দিচ্ছি স্যার।
–তাহলে তো কোন অসুবিধাই নেই।
বন্ড যেন অলসভাবে বলে উঠল, বেশ, ঠিক আছে। তাহলে এবার গোল্ডফিংগারকে নিরুৎসাহ করার চেষ্টায় বলে উঠল, আমি কিন্তু বাজি রেখে খেলি তা আগেই বলে দিচ্ছি। শুধু শুধু বল পিটিয়ে ঘুরে বেড়াতে আমার ভাল লাগে না। বন্ড খুশি হল গোল্ডফিংগারের চোখে নিজের ইমেজ ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে বলে।
গোল্ডফিংগারের চোখে আনন্দের ঝিলিক খেলে গেল কি, নির্বিকার চিত্তে বলে, আমার তাতে আপত্তি নেই। তোমার হ্যাঁন্ডিক্যাপ তো নয়, না?
-হ্যাঁ।
গোল্ডফিংগারের সতর্ক প্রশ্ন কোন মাঠে জানতে পারি?
-হান্টার কোম্বা। সানিংডেল মাঠেও আছে। তবে হান্টার কোম্বের মাঠে অনেক সহজ খেলা। গোল্ডফিংগার যাতে ভয় না পান তাই এভাবেই বলল বন্ড। আমার হ্যাঁন্ডিক্যাপও নয় এই মাঠে। এই দেখ বোর্ডে লেখা আছে। সুতরাং সবকিছু সমান সমান।
বন্ড উদাসভাবে বলল, তুমি নিশ্চয়ই আমার চেয়ে অনেক ভাল খেল।
-সে বিষয় সন্দেহ আছে। যাই হোক এক কাজ করা যাক। সহজ গলায় বলে উঠল গোল্ডফিংগার, মায়ামিতে তুলে আমার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে ছিলে মনে আছে, কত? দশ হাজার, জুয়া খেলতে তো আমি ভালই বাসি, তো ঐ টাকাটাই বাজি হিসাবে ধরা যাক।
বন্ড নিরাসক্তভাবে বলল, বড় বেশি হয়ে যাচ্ছে। তারপর যেন একটু ভেবে, নিজের জেতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে বলল, গলায় ধূর্ততার সুর মিশিয়ে অবশ্য ওটা ফাঁকতালে পাওয়া টাকা সুতরাং হেরে গেলে আফসোেস-এর কিছু নেই। উড়ে আসা টাকা উড়েই চলে যায়। তো দশ হাজারই বাজি রইল। সমান সমান।
গোল্ডফিংগার মিষ্টি গলায় বললেন, সব ঠিক হয়ে গেল তাহলে মিঃ ব্ল্যাকিং। অনেক ধন্যবাদ। তোমার প্রাপ্য টাকা আমি মিটিয়ে দেব। আজ আর তোমার সঙ্গে খেলা হল না বলে দুঃখিত। ও হ্যাঁ, ক্যাডী দুজনের মজুরী নিয়ে নাও।
অ্যালফ্রেড কারখানায় এসে বন্ডের গলফ ক্লাবগুলো নিয়ে বন্ডের দিকে তাকিয়ে বললেন চোখের ইশারা করে– আপনাকে যা বললাম মনে রাখবেন স্যার, বল মারবার কায়দাটা বড় বেখাপ্পা, সবসময় খেয়াল রাখবেন।
বন্ড হাসল। সে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে এ খেলায় নিশ্চয়ই কোন গুরুত্ব আছে। বন্ড বলল, ধন্যবাদ অ্যালফ্রেড। আমার মনে থাকবে। চারটে হার্টস ছাপ দেওয়া বল বার কর আমার জন্য আর এক ডজন টী। আমি আসছি।
বন্ড দোকানের ভিতর দিয়ে নিজের গাড়ির কাছে এসে কিটব্যাগটা বার করতে গিয়ে দেখল ড্রাইভারটা গাড়ি মোছা। থামিয়ে তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে! চৌকো চ্যাপ্টা হলদেটে মুখ। গোল্ডফিংগারের কোরিয়া ভৃত্যদের একজন।
গলফ খেলবার ভাড়া মিটিয়ে পোশাক বদলে, সিগারেট আর লাইটার নিয়ে তৈরি হয়ে নিল বন্ড।
