মিঃ ডুপন্ট সন্তুষ্ট হয়ে কফি আনতে বললেন। বন্ড নিজের জন্য কিছু আনতে মানা করল। একটা সিগারেট ধরিয়ে প্রস্তাব শোনার অপেক্ষায় রইল কারণ এই খাওয়া দাওয়া সবকিছু সেই প্রস্তাবেরই উপক্রমনিকা।
মিঃ ডুপন্ট কেশে গলা সাফ করে নিয়ে বললেন, এবার মিঃ বন্ড আপনার কাছে এক প্রস্তাব আছে। বন্ডের দিকে তাকিয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করতে লাগলেন।
–বলুন?
-এয়াপোর্টে আপনার সঙ্গে দেখা হওয়াটা এক আশ্চর্য যোগাযোগ, মিঃ ডুপন্টের গলার স্বর গম্ভীর ও অকপট; হোটেল রয়্যালে জুয়ার টেবিলে আমাদের প্রথম সাক্ষাতের কথা এখনও মনে আছে। এমনকি সে রাতের প্রতিটি মুহূর্ত। আপনার স্থৈর্য; আপনার সাহস, আপনার তাস খেলার দক্ষতা… বন্ড টেবিলের দিকে চোখ নামিয়ে নিল। মিঃ ডুপন্ট তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন, মিঃ বন্ড আমি আপনাকে দশ হাজার ডলার দেব; আপনি আমার হোটেলে থেকে ঐ গোল্ডফিংগার লোকটা কি করে হারায় তা খুঁজে বার করুন।
বন্ড মিঃ ডুপন্টের চোখে চোখ রাখল আপনার প্রস্তাবটা বড় ভাল ডুপন্ট। কিন্তু আমায় লন্ডন ফিরতে হবে আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে নিউইয়র্ক থেকে লন্ডনগামী প্লেন ধরে। আপনারা যদি নিয়ম মাফিক সকালে ও বিকেলে তাস খেলেন তাহলেই রহস্য ভেদ করার যথেষ্ট সময় পাব। কিন্তু আপনার কাজ শেষ হোক না হোক কাল রাতে নিউইয়র্ক যেতেই হবে।
– আমি রাজি। বললেন, মিঃ ডুপন্ট।
.
রোগের নাম অ্যাগারোফোবিয়া
ঘুম ভাঙলে বন্ড চাদর সরিয়ে সুদৃশ্য জানালার দিকে এগিয়ে গেল, সেখান থেকে ব্যালকনিতে।
ব্যালকনি ইতিমধ্যেই গরম হয়ে উঠেছে। সমুদ্র থেকে ঝরঝরে হাওয়া আসছে। হোটেলের লাগোয়া জেটির ওপর সব দেশের পতাকা উড়ছে।
বার তলা নিচের হোটেলের বাগানে সারি সারি পাম গাছ, ক্রোটিন ফুলের বাগিচা, পরিষ্কার রাস্তায় দু ধারে বুগনভিলার ঝাড়। বন্ডের ঠিক নিচে বিশাল কাবানা ক্লাব -এর দোতলা বাড়ি বেঁকে চলে গেছে সমুদ্রহীর পর্যন্ত, তার ছাদে অনেক টেবিল চেয়ার সাজান আর বেশ কয়েকটা লাল সাদা বড় ছাতা। বাঁকের মধ্যে অলিম্পিক সাইজ সুইমিং পুল। তার চারপাশে কার্পেটে মোড়া ইজিচেয়ার যেখানে কিছুক্ষণ পরে লোকেরা জড় হবে পঞ্চাশ ডলার মূল্যের সূর্যস্নানের উদ্দেশ্যে।
কাপড়ের আলমারি খুলতে গিয়ে বন্ড একটি কার্ড দেখতে পেল যাতে লেখা এই অ্যালোহা সুইট-এর দৈনিক ভাড়া দু শ ডলার (বন্ডের কামরা-র)। বন্ড মনে মনে হিসেব করল, পকেট থেকে যদি তাকে এই কামরার ভাড়া দিতে হত, তাহলে তিন সপ্তাহর মধ্যে তার সমস্ত মাইনে শেষ। বন্ডের হাসি পেল এ কথা মনে করে। শোবার ঘরে গিয়ে একরাশপ্রাতঃরাশ এক কার্টন কিং সাইজ চেষ্টার ফিল্ড সিগারেট