ভারতবাসীরাও এ নেশায় মেতে উঠেছিল। প্রবাদ আছে, মাটির নিচে থেকে পিপঁড়েদের সোনার দানা নিয়ে বেরতে দেখে ভারতীয়রা প্রথম খনির সন্ধান পায়। মধ্যযুগে সবচেয়ে বড় সোনার খনি ছিল মেক্সিকো ও পেরুতে। ইউকন ও এলডোরাডোের বিখ্যাত স্বর্ণ উৎপাদন হয় দুর্গম অঞ্চলে। সোনা খুঁজতে গিয়ে প্রাণ হারান অনেকে। শেষে ইউরেকায় স্বর্ণখনি আবিষ্কৃত হওয়ার পর শুরু হল প্রথম আধুনিক স্বর্ণযুগ।
ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় সোনা উৎপাদন হয়েছে। উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি লেনা ও উরাল অঞ্চলের প্রকাণ্ড সোনার খনির দৌলতে পৃথিবীর সব থেকে বড় স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ ছিল রাশিয়া। দ্বিতীয় স্বর্ণ যুগের সূচনা হল উইটওয়াটার্সর্যান্ড-এ স্বর্ণ পাওয়া গেলে। সেই সময় থেকেই শুরু হল সায়ানাইডিং প্রথা।
দক্ষিণ আফ্রিকার খনিগুলো খোলবার সঙ্গে সঙ্গে তৃতীয় স্বর্ণযুগ শুরু হয়েছে। কর্নেল দু-হাত শূন্যে তুলে বলে উঠলেন আজ পৃথিবীর গর্ভ থেকে অঢেল সোনা বেরিয়ে আসছে। ভাবতে পারেন ক্লনডাইক, হোমস্টেক এলডোরাডোর স্বর্ণখনিকে আফ্রিকার স্বর্ণখনি টেক্কা দিয়ে দিয়েছে। আপনাকে একটা আন্দাজ দিচ্ছি ১৫০০–১৯০০ এই চারশ সালে মোট ১৮ হাজার টন সোনা বার হয়েছিল ১৯০০-১৯৫৮ পর্যন্ত বার করা হয়েছে ৪১ হাজার টন সোনা। এইভাবে চালিয়ে গেলে যেটুকু সোনা আছে তা যদি পঞ্চাশ বছরে শেষ হয়ে যায় তাহলে একটুও অবাক হব না–মিঃ বন্ড।
সোনার ইতিহাসের ধাঁধায় পড়ে বন্ডও দুশ্চিন্তা গ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। বলল, চমৎকার ইতিহাস শোনালেন। সমুদ্র গর্ভ থেকে যখন তেল বার করতে পারা গেছে তখন সোনাও নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। আচ্ছা এবার সোনা স্মাগলিং-এর কথা বলুন।
টেলিফোন বেজে উঠতেই কর্নেল সঙ্গে সঙ্গে রিসিভার তুলে বললেন, স্মিার্স বলছি। অপর প্রান্তের কথা শুনে বিরক্তির স্বরে বলে উঠল, গ্রীষ্মকালে কি কি খেলা আছে তার লিস্ট তো পাঠিয়ে দিয়েছি মিস্ ফিলবি। আগামী শনিবার ডিসকাউন্ট হাইসেস-এর সঙ্গে পরের ম্যাচ আরও কিছুক্ষণ চুপ করে শুনে বললেন, তা মিসেস ফ্লোক যদি গোলকীপার হয়ে খেলতে না চান তাহলে তার খেলা হয় না। একমাত্র গোলেই ওকে খেলান যাবে। সবাই তো আর সেন্টার ফরোয়ার্ড খেলতে পারে না! হ্যাঁ তাই বলুন, আর বলবেন এবারকার মত গোলকীপারের কাজটা করে দিলে ধন্য হয়ে যাব। ধন্যবাদ মিস ফিলবি।
