আর ঐ সুন্দরী দান্তিক ভূঁইফোড় মেয়েটি, কি চায় সে গলফ খেলার গল্পটা কি সত্যি? বন্ড উঠে টেলিফোন বুথে গিয়ে ঢুকল। জানাল দ্য জেনিভা কাগজে ফোন করে সম্পাদনের সঙ্গে কথা বলতে চাইল গলফের কোন কম্পিটিশন আছে কি না? ভদ্রলোক অমায়িকভাবে জানালেন এখন তো কোন কম্পিটিশন নেই, গ্রীষ্মকালেই সব শেষ হয়ে গেছে।
বন্ড নিজের টেবিলে ফিরে গিয়ে খাবারে মন দিল। তাহলে এই ব্যাপার, মেয়েটাকে আনাড়ী বলতে হবে। কোন পাকা জোচ্চোর এভাবে কাজ করবে না, যে ফেঁসে যেতে পারে। মেয়েটির প্রতি আকর্ষণ অনুভব করলেও সন্দেহ হচ্ছিল SMERSH-এর গুপ্তচর, গোল্ডফিংগার ও বন্ড দু জনেরই ওপর নজর রাখার জন্য। গুপ্তচরের অনেক গুণ আছে মেয়েটার মধ্যে,স্বনির্ভরতা, চরিত্রের দৃঢ়তা, একলা যাতায়াতের সাহস ইত্যাদি। কিন্তু এখন বন্ড নিশ্চিত যে মেয়েটি গুপ্তচর নয়। গুপ্তচর বৃত্তির ট্রেনিং নিলে এরকম ভুল করতে পারে না। বন্ড চাইছিল মেয়েটা এমন কোন কাজ না করে ফেলে, যাতে সব কাজ ভেস্তে যায়।
তাছাড়া তার নিজের কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, গোল্ডফিংগার ও রোলস রয়েসের প্রমাণ স্বরূপ কিছু তথ্য হাতে এসেছে, সেগুলো স্বচক্ষে দেখতে হবে। কার্পেটের কারখানাটা দেখে সাদা সোনার নমুনা নিয়ে আসবে। ব্যস্ তারপর আজ রাত্রেই বার্ন শহরের দূতাবাস থেকে খবর দেবে লন্ডনের সদর দপ্তরে।
তারপর শান্তভাবে সবার অলক্ষ্যে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড পৃথিবীর নানা প্রান্তে গোল্ডফিংগারের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেবে, হয়ত সুইস পুলিশের বিশেষ বিভাগের লোকেরা অরিক এন্টারপ্রাইজের ওপর হানা দেবে, গোল্ডফিংগারকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে সমর্পণ করে ইংল্যান্ডের হাজতে পোরা হবে। মামলা শুরু হবে। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেবার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক বছরের জেল। বেসরকারী কর্মী সোনা চলে যাবে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের হাতে। SMERSH এর বড়কর্তারা গুপ্ত সংস্থার বিরুদ্ধে বন্ডের অজস্র অপরাধের তালিকায় একটা নতুন পাতা যোগ করবে।
এবার শেষ কাজটুকু করতে হবে। বিল মিটিয়ে গাড়ি চালিয়ে রো নদী ছাড়িয়ে চলতে লাগল বন্ড।
নৈশ অভিযানের পক্ষে রাতটা উপযুক্ত। আকাশে দশমীর চাঁদ, কিন্তু জঙ্গলের ভিতর তার পদশব্দ ঢাকবার মত ছায়াও নেই। লোকগুলো বোধহয় আজ সারারাত কাজ করবে, তাই তাড়াহুড়ো না করে গেলেই হল।
আজ বিকেলে যেখানে রেখেছিল গাড়িটাকে এখনও সেখানেই রাখল। কান পেলে কিছুক্ষণ বসে রইল নিস্তব্দ জায়গায়। বন্ড এবার বেরিয়ে এসে গাড়ির দরজা বন্ধ করল, পা টিপে এগিয়ে গেল জঙ্গলের ভেতরে সরু পথ ধরে।
