নাইট ডিউটি চলছে সপ্তাহখানেক হল। অল্প বুদ্ধি খাঁটিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় সব কাজই উদ্ধার হয়ে গেছে। ভালই লাগছিল, চুপচাপ বসে থাকা, কিছু তথ্য আর ক্যান্টিনের সুন্দরী মেয়ের আনা খাবার।
প্রথমদিন মেয়েটা চা আনাতে রীতিমত ক্রুদ্ধ হয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের কারণ কাপভর্তি কাদা বলে চা কে উল্লেখ করেছিল, এবং তার পরিবর্তে কফি চেয়েছিল। মেয়েটি হেসে কফি এনে দিলেও চা-এর বিশেষণগুলো সবাইকে জানিয়ে দিয়েছিল।
এই কর্মহীন নাইট ডিউটি ভাল লাগার আর একটি কারণ বই লেখা। বইটির নাম বাঁচতে শেখ। অস্ত্রহীন অবস্থায় লড়াইয়ের কৌশল থাকবে এতে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গুপ্তচরদের শেখান প্যাঁচ থেকে বিশেষ প্যাঁচ বেছে নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার কথা কেউ জানে না, তবে M যদি এটাকে গুপ্তচর বিভাগের পাঠ্য পুস্তকের তালিকাভুক্ত করে তবে মন্দ হবে না।
তথ্য বিভাগ থেকে সংগ্রহ করে মৌলিক বিষয়গুলি লেখা হয়েছে। বইগুলির কিছু M উপহার পেয়েছেন কিছু বিদেশী গুপ্তচর বা চরচক্রের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। এখন তার কাছে যে অনুবাদ করা বইটি আছে তার নাম ডিফেন্স। এটি সোভিয়েট রাশিয়ার চর-নিধন ও প্রতিহিংসার জন্য SMERSH নামক যে সংঘ তার লেখা।
দ্বিতীয় অধ্যায় টেনে আনা ও বাধাদানের কৌশল পড়া শেষ করে উঠে গিয়ে জানালায় দাঁড়াল। রাশিয়ানদের বিশ্রী ধাচের লেখা পড়ে বিতৃষ্ণা মন ভরে গেল। যেমন হয়েছিল মেক্সিকান লোকটিকে হত্যা করবার সময়। কি হল বন্ডের? মানসিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়ছে নাকি? কিছুক্ষণ মেঘের দিকে তাকিয়ে আবার নিজের জায়গায় ফিরে এল।
যে জায়গাটা পড়তে গিয়ে উঠে পড়েছিল, সে সেখানে আবার চোখ রাখল–মত্তস্ত্রীলোককে বাগে আনবার আরেকটি সাধারণ নিয়ম বৃদ্ধাঙ্গুষ্ট ও তর্জনীর সাহায্যে নিচের ঠোঁট চেপে ধরা। ঠোঁট চেপে ধরে টান মারলে সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটি চলে আসবে।
কি অসহ্য অভিব্যক্তি বৃদ্ধাঙ্গুষ্ট ও তর্জনী মনে ভাবে বন্ড একটা সিগারেট ধরায়। সকাল নটায় চীফ অফ স্টাফ বা M-কে রিপোর্ট দিয়ে তবেই ছুটি এবং সেটা অনেক দেরি। কিন্তু একটা কথা সমানে মাথায় খচখচ করছে, কি যেন? কি দেখে মনে পড়ে গেল?
