-ওঃ, আমি দুঃখিত, বন্ডের গলায় সমবেদনার সুর, এ রোগের নাম তো শুনিনি ক্লস্ট্রোফোবিয়া শুনেছি। কি করে হল এ রোগ?
গোল্ডফিংগার তাস সাজাতে সাজাতে বললেন, কি জানি।
বন্ড উঠে পড়ল, ঠিক আছে, আমি একটু সুইমিং পুলটা ঘুরে আসি, অনেকক্ষণ বসে আছি।
-তাই যাও, একটু ঘুরে এস জেমস্। লাঞ্চের পর অনেক সময় পার কথা বলবার। আমি বরং গোল্ডফিগারকে হারাবার চেষ্টা করি যদি কিছু পয়সা আসে। আচ্ছা, আবার দেখা হবে -বলে ডুপন্ট খেলায় মনে দিলেন।
বন্ড ছাদ দিয়ে সবার পাশ কাটিয়ে ও প্রান্তে রেলিঙের দিকে চলে গেল। নিচেই সুইমিং পুল। চেয়ারে এলান। শরীরগুলো দেখে কিছু চিন্তা করল।
তারপর ঘুরে দাঁড়াল আবার ডুপন্টদের দিকে। গোল্ডফিংগারের কথাটা অন্যভাবে ধরলে বলা যায়, ডুপন্ট হোটেলের দিকে পিছন করে বলুন, কিন্তু কেন? আচ্ছা ঘরের নম্বর যদি ২০০ হয় তবে বন্ডের ঘরের ঠিক নিচে। অর্থাৎ ছাদের তাসের টেবিল থেকে বিশ গজ দূরে। বন্ড নিজের ঘরের দিকে তাকিয়ে নিচে নেমে গেল গোল্ডফিংগারের ঘর পর্যন্ত। কিছু নেই, সামনে ফাঁকা বারান্দা, পেছনের দরজা খোলা। কিন্তু পাশের ঘরটা অন্ধকার। বন্ড মনে মনে হিসেব করে গোল্ডফিংগারের বুদ্ধির তারিফ না করে পারল না।
.
ঘুঘু ও ফাঁদ
লাঞ্চের পরে বিকেল থেকে আবার খেলা শুরু হবে তার আগে বন্ড কিছু কথাবার্তা সেরে নিল।
ইতিমধ্যে ডুপন্ট দশ হাজার ডলার হেরে গেছেন। বন্ড তাকে প্রশ্ন করে জানতে পারল গোল্ডফিংগার এর এক মহিলা সাহায্যকারিনী আছে যে সব সময় ঘরেই থাকে। সম্ভবত নমসহচরী সঙ্গ দিতে এসেছে। মিঃ ডুপন্ট তিক্ত হাসি হাসলেন, কেন বলুন তো? কোন সূত্র-টুত্র পেয়েছেন নাকি?
প্রশ্নটা এড়িয়ে বন্ড বলল, বলতে পারছি না, তবে বিকেলে আর খেলা দেখতে আসব না। ওকে বলে দেবেন আমি শহরের দিকে ঘুরতে গেছি। তারপর কিছুক্ষণ পরে বলল, অদ্ভুত কিছু ঘটলে চমকাবেন না। চুপচাপ দেখে যাবেন। আমি নিশ্চিত নই তবে মনে হয় লোকটিকে বাগে পেয়েছি।
মিঃ ডুপন্ট উৎসাহ চাপতে পারলেন না। বহুৎ আচ্ছা, একবার বাগে পেলে হয়। ব্যাটাকে দেখলে আমার গা জ্বলে যায়।
বন্ড নিজের ঘরে এসে একটা M3 লাইকা ক্যামেরাতে একটি MC এক্সপোজার মিটার, K2 ফিল্টার, ফ্ল্যাশ ভালব। হোল্ডার লাগিয়ে দুরত্ব মেপে ফিল্ম ভরল।
আবার বার করল একটা মোটা বই বাইবেলের সাহিত্যরূপ। যাতে রয়েছে ওয়াথে পি. পি. কে. আগ্নেয়াস্ত্র। পিস্তলটা পরখ করে নিল। এবার নিজের ঘরটা দেখে গোল্ডফিংগারের ঘরটা সন্ধান লাগাতে শুরু করল। নিচের ঘরে যাবার আগে নকল চাবি দিয়ে তালা খোলা প্র্যাকটিস করল কিছুক্ষণ। তারপর ব্যালকনিতে চেয়ারে বসে বিকেলের অপেক্ষা করতে লাগল। ভাবনা মাথায় একটাই গোল্ডফিংগারের সঙ্গে কি কথা বলবে।
