-গুডবাই বন্ড রিসিভার নামিয়ে রাখল। উঠে ব্যাগ গোছাতে শুরু করল। মানচোখে দেখল তারা টেপ করা এখনকার কথাগুলো আরেকবার শুনছে। মিস মানিপেনী M-এর সেক্রেটারি, সাঙ্কেতিক ভাষা গুলিকে সহজ ভাষায়। বলে দিচ্ছেন– জেমস বলেছে গোল্ডফিংগার যে বড় মতলব আঁটছেন সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে সেটা কি বোঝা যায়নি। গোল্ডফিংগার আজ সকালে তাঁর রোলস রয়েস গাড়ি নিয়ে ফেরিফিল্ড থেকে প্লেন ধরছেন। 007 তাঁর পিছু নিতে চায়, তাই রিজার্ভেশনের ব্যবস্থা করা হোক। ও চাইছে আমরা যেন কাস্টমস-এর সঙ্গে কথা বলে নিই, যাতে রওনা হবার আগে গাড়িটা ভাল করে চেক করে গাড়ির পেছনের খোপে দিকদর্শক বেতার যন্ত্র বা Homer লাগিয়ে দেওয়া যায়। যদি কোন সাহায্যের প্রয়োজন হয় আমাদের বিভিন্ন স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করবে…ইত্যাদি।
বন্ডের ব্যাগ গোছান হলে লন্ডন থেকে ফোনে নির্দেশ এল। তারপর হোটেলের বিল মিটিয়ে বন্ড বেরিয়ে পড়ল।
লন্ডন থেকে জানিয়েছে সকাল বারটায় একটা বিশেষ প্লেনে বিদেশ পাড়ি দিচ্ছে। বন্ড ফেরিফিন্ডে পৌঁছাল এগারটা নাগাদ। চীফ পাসপোর্ট কন্ট্রোল আর কাস্টমস-এর অফিসাররা তার জন্য অপেক্ষা করছিল। নিজের গাড়িটাকে একটা হ্যাঁঙ্গারের ভেতর রেখে নিজের পরিচয় দিল। পাসপোর্ট বিভাগের অফিসারদের সঙ্গে গল্প করে জানল এরা ভেবেছে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের লোক বন্ড। বন্ড ভুল শুধরে দিল। বলল যে গোল্ডফিংগারের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। তবে তার সততা সম্পর্কে সে নিশ্চিত। কিন্তু চাকরদের কেউ স্মাগল করে। ব্যাপারটা গোপনীয়, তাই মিনিট দশেকের জন্য তাকে একলা ছেড়ে দিলে ভাল হয়। বন্ড গাড়িটা একবার পরীক্ষা করবে। তার আগে কাস্টমস-এর লোকেরা যদি দেখে নেয় গাড়িতে কিছু লুকানো আছে কিনা তবে ভাল হয়। অফিসাররা রাজি হয়ে গেলেন।
এগারটা পয়তাল্লিশে একজন অফিসার খবর দিল ওরা এসে গেছে, প্লেনে উঠে পড়েছে। বললেই হবে যে গাড়িটা কোথায় রাখা হবে সে নিয়ে অংক কষতে হচ্ছে। ভাববেন না যেন এটা ভুল, আমরা গাড়িটাকে চিনি, ওজন তিন টন। প্লেনে ঢোকাতে রীতিমত মাথা ঘামাতে হয়।…ঠিক আছে কাজ হলে ডাকবেন।
ধন্যবাদ, ঘর ফাঁকা, বন্ড একটা প্যাকেট বার করে তার থেকে একটা বেতার ট্রান্সমিটার বার করল। ভাল করে দেখে নিয়ে পকেটে রেখে দিল।
এগারটা পঞ্চান্ন বাজতে দরজা খুলে গেল। অফিসারটি ইশারা করল সব ঠিক আছে।