হুম, তর্জনী মনে পড়েছে। ফোর ফিংগার, ফোর…ফিঙ্গার এর সঙ্গে মিল গোল্ডফিংগার ভদ্র লোকটি সম্বন্ধে কিছু তথ্য জানা দরকার। পরমুহূর্তেই সবুজ টেলিফোনে তথ্যবিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ।
বক্তব্য শুনে অফিসারটি বলল, নামটা তো অচেনা, তাই ফাইল দেখে কিছু পেলে জানাব স্যার। বন্ড ফোন রেখে দিল।
মায়ামি থেকে নিউইয়র্ক আসার-সময়টা চিন্তা করে বন্ড। তার সঙ্গিনী ছিল জিল মাস্টারটন। মেয়েটি কামাতুর প্রকৃতির। তাই বন্ড তার সঙ্গে মিলিত হলেও কোন আপত্তি করেনি বরং একাধিকবার তার সঙ্গ চাইছিল।
এখনও যেন বন্ড-এর কানে আসছে লেভেল ক্রসিংয়ের ঘণ্টি, ট্রেনের সিটি, স্টেশনের লোকজনের চিৎকার… অন্যদিকে কামরায় তাদের দৈহিক প্রেমালাপ।
জিল জানিয়েছিল বন্ডের কাছে পরাজয় নিয়ে একটু বিচলিত নয় গোল্ডফিংগার, বরঞ্চ ইংল্যান্ডে কিছুদিনের মধ্যেই তো আসছেন তখন স্যান্ডউইচ শহরে বন্ডের সাথে গলফ খেলবেন, এবং জিল যেন পরের ট্রেনেই ফিরে আসে। এটুকুই তার বক্তব্য। বন্ড বারণ করলেও মেয়েটির ইচ্ছা ছিল যাবার, কারণ চাকরিটা ছিল লোভনীয়।
মিঃ ডুপন্টের দেওয়া দশ হাজার টাকা মেয়েটিকে দিয়ে দিল বন্ড। আমি কি কাজে লাগাব ভেবে পাচ্ছি না। তুমি রাখ, দরকার পড়লে পালাতে পারবে। এবং গত রাত্রি ও আজ সঙ্গ দেবার জন্য ধন্যবাদ। বন্ড বলল।
বন্ড জিলকে বিদায়ী চুম্বন দিয়ে, স্টেশনে পৌঁছে দিয়ে একলা ফিরে এসেছিল। ট্যাক্সীতে আসতে আসতে একটা কথা মনে পড়ল তার, কিছু প্রেম আগুনের মত, কিছু মরচে পড়া। কিন্তু লালসা বোধহয় সবচেয়ে পরিষ্কার আর চমৎকার। বন্ড মনে মনে ভাবল তারা কি পাপ করেছে? দৈহিক পবিত্রতা নষ্ট করে অনুতপ্ত হচ্ছে সেন্ট অগাস্টিন একটি মজার কথা বলেছিলেন-হে সৃষ্টিকর্তা, আমায় দৈহিক পবিত্রতা দাও তবে এখুনি না।
আবার সবুজ টেলিফোন জানাল তিনজন গোল্ডফিংগার আছে, তার মধ্যে দুজন মৃত একজন জীবিত। সে জেনেভায় রাশিয়ার হয়ে খবর আদান প্রদান করে। চুল কাটার দোকান আছে তার। সেখানেই চুল কেটে ব্রাশ দিয়ে গা ঝেড়ে দেওয়ার সময় কোটের পকেটে গুপ্ত সংবাদ পাচার করে দেয়। একেই কি খুঁজছিলেন? একটা পা নেই এছাড়া আরো অনেক খবর আছে।
-না, এ অন্য লোক। ধন্যবাদ।
লোকটার কোন ছবি থাকলে পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তরে খোঁজ নিতে পারেন স্যার।
বন্ডের মনে পড়ে গেল লাইকা ক্যামেরায় তোলা ছবি এখনও ডেভলপ করা হয়নি। আইডেন্টিকাস্ট এর সাহায্যে ছবি পাওয়া যেতে পারে। জিজ্ঞাসা করল, আইডেন্টিকাস্টের ঘর খালি আছে?
–আছে, আপনি বললে যন্ত্রটা চালাতে পারি স্যার।
-ধন্যবাদ। আমি যাচ্ছি এখনি।
বন্ড অপারেটরকে কোথায় যাচ্ছে বলে চলে এল তথ্য বিভাগে।
ডিউটি অফিসারটি আইডেন্টিকাস্ট তৈরি করতে করতে বলল, লোকটির একটু বর্ণনা দিতে পারলে কাজের সুবিধা হয়।
বন্ড একটা বর্ণনা দিয়ে পর্দার দিকে তাকিয়ে বসে রইল।
এই যন্ত্রের সাহায্যে ফেরারী সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের মোটামুটি ছবি পাওয়া যায়। এমন কি এক পলকের দেখা একটি লোকের ছবিও। সামনের স্ক্রীনে ছবি দেখে সাক্ষী উক্ত ব্যক্তিকে চিনতে পারলে সেই পর্দার ওপর রেখে, সেই মুখের ওপর যন্ত্রের সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের চুল, ও অন্যান্য অঙ্গ যোগ করে দেখান হয়। যেটি ঠিক হয় সেটির ফটো তুলে নেওয়া হয়।
