আমি যখন তাস চাইব বা বলব যা আছে তখন ব্যাংকার তার নিজের তাস দেখাবে। ওর আট বা নয় উঠলে, ও তাস সামনে রেখে দেখিয়ে দেবে। জীত ওরই হল। তা না হলে ওর ও আমার একই সমস্যা দেখা দেবে। তবে আমার ফেলার টঙ দেখে ও খানিকটা অনুমান করে নিতে পারে, তাতে ওর পক্ষে তৃতীয় তাস গ্রহণ বা পরিগ্রহণ-খুব সুবিধের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় এই ক্ষেত্রে।
তাই এদিক থেকে ও আমার চাইতে অনেক বেশি সুবিধেজনক অবস্থায় অবস্থান করে। তবে একটা সমস্যা থেকেই যায় তা হল পাঁচ এলে কি করনীয়? অপর পক্ষ পাঁচ এলে কি করবেন? খেলোয়াড়দের অনেকেই তাস তোলে। আবার কখনও একেবারেই তোলে না। আমি আন্দাজকে এই সময় কাজে লাগাই।
তবে প্রথম বারের আট আর নয় থেকেই জিতের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তাই লক্ষ্য রাখতে হবে আট আর নয়, আমি যেন ওর থেকে বেশি পাই।
.
খেলার টেবিলে
খেলার কথা বলতে বলতে বন্ড ক্রমেই উত্তেজিত হয়ে উঠছিল। ল্যশিফের সঙ্গে সামনা সামনি বোঝাঁপড়া হবে ভাবতেই সে রোমাঞ্চিত হচ্ছিল। নাড়ির গতি দ্রুততালে ওঠা নামা করছে। ভেসপারের ব্যবহারে সে যে এতক্ষণ অসন্তুষ্ট ছিল তার প্রায় ভুলেই গেল। কারণ জুয়ার মেজাজ তখন তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
বিল মিটিয়ে ভেসপারকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে এল সে। ক্যাসিনোয় এসে পৌঁছল। সুসজ্জিত ঘরগুলো একে একে তারা পেরিয়ে এল। বন্ডকে দেখে বোঝাই যাচ্ছে না সে ভেতরে ভেতরে এত উত্তেজিত। ক্যাসিনোর লোকজনদের অভিবাদন গ্রহণ করল ওরা, কেউ তাদের মেম্বার কার্ড পর্যন্ত দেখল না কারণ চড়া বাজির জুয়ায় বন্ডের ইতিমধ্যেই বেশ নামডাক হয়ে গেছে। অতএব তার সঙ্গী হিসেবে কর্তৃপক্ষের কাছে সেও সমান সম্মানীয় অতিথি।
বড় ঘরটায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে লিটার টেবিল ছেড়ে উঠে এল। ভাবভঙ্গী দেখে মনে হল কতদিনের পরিচয় দুজনের। ভেসপারের সঙ্গে আলাপ পর্ব শেষ হতেই একেবারে খেলার প্রসঙ্গে চলে এল। তুমি তো বাকরা খেলবে বন্ড। তোমার অনুমতি পেলে আমি মিস লিন্ডকে রুনোতের আসর থেকে ঘুরিয়ে আনতে পারি।
আমার মত মিস লিন্ডেরও কিছু লাকি নাম্বার আছে। ওগুলো নিশ্চয়ই উঠবে এবার। ততক্ষণে তোমাদের আসরও জমে উঠবে।
বন্ড জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ভেসপারের দিকে তাকিয়ে রইল। লিটারের প্রস্তাবে ভেসপার এক পায়ে রাজি। বন্ডকে সে অনুরোধ জানায় তার কোন লাকি নাম্বার তাকে দিতে। বন্ড গম্ভীর মুখে জবাব দেয়, আমার কোন লাকি নাম্বার নেই। যে সব ক্ষেত্রে সমান সমান সুযোগ থাকে সে সব ক্ষেত্রেই আমি বাজি ধরি। আচ্ছা চলি। আমার বন্ধু লিটারকে আপনার সঙ্গে দিয়ে দিলাম। ওই আপনার খেয়াল রাখবে।
লিটার ব্যাপারটা অনুমান করতে পারে, কারণ বন্ডকে ভাল ভাবেই চেনে। মিস লিন্ড, উনি ওনার বাজির ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। চলুন যাওয়া যাক। দেখি, আসুন ১৭ নম্বর কি রকম কাজ দেয়। যার ওপর ভরসা করেই কিছু টাকা আসতে পারে। এ এক নতুন অভিজ্ঞতা হবে, কি বলেন?
