গোল্ডফিংগারের সঙ্গে সাদৃশ্য আছে এমন একটা ছবি পাওয়া গেল। বন্ড আরো দু একটা কথা যোগ করে চুল, চোখ সম্পর্কে, শেষ পর্যন্ত কাজ উতরে গেল।
তথ্য বিভাগের লোকটি বলে ওঠে অন্ধকারে এ চেহারা দেখলে ধড়ে প্রাণ থাকবে না। আমি গোয়েন্দা বিভাগের লোকদের সঙ্গে কথা বলে আপনাকে জানিয়ে দেব।
নিজের ঘরে ফিরে এসে কাজকর্ম সারতে আটটা বাজল। ফোনে জলখাবার অর্ডার দিয়ে বসতে যাচ্ছে, M-এর ঘর থেকে ফোন এল। ভদ্রলোক সময়ের আগেই চলে এসেছেন।
–ইয়েস স্যার।
অফিসে চলে এস, 007, ডিউটি শেষ হবার আগে কিছু কথা বলতে চাই।
–আচ্ছা স্যার।
কোট গায়ে দিয়ে চুল ঠিক করে ন তলায় M-এর ঘরের দিকে পা বাড়াল। তখনও সেক্রেটারি মিস মানিপেনী, চীফ অফ স্টাফ কেউই আসেনি। দরজায় টোকা দিয়ে ভেতরে ঢুকল বন্ড।
-বস, পাইপ ধরিয়ে প্রশ্ন করলেন, রাতটা কেমন কাটল? ঠাণ্ডা?
প্রায় ঠাণ্ডাই, তবে স্টেশন H থেকে–M হাত তুলে বাধা দিলেন, ছেড়ে দাও। ব্যাপারটা পরে পড়ব, ফাইলটা দাও।
বন্ড অত্যন্ত গোপনীয় ফাইলটা তাকে দিলে তিনি সেটি সরিয়ে রেখে বললেন, সময় বদলাচ্ছে, তোমায় আর নাইট ডিউটিতে রাখছি না আ07। মুখে যেন মনে হল ব্যঙ্গের হাসি।
দায়সারা গোছের একটা হাসি ভাব দেখা দিল বন্ডের মুখে তবে এই ঘরটাতে এলে নাড়ির স্পন্দন যেন বেড়ে যায়। বুঝতে অসুবিধা হল না M নতুন কাজের ভার দিতে যাচ্ছে। তবে মুখে বলল, কাজটা শিখে নিতে খুব দেরি হয়নি স্যার।
-তা অবশ্য পরে শেখার সময় অনেক পাবে। আপাতত এখন একটা অদ্ভুত কাজ এসেছে। তোমার লাইনের না হলেও অন্যদিক থেকে দেখলে… M তাচ্ছিল্যের ভঙ্গি করে বললেন, সে দিক দেখার প্রয়োজন নেই।
বন্ড কোন কথা না বলে অপেক্ষা করতে লাগল।
-ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের গভর্নরের সাথে গতরাত্রে ডিনারে একটা নতুন বিষয় জানতে পারলাম। সোনার স্মাগলিং জালিয়াতি এসব নানা গণ্ডগোলের কথা বলছিলেন। মুদ্রার মান রক্ষার কাজ বলেই তিনি হয়ত এত কিছু জানেন। M প্রশ্ন করলেন, এ ব্যাপারে কিছু জান?
