.
প্রিয় বন্ধু
মস্ত বড় ঘর। আধুনিক ধরনের, জিনিসপত্র খুব বেশি নেই। তবে এটা বসার ঘর না খাবার, তা বোঝা একটু মুশকিল। দরজার উল্টোদিকে সারা দেওয়াল জুড়ে আয়না বসানো। রয়েছে ফলের পাত্র আর সঙ্গে রংকরা মোমবাতি দান। ঘরের অন্যদিকে রঙ ওঠা সোফা।
মাঝখানে কোন টেবিল নেই। একটা চৌকো কাপের্ট, তাতে জ্যামিতিক নকশা কাটা। ছাদে সাদা আলো। জানলার কাছে ওক কাঠের এক চেয়ার। বসার জায়গা লাল ভেলভেটে মোড়া। ছোট টেবিল রয়েছে। আর একটা বেতের শূন্য গদির চেয়ার।
ঝিলমিলিগুলো অর্ধেক বন্ধ। তবু তার মধ্যে রোদ ঢুকছে, কিন্তু বাইরে থেকে কেউ ঘরের ভেতর কি হচ্ছে দেখতে পাবে না। বেতের চেয়ারটা দেখিয়ে শিফ রোগা লোকটাকে বলল, ওতে হয়ে যাবে। ওকে চটপট তৈরি হয়ে নিতে বল। ও বাধা দিতে আসলে তোমরাও চুপ করে বসে থাকবে না–এটা যেন ও মাথায় রাখে।
শিফ বন্ডের দিকে ঘুরে দাঁড়াল। চোখে মুখে কোন ভাবের বিকার নেই। নিরুৎসুক চাউনি। তার দিকে তাকিয়ে বলল, জামাকাপড় সব খুলে ফেল। বাড়াবাড়ি কিছু করলে তুমি জান আমরা কত হিংস্র হয়ে উঠি। আমরা কাজের লোক। কাজ নিয়েই আমরা থাকি। তোমার বাঁচা এখন তোমার হাতেই। তুমি ঠিক কর তুমি কি করবে? শিফ রোগালোকটাকে ইঙ্গিত করল। সে বুঝে গেল শিফের ভাষা। সে সঙ্গে সঙ্গে ছুড়ি দিয়ে বেতের চেয়ারের সিটটা ফাঁকা করে দিল। একটানে আলোর দিকে এনে দাঁড়াল ওকে। হাতের বাঁধনটা আলগা করে দিল। তাড়াতাড়ি তুমি তোমার কাজ সারো।
বাঁধনটা এত এঁটে বসেছিল, কব্জি লাল হয়ে ফুলে উঠেছে। বন্ড তখনও ভাবছে তাদের বাধা দিতে গেলে হাতে কতটা সময় পাওয়া যাবে। লোকটা বন্ডের দিকে ফিরে হাতদুটো পেছনে আটকে দিল। হাঁটু মুড়ে বন্ড বসে পড়ল। ছুরি দিয়ে সে কোটের পেছন দিকটা ফালা ফালা করে দিল। শিরদাঁড়ার ওপর ছুরির ফলার স্পর্শ অনুভব করল। হাত দুটো আলগা হয়ে গেল। কারণ কোটের তখন আর কোন অস্তিত্বই নেই। বন্ডের গা থেকে ডিনার জ্যাকেট খসে পড়ল। বন্ডের এই আচরণে রোগা লোকটা যে খুব বিরক্ত হচ্ছে তা তার মুখ দেখেই বোঝা গেল। সময় নষ্ট না করে সে শার্টটা খুলে ফেলল।
শিফ কফি হাতে ঘরে ঢুকল। বেতের চেয়ারটা দেখিয়ে তাকে বসতে বলল। বন্ড বসতেই রোগা লোকটা তারের দড়ি দিয়ে হাতলের সঙ্গে হাত ও পায়া দুটোর সঙ্গে হাঁটু আটকে দিল। ছড়ি দিয়ে তাকে চেয়ারের সঙ্গে আষ্টেপিষ্ঠে বেঁধে দিল। এখন সম্পূর্ণরূপে সে বন্দী। শিফের চোখের ইঙ্গিতে রোগা লোকটা ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। শিফ সিগারেট ধরাল। মনে একটু আমেজ নিয়ে এল। এমন ভাবে নিরীক্ষণ করতে লাগল, দেখে মনে হল বন্ডের প্রতি যেন তার কত স্নেহ। পরমুহূর্তে হাতটা হাঁটু স্পর্শ করল। বন্ডের সমস্ত দেহ যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগল। ঠোঁট বেঁকে গেল, ঘাড় হেলে পড়ল, শিরা ফুলে উঠল। হাত ও পায়ের আঙুল রক্তশূন্য। দেহটা ঝুলে পড়তেই প্রচণ্ড ঘাম হতে থাকল। অজান্তে মুখ দিয়ে আর্তনাদ বেরিয়ে এল।
