? গোল্ডফিংগারের সঙ্গে আলাপ হবার পর এই প্রথম বন্ডের মুখ প্রশান্ত দেখাল। পাতলা ঠোঁটে স্বর্গীয় হাসি ফুটিয়ে তুলে বলল গোল্ডফিংগার, মিঃ বন্ড, জীবনে শুধু একটা জিনিসকেই ভালবেসেছি; সেটি হল সোনা। আমি এর রঙকে, ঔজ্জ্বল্যকে আর স্বর্গীয় স্পর্শকে ভালবাসি। সোনাকে এত চিনেছি যে ছুঁলে বলে দিতে পারি সোনা কত ক্যারেটের। এমন কি সোনা গলানোর গরম গন্ধটা পর্যন্ত আমার ভাল লাগে।