-না স্যার।
-ঠিক আছে। বিকেলে চারটের সময় ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডে কর্নেল স্মিার্স-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলেই অনেক কিছু জানতে পারবে। এর ফাঁকে তুমি একটু বিশ্রাম নিয়ে নাও।
-আচ্ছা স্যার।
মিঃ স্মিদার্স ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের রিসার্চ ডিপার্টমেন্টের বড়কর্তা। গভর্নর যা জানাল তা হল সিঁদার্সদের কাজ হল ইংল্যান্ডের সমস্ত ব্যাংকের কাজকর্মের ওপর নজর রাখা, যাতে সরকারের সঞ্চিত সোনা ও মুদ্রামান নিয়ে দু নম্বরী করতে না পারে। কিছুদিন আগে নকল স্বর্ণমুদ্রা তৈরির অভিযোগে কয়েকজন ইটালিয়ানকে অনেক কষ্টে ধরা গেছে। আবার বেইরুটের কেলেঙ্কারী, এসব কাগজে পড়েছে নিশ্চয়ই। এই সব ষড়যন্ত্রের হদিশ তাদের খুঁজে বের করতে হয়।
গভর্নরের এত কথা বলার একটাই কারণ স্মিার্স সন্দেহ করছে যে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় থেকে প্রচুর সোনা ইংল্যান্ড থেকে চোরাচালানি হচ্ছে। তবে তেমন কোন সূত্র পাওয়া না গেলেও এর গুরুত্ব গভর্নরকে বোঝন গেছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর থেকে অনুমতি নিয়ে তিনি আমার কাছে সাহায্য চাইতে এসেছিলেন। M কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে চেয়ে বন্ডকে প্রশ্ন করলেন, কোনদিন ভেবেছ, ইংল্যান্ডের সব থেকে ধনী ব্যক্তি কে?
-না, স্যার।
–একবার চেষ্টা কর না! সবচেয়ে বিত্তশালী কারা।
বন্ড চিন্তা করতে লাগল, অনেকে তো আছে, যাদের দেখে মনে হয় ধনী, বা কাগজের লোকেরা যাদেরকে ধনী বলে। কিন্তু এদের মধ্যে কে? ইতস্তত করে জবাব দিল, স্যার স্যামুন আছে, জাহাজ ব্যবসায়ী এলারম্যান আছে, লর্ড কাউড্রেও বেশ ধনী। ব্যাংকারদের মধ্যে রথ চাইল্ড, বেরারিং, হ্যাঁস্ ব্রো, হীরের ব্যবসায়ী উইলিয়ামসনও আছেন। বন্ড মৃদু গলায় ওপেন হাইমার ও ডিউকদের নাম করে চুপ করে গেল।
-বাঃ ভালই। কিন্তু আসল লোকের নামই তো করলে না। গভর্নর না বললে মাথায় আসত না নামটা-অরিক গোল্ডফিংগার।
বন্ড শুনেই জোরে হেসে উঠল।
M বিরক্তি প্রকাশ করল–হ্যাঁসার কি হল?
-মাফ করবেন। আমি গতরাত্রেই আইডেন্টিকাস্টের সাহায্যে তার ছবি তৈরি করছিলাম। তাছাড়া গোয়েন্দা বিভাগকেও খোঁজ নিতে বলে দিয়েছি।
M চটে গেলেন–ব্যাপার কি? ছেলেমানুষী কর না।
বন্ড এবার সমস্ত ঘটনা খুলে বলল।
M ঝুঁকে পড়ে মন দিয়ে শুনছিলেন। শেষ হলে হাত দুটো মাথার পেছনে রেখে কড়িকাঠের দিকে চেয়ে রইলেন। বন্ড হাসতে গিয়েও হাসতে পারছিল না। হঠাৎ M প্রশ্ন করল–সেই দশ হাজার ডলার কি হল?
-মেয়েটিকে দিয়েছি।
–তাই নাকি। হোয়াইট ক্রসকে দিলে পারতে।
হোয়াইট ক্রস এর তহবিল থেকে মৃত গুপ্তচরদের পরিবার বর্গকে সাহায্য করা হয়।
–দুঃখিত স্যার। এ ব্যাপারে কোন কথা বলার ইচ্ছা নেই। বউ বলল।
—হুম্, M বন্ডের নারী আসক্তি কোন দিনই সমর্থন করেননি, তার মনে হয় এটা পাপেরই নামান্তর। তাই অন্য প্রসঙ্গে চলে এলেন। বিকেলে সব কিছু জানতে পারবে। গোল্ডফিংগারকে অবশ্য দেখেছি ব্লেডস ক্লাবে ব্রিজ খেলতে। তা ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের মত তোমারও একই কাজ গোল্ডফিংগারের ওপর নজর রাখা। বলে বন্ডের দিকে তাকালেন।
.
স্বর্ণমঙ্গল কথা
ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের অপূর্ব সুন্দর প্রবেশ দ্বার দিয়ে সোনালি মোজাইক করা বিরাট একটি ঘরে এসে ঢুকল বন্ড।
