বন্ড সিগারেট ধরিয়ে বলল, আগামী কাল সাদবি-র ওখানে ফাবেয়ার্জের তৈরি যে জিনিসটার নিলেম হবে সেই সম্পর্কেই আপনার কাছে আসা –সেই মরকত গোলক।
ও হ্যাঁ, মিঃ মোম্যানের মসৃণ কপালটা আশঙ্কায় কুঁচকে উঠল। কোনও গণ্ডগোল হয়নি তো?
না, আমাদের দিক থেকে অন্তত নয়। তবে আসল লেনদেনের ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের একটু মাথা ঘামাতে হচ্ছে। জিনিসটার মালিক, মিস ফ্রয়ডেনৃস্টাইনকে আমরা জানি। আমরা মনে করি যে নিলামের ডাকটা কায়দা করে খুব উঁচুতে তুলে দেওয়া হবে, এই রকম একটা সম্ভাবনা আছে বলে আমরা মনে করি। আমরা ধরতে চাই কে বা কারা কাছাকাছি দর হেঁকে দাম চড়াবার চেষ্টা করবে। আমাদের ধারণা যে আপনারাই সবচেয়ে বেশি দর দেবেন।
মিঃ স্নোম্যান বললেন, আমরা যে জিনিসটা কেনার চেষ্টা করব তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে ভীষণ চড়া দামে বিক্রি করব। আমাদের স্থির বিশ্বাস যে v আর A-র তরফ থেকে ও দর হাঁকা হবে এবং হয়ত মেট্রোপলিটান এর তরফ থেকেও। কোন জালিয়াতের ব্যাপারে দুশ্চিন্তার কারণ নেই, এ সব জিনিস ওদের নাগালের বাইরে।
টেবিলের ওপর থেকে হাতির দাঁতের কাজ করা একটা পাটা তুলে নিয়ে তার লেখাটা পড়ল।
কেনার আগে ক্রেতা বলে, নেহাৎ বাজে, নেহাৎ বাজে।
যখন কেনে, বুক ফুলিয়ে লোককে দেখিয়ে বেড়ায়।
-প্রবচন।
এই প্রবচনটাতে যেন বাজারের পুরো ইতিহাসটাই ধরা পড়ে গেছে। বিক্রেতা, ক্রেতা কেউই বাদ পড়েনি। মিঃ সোম্যানের চোখের দিকে তাকিয়ে রইল বন্ড।
যে কাজে হাত দিয়েছি, তাতে এই ধরনের স্বতস্ফূর্ত সন্ধানী চেতনার দরকার। সাহায্য করবেন?
নিশ্চয়ই। কিভাবে সাহায্য করতে পারি বলে দিন। যদি গোপন ব্যাপার কিছু থাকে তা নিয়ে মাথা খারাপ করবার প্রয়োজন নেই। হিরে জহরৎ নিয়ে কারবার করতে গেলে গোপনীয়তা পালন করবার অভ্যেস আপনা থেকেই এসে যায়। সে দিক থেকে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে আমাদের সুনাম আছে। ওদের সঙ্গে কতবার কতভাবে যে হাত মেলাতে হয়েছে আমাদের তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা-ই জানেন।
এবার যদি বলি যে, আমি আসলে মিনিস্ট্রি অফ ডিফেন্স এর লোক?