বন্ড এখন অনেকটা নিশ্চিন্ত বোধ করছিল। কাজের প্রতি একাগ্র মনোযোগ নিয়ে আনার চেষ্টা। রশিদ দেখিয়ে সে দুকোটি চল্লিশ লক্ষ ফ্রাঙ্ক দুভাগে ভাগ করে কোটের পকেটে রাখল। শেষপ্রান্তে চলে এল; যেখানে পাতা আছে। বাকারার টেবিল।
দুএকজন করে আসতে শুরু করেছে। তাসগুলো উল্টো করে টেবিলে সাজান। যেগুলো আস্তে আস্তে মিশিয়ে শাফল করা হচ্ছে–অর্থাৎ এখানে জোচ্চুরির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
মসিয়ো বন্ড ৬ নম্বরটা আপনার আপনি যেমন চেয়েছিলেন। টেবিলে তখনো তিনটে আসন শূন্য। বন্ড ভিতরে ঢুকল। এপাশে-ওপাশে বসে-থাকা ব্যক্তিদের অভিবাদন গ্রহণ করল। চ্যাপ্টা গান মেটালের সিগারেট-কেস আর কালো লাইটারটা পাশে রাখল। পরিচারক দৌড়ে এসে কাঁচের একটা অ্যাশট্রে রেখে দিল।
সিগারেট ধরিয়ে একটু আরাম করে বসল সে। চারদিকে একবার দৃষ্টি বুলিয়ে নিল। ৭ নম্বরে তার ডানদিকে আছেন সঁসিয়ো সিক্সটে-ধনশালী ব্যক্তি, কঙ্গোতে ধাতুর ব্যবসা। ৯ নম্বরে লর্ড ডান ভার্স, দৃঢ়চিত্ত মনের নয়। তবু খেলছেন কারণ অর্থের দায়িত্ব সম্পূর্ণ তার আমেরিকান স্ত্রীর। প্রচুর অর্থের মালিক তিনি।
এদের দেখে বোঝাই যায় এরা খুব নার্ভাস হয়ে পড়েছেন। প্রথম চোটে কোন অঘটন না ঘটে যায়। ১ নম্বরে আছেন। জাহাজ কোম্পানির মালিক ও গ্রীক জুয়াড়ী। ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চল থেকে যারা আসে তারা মাথা ঠাণ্ডা রেখে খেলার চেষ্টা করে। চট করে এরা হার স্বীকার করে না। বন্ড একটা কার্ডে জিজ্ঞাসা চিহ্ন দিয়ে তার নিচে বসাল ২, ৪, ৫, ৮, ১০। হুইসারকে দিয়ে কার্ডটা শেফ দ্য পার্টির কাছে পাঠিয়ে দিল।
২ নম্বরে আছেন এক মহিলা আমেরিকান চিত্র তারকা। মনের খুব জোর–অনেক আশা নিয়েই হয়ত খেলবেন, বলা যায় না আজ ভাগ্যদেবী তার প্রতি সুপ্রসন্ন দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। ৩ নম্বরে আছেন লেডি ডান ভার্স। ৪ ও ৫ নম্বরে আছেন মিস্টার ও মিসেস ডু পন্ট। সম্পদশালী হলেও তারা যে টাকা দিয়ে খেলবেন তা বৈধ না অবৈধ–এ বিষয়ে কেউ খোঁজ খবর রাখে না। তাদের কথাবার্তা থেকে বোঝাই যায় তারা এই খেলায় যথেষ্ট পটু। মিসেস ডু পন্ট তার পাশের আসনে। বন্ড এই ভেবে খুশি হল যে প্রয়োজনে তাদের কাছে অর্থের জন্য দ্বারস্থ হতে পারে।
