এসো টস করি বলে রূপার মুদ্রা ওপরের দিকে ছুঁড়লেন।
টেল।
হেড উঠল। গোল্ডফিংগার জিতলের। নতুন গলফ বলের মোড়ক খুলতে খুলতে বললেন ডানলফ ৬৫, ১ নম্বর। সবসময় এটাতেই খেলি, তোমারটা কি?
পেনফোল্ড। হার্টস।
গোল্ডফিংগার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বন্ডকে বললেন, পুরোটাই গলফ খেলার নিয়ম অনুযায়ী খেলবেন তো?
–নিশ্চয়ই।
-ঠিক আছে। গোল্ডফিংগার মাটিতে পোঁতা টীর ওপর বলটা রাখলেন। ক্লাব চালানোর কায়দা দেখে বোঝা যায় অনেক অধ্যবসায়, অনেক বই পড়ে, পেশাদার প্রশিক্ষকের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তবেই নিখুঁত, যান্ত্রিক ভঙ্গি রপ্ত করেছেন। এ মার অতি কার্যকর, অভ্রান্ত, অত্যন্ত সংকটেও ভুলচুক হবার সম্ভাবনা নেই। বন্ডের হিংসা হল।
গোল্ডফিংগারের ক্লাবের মাথা নিখুঁত ভঙ্গিতে নেমে এল বলের ওপরে। বলটা সোজা গিয়ে পড়ল শ দুয়েক গজ দূরে।
চমৎকার মারা, দেখলেই বোঝা যায় দীর্ঘদিনের অভ্যাস, এখন যতবার ইচ্ছা এইরকম মার মারবেন।
বন্ড নিজের জায়গায় গিয়ে টেনিস র্যাকেট ঘোরাবার ভঙ্গিতে ক্লাব চালাল, গোল্ডফিংগারের থেকে আরও পঞ্চাশ গজ দূরে গিয়ে পড়ল বলটা।
দু জনেরই প্রথম মারটা ভালই হল। ক্লাবটা হকারের হাতে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বন্ডের মনে হল এই সর্বশ্রেষ্ঠ মাঠে; চমৎকার দিনটায় কঠিন একহাত গলফ খেলা শুরু হতে চলেছে।
গোল্ডফিংগার আবার সেই নিখুঁত মার মারলেন, সোজা উড়ে গিয়ে বলটা উঁচু জমির কিন্তু আগে মাটিতে পড়ে ডানদিকে ঘুরে গেল। গ্রীন-এর পাশের অসমতল জায়গায় থামল। বল গর্তে ফেলতে হলে তিনবার সময় লাগবে। কিন্তু ভালভাবে মারলে দু বারেই হয়ে যাবে। তার মারটা মারের মত মার হওয়া চাই।
বন্ড এবার নিজের বলের কাছে গেল। বেশ উঁচু আছে বলটা, এবার জোরে মারতে হবে যাতে গ্রীনে গিয়ে পড়ে, আর দু বারেই গর্তে পড়ে যায়। পেশাদার খেলোয়াড়দের একটা নীতির কথা মনে পড়ে গেল বন্ডের–জিততে হলে গোড়া থেকেই জিততে হবে।
কিন্তু বলে আলত মারতেই সে বুঝতে পারল মারটা ভুল হয়েছে। গলফ খেলার ভাল মার ও খারাপ মার এর পার্থক্য অনেক। সুশ্রী ও সুন্দর এ দুটোর মধ্যে যা পার্থক্য তাই। ক্লাবের মাথাটা বলের একচুল নিচে লাগাতে অনেকখানি উপরে উঠলেও বেশিদূর গেল না বলটা।
খারাপ মারলে তা নিয়ে বেশি মাথা ঘামায় না বন্ড। যা হবার হয়ে গেছে, পরের মারটা এখন ভাল হওয়া দরকার। বালি ভর্তি এক এক বাংকারের ভিতর পড়ে ছিল বলটা, গর্ত তার থেকে কুড়ি গজ দূরে। বল বেশ খাড়া হয়ে আছে। বাংকারে নেমে মারল বন্ড কিন্তু অতিরিক্ত মনঃসংযোগর জন্য আবার বাজে মার হল। গ্রীনের একপাশে গিয়ে বলটা আটকে গেল।
গোল্ডফিংগার মাথা নিচু করে ক্লাব ঘোরালেন, বল এসে থামল গর্তের তিন ইঞ্চি দূরে। বন্ড পরাজয় স্বীকার করবার আগেই সে এগিয়ে গেল দ্বিতীয়টির দিকে। প্রথম গেম হেরে গেছে বন্ড।
বন্ড নিজের বল তুলে হকারের কাছ থেকে ক্লাব নিতে হকার প্রশ্ন করল, ওর হ্যাঁন্ডিক্যাপ কত স্যার?
