এই হল ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বন্ড যদি এ সুযোগে খেলা নিজের হাতে না আনতে পারে তবে আর কখনো পারবে না। বন্ডের বল ঢালু জায়গা ছিল, সেখান থেকে মারের চোটে বল গিয়ে পড়ল ছ ফুট দূরে। গোল্ডফিংগার বাংকার থেকে ভালভাবে বল বের করে গর্তে ফেলতে পারল না। বন্ড জিতে গেল। গোল্ডফিংগার মাত্র এক গেমে এগিয়ে। ১২ ও ১৩ নম্বর গর্ত ড্র হয়ে গেল। দু বারই দুজনের পাঁচ শট করে লাগল।
এবার গোল্ডফিংগারের চওড়া কপারে চিন্তার রেখা দেখা দিল। ১৪ নম্বর টীর পাশের কল থেকে পানি খেয়ে নিল। যতক্ষণ না পানি খাওয়া হল বন্ড দাঁড়িয়ে রইল। কারণ বন্ড যদি এখন মারতে যায় তবে হাতে টিনের কাপটি সশব্দে মাটিতে ফেলবেন তাকে বিরক্ত করার জন্য। এই গেমটাও ড্র হল। আর চারটে গেম বাকি, বন্ড এখনো এক গেম পেছিয়ে।
সূর্যের আলো ক্রমশ কমে আসছে আর মানুষের ছায়াগুলি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। ১৫ নম্বর গর্তের দ্বিতীয় শর্টটি মারার জন্য তৈরি হল বন্ড। এ শর্টটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গোল্ডফিংগারের থেকে বেশি দূরত্বে বলটা ফেলতে হবে। ক্লাব তুলে মারতে শুরু করবে হঠাৎ বিশাল মাথার ছায়া ঢেকে দিল বলটাকে। বন্ড ক্লাবটা অতিকষ্টে নামিয়ে নিল। তারপর বলের কাছ থেকে সরে এসে মুখ তুলে চাইল। গোল্ডফিংগার নিবিষ্ট মনে আকাশের দিকে তাকাতে তাকাতে হাঁটার ভান করে যাচ্ছিল।
-তীব্র আক্রোশ চাপা দিয়ে বন্ড বলে উঠল, ছায়া সরাও গোন্ডফিংগার।
গোল্ডফিংগার থেমে গেলেন। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে সরে গেলেন।
বন্ড নিজের বলের কাছে ফিরে গিয়ে সেটাকে গর্তে পাঠান যায় কি করে তার চিন্তা করতে লাগল। কিছুক্ষণের জন্য পৃথিবীর গতিকে স্তব্ধ করে দিয়ে কি করে যে বলটাকে বাংকার গুলির উপর দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে গেল বন্ড! তারপর সেখান থেকে ছিটকে এসে গর্তের ঠিক মুখটিতে।
হকার এগিয়ে এসে বন্ডের হাতের ক্লাবটা নিয়ে নিল। একসঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে হকার বলল, এমন শর্ট তিরিশ বছরে আমি খুব কম দেখেছি। ভেবেছিলাম ব্যাটা আপনার নার্ভ খারাপ করে দিয়েছে।
-তাই দিয়েছিল হকার। এ শর্টটা আমি মারিনি মেরেছে স্বয়ং অ্যালফ্রেড ব্ল্যাকিং। বন্ড শান্তভাবে বলল, খেলা এখন সমান সমান, আর তিনটে বাকি গেমে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। পাছে আবার না চোট্টামি করে।
–কিছু ভাববেন না স্যার আমি ওর ওপর নজর রাখব।
তারা দু জনে গ্রীনে এসে দাঁড়াল। গোল্ডফিংগারের বল গ্রীনের ওপরে গর্ত থেকে বেশ দূরে। আর বন্ডের বল গর্তের ঠিক দু ইঞ্চি দূরে। গোল্ডফিংগার কোন কথা না বলে নিজের বল তুলে নিলেন। বন্ড জিতে গেল।