সোয়া তিনটের সময় উঠে ব্যালকনির নিচে তাকিয়ে ছাদে তাসের টেবিলে দুটি ক্ষুদ্র মূর্তি দেখতে পেল। সুতরাং খেলা শুরু। ঘরে এসে জামা পরে, ক্যামেরা নিয়ে নিজের ঘরটা একবার দেখে বেরিয়ে গেল। লিফটে নিচে নেমে একটু ঘোরাঘুরি করে আবার দোতলায় উঠে গেল। চলে এল ২০০ নম্বর ঘরের সামনে। কেউ কোথাও নেই, নকল চাবি দিয়ে নিঃশব্দে ঘরে ঢুকল। ছোট একটা লবী তার ওপারে ঘরের দরজা, তালা লাগানো না থাকায় খুলে গেল সেটা।
যা দেখবে বলে আশা করেছিল তা চোখে পড়ার আগেই মৃদু আকর্ষণীয় মেয়েলী গলা কানে এল। ইংরেজদের মত টান করে বলছে চার আর পাঁচ টেনেছে। দুটো দুই-এর সাহায্যে পাঁচের পুরো ক্যানাস্তা তৈরি করলেন। হাতে সাহেব, গোলাম, নওলা আর সাতের সিংগলটন আছে।
বন্ড ঘরে ঢুকল।
ব্যালকনির দরজার সামনে একটা টেবিলে কুশন দিয়ে উঁচু করে বসবার জায়গা করে বসে রয়েছে মেয়েটি। পরনে সামান্য বস্ত্র। ক্লান্ত ভঙ্গিতে পা নাচিয়ে বা হাতে নেল পালিশ লাগাচ্ছিল। এবার রেভাল নেল পালিশের শিশি রেখে দিল। মেয়েটির সামনে একটা শক্তিশালী দূরবীন। তার নিচে মাইক্রোফোন লাগান। সেই তার গেছে একেটা চৌকো বাক্সয় সেখান থেকে ইনডোর এরিয়াল পর্যন্ত। অর্থাৎ একটি ট্রান্সমিটারের সাহায্যে মেয়েটি ডুপন্টের হাতের তাস দূরবীন দিয়ে দেখে গোল্ডফিংগারকে বলে যাচ্ছে, আর হিয়ারিং এইড কাম রিসীভার দিয়ে তা শুনছে গোল্ডফিংগার।
মেয়েটি সামনে ঝুঁকে দূরবীনে চোখ রাখল–এবার টানছেন সাহেব আর বিবি। দুটোরই সিরিজ পুরো হয়ে গেল। সাত ফেলছেন বলে মাইক্রোফোন বন্ধ করে দিল।
মেয়েটি যখন এই কাজে ব্যস্ত তখন পুরো ছবিটা ধরার জন্য মেয়েটির পিছনের চেয়ারে দাঁড়িয়ে ভিউ ফাইন্ডারে উঠে এল দু জন। এমনকি ডুপন্টের তাসের লাল কালো ফোঁটা। শাটার টিপতেই ফ্ল্যাশ ভাল জ্বলে ওঠার তীব্র আলোয় ও শব্দে মেয়েটি সভয়ে ঘুরে দাঁড়াল।
বন্ড চেয়ার থেকে নেমে পড়ল, বলল, গুড আপটার নুন।
—কে আপনি? কি চান? ভয়ে মেয়েটির চোখ বড় হয়ে গেছে, হাত মুখের উপরে উঠে এসেছে।
আমি যা চাই তা পেয়ে গেছি। ভয় পেও না আমার নাম হল বন্ড, জেমস্ বন্ড।
ক্যামেরাটা নামিয়ে রেখে মেয়েটির কাছে এল বন্ড। ভারি সুন্দর দেখতে। মাথায় একরাশ সোনালি চুল। নিচ চোখ, চওড়া ঠোঁট, হাসলে ভালই লাগে মনে হয়। পাঁচ ফুট দশ ইঞ্চির মত লম্বা। হাত পায়ের গঠনে বোঝা যায় সাঁতার কাটে। শরীরে যৌবনের ঢেউ।