বন্ড আস্তে আস্তে বেরিয়ে এসে মনস্থির করতে চেষ্টা করল। সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে সে গোল্ডফিংগারকে এই চড়া বাজির খেলায় নামতে বাধ্য করেছে। বন্ডের সম্পর্কে তার ধারণা হয় যে সে বেপরোয়া, জাদরেল অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষ–যাকে গোল্ডফিংগারের প্রয়োজন হলেও হতে পারে।
বন্ড ভেবেছিল বড়জোর শ খানেক ডলার বাজি ধরবে, সে জায়গায় দশ হাজার! দ্বৈত গলফ খেলার ইতিহাসে বোধহয় এমন কখনও হয়নি। আমেরিকা ও কলকাতার অপেশাদারী প্রতিযোগিতা ছাড়া যেখানে দর্শকরাই বাজি ধরে। মায়ামির পঞ্চাশ হাজার ডলার-এর কিছুটা ফেরৎ নেবার জন্য সে যেন হাঁপিয়ে উঠেছিল। তাই বাজি ধরার কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সুযোগ-এর সদ্ব্যবহার করল। তাই হোক, তবে বন্ডের এই খেলায় হারা উচিত হবে না।
দোকান ঘরে গিয়ে গলফ বল আর টী গুলো নিল বন্ড।
ব্ল্যাকিং বলল, আপনার ক্লাবগুলো হকারের কাছে স্যার।
বন্ড মাঠে এল, গোল্ডফিংগার বল মারা প্র্যাকটিস করছেন আর ক্যাডী দাঁড়িয়ে একটা করে বল গড়িয়ে দিচ্ছে তার দিকে। গোল্ডফিংগারের নতুন কায়দা দেখে বন্ড উৎসাহিত হল। সে জানত এখানে প্র্যাকটিস করে লাভ নেই। সেন্ট মার্কস এ প্র্যাকটিসের জমি আর আসল গলফ কোর্সের জমির মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ।
বন্ডের ক্যাডী হকার নিজের মনে কাল্পনিক বলকে একটা গলফ ক্লাব নিয়ে ঠেঙাচ্ছিল। হাঁটার ভঙ্গিটা অবিন্যস্ত, বেপরোয়া। বন্ড এসে বলল, গুড আফটারনুন হকার।
গুড আফটারনুন স্যার। গলফ ক্লাবটা দিয়ে তিনটে বল মাটিতে ফেলে দিল। ধূর্ততা ও বিদ্রূপ মাখান মুখে। জিজ্ঞাসা করল, কেমন আছেন স্যার? গত বিশ বছরে আর গলফ খেলেছিলেন? এখনও পারেন স্টার্টারের ঘরের ছাদে বল পাঠাতে?
বহুদিন আগে ইচ্ছা করে বন্ড দুটো বল মাঠের অপর প্রান্তে স্টার্টারের জানালা দিয়ে গলিয়ে গিয়েছিল।–দেখা যাক। প্র্যাকটিসের মধ্যে গোল্ডফিংগার থেমে গেছে। বন্ড লক্ষ্য স্থির করে ক্লাব হাকাল। বলটা সোজা উপরে উঠে গেল। আবার চেষ্টা করল এবার বলকে স্পর্শও করতে পারল না। ক্লাবের ধাক্কায় খানিকটা দূরে গিয়ে থেমে গেল।
বন্ড হকারের দিকে তাকিয়ে বলল ও দুটো মার লোক দেখান, যাতে আমায় প্রতিপক্ষ সতর্ক না হয়ে যায়। এইবার তোমার মনের মত মার। তৃতীয় বলটাকে এমন জোরে মারল যে সেটা নক্ষত্ৰবেগে একশ ফুট উঁচুতে উঠে গিয়ে আশিফুট দূরের স্টার্টারের চালের ওপর ঠিকরে পড়ল।
বন্ড ক্লাবটা হকারকে দিয়ে দু জনে হকারের পরিবার সম্পর্কে গল্প করতে করতে প্রথমটার দিকে এগিয়ে চলল। গোল্ডফিংগারও তাদের সঙ্গে যোগদিল। তাকে নির্বিকার নিশ্চিন্ত দেখাচ্ছে। গোল্ডফিংগারের ক্যাডীকে অভিবাদন জানাল বন্ড। এই ফুলস নামের খোসামুদে লোকটাকে একেবারেই পছন্দ করে না সে। গোল্ডফিংগারের গলফ ক্লাবগুলির দিকে তাকিয়ে দেখল আমেরিকার বেন হেগান কোম্পানির নতুন ঝকঝকে সেট। দেখতে জমকালো না হলেও খেলার পক্ষে সেরা জিনিস।
