প্রতিবারই মনে হয় এক রোমাঞ্চকর যাত্রায় চলেছে। কিন্তু নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছবার পরেও মন নিরাশ হবে না, কারণ শারীরিক ঘনিষ্ঠতা সত্ত্বেও এই মেয়েটিকে কেউ কখনো আয়ত্ত্বে আনতে পারবে না।
.
প্রশ্নের উত্তর
ঘরে ফিরে এসে বন্ড অবাক। তার সুটকেস থেকে সমস্ত জিনিস বার করে সে যথাস্থানে রেখে দিয়েছে। বাথটবে তার গোসলের জন্য পানিও ভর্তি করা। এসব দেখে বন্ডের নিজেকে এক কচি খোকা বলে মনে হল। তোমার এত সব করার কি দরকার ছিল। বন্ড এবার ভেসপারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব রাখে। কিন্তু ভেসপার হেসে উড়িয়ে দেয়।
হাত ধরে তারা নিচে নেমে এল। ডাইনিংরুমে কোন লোক নেই। ভেসপার খাবারের দিকে মন দিল। মেটে দিয়ে তৈরি সুস্বাদু জিনিস, ফরাসী রুটি আর বরফের টুকরোর ওপর বসানো মাখন। দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে শ্যাম্পেন পান করতে লাগল। মনের কথা মুখে কেউ কিছু বলল না, তবে দুজনের চোখেই এক উদগ্র পরীক্ষা–আজ রাত্রের জন্য।
এরকমভাবে আমার অভ্যেস কেউ খারাপ করেনি। তুমি করলে বন্ড। এসব আমি পাচ্ছি এগুলো বোধহয় আমার প্রাপ্য ছিল। তুমি আমার বিষয়ে কতটুকু জান? বন্ড হেসে বলল যতটুকু না জানলে নয় ততটুকু।
বন্ড গম্ভীর হয়ে ভাবল এসব শ্যাম্পেনের ফল। কফি শেষ করে বন্ড যখন ব্র্যান্ডি খাচ্ছে, ভেসপার ব্যাগটা তুলে নিয়ে উপরে উঠে গেল। একটু বাদেই তার ঘরে আলো জ্বলে উঠল। আলো নিভতেই খাবারের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বন্ড উপরে উঠে এল। বাথরুমের দরজা খুলে ভেসপারের ঘরের সামনে এসে দাঁড়াল। চাঁদের আলো এসে পড়েছে বিছানায়, ভেসপারের তুষার শুভ্র শরীরী রহস্য আরো গাঢ় করে তুলেছে।
নিজের ঘরে ঘুম ভাঙল বন্ডের। গতরাত্রির স্মৃতি তার মনে বিচরণ করতে লাগল। বিছানা ছেড়ে চলে এল সমুদ্রের ধারে।
সূর্য উঠছে। শান্ত সমুদ্র। ছোট ছোট ঢেউগুলো ভোরের আলোয় গোলাপী হয়ে উঠেছে। গতদিনের জায়গায় এসে আবার পানিতে নেমে পড়ল। পুরো এক মিনিট পরে পানির উপরে উঠে এল সে।
গত সন্ধ্যার মত আজও সে আকাশের দিকে তাকিয়ে একটি প্রশ্নের উত্তর সন্ধান করতে লাগল। সঙ্গে সঙ্গে পেয়েও গেল তার জবাব।
আজই সে ভেসপারকে বিয়ে করতে চাইবে। তার মন এখন অনেক সংযত। কেবল সময়ের প্রতীক্ষা। তারপরেই ভেসপার বন্ডের একান্ত কাছের মানুষ হয়ে উঠবে।
.
