বন্ড চিন্তিতভাবে কয়েক পা হেঁটে ঘুরে দাঁড়াল। গোল্ডফিংগারের সেরা শর্ট হল এটা, অসমতল জমির ওপর দিয়ে গ্রীনের দিকে গেল। ডানদিকের বাংকারেও অবশ্য থাকতে পারে।
বন্ড হকারের কাছে এগিয়ে এল। সে ঘাসের শীষ চিবোতে বিচোতে গোল্ডফিংগারের মার পর্যবেক্ষণ করছিল।
বন্ড তিক্ত হেসে জিজ্ঞাসা করল, প্রিয়বন্ধু বল কি বাংকারে না গ্রীনে পড়ল?
হকার জবাব দিল গ্রীনে পড়েছে স্যার।
বন্ড নিজের বলের কাছে আসতে আসতে ভাবল ভাগ্য লক্ষ্মী আবার বিমুখ হতে চলেছেন। নিশ্চিত জয়ের পথ আবার ড্রয়ের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। দূরের গর্তটাকে মনে মনে মেপে নিয়ে হকারের কাছ থেকে ক্লাব তুলে নিল।
ক্লিক করে আওয়াজ হতে বলটা উঁচু হয়ে গিয়ে গ্রীনের কাছে পড়ল। বাজে শট হল এবার দ্বিতীয়বার ড্রপ খেয়ে গ্রীনের একপাশে থেমে গেল, তারপর গড়িয়ে নিচে এসে দাঁড়াল বলটা। দূর গ্রীনের নিচে থেকে বল মেরে গর্তের কাছে নিয়ে যাওয়া খুব শক্ত। পরের শটটা ঠিকমত মেরে গেম ড্র করে দেবে। মাথায় কেবল একটাই চিন্তা, অবশ্য যদি গোল্ডফিংগার তিরিশ ফুট দূর থেকে বলটা গর্তে ফেলে দেয়, তাহলে আলাদা কথা।
পাশাপাশি হাঁটার সময় বন্ড বলল, বলটা যে কি করে খুঁজে পেল জানি না। আশ্চর্য ব্যাপার।
—ওটা ওর বল নয় স্যার হকার বলল।
-মানে উত্তেজিত হয়ে পড়ল বন্ড।
ওর ক্যাডীকে ঘুষ খাইয়েছে, আমি নিজে দিতে দেখেছি। নোট দেখে মনে হল পাঁচ পাউন্ড। ফুকস অন্য একটা বল রেখে দিয়েছিল ওখানে। বন্ড দেখল গোল্ডফিংগার ঘড়ি গ্রীনের দিকে হেঁটে চলেছে, সে হকারকে কড়া গলায় প্রশ্ন করল, তুমি একথা বলতে পার কি করে? এত নিশ্চিত হলেই বা কি করে?
হকার অপ্রস্তুত, বাঁকা হাসি হাসলেও মুখের ধূর্ত ভাব বজায় রেখে বলল, তার আগে আমি বলটা লুকিয়ে ফেলেছিলাম স্যার।
বন্ড আশ্চর্য হয়ে গেছে দেখে সে না চেয়ে বলল, দ্রলোক যেরকম জোচ্চুরি করছে আপনার সঙ্গে তাতে এ কাজ করে থাকতে পারলাম না। আপনাকে জানতাম না, কিন্তু আরও একটা বড় রকমের চোট্টামি করেছেন বলেই কথাটা বললাম। বন্ড হেসে সপ্রশংস দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললে তুমি একটা শয়তান হকার! নিজের চেষ্টায় আমাকে জেতাচ্ছিলে! তারপর তেতো গলায় বলল, কিন্তু লোকটা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ওকে শায়েস্তা করতেই হবে, দাঁড়াও মাথা খাঁটিয়ে বার করি একটা ব্যাপার।
বন্ডের বাঁ হাত ছিল প্যান্টের পকেটে। একটু আগের হারিয়ে পাওয়া বলটা নিয়ে নাড়া চাড়া করছিল। হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকের মত একটা মতলব চলে এল মাথায়। হকারের কাছে সরে সে বললেন এই নাও ধর। বলে একটা বল গুঁজে দিয়ে বলল, এই গেমের শেষে তুমি বল কুড়িয়ে নিয়ে এই বলটা রেখে দেবে। সে যেই জিতুক না কেন।
