মেয়েটি নিচু গলায় বলল, এবার তুমি কি করবে?
–তোমার ভয়ের কিছু নেই। লক্ষ্মী মেয়ের মত একটু সর, আমি ব্যাপারটা একটু দেখি।
মেয়েটির জায়গায় বসে আছে বন্ড। খেলা চলছে। ট্রান্সমিটারে কথা শোনা যাচ্ছে না বলে একটুও বিব্রত নয় গোল্ডফিংগার।
বন্ড জিজ্ঞাসা করল, কথা বন্ধ হয়ে গেলে খেলা কি থামিয়ে দেন নাকি?
মেয়েটি উত্তরে জানাল আগেও এরকম হয়েছিল। তিনি বসে ছিলেন। ট্রান্সমিটারটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল, যতক্ষণ পর্যন্ত না সারান হল এইভাবেই বসে থাকেন।
বন্ড তার দিকে তাকিয়ে হাসল, বেশ তাহলে খানিকটা হয়রান হোক। তুমি একটা সিগারেট ধরিয়ে আরাম করে বস। মেয়েটিকে সিগারেট অফার করল বন্ড। মেয়েটি নিল। যা এবার তুমি ডান হাতে নেল পালিশ লাগিয়ে নাও।
মেয়েটি একটা হেসে বলল, কতক্ষণ এখানে চুপিচুপি এসে বসে আছ, ভীষণ ভয় পেয়ে গেছিলাম।
–বেশিক্ষণ না। তবে চমকে দেবার জন্য দুঃখিত।
তোমার থেকেও তো বেশি মিঃ ডুপন্ট এক সপ্তাহ ধরে চমকাচ্ছিলেন।
–হ্যাঁ মেয়েটা দ্বিধার সঙ্গে বলে উঠল, কাজটা হয়ত খারাপ কিন্তু ডুপন্টের প্রচুর টাকা তাই না?
–সে তো নিশ্চয়। মিঃ ডুপন্টের হয়ত কিছু ক্ষতি হয়নি কিন্তু ভবিষ্যতে এমন কারোর ওপর কোপ বসালে যার হেরে যাওয়াটা নিতান্ত কষ্টকর হবে। তাছাড়া গোল্ডফিংগার তো কোটিপতি, তাহলে জাল জোচ্চুরি কেন?
মেয়েটি এতক্ষণে উচ্ছল হয়ে উঠল, আমিও বুঝতে পারি না কেন এরকম করেন। এই অভ্যাস উনি ছাড়তে পারবেন না, রোগে দাঁড়িয়ে গেছে মনে হয়। আমি একবার জিজ্ঞাসা করায় উনি বললেন, মওকা পেয়ে সেটা কাজে না লাগান বোকামি। সব সময় ঐ সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন, আমাকেও এই কাজে রাজি করিয়েছেন। আমি জানতে চাইলাম–এই বিশ্রী-ঝুঁকি নেবার দরকার কি? উনি শুধু বললেন তাস খেলায় সবসময় জেতা যায় না, তাই জেতার সুযোগ করে নিতে হয়।
বন্ড বলল, ভদ্রলোকের কপাল ভাল কাছে পিঠে ডিটেকটিভ এজেন্সী বা মায়ামী পুলিশ দপ্তরে লোক নেই। মেয়েটি তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে উঠল সে বিষয়ে চিন্তার কিছু নেই। টাকা দিয়ে যে কোন লোকের মুখ বন্ধ করে দেন। টাকার লোভ তো কেউ সামলাতে পারে না।
-তার মানে।
উদাসীনভাবে মেয়েটি বলে উঠল, সঙ্গে সবসময় উনি দশ লাখ ডলারের সোনা রেখে দেন। কাস্টসের ঝামেলা থাকলে বেল্ট বা সুটকেসের গায়ে পাতলাগান থাকে। অর্থাৎ চামড়ার বদলে সোনায় মোড়া সুটকেস।
-মোটর গাড়িতে যাতায়াত করেন সবসময়, আর ড্রাইভারের গায়েও বেশ জোর। সেই বাক্সগুলো বয়। অন্য কেউ হাত দেয় না।
অত সোনা নিয়ে ঘোরেন কেন?
–যদি দৈবাৎ প্রয়োজন হয়। সোনা দিয়ে তো সব জিনিস কেনা যায়। তাছাড়া অন্য লোকেদের যেমন টাকা পয়সা, গয়নাগাটি, ডাকটিকিট এমন কি মেয়ে মানুষের ওপর লোভ, ওঁর তেমনি সোনার।
বন্ড হাসল, উনি তোমায় ভালবাসেন?