কিছুই যায় আসে না। আমার বিচার বিবেচনার ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারেন আপনি।
বন্ড মনস্থির করে বলল, ঠিক আছে। আগেই বলে রাখি সমস্ত ব্যাপারটা কিন্তু অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-এর আওতায় পড়ে। আমাদের সন্দেহ হল, কাছাকাছি দর হেঁকে নিলামের দর দাম চড়াতে চাইবে যে ব্যক্তিটি, আমার কাজ হল সেই সোভিয়েত দালালকে খুঁজে বের করা। আমি চাইছি, আমি যাতে সন্ধেবেলা আপনার সঙ্গে সাদৃবিদের ওখানে যেতে পারি আর আপনি আমায় লোকটাকে চিনে বার করার ব্যাপারে সাহায্য করতে পারেন। এতে আমরা খুবই কৃতার্থ হব।
মিঃ স্নো ম্যান-এর চোখ দুটো উৎসাহে চিকচিক করে উঠল। অবশ্যই। আমার সাহায্য করতে পারলেই খুশি। তবে ব্যাপারটা খুব সহজ হবে না। সাদবির বড় কর্তা, পিটার উইলসন নিজে দাঁড়িয়ে নিলাম করবে, কাজেই ধরা যাক যে আমাদের খদ্দেরটি অস্তিত্ব গোপন রাখতে চায়–পিটার উইলসন ছাড়া কেউই নিশ্চয় করে বলতে পারবে না কে দর তুলছে। নানা রকমের কায়দা আছে। আমাদের খদ্দের যদি নিলাম হওয়ার আগে পিটার উইলসন এর সঙ্গে বন্দোবস্ত সেরে রাখে, সঙ্কেত ঠিক করে রাখে, তাহলে নিশ্চয়ই সেটা কারও কাছে ফাঁস করে দেওয়ার কথা ভুলেও ভাববে না পিটার।
যে দর হাঁকছে তাকে চিনতে পারলে তার সাধ্যের দৌড়টাও আন্দাজ করে নেওয়া যায়। আর তাহলে নিলামের উদ্দেশ্যটাই পণ্ড। কাজেই নিলাম ঘরের চৌহদ্দির মধ্যে এটা একটা অত্যন্ত গোপন রহস্যের ব্যাপার, কেউ ফাঁস করবে না। দেখুন, নিলামে কি মাত্রায় দর চড়বে, সেটা আমার ডাকের ওপরেই নির্ভর করবে হয়ত, আমি কতদূর উঠব ঠিক করাই আছে। আপাতত, আপনার কাছে থেকে যা শুনলাম, তাতেও অনেকখানি উপকার হয়েছে। আমার খদ্দেরকে আগে থেকেই বলে রাখতে পারবে যে, দরটা আন্দাজের চেয়ে বেশিও দাঁড়াতে পারে।
যা দেখছি, অনেক কাঠখড় পুড়বে সেদিন। টেলিভিশনে দেখাবার ব্যবস্থা হয়েছে; ক্রোড়পতি, ডিউক–এঁদের সব নেমন্তন্ন করা হয়েছে উপস্থিত থাকার জন্য। পাবলিসিটির চূড়ান্ত। কতোয় বিক্রিয় হবে বলে আপনার ধারণা।
মিঃ স্নো ম্যান বললেন, দেখুন কতদূর উঠব, সেটা জানি কিন্তু সেটা ফাঁস করলে আমার মক্কেলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়। একটু চিন্তা করে বললেন, এক লক্ষ পাউন্ডের কম দর উঠলে, খুব অবাক হব।
বন্ড জানতে চাইল নিলামে উপস্থিত থাকার ব্যাপারটা কি করা যাবে?
মিঃ স্নো-ম্যান নোটকেস থেকে দুটো ছাপা কার্ড বার করলেন। আমার স্ত্রীর। ওর জন্য আর একটা পত্র জোগাড় করা যাবে। B২–সামনের সারির মাঝবরাবর। আমারটা—B৬।
টিকিটটা হাতে নিয়ে বন্ড দেখল তাতে লেখা আছে–
সাদবি অ্যান্ড কোং
বিক্রয়
এক পেটিকা মূল্যবান জহরতাদি
এবং
কাল ফাবেয়ার্জের কারুশিল্পের এক অনন্য সাধারণ নিদর্শন। এক সম্ভ্রান্ত মহিলার সম্পত্তি। প্রধান নিলাম ঘরে একজনের জন্য প্রবেশপত্র।
মঙ্গলবার, ২০ জুন, রাত ৯-৩০ প্রবেশ পথ সেন্ট জর্জস্ট্রীট।
মিঃ স্নো-ম্যান চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ফাবেয়ার্জের তৈরি কিছু জিনিস আছে দেখবেন নাকি? ১৯২৭ সালে আমার বাবা ক্রেমলিন থেকে কিনেছিলেন। দেখলে কিছুটা আন্দাজ করা যাবে যে জিনিসটা নিয়ে এত তুলকালাম কাণ্ড হচ্ছে কেন। অবশ্য রাজা রাজড়াদের জন্য ফাবেয়ার্জে যে সব ইস্টার এগ তৈরি করেছিলেন, সেগুলোর কথা বাদ দিলে, আমার কাছে যা আছে কারুকার্যের দিক থেকে মরকত গোলকের সঙ্গে কিছুর তুলনাই হয় না।