বন্ড চোখের পাতা মেলতেই শিফের ঐ নিষ্ঠুর হাসি চোখে পড়ল। চিবুক বেয়ে এক ফোঁটা এক ফোঁটা করে ঘাম বন্ডের নগ্ন দেহে ঝরতে লাগল।
পরম আনন্দের দিন শিফের। একের পর এক সিগারেট ধ্বংস করছে। আচ্ছা বন্ড এবার কাজের কথায় আসি বুঝতেই পারছ তোমার খেলার দিন শেষ। তুমি ছোট আছ–এখন এই বয়সেই এই মারাত্মক খেলায় কেন নিজেকে জড়াচ্ছ। ফলটা হাতে হাতেই পেয়ে যাচ্ছ। বড়দের সঙ্গে খেলার যোগ্যতা এখনও তুমি অর্জন করনি। যাই হোক ওসব বলে এখন আর কি লাভ। টাকার কথায় আসা যাক। টাকা কোথায় রেখেছ। বন্ড নিরুত্তর। আমার প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত তোমাকে বেতের ঘায়ে জর্জরিত হতে হবে। দয়া মায়া আমার শরীরে নেই। তোমার শরীরের কোমল অঙ্গগুলোতে আমি এমন আঘাত হানব যা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না। পালাবার রাস্তা তোমার বন্ধ। এমন একজনও কেউ নেই যে তোমার এই বিপদে তোমার পাশে এসে দাঁড়াবে। তুমি যদি মুখ না খোল মেয়েটিকে এখানে নিয়ে আসব। তোমার সামনে তার ওপর অত্যাচার করব। তাতেও যদি তোমার হুশ না আসে তোমাদের দুজনকে এখানে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে, আমি বিদেশে চলে যাব। সেখানে মনের মতন কাউকে বিয়ে করে পরিবার নিয়ে সুখে দিন যাপন করব। তুমি টাকাটা না দিলেও আমার কোন ক্ষতি হবে না। বন্ড বুঝতেই পারছ, তোমার কাছে একটা পথই খোলা আছে।
বন্ড চোখ বন্ধ করল। যতক্ষণ এদের ইচ্ছে হবে মারবে। অত্যাচারের শুরুটাই বড় কষ্টের। শারীরিক কষ্ট বাড়তে বাড়তে এমন একটা জায়গায় এসে পৌঁছে যায় যেখানে কোন অনুভূতি কাজ করে না–সে প্রাণপণে ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করতে লাগল, যাতে আঘাতটা চরমে ওঠার আগে সে ঠিক থাকে আস্তে আস্তে অজ্ঞান আর পরিশেষে মৃত্যু তো তাকে বরণ করতেই হবে।
দেখ বন্ড, আমাদের কাছে কিছু লুকিয়ো না। কারণ আমরা জানি হোটেলের ঘরে তুমি চেকটা লুকিয়ে রেখেছ। তুমি নাইট ক্লাবে যাওয়া মাত্রই, আমার চারজন লোক তোমার ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে। কিন্তু চেকের সন্ধান তারা পায়নি। বন্ড ভাবল শিফের সঙ্গে মুনজরাও হাত মিলিয়েছে। ঘরের প্রতিটি ইঞ্চি দেখা হয়েছে। যা কিছু ফিটিং ছিল তা উপড়ে ফেলা হয়েছে। চেকটা পাওয়া গেলে ভালই হত। তোমাকে এখানে আমাদের সঙ্গে থাকতে হত না। তোমার পাশে থাকত তোমার লিন্ড। শিফের মুখে লিন্ডের নাম শুনে সে চমকে উঠল। এতক্ষণ তার কথা একবারও মনে পড়েনি। বন্ড ভাবল শিফ যদি তার ওপর এই অত্যাচার করতে থাকে, তাহলে ভেসপারের ওপর কি হচ্ছে তা আন্দাজ করা যায়।