মেয়েটি লজ্জায় লাল হলেও রেগে গেল, বলে উঠল কখনো না। তারপর শান্ত হয়ে বলল, সত্যিই তেমন কিছু নেই। উনি চান যে লোকেরা ভাবুক আমাদের মধ্যে ওরকম একটা সম্পর্ক আছে। একটু অহঙ্কা আছে বোধহয়, তবে আমার ওপর তেমন ঝোঁক নেই।
-হুম বুঝেছি। তুমি তাহলে নেহাৎই সেক্রেটারি?
-সঙ্গিনী মেয়েটি শুধরে দিল। কাগজে কলমে কোন কাজ আমায় করতে হয় না। হঠাৎ মুখ হাত চাপা দিয়ে বলে উঠল–তোমাকে বলছি, তুমি সব বলে দেবে না তো? তাড়িয়ে দেবেন তাহলে আমাকে। মেয়েটি ভীত গলায় বলে উঠল– ওর অসাধ্য কিছুই নেই।
–না, না, কিছু বলব না। কিন্তু এভাবে তো চলতে পারে না। কেন নিলে এ চাকরি?
তিক্ত গলায় মেয়েটি বলে উঠল, সপ্তাহে একশ পাউন্ড আর সব প্রাচুর্যের উপকরণ। এ সব তো গাছে ফলে না। আমি টাকা জমাচ্ছি, কিছু জমে গেলেই চাকরি ছেড়ে দেব। বন্ড ভাবল, কিন্তু গোল্ডফিংগার কি যেতে দেবেন? মেয়েটা অনেক গোপন কথা জানে, গোল্ডফিংগার নিজের স্বার্থের জন্য সুন্দর মেয়েটাকে বিপদে ফেলতে একটুও দ্বিধা করবে না।
মেয়েটি হঠাৎ অপ্রস্তুত হাসি হেসে বলে উঠল আমি একটু ভদ্রস্থ হয়ে আসি।
বন্ড বুঝতে পারছিল না, মেয়েটিকে বিশ্বাস করবে কিনা। কারণ টাকাটা সে গোল্ডফিংগারের কাছ থেকে পায়। তাই কাছ ছাড়া না করার জন্য বলল, বেশ দেখাচ্ছে তোমায়। সুইমিং পুলের চারপাশে যারা আছে তারা এমন কিছু ভদ্রস্থ নয়। আচ্ছা এবার গোল্ডফিগারের অবস্থা ঢিলে করে দিই কেমন।
বন্ড মাঝে মাঝে দূরবীন দিয়ে তাস খেলা লক্ষ্য করছিল। এবার দেখল ডুপন্টের চেহারায় খুশি, উল্লাস উপছে পড়েছে। টেবিলের ওপর দিন তাস ফেলে দিলেন–খেলা হয়ে গেছে। এবার গোল্ডফিংগারকে লক্ষ্য করলেন সে শান্তভাবে অপেক্ষা করছে ট্রান্সমিটারের নির্দেশ পাবার জন্য, আবার জেতার জন্য।
বন্ড চোখ সরিয়ে নিয়ে বলল, চমৎকার যন্ত্রটা তো। কোন ওয়েভলেংথে ট্রান্সমিট করছে?
-কি যেন একটা বলেছিলেন আমায়, একশ সত্তর কি যেন। মেগা দিয়ে কোন শব্দ আছে?
– মেগাসাইকস্। হতে পারে। কিন্তু ওটা তো পুলিশ ব্যবহার করে, তার মধ্যে থেকে তোমার গলা চিনে নেওয়া রীতিমত মনঃ সংযোগের ব্যাপার।
বন্ড হাসল, এবার তাহলে কাজটা সেরে ফেলি।
সহসা মেয়েটি হাত বাড়িয়ে তাকে অনুনয় করল, এটা না করলেই কি নয়? ওঁকে ছেড়ে দাও না। জানি না আমার ভাগ্য কি আছে। মেয়েটি মুখ লাল করে বলে উঠল, তোমায় খুব ভাল লেগেছে, অনেকদিন এরকম মানুষ দেখিনি তো, আর একটু থাক না। মাটির দিকে তাকিয়ে বলে উঠল ওকে ছেড়ে দিলে যা বলবে তাই করব।
