অ্যালফ্রেড থামলেন অবশ্য এটা গুজবও হতে পারে স্যার, আমি নিজে কখনও দেখিনি। ভদ্রলোকের হাবভাব বেশ। ভাল, রেকুলভারে নিজের বাড়ি আছে। আগে নিয়মিত এখানে আসতেন। কিন্তু এখন অল্পই আসেন। এমনকি সপ্তাহ। দুয়েকের জন্য এলেও জানতে চায় কোন খেলোয়াড় পাওয়া যাবে কিনা। কেউ না থাকলে মিসিল বা আমিই সঙ্গ দিই। আজ সকালেই ফোন করেছিলেন কেউ আছে কি না জানতে। মাঝে মাঝে বাইরের দু একজন খেলোয়াড় এসে পড়ে তো। অ্যালফ্রেড বন্ডকে প্রশ্ন করেন, আপনি খেলবেন ওর সঙ্গে? তাছাড়া এতদূর এসেছেন, ফিরে যাবেন? ভদ্রলোকের সঙ্গে পরিচয় আছে তো বললেন। উনি ভাবতে পারেন আমি হয়ত তাকে ধরে রাখবার চেষ্টা করছি। সেটা ভাল হবে না।
-কোন মানে হয় না অ্যালফ্রেড। তোমাকেও তো রোজগার করতে হবে?
আমার রোজগার নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। দোকানের কাজ পড়ে আছে। তাই আজ দুপুরটা খালি পেলে সুবিধেই হত। কাজগুলো সেরে ফেলতাম। অ্যালফ্রেড হাতঘড়ি দেখে বললেন, সময় হয়ে গেছে আসার। আপনার। জন্য একজন ক্যাডী দিই (গলফ-এর ব্যাগ ইত্যাদি বয়ে বেড়ানর বেয়ারা) হকার কে মনে আছে? অ্যালফ্রেড হেসে বললেন সে একই রকম আছে, আপনাকে এতদিন পর দেখে খুশি হবে।
বন্ড বলল, ধন্যবাদ। ভদ্রলোক কেমন খেলেন তা আমি একটু দেখব। কিন্তু তার আগে একটা কাজ করা যাক। তুমি গোল্ডফিংগারকে বেশ সহজভাবে বলবে আমি এখানকার পুরনো সভ্য, একটা গলফ ক্লাব কিনতে এসেছি। আমাকে যা বললে ওসব কথা ওঁকে বলতে যেও না। আমি দোকান ঘরে আছি, উনি ভেবে চিন্তে যাতে খেলবার প্রস্তাব করতে পারেন।
–তাই হবে, মিঃ জেমস্। এ কাজটা আমার ওপর ছেড়ে দিন। ঐ দেখুন ওঁর গাড়িও এসে গেছে। আধ মাইল দূরে একটা হলুদ রঙের গাড়ি বড় রাস্তা থেকে প্রাইভেট রাস্তা ধরে এগিয়ে আসছে। গাড়িটার চেহারা বড় অদ্ভুত, ছোট বেলায় এরকম গাড়ি দেখেছি অ্যালফ্রেড বললেন। বন্ড দেখল, পুরনো মডেলের সিলভার গোস্ট রোলস রয়েস, রাজসিক চালে এগিয়ে আসছে। অপূর্ব সুন্দর গাড়ি! রূপালী রেডিয়েটরের ওপর সূর্যের আলো পড়ে ঝকমক করছে।
ড্রাইভারের আসনে ডাস্ট কোট, টুপি পরে একজন বসে; বিশাল মুখের অনেকখানি ঢাকা ড্রাইভিং গগলসে। তার পাশে গোল্ডফিংগারের মাথায় বোলার হ্যাট। তাদের মুখ দেখে মনে হচ্ছে কোন শবাধার বয়ে নিয়ে আসছে।
গাড়িটা কাছে এসে পড়েছে, গাড়ির ভিতরে দুজোড়া চোখ আর হেডলাইট জোড়া যেন তাকিয়ে আছে বন্ডের দিকে।
সহজাত প্রবৃত্তির বলেই ঘরের এক অন্ধকারে কোণে চলে গেল বন্ড। নিজের কর্ম দেখে নিজেই হেসে ফেলল। একটা পড়ে থাকা গলফ ক্লাব নিয়ে মেঝের দিকে চিন্তিত মনে তাকিয়ে রইল।
.