রুমাল দিয়ে মুখের ঘাম মুছে বললেন, মাফ করবেন। খেলা আর শ্রমিক কর্যাণ নিয়ে ব্যাংক কর্মচারিদের এত মাতামাতি যে কি বলব। তার ওপর ব্যাংকের মহিলা হকি টিমের ম্যানেজারীর ভার আমার ওপরে। যাকগে…যে কথা বলছিলাম, প্রথমত কেবল ইংল্যান্ড ও স্টার্লিং এলাকাতেই স্মাগালক্তে বিশাল ব্যবসা। মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের হাজার জনের মধ্যে কম করে পাঁচশ জন, এদের মধ্যে আমার স্বর্ণ নিয়ন্ত্রণ বাহিনীও আছে, এদের কাজ হল, যারা সোনা চোরাই পথে বাইরে পাঠাচ্ছে, মদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনকে ফাঁকি দিচ্ছে তাদের খুঁজে বের করা।
আপনাদের লোকসংখ্যা তো অনেক! বন্ড বলল ব্রিটিশ গুপ্তচর বাহিনীর মোট কর্মীই তো দু হাজার। তা সোনা স্মাগলিং-এর একটা উদারহণ দিতে পারেন, এটা আবার আমার ঠিক মাথায় ঢোকে না। কর্নেল বিজ্ঞের মত অলস গলায় বলল, ভাল কথা, ধরুন আপনার পকেটে একজোড়া সিগারেট প্যাকেটের মাপে একটি সোনার বাট আছে, যার ওজন সোয়া পাঁচ পাউন্ড। জিনিসটা আপনি চুরি করে থাকতে পারেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পেতে পারেন বা অন্য কোন সূত্রে। যাই হোক, আইন অনুসারে এটি ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডকে বিক্রি করলে আপনি পাবেন কন্ট্রোল দর, আউন্স পিছু সাড়ে বার পাউন্ড, অর্থাৎ মোট হাজার পাউন্ড। কিন্তু আপনি হয়ত কিছু লোভী হয়ে উঠলেন। কোন বন্ধু হয়ত ভারতে যাচ্ছে। বা কোন ভারতগামী প্লেনের পাইলট বা স্টুয়ার্ড আপনার চেনা জানা, তাদের হাত দিয়ে সোনা পাঠাতে চান। শুধু আপনার কাজ বাটটিকে পাতলা চাকতির মত কেটে কোমরে বেল্টের সঙ্গে সেলাই করে দেবেন বন্ধুকে কোমরে পরবার জন্য। এরজন্য সে কমিশন পাবে। এবার বন্ধুটি বোম্বাইতে যে কোন সোনা কারবারীকে ওটা বিক্রি করে পেল সতেরশ পাউন্ড। অর্থাৎ বাড়তি সাতশ পাউন্ড আপনার পকেটে। মনে রাখবেন, এই মুনাফা এমন কিছু নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আজ পর্যন্ত যদি এরকম স্মাগলিং চালিয়ে যেতেন তাহলে রাতারাতি বড়লোক হয়ে চাকরি ছেড়ে দিতে পারতেন।
M জানতে চাইবেন এই ভেবে সে জিজ্ঞাসা করল ভারতবর্ষে সোনার দাম এত কেন?
-সে এক দীর্ঘ ইতিহাস। তবে প্রধান কারণ হয়ত অত্যধিক সোনার গয়না পরার রেওয়াজ।
–ভারতে চোরাপথে কি পরিমাণ সোনা যায়?
— প্রচুর ভারতীয় গোয়েন্দা দপ্তর ও কাস্টমস বিভাগের লোকেরা ১৯৫৫ সালে ৪৩ হাজার আউন্স বেআইনি সোনা। ধরেছিল। ঐ বছরের চোরাচালানের একশ ভাগের একভাগ হবে কিনা সন্দেহ। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সোনা জমা হচ্ছে ভারতবর্ষে, সেই সঙ্গে জন্ম নিচ্ছে স্মাগলিং-এর নতুন নতুন পন্থা। স্মাগলাররা ম্যাকাও থেকে প্লেনে করে ভারতের ওপর দিয়ে যাবার সময় নির্দিষ্ট জায়গায় এক টন সোনা ভর্তি একটা প্যারাসুট ফেলে।
-আচ্ছা, অন্য কোন দেশে বেশি দামে সোনা বেচা যায় না?
