বন্ড সাগ্রহে বলল নিশ্চয়ই, না হলে খেটে লাভ কি।–দুঃখের বিষয়; বেশি টাকা রোজগার করতে সবেতেই বেশি সময় লাগে। শেষ পর্যন্ত যখন টাকা আসে তখন ফুর্তি করার বয়স থাকে না।
–সেটাই তো ঝামেলা। আমি দাও মারার তালে আছি। এ দেশে হবে না, বড় ট্যাক্স দিতে হয়।
–ঠিক তাই, আইনকানুনও খুব কড়া।
–হুঁ, সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি।
–তাই নাকি?
-হিরোইনের চোরাকারবারে নাক গলিয়েছিলাম, শেষে কোনরকমে পালিয়ে বেঁচেছি। আশা করি একথা কাউকে বলবে না।
গোল্ডফিংগার কাঁধ ঝুঁকিয়ে বলে উঠলেন, মিঃ বন্ড, কোন এক পণ্ডিত ব্যক্তি বলেছিলেন, আইন জিনিসটা জমাট বাঁধা সামাজিক সংস্কার। আমারও ওই এক মত। বিশেষত মদের চোরাচালান সম্পর্কে। তা যদি নাও হত তাহলেও পুলিশকে সাহায্য করার কোনরূপ ইচ্ছে আমার নেই।
-বেশ, ঘটনাটা মোটামুটি এই রকম বলে মেক্সিকোর হিরোইন স্মাগলিং-এর গল্পটা বলে গেল নিজেকে ব্ল্যাকওয়েল বানিয়ে। তারপর বলল, আমার কপাল ভাল যে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলাম, অবশ্য এর জন্য দুর্নামও হয়েছে।
-সে তো খুব স্বাভাবিক। চমৎকার গল্প বেশ বুদ্ধিমানের মত মেলামিশা করেছিলে। তা ঐ লাইনের ঢোকার ইচ্ছে আছে নাকি?
বন্ড কাঁধ ঝাঁকাল, লাইনটা প্যাচাল, তাছাড়া মেক্সিকান বড়কর্তাটিকে দেখে বিচার করলে কারবারের চাঁইরা তেমন শক্তিশালী নয়। শক্ত ফাঁদে পড়লে শুধু গালাগালি দেওয়া ছাড়া আর কিছু কাজ জানে না ওরা। –আচ্ছা মিঃ বন্ড, গোল্ডফিংগার উঠে দাঁড়াল। সঙ্গে বন্ড সন্ধ্যেটা বড় ভাল কাটল। জানিনা আমাকে আবার স্মাগলিং এ ঢুকতে হবে কিনা। বড় টাকা রোজগারের আরও অনেক পথ আছে। সবদিক না দেখে ঝুঁকি নেওয়া উচিত না, তাছাড়া পকেটের টাকা ডবল করা তো সোজা নয়। আমার একটা চুটকি শুনবে?
-বল।
গোল্ডফিংগার পাতলা হেসে বললেন মিঃ বন্ড টাকা ডবলের সবচেয়ে বড় নিরাপদ উপায় হল ডবল ভাঁজ করে পকেটে রেখে দেওয়া।
বন্ড শুনল, কিছু বলল না। সহজাত বুদ্ধি দিয়ে বুঝতে পারল, আর চাপাচাপি করে কোন লাভ হবে না।
হলঘরে ফিরে এসে বন্ড করমর্দনের জন্য হাত বাড়াল চমৎকার ডিনারটার জন্য ধন্যবাদ। এবার আমি হোটেলে গিয়ে ঘুমের চেষ্টা করি। আবার একদিন দেখা হবে, কেমন?
গোল্ডফিংগার বন্ডের হাতে চাপ দিয়েই ছেড়ে দিলেন, যেন অন্যের স্পর্শ সহ্য করতে পারছেন না। তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে বন্ডের কথার উত্তরে বললেন, সেটা আর আশ্চর্য কিঃ মিঃ বন্ড।
চাঁদনী রাতে থ্যানেট দ্বীপের ওপর দিয়ে হোটেলে যাওয়ার সময় গোল্ডফিংগারের শেষ উক্তিটাই মাথায় ঘুর পাক খাচ্ছিল। বিছানায় শুয়ে শুয়েও সেই কথার গূঢ় অর্থ আবিষ্কার করতে পারল না। দুরকম মানে হতে পারে, হয় নিজেই বন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, নয়ত বন্ডের কাজ হবে তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা। বন্ড বিছানা থেকে নেমে ড্রেসিং টেবিল থেকে একটা মুদ্রা তুলে নিয়ে টস করল। হেড হলে প্রথমটা, টেল হলে দ্বিতীয় টা। টেলই হল।
তাই হোক তবে। কিন্তু আরেকবার যদি হঠাৎ দেখা হয়ে যায় তাহলে বন্ডের একটা ভাল কৈফিয়ৎ দেওয়া চাই, নইলে কেলেংকারী।
.