দ্বিতীয় পর্ব
দৈবাৎ
খেলা হল শুরু
–গুড আফটারনুন ব্ল্যাকিং। সব রেডি তো? গোল্ডফিংগারের সহজ গলা কানে এল। বাইরে একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে, কেউ খেলতে এসেছে বোধহয়?
-ঠিক জানি না স্যার। তবে একজন পুরনো সভ্য এসেছেন গলফ ক্লাব তৈরি করাবার জন্য। উনি খেলবেন কি না জিজ্ঞেস করব?
বন্ড কান খাড়া করে রাখল পরের কথাগুলো শোনবার জন্য, মুখে হাসি।
-মিঃ বন্ড স্যার।
কিছুক্ষণ চুপচাপ। তারপর বললেন, বন্ড গলায় সামান্য আগ্রহের সুর দেখা গেল, কিছুদিন আগে একজন বন্ডের সাথে আলাপ হয়েছিল তা প্রথম নামটা কি
-জেমস্ স্যার।
–হা হ্যাঁ, কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ওকি জানে আমি এখানে এসেছি। গোল্ডফিংগার পরিস্থিতি খুঁটিয়ে দেখছে।
-উনি কারখানায় আছেন স্যার। হয়ত আপনার গাড়ি আসতে দেখেছে। অ্যালফ্রেড জীবনে মিথ্যে বলেনি, এই বয়সে যে বলবে তার সম্ভবনা নেই।– ওর সঙ্গে একহাত খেললে মন্দ হয় না। কেমন খেলে লোকটি হ্যাঁন্ডিক্যাপ কত? ব্ল্যাকিং-এর কাছ থেকে খবর নিচ্ছেন গোল্ডফিংগার।
-ছোট বেলায় তো ভালই খেলতেন। এখন জানি না।
–হুম।
বন্ড বুঝল ভদ্রলোক টোপ গিলবেন। বন্ড ব্যাগ থেকে একটা গলফ ক্লাব বার করে এক টুকরো গালা ঘষতে লাগল হাতলে। দরজার দিকে পিছন করে কাজ করে চলল, মেঝেতে ক্যাচকোচ আওয়াজ করে।
আমাদের বোধহয় এর আগে দেখা হয়েছিল–পেছন থেকে মৃদু কণ্ঠস্বর ভেসে এল।
বন্ড চট করে পেছনে তাকিয়ে বলল, আমায় চমকে দিয়েছিলে। আচ্ছা যেন চিনতে পারল এমন ভান করে বলে উঠল–গোন্ড, গোল্ডম্যান না, নাঃ-গোন্ডফিংগার। অভিনয়টা বেশি হয়ে যাচ্ছে তবুও গলার স্বরে অসন্তোষ ও সন্দেহ মিশিয়ে বলল, তুমি আবার কোথা থেকে।
-আমি তো বলেছিলাম আমি এখানে খেলতে আসি মনে আছে? তার অন্তর্ভেদী দৃষ্টি বন্ডকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিচ্ছে।
-না।
মিস মাস্টারসনকে বলেছিলাম তোমাকে একটা খবর দিতে, পেয়েছিলে?
–না, কি খবর?
— আমি এখানে গলফ খেলতে আসব আর তোমার সঙ্গে একহাত খেলার ইচ্ছে।
–তাই নাকি? না, খেললেই হবে একদিন -দ্রতার সুরে বলে উঠল বন্ড।
গোল্ডফিংগার টোপ গিললেও বন্ড অত সহজে ধরা দেবে না।
-অন্য একদিন খেললে হয় না। আমি শুধু অর্ডার দিতে এসেছিলাম, তাছাড়া প্র্যাকটিসও নেই অনেকদিন। ক্যাডীও পাওয়া যাবে না এখন -বন্ড যেন ব্যাপারটা এড়িয়ে যেতে চাইছে এমন ভাব করল।
–আমিও অনেকদিন খেলিনি। (বন্ড মনে মনে বলল, শালা মিথ্যুক) তাছাড়া ক্লাবের অর্ডার দিতে এক মিনিট লাগবে না। গোল্ডফিংগার দোকানের দিকে ঘুরে ব্ল্যাকিং কে বললেন, মিঃ বন্ডের জন্য একজন ক্যাডী দাও না।