ও খবরের কাগজের অর্ডার দিল ফোনে। দাড়ি কামিয়ে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করে রেডি হতে আটটা বেজে গেল। সুদৃশ্য বসবার ঘরে ঢুকতেই দেখল লাল সোনালি উর্দি পরা বেয়ারা টেবিলে ব্রেকফাস্ট সাজিয়ে রাখছে। মায়ামি হেরাল্ড কাগজের ওপর চোখ বুলিয়ে নিল বন্ড। সামনের পাতা জুড়ে শুধু দুটি খবর গতকাল আমেরিকার কেপ কাণাভেরালে এক আন্ত মহাদেশিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ব্যর্থতা এবং হিয়ালিতে এক বিরাট গোড়দৌড়ে চাঞ্চল্যকর আপসেট।
কাগজ মেঝেতে ফেলে দিয়ে বন্ড বসে পড়ল। জলখাবার খেতে খেতে ভাবছিল মিঃ ডুপন্ট ও মিঃ গোল্ডফিংগারের কথা।
অনেক ভেবেচিন্তেও কোন সুরাহা করতে পারল না। হয়ত মিঃ ডুপন্ট অনেক নিকৃষ্ট মানের খেলোয়াড়। তবে যতটুকু চেনা যায় তাতে এধরনের সম্ভাবনা খুব কম, টাকার প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও গোল্ডফিংগারের যদি তাস খেলায় এরকম জোচ্চুরির অভ্যেস থাকে তাহলে তার বড়লোক হবার মূল্যে হয়ত এরকম কোন সন্দেহজনক ব্যাপার আছে। আঁদরেল অপরাধীদের সম্বন্ধে বন্ডের আগ্রহ কম নয়, তাই গোল্ডফিংগারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার যথেষ্ট আগ্রহ হচ্ছিল তার। তার চেয়েও বেশি আগ্রহ ছিল রহস্যময় অথচ সুপরিকল্পিত জোচ্চুরির রহস্য ভেদ করার।
মিঃ ডুপন্ট ও বন্ড মিলে ঠিক করল সকাল দশটায় বাগানে গিয়ে বন্ড, ডুপন্টের সঙ্গে দেখা করবে। বন্ডের পরিচয়। নিউইয়র্ক থেকে আসা এক ব্যক্তির যে মিঃ ডুপন্টকে জনৈক ইংরেজের কাছ থেকে এক খনিজ কোম্পানির কিছু শেয়ার কিনতে রাজি করান। ব্যাপারটা খুবই গোপনীয় সুতরাং গোল্ডফিংগার এ বিষয়ে বন্ডকে প্রশ্ন করার কথা চিন্তাও করবেন। না। বন্ডকে শুধু তিনটি কথা মনে রাখতে হবে–শেয়ার, খনিজ গ্যাস এবং কানাডা।
তারা দুজনে কাবানা ক্লাবের ছাদে যাবে এবং ডুপন্ট ও গোল্ডফিংগার তাস খেলবে, বন্ড কাগজ পড়ার ভান করে। তাদের লক্ষ্য করবে। মধ্যাহ্ন ভোজের সময় ডুপন্ট ও বন্ড ব্যবসা সংক্রান্ত কথা সেরে নেবে। তারপর আবার ডুপন্ট ও গোল্ডফিংগার তাস খেলতে শুরু করবেন।
মিঃ ডুপন্ট জিজ্ঞাসা করেছিলেন বন্ডের আর কোন কিছুর প্রয়োজন হবে কিনা। বন্ড গোল্ডফিংগারের ঘরের নম্বর জানতে চেয়েছিল, আর একটা ডুপ্লিকেট চাবি। গোল্ডফিংগার যদি পেশাদার তাসের জুয়াড়ী এমন কি জুয়াচোরও হন তাহলে জিনিসপত্রের মধ্যে ববসার জিনিসও থাকবে যেমন দাগ দেওয়া তাস, তাস লুকিয়ে রাখবার সরঞ্জাম ইত্যাদি। মিঃ ডুপন্টকে এই বলে বোঝান হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন ম্যানেজারের কাছ থেকে ম্যানেজ করে চাবি এনে বাগানে এসে বন্ডকে চাবিটা দেবেন।
