M ছাড়া কেউ গোল্ডফিংগারকে সন্দেহ করেনি আর বস্তও সেই কথা জানে। পৃথিবীর অপর প্রান্তে প্লেন ছাড়তে দেরি শুরু যা দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বন্ডকে গোল্ডফিংগারের বিরুদ্ধে।
বন্ড বিষণ্ণ হাসি হাসল। তার চাকরিতে এরকম শতবার হয়েছে। সামান্য ঘটনা থেকে কত বড় ঘটনা তৈরি হচ্ছে। আজ আবার সেই বড় ঘটনাকে শেষ করতে হবে একটা গলফ খেলার লাঠি নিয়ে?
একটা চৌমাথায় সাইন পোস্টে লেখা রেকুলভার বাঁদিকে। বন্ড সেই দিকে এগিয়ে চলল। চোখ খোলা রেখে এগিয়ে চলল। গোল্ডফিংগার মাল ওটা নামার জন্য এই শান্ত বন্দরটি ব্যবহার করেন। রাস্তা ও সমুদ্র তীরের মাঝখানে ঘন একসারি গাছ। কিছু দূরে কারখানা চিমনি ও কতগুলো বাড়ির ছাদ দেখা গেল। চিমনি থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এটাই বোধহয় কারখানা। একটু পরেই একটা গেট দেখা গেল যেখানে সাইন বোর্ডে লেখা থ্যানেট অ্যালয়েজ। তার নিচে বিনা প্রয়োজনে প্রবেশ নিষেধ। বেশ সম্ভ্রান্ত ব্যাপার। বন্ড ধীর গতিতে গাড়ি চালিয়ে র্যামসগেটের কাছে চলে গেল।
বন্ড তার গলফ খেলার লাঠির ব্যাগ নিয়ে চলে গেল সোজা ক্লাবের দোকানঘরে। বৃদ্ধ আলফ্রেড ব্ল্যাকিং বসে একটা লাঠির এক প্রান্তে নতুন হাতল বসাচ্ছিলেন।
-হ্যালো অ্যালফ্রেড।
প্রবীন গলফ খেলোয়াড়ের রোদে পোড়া লোমচর্ম মুখে সহসা হাসির রেখা দেখা দিল–আরে মিস্টার জেমস। করমর্দন করে বলল, কুড়ি বছর পর দেখা। এখানে কি জন্য এসেছেন স্যার। কিছুদিন আগে শুনলাম কূটনৈতিক দপ্তরে কাজ করছেন বলে দেশের বাইরে থাকতে হয়। আমার তো ইংল্যান্ডের বাইরে পা-ই দেওয়া হল না। সেই বেখাপ্পা ক্লাব চালানোর অভ্যেস এখনো আছে বলে বন্ডের গলফ বল মারার ভঙ্গির অনুকরণ করলেন।
এখনো আছে আলফ্রেড। বদ অভ্যাসটা যায়নি। মিসেস ব্ল্যাকিং আর তোমার ছেলে মিসিলের কি খবর?
-ভালই স্যার। গত বছর ললাট জেলার গলফ চ্যাম্পিয়ন শিপে দ্বিতীয় হয়েছিল মিলি। এ বছর যদি সময় নষ্ট করে দোকানের পেছনে, তবে অনায়াসেই প্রথম হতে পারবে।
বন্ড ক্লাবগুলো দেওয়ালে হেলান দিয়ে রেখে বাবল–লাঠির ব্যাগ–অনেকদিন পর এসে ভালই লাগছে। অনেকদিন আগে এক সঙ্গে তারা দুজনে প্রতিদিন দু রাউন্ড করে গলফ খেলত, তখনও কুড়ি বছর বয়স হয়নি। ব্ল্যাকিং-এর খুব ইচ্ছে ছিল বন্ড একজন গল্ফ খেলোয়াড় হোক। তাই বলতেন, আর একটু অভ্যাস করলেই আপনি পাকা খেলোয়াড় হয়ে উঠবেন। এটা ঠাট্টা নয়, সত্যিই আপনি পারবেন। কিন্তু খেলার উন্নতি করতে আপনার এত গাফিলতি কেন? দুটি বদ অভ্যাস আছে আপনার, বেখাপ্পা ক্লাব চালান আর বিনা কারণে জোরে বল মেরে বল দৃষ্টি সীমার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া। গলফ খেলোয়াড়ের যেরকম মেজাজ দরকার আপনারও সেরকমই। আপনি যদি এক বছর ঠিক মত প্র্যাকটিস করেন তবে অপেক্ষাদারদের প্রতিযোগিতায় আপনাকে দাঁড় করিয়ে দেব।
কিন্তু বন্ড যেন বুঝতে পেরেছিল এসব খেলা ভাল লাগলেও-এর পিছনে সময় দিতে পারবে না। তাই ট্রেনিং না নিয়ে ইচ্ছামত খেলাই ভাল। কুড়ি বছর আগে একবার এই মাঠে খেলেছিল। মুনরেকার রকেট নিয়ে বিশ্রী ব্যাপারে তদন্ত করতে এসেছিল কিংসটাউনে, তবু এদিকে আসেনি। কৈশোরের স্মৃতি মনে করে আর কষ্ট পেতে চায়নি।
কিন্তু হেড কোয়ার্টাসে থাকাকালীন ছুটির দিনগুলোতে যথেষ্ট গলফ খেলেছে বন্ড। হ্যাঁন্ডিক্যাপ বেড়ে দাঁড়িয়ে হয়েছে নয়। যথেষ্ট ভাল খেলে বলে অন্তত দশ পাউন্ডের বাজি না ধরে খেলে না।
-একহাত হবে নাকি অ্যালফ্রেড?