কালো তাপ্পি
বন্ড যখন ফিরে এল খাবার ঘরের জানালা তখনও খোলেনি। হোটেলের ভিতর অন্ধকার। সামনের দরজার পাশের টেলিফোন বুথ থেকে ভেসপার বেরিয়ে নিজের ঘরের দিকে চলল। বন্ড ভেসপার বলেই ডেকে উঠল। সে ভাবল কোন জরুরী খবর এসেছে, তাই তারও জানা প্রয়োজন। ভেসপার পেছন ফিরে বন্ডকে দেখে চমকে উঠল। বিস্ফারিত নেত্রে চেয়ে রইল।
বন্ডের মনে হল, আবার কোন বিপদ নতুন করে দেখা দিয়েছে কি না? কিন্তু ভেসপার বন্ডকে থামিয়ে দিয়ে বলল যে, সে ম্যাথিসকে ফোন করেছিল। এই সময়ে করলাম যাতে ম্যাথিসকে বাড়িতে পাওয়া যায়। আমার পরার মত একটাও ভাল পোশাক নেই। বান্ধবীর ফোন নাম্বারটা জানা থাকলে তাকেই করতাম। যাইহোক গোসল কেমন হল? আমার জন্য একটু অপেক্ষা তো করতে পারতে।
বন্ড ভেসপারের কথায় বিরক্ত হল, তার এই ছেলেমানুষী দেখে। এখন ভেতরে যাও। পরে একসঙ্গে ব্রেকফাস্ট খাওয়া যাবে। বন্ড কাছে আসতেই ভেসপার তার পাশ কাটিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগল। বন্ড নিজের ঘরে ফিরে এল।
তারপর থেকেই শুরু হল তিক্ততা আর প্রবঞ্চনা। তাদের প্রেমের মধ্যে ঢুকেছে এক বিষাক্ত কীট। বন্ড চেষ্টা করছিল এই অবিশ্বাসের বেড়াজাল ভেঙে ফেলতে। কিন্তু যতবারই সে এই বিষয়ে কথা বলতে গেছে, ভেসপার অনুযোগ করেছে বন্ড তাকে অবিশ্বাস করছে। অনেক কান্নাকাটির পর এই নাটকের নিস্পত্তি ঘটেছিল।
সত্যিই অবিশ্বাস ক্রমে বেড়েই চলল। আশ্চর্য, কি বিচিত্র এই জগত। কত সহজে মানুষে মানুষে সম্পর্ক ভেঙে যায়। কিন্তু এমন তো কোন ব্যবহার সে ভেসপারের সঙ্গে করেনি যার পরিবর্তে ভেসপার তাকে দিনের পর দিন এত শাস্তি দিয়ে চলেছে।
যে কোন কারণে ভেসপার প্রচন্ড ভয় পেয়েছে। ভেসপারও হয়ত বন্ডের মতই কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু সে দিনের টেলিফোনের রহস্যটা কিছুতেই মীমাংসা করা যাচ্ছে না। এই টেলিফোনের রহস্যই তাদের মধ্যে এক বিচিত্র দেওয়াল তুলে দিয়েছে।
কিন্তু লাঞ্চের সময় এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। খেতে খেতে বন্ডের কথায় সে মাথা নাড়ছে শুধু। খাবার নিয়ে সে নাড়াচাড়া করতৈ লাগল। বন্ডের চোখের দিকে একবারও তাকাল না। অত্যন্ত অন্যমনস্ক লাগছিল ভেসপারকে। ভেসপার হঠাৎ চমকে উঠল। তার হাত থেকে কাটাটা পড়ে গেল। মুহূর্তে তার মুখের রঙ বদলে গেল। সেও তখন বন্ডের পিছনে তাকিয়ে আছে।
বন্ড ফিরল। তার চোখে পড়ল একটি লোক তাদের ঠিক উল্টোদিকের টেবিলে বসে আছে। অনেকটা দূরে। লোকটার চেহারার মধ্যে কোন বিশেষত্ব নেই। মনে হয় ব্যবসা করতে, এসে হয়ত পথে এখানে হঠাৎ থেমেছে।
ভেসপার বলল, সেই গাড়ির লোকটা। যে আমাদের পিছু ধাওয়া করেছিল। তার গলা দিয়ে প্রায় আওয়াজ বেরোতে চায় না।
বন্ড দেখল লোকটা প্রোপাইটারের সঙ্গে মেনু নিয়ে কথাবার্তা বলছে। তার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়ল না। বন্ড দেখল তার এক চোখের ওপর কালো তাপ্পি মারা, মনোক্ল এর মত স্কু দিয়ে আটকানো। চেহারায় আর কোন বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ল না।