বিশাল ঝকঝকে গাড়িটা কাস্টমস এলাকায় এমন জায়গায় রাখা হয়েছে যে প্লেন থেকে দেখা যাবে না। আর একটা মাত্র গাড়ি আছে এখানে ছাই রঙের TR3 কনভার্টিবল মোটর গাড়ি। বন্ড গাড়িটার কাছে গিয়ে দেখল অফিসাররা যন্ত্রপাতি রাখবার জায়গাটা স্কু শুদ্ধ খুলে ফেলেছে। বন্ড সেগুলো পরীক্ষা করার ভান করে দু পাশ হাতড়াতে হাতড়াতে। ট্রান্সমিটারটা চুপিসাড়ে ঢুকিয়ে দিল।
তারপর ট্রেটা যথাস্থানে রেখে হাত ঝেড়ে উঠে পড়ে বলল কিছু নেই।
অফিসারটি কোটরের ওপর প্লেটটা স্কু দিয়ে এঁটে বললেন, গাড়ির চ্যাসিসে বা বড়িতে কোন কারসাজি করা নেই। তবে গাড়ির ফ্রেম ও সীটের চামড়ার চাকার ফাঁকে অনেক জায়গা আছে। কিন্তু তার জন্য ভাঙাভাঙি করতে হবে…আপনার কাজ আশা করি শেষ।
আজ্ঞে হ্যাঁ, ধন্যবাদ। বড় অফিসে চলে এল। গাড়ির আওয়াজ শুনে বুঝল ওটাকে প্লেনে ভোলা হচ্ছে।
প্লেনটা রানওয়ের ওপর আসতেই বন্ড গাড়িতে গিয়ে নিচে একটা সুইচ অন করে রাখল, কিছুক্ষণ পর একটা কর্কশ আওয়াজ ভেসে এল লুকানো লাউডস্পীকার থেকে। শব্দটা হঠাৎ কানে গিয়ে গুঞ্জনের মত শোনাল। বন্ড চুপচাপ বসে রইল। প্লেনটা সমুদ্রতীরের দিকে বেরিয়ে যেতেই গুঞ্জনের তীব্রতা কমে এল। পাঁচ মিনিট পর সেটাও শোনা গেল না।
সুইচ ঘোরাতে যখন আওয়াজটা আবার হল তখন ইংলিশ চ্যানেলের ওপারে পৌঁছান পর্যন্ত রিসিভার চালু রাখলেও পরে বন্ধ করে দিল।
বন্ড কাস্টমস অফিসে গিয়ে জানাল দুটোর প্লেন ধরবে সে, তারপর ধীরে গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে গেল রেস্তোরাঁর দিকে। গোল্ডফিংগারের গাড়ি থেকে একশ মাইলের মধ্যে থাকলেই হোমার তার বার্তায় জানিয়ে দেবে আর বন্ডের সুবিধা হবে পিছু নেওয়ার।
ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে ইউরোপের রাস্তায় চোর পুলিশ খেলবে দু জনে। বন্ড চিন্তা করেই রোমাঞ্চ অনুভব করল। ঠাণ্ডা এক টুকরো কঠোর হাসি ফুটিয়ে তুলে মনে মনে বলল, গোল্ডফিংগার! জীবনে এই প্রথম তুমি এমন বিপদে পড়েছ যার ফল মারাত্মক।
ফ্রান্সের N38 শান্ত রাজপথটি বিশাল N। এর সাথে মিশেছে। সেই মোড়টিতে অপেক্ষা করতেই বন্ড দেখল একজন সাইকেল আরোহী আসছে। জিজ্ঞাসা করতেই সে বলল, গাড়িটাকে দেখেছে, কারণ এরকম সম্ভ্রান্ত গাড়ি চোখ এড়ায় না। ডানদিকে সোজা আবেভিল-এর দিকে গেছে। এর সঙ্গে যোগ করল ওটা ঘণ্টাখানেক আগে গেছে তবে আপনার গাড়িতে করে ওটাকে ধরে ফেলতে…।
এয়ারপোর্টে কাগজপত্রের ঝামেলা মিটতে হোমার-এর সংকেত ধরার জন্য গাড়ি ছোটাল বন্ড। কিন্তু গোল্ডফিংগার যে কোন্দিকে যাচ্ছে তা বোঝা মুশকিল। উত্তরে অস্ট্রিয়া বা জার্মানির দিকেও যেতে পারেন অথবা দক্ষিণ দিকেও যেতে পারেন। এটুকু খুঁজে বার করার জন্য সাইকেল আরোহীর সাহায্য নিতেই হল।