হকার সহজ ভঙ্গিতে হাঁটতে হাঁটতে বলল বুঝেছি স্যার।
হকার গ্রীনের ওপর উঠে গেল। গোল্ডফিংগার দাঁড়িয়ে আছে গ্রীনে নিজের বলের পাশে। ক্যাডী নিচে দাঁড়িয়ে। বন্ড বল মারবার জন্য ঝুঁকে পড়ল। ক্লাবের ঠিক মাঝখানে লেগে বল সোজা এগিয়ে চলল, গিয়ে থামল গর্তের তিন ইঞ্চি দূরে।
লম্বা নিঃশ্বাস ফেলে সিগারেট তুলে নিল বন্ড গোল্ডফিংগারের দিকে তাকাল। এস! এক শর্টে বল গর্তে ফেলেছে তো তোমার গলা কাটব বন্ড ভাবল। কিন্তু গোল্ডফিংগার তেমন সাহস করল না, বল গর্তের দু ফুট দূরে এসে থামল।
–ঠিক আছে, ঠিক আছে। উদার ভাবে বলে উঠল বন্ড। খেলা সমান সমান, আর এক গেম বাকি। বলটা যদি হকার না তোলে তো প্ল্যানটা বানচাল হয়ে যাবে, যদি গোল্ডফিংগারকে বল গর্তে ফেলতে বলত তবে শেষ বল তিনিই গর্ত থেকে বার করতেন। তাছাড়া বন্ড চায়ও না যে গোল্ডফিংগার হেরে যান। এটা মতলবের অঙ্গ নয়।
হকার নিচু হয়ে বলজোড়া তুলে নিল বন্ডের দিকে একটা দিয়ে অন্যটা দিল গোল্ডফিংগারের হাতে।
গ্রীন থেকে বেরিয়ে এল তারা। গোল্ডফিংগার আগে আগে হাঁটছেন। বন্ড লক্ষ্য করল হকার সবার অলক্ষ্যে হাত পকেটে ঢোকাচ্ছে, এখন টীতে বসাবার সময় গণ্ডগোল না করলেই রক্ষে।
গলফ খেলার অন্যতম নিয়ম এখন থেকে শেষ পর্যন্ত একই বলে খেলতে হবে। কোন গেমে অন্য বল নিয়ে খেলা মানে গেম হেরে যাওয়া।
কিন্তু সতের গেম পরে কোন খেলোয়াড়ের বল পরীক্ষা করার কথা মাথায় আসে না। হাত পা গুলো যন্ত্রের মতে চলতে শুরু করে। কিভাবে বল মারতে হবে, বল ফেলতে হবে, হাওয়া কোনদিন এবং সব থেকে বড় কথা চার শর্টে গেম শেষ করা যায় কিনা সে চিন্তাই মাথায় থাকে।
বন্ড এখন শুধু ভাবছে গোল্ডফিংগার যদি বলটাকে শর্ট মারতে পারেন তাহলেই কেল্লাফতে। এরকম চিন্তা করা সত্ত্বেও বন্ডের প্রথম মার ভালই হল, পরের মারেই পৌঁছে যাবে সে।
এবার গোল্ডফিংগার টীতে এসে দাঁড়িয়েছেন। ঝুঁকে পড়ে বল বসালেন, সোজা হয়ে বসে আছে বলটা। সতর্ক স্থির পায়ে বলের কাছে এসোঁড়ালেন, একদৃষ্টে বলের দিকে চেয়ে আছেন।
বুঝতে পারবেন নিশ্চয় জোচ্চুরিটা, কিন্তু না। বাঁ হাটু সঠিকভাবে মুড়ে ক্লাব চালালেন। কড়াৎ করে শব্দ হল। চমৎকার মার হয়েছে গোল্ডফিংগারের। .
বন্ড মেতে উঠল খুশিতে। এইবার তোমায় বাগে পেয়েছি। প্রফুল্ল মেজাজে সামনের দিকে এগিয়ে গেল, মনে মনে পরের শটগুলো ভাবছে। এখন যে রকম খুশি মারলেও কিছু যাবে আসবে না। গোন্ডফিংগার নিজের জালে নিজেই জড়িয়ে গেছেন। এবার তাকে আস্তে আস্তে খেলিয়ে ওপরে তুলতে হবে।