নয়, আমারও তাই। তবে এর চেয়ে আরো ভাল খেলতে হবে আমায়, দু নম্বর মারটা ভুল হয়েছিল।
হকার তাকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করল এই তো সবে শুরু স্যার।
কিন্তু বন্ড বুঝতে পারছিল কপালে অশেষ দুঃখ থাকলে তবেই এরকম হয়।
.
তীর ও তরী
গোল্ডফিংগার ইতিমধ্যে টীর ওপরে বল বসিয়ে দিয়েছে। বন্ড তার পেছনে গিয়ে দাঁড়াল, সঙ্গে হকার। বন্ড বলল, গলফের নিয়ম মেনে চলার কথা হয়েছিল সুতরাং বলটা গর্তে ফেলা উচিত ছিল। যাইহোক তুমি বলটা গর্তে ফেলতে পারতে, এখন এক গেম এগিয়ে গেলে।
গোল্ডফিংগার মাথা নাড়লেন। আবার চমৎকার ভঙ্গিতে বলটা মারলেন।
তিনশ পঁচাত্তর গজ দূরে ২ নম্বর গর্তে এক মারে বল পাঠাবার চেষ্টা করল বন্ড। মনপ্রাণ দিয়ে গায়ের জোরে মারল, আর হাওয়া দিচ্ছিল বলে বলটা উড়ে গিয়ে পড়ল গ্রীনের ঠিক আগে। আর তিনবারে বলটা গর্তে ফেলতে হবে, কিন্তু দু বারেও হয়ে যেতে পারে।
গোল্ডফিংগার হেঁটে চলল সামনের দিকে, বন্ড তার কাছে গিয়ে বলল, তোমার সেই অ্যাগাররা ফোবিয়া কেমন আছে? চারদিক এত ভোলা খারাপ লাগছে না?
-না।
গোল্ডফিংগার গর্তের পাশে লাগান পতাকার দিকে তাকিয়ে পরের মারটা সম্বন্ধে ভাবতে লাগলেন। তারপর সুন্দর মার মারলেন কিন্তু গ্রীনের আগে মাটিতে পড়ে গড়িয়ে গিয়ে ঘাসজমির মধ্যে পড়ল। বন্ড জানে ওখান থেকে বল বের করা সহজ নয়।
বন্ড নিজের বলটাকে তুলে মারল গ্রীনের দিকে। বলটা থামল গর্তের এক গজ দূরে। গোল্ডফিংগার পরের বলটাকে। পাঠালেন গর্তের থেকে বার ফুট দূরে। বন্ড যদি দু বারের মধ্যে এই এক গজ দূরে থেকে বল গর্তে ফেলতে পারে তাহলেই সে জিতে যাবে। গোল্ডফিংগার হেরে যাবে জেনেও এগিয়ে গিয়ে বল মারল, আবার এক ইঞ্চি দূরে থামল। বলটা। এই খেলায় বন্ড জিতে গেল, গেম দুজনের সমান।
৩ নম্বরের দৈর্ঘ্য দুশ চল্লিশ গজ। প্রথম বলটা বেশ ভাল মারল বন্ড, যেটা গ্রীনের কাছাকাছি কোথাও পড়ল বলটা। গোল্ডফিংগারের ছকে বাঁধা মারটা তেমন জোর হল না। গ্রীনের কাছে না গিয়ে এবড়ো-খেবড়ো মাটির ভিতর আটকে গেল বলটা। এমন জায়গায় পড়েছে বলটা তার ঠিক আগে এক গোছা ঘাস দাঁড়িয়ে। গোল্ডফিংগার স্থির হয়ে কিছুক্ষণ বলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। হঠাৎ কি মনে করে ক্যাডীর কাছে গেলেন ক্লাব নেবার জন্য। যেতে গিয়ে এমনভাবে বাঁ পা ফেললেন বলের আগে, তাতে উঁচু জায়গাটা সমান হয়ে গেল। এবার বল মারতে আর অসুবিধা হল না, গর্তের তিন ফুট দূরে এসে থেমে গেল।