স্রোতের পশ্চাতে
পরদিন সকাল ন টার সময় বন্ড তাদের চীফ অফ স্টাফের সঙ্গে যোগাযোগ করল ফোনে। সাঙ্কেতিক ভাষায় বলল, জেমস্ বলছি। সম্পত্তি দেখেছি। গতকাল তার মালিকের সঙ্গে ডিনারও খেয়েছি। আমি নিশ্চিত যে ম্যানেজিং ডিরেক্টর-এর কথাই ঠিক, সম্পত্তিতে গলদ আছে। পুরো রিপোর্ট পাঠাবার মত তথ্য নেই। তবে কাল মালিকটি বিদেশ যাচ্ছেন ফেরিফিল্ড থেকে প্লেন ধরবেন। কখন প্লেন ছাড়ছে জানলে সুবিধা হয়। ভদ্রলোকের গাড়িটা একবার দেখার ইচ্ছে আছে, সেই সঙ্গে একটা বেতার যন্ত্র উপহার দেব। আপাতত আমি কোথায় থাকব সেটা বলতে পারব না। যোগাযোগ রাখব। তোমার কাছে কোন খবর আছে।
গলফ খেলার কি হল?
–জিতেছি।
অপর প্রান্তে হাসির শব্দ আমিও তাই ভাবছিলাম চড়া দরের বাজি হয়েছিল?
–তুমি জানলে কি করে।
-মিঃ স্পটল্যান্ড (অর্থাৎ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড) গতকাল আমাদের কাছে এসে উপস্থিত। বলল কে যেন তাকে খবর দিয়েছে যে তোমার নামের এক ব্যক্তির কাছে প্রচুর পরিমাণ ডলার আছে। জানিতে চাইল খবরটা সত্যি কি আর ঐ নামে কেউ কাজ করে কি? লোকটা তেমন উচ্চপদস্থ নয় আর ইউনিভার্সালের ব্যাপার কিছুই জানে না। সোজা বলে দিলাম কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে নিতে। লোকটা আজ সকালে ক্ষমা চেয়েছে আর একই সময় তোমার সেক্রেটারি দশ হাজার ডলার ভর্তি খাম পেয়েছে। তোমার খদ্দেরটি অনেক বুদ্ধি ধরে। কি বল?
বন্ড হাসল। নিখুঁত গোল্ডফিংগার সুলভ পঁাচ। দশ হাজার ডলার-এ ফাঁসিয়ে দেবার চেষ্টা। তার মানে গলফ খেলা শেষে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে ফোন করেছিল। বন্ডকে জানিয়ে দিল যে গোেল্ডফিংগার কে ঘায়েল করলে একটু চোট পেতে হয়। তবে বন্ড যে ইউনিভার্সালে কাজ করে সেটা বিশ্বাস করেছে। বাইরের খুব কম লোকই এর আসল পরিচয় জানে। এই এক্সপোর্ট কোম্পানির ছদ্ম কাজ কর্মের আড়ালে ব্রিটিশ গুপ্তচর বাহিনীর যাবতীয় ষড়যন্ত্র পরিচালিত হয়।
বন্ড বলল লোকটা মহা প্যাচাল তো। তুমি ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে বল টাকাটা হোয়াইট ক্রসে দিয়ে দিচ্ছি। অন্য ব্যাপারগুলো ম্যানেজ করতে পারবে?
–নিশ্চয়ই। কয়েক মিনিটের মধ্যে ফোন করে জানাচ্ছি তোমায়, আর তুমি সাবধানে থেকো আর একঘেয়ে লাগলে (বিপদ) কিংবা সঙ্গীর (দেহরক্ষীর) প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে খবর দিও।