১৬ নম্বর গর্তটা ড্র হল। দু জনেরই তিন শর্ট লাগল আর বাকি থাকল দু টো গেম। বন্ড মাঝবরাবর চমৎকার এক শর্ট মারল, গোল্ডফিংগারের মার পড়ল এবড়ো-খেবড়ো জমির মধ্যে। বন্ড উল্লাস চেপে হেঁটে চলল। না, এখান বিভোর হলে চলবে না। এ গেম যদি জিততে পারি তবে পরেরটা ড্র করে দিলেই সে জিতে যায়। মনে মনে প্রার্থনা করল গোল্ডফিগারের খারাপ অবস্থা যেন হয়। বেশি ভাল হয়, বল যদি হারিয়ে যায়।
হকার আগে আগে এগিয়ে গেল। তারা যখন পৌঁছল তার আগে সে ব্যাগ নামিয়ে বল খুঁজতে শুরু করেছে ব্যস্ততাটা বাড়াবাড়ি রকমের মনে হল।
বলটা সত্যি বাজে জায়গায় পড়েছে। বুনোজমি, লম্বা ঘাস, ঘাসের ডগায় শিশির এখনো লেগে আছে। এরকম জায়গা থেকে বল খুঁজে পাওয়া কপালের ব্যাপার। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে পরিষ্কার জমির দিকে তারা এগিয়ে গেল। বন্ড মনে মনে ভাবল ভালই হল বলটা এদিকে আসেনি। হঠাৎ পায়ের তলায় বলের উপস্থিতি। কি করবে মাটির ভেতর বসিয়ে দেবে, হতাশ ভঙ্গি করে বলটার ওপর থেকে ঘাস সরিয়ে দেখল ডানলপ ৬৫ একটা। পেয়েছি বলে হাঁক দিল সে। পরক্ষণেই বলে উঠল না না, তুমি তো ডানলপের–১ নম্বর বলে খেল তাই না।
-হ্যাঁ, গোল্ডফিংগার অধীরভাবে বললেন।
–এটা একটা ৭ নম্বর বল বলে সেটা তুলে নিয়ে গোল্ডফিংগারের দিকে গেল বন্ড।
গোল্ডফিংগার বলটাকে দেখে বললেন আমার নয়। বলে চপার দিয়ে ঘাস সরিয়ে সরিয়ে বল খুঁজতে লাগলেন।
বন্ডের খুঁজে পাওয়া বলটা রীতিমত নতুন। অন্য কোন খেলোয়াড় হারিয়েছিল নিশ্চয়ই। বলটা পকেটে পুরে আবার খোঁজা শুরু করল। হাতঘড়িতে দেখল সময়। খেলার নিয়মানুসারে হারিয়ে যাওয়া বল পাঁচ মিনিটের মধ্যে না পেলে যার বল সে হেরে যাবে। পাঁচ মিনিট হয়ে এসেছে। আধ মিনিটের মধ্যে পাওয়া না গেলে সে বলবে তার জিৎ হয়েছে। গোল্ডফিংগার বলেছিলেন আগাগোড়া নিয়ম মেনে খেলবেন। ঠিক আছে দেখাচ্ছি তোমায় নিয়ম কানুন।
গোল্ডফিংগার খুঁজতে খুঁজতে বন্ডের দিকেই আসছিলেন।
বন্ড বলল, সময় তো প্রায় শেষ।
গোল্ডফিংগার কি যেন বলতে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ তার ক্যাভীর চিৎকার, পেয়েছি স্যার এই যে।
বন্ড গোল্ডফিংগারের সঙ্গে এগিয়ে গেল। ক্যাডী দাঁড়িয়ে ছিল অল্প উঁচু জমিতে। নিচের দিকে আঙ্গুল করে বন্ড নিচু হয়ে বলটাকে দেখল। হ্যাঁ, তবে রীতিমত নতুন। আর আশ্চর্য রকমের ভাল জায়গায় বসে আছে। অলৌকিক ব্যাপার। গোল্ডফিংগার ও ক্যাডীর দিকে কঠিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে বন্ড বলল, জোর বরাত।
ক্যাডী কাঁধ ঝাঁকাল। গোল্ডফিংগার শান্ত গলায় বলল, সেইরকমই মনে হচ্ছে।