এবার শোনা যাচ্ছে কারখানার জেনারেটরের আওয়াজ। শব্দা ভয়াবহ নয়, যেন সতর্ক করে দেওয়ার মতন। বন্ড বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভিতরে ঢুকল। চাঁদের আলোয় গাছগুলোর ভিতর দিয়ে সামনে তাকিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল।
দুমম…দুমম আওয়াজটা যেন তার মাথায় এসে আঘাত করছে। জীবনে প্রথমবার এই লুকোচুরি খেলতে গিয়ে ভয়। পাচ্ছে সে। বন্ড আপন মনে হাসল, আস্তে আস্তে হামাগুড়ি দিয়ে সামনে এগোল।
জঙ্গল পাতলা হয়ে আসছে, আর একটু গেলেই ফার গাছের চওড়া গুঁড়ির পিছনে দাঁড়াতে পারবে। গাছের দিকে তাকাতেই সে স্তব্ধ হয়ে গেল, গাছের নিচে কে যেন শুয়ে আছে।
বন্ড মুখ খুলে শ্বাস নিল, হাতের তালু প্যান্টে মুছে নিয়ে হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে সামনে ঝুঁকে পড়ল।
গাছের নিচে শরীরটা নড়ল। এক ঝলক হাওয়া গাছের পাতাটা নড়িয়ে দিতেই পাতার ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো এসে পড়ল তার গায়ে। এক পলকের জন্য বন্ড দেখল একরাশ কালো চুল, কালো সোয়েটার, কালো স্ন্যাকস্। এছাড়া সিটে লম্বা একটা চকচকে জিনিস। যেটা রাখা আছে মাটির ওপর।
আস্তে আস্তে মাথা নামাল বন্ড। এই সেই মেয়ে টিলি, কারখানা পর্যবেক্ষণ করছে, পাশে রাইফেল নিয়ে। গল। ক্লাবের ব্যাগের মধ্যে বোধহয় এটা লুকনো ছিল, গুলি চালাবার জন্য তৈরি হয়ে আছে মেয়েটা। বড় শয়তান তো!
ক্রমশ শান্ত হয়ে এল বন্ড, মেয়েটা কি, কেন এসেছে তার আর প্রয়োজন নেই জানার। দুরত্ব মেপে আক্রমণের গতিপথ ঠিক করে নিল।
একলাফে নিঃশব্দে মেয়েটার ঘাড়ে গিয়ে পড়ল। আঘাতের চোটে একটা অস্ফুট শব্দ বেরোল মুখ দিয়ে। বন্ড বা হাতটা মেয়েটির গলায় দিয়ে চাপ দিল ফ্যারোটিড ধমনীতে। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারাল মেয়েটা। বন্ড ডান হাতে রাইফেলের বাট চেপে ধরেছিল, মেয়েটির হাত থেকে নিয়ে সেফটি ক্যাচ লাগিয়ে দিয়ে পাশে সরিয়ে রাখল।
বন্ড পিঠের ওপর থেকে এইবার চাপ কমিয়ে, ঘাড় থেকে হাত সরিয়ে মুখ চেপে ধরল। শরীরটা নড়ছে, নিঃশ্বাস নিতে চেষ্টা করছে তবে জ্ঞান এখনো ফেরেনি। আস্তে আস্তে মেয়েটার হাত দুটো পিছন দিকে টেনে এনে চেপে ধরল।
নিচে মেয়েটার শরীরে চাঞ্চল্য জাগল। পা দুটো নাড়তেই বন্ড শরীর দিয়ে দুই পা মাটির ওপর চেপে রাখল, অনুভব করল মেয়েটি তাকে ফেলে দিতে চাইছে। এবার বন্ডের আঙ্গুল কামড়ে ধরার চেষ্টা করছে। মেয়েটার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বন্ড উত্তেজিত ভাবে বলল দয়া করে চুপচাপ থাক। আমি বন্ড। আমি তোমার বন্ধু। কয়েকটা জরুরী কথা তোমার জানা দরকার, চুপ করে শুনবে কি?
মেয়েটি শান্ত হয়ে মাথা নাড়ল। বন্ড মেয়েটির পিঠ থেকে নেমে পাশে শুল, তবে বাঁধা হাত দুটো ছাড়েনি। ফিসফিস করে জিজ্ঞাসা করল, ভালভাবে দম নিতে পারবে এবার। কিন্তু তার আগে বল, গোল্ডফিংগারের পিছু নিয়েছ কেন?