পেশাদার বৃদ্ধ খেলোয়াড়টি জানালা দিয়ে বাইরে দেখে নিয়ে বলল, মনে হয়, না স্যার। এই সময় খুব কম খেলোয়াড় এখানে আসে।
-তুমি তো আছ।
-মাফ করবেন স্যার। আজ একজন মেম্বারের সঙ্গে খেলার কথা আছে। প্রতিদিন দুপুর দুটোর সময় আমায় তাকে সঙ্গ দিতে হয়। মিসিলও নেই আচ্ছা ঝামেলা। (আর কোন বাজে শব্দ কখনও ব্যবহার করেন না) ঠিক এখনই ভদ্রলোকের না আসলে যেন চলত না? কতক্ষণ থাকছেন স্যার?
-বেশিক্ষণ না। তুমি ব্যস্ত হয়ো না। আমি একা একাই বল পেটাই কিছুক্ষণ। কার সঙ্গে খেলবে তুমি।
– ভদ্রলোকের নাম গোল্ডফিংগার।
–ও চিনি লোকটাকে। কিছুদিন আগে আমেরিকায় আলাপ হয়েছে।
–চেনেন? মিঃ গোল্ডফিংগারকে চিনে রাখাটা তার কাছে অদ্ভুত মনে হল।
–খেলে কেমন?
–মোটামুটি। নয়ের হ্যাঁন্ডিক্যাপ হিসেবে ভালই।
–তোমার সঙ্গে যখন প্রত্যেকদিন প্র্যাকটিস করে তখন খেলার ব্যাপারে আগ্রহ আছে বলতে হবে।
-তা অবশ্য আছে। অ্যালফ্রেডের মুখে বিরক্তি। এই মুখভঙ্গির অর্থ লোকটার সম্পর্কে তার ধারণা খুব উঁচু নয় কিন্তু ক্লাবের খদ্দেরকে বিমুখ করতে বাধছে বলেই তার সঙ্গে রোজ খেলে চলেছেন।
বন্ড হাসল–তুমি একটুও বদলাওনি অ্যালফ্রেড। তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে, অন্য কেউ তার সঙ্গে খেলতে রাজি হবে না। ফাহারসনের কথা মনে আছে? ভদ্রলোক ইংল্যান্ডের সব থেকে বাজে গলফ খেলোয়াড়। মনে আছে। তোমার? তার সঙ্গেই রাউন্ডের পর রাউন্ড গলফ খেলেছ তুমি। তা গোল্ডফিংগারের গণ্ডগোলটা কোথায়?
অ্যালফ্রেড হাসলেন। বললেন আপনিই বরং বদলাননি মিঃ জেমস্। কৌতূহলও আগের মত? এবার কাছে সরে এসে বললেন, আসল কথা কয়েকজন মেম্বারের ধারণা মিঃ গোল্ডফিংগার চোট্টামি করেন। যেমন ধরুন, বল একটু গর্ত মতন জায়গায় পড়েছে সে অবস্থায় চালাকি করে বলের পজিশন ঠিক করে নেন। অ্যালফ্রেড নিজেই বল মারবার ভঙ্গি করে দাঁড়িয়ে দেখাল এই মিঃ দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বললেন বলটা বেশ চমৎকার দাঁড়িয়ে আছে তাই না, তোমার কি মনে হয়? এই বলে হাসতে হাসতে বলটার আশেপাশের মাটি এমন ঠুকবেন যাতে সত্যিই সত্যিই বলটা মাটি ঠেলে ইঞ্চি তিনেক উপরে উঠে আসবে।
