ভেসপার তার কর্তার সাবধান বাণী উড়িয়ে দিতে পারেনি। কাজ পাগলা লোক হিসেবে পরিচিত ঘটলেও কাজ ছাড়া অন্য কারো দিকে তার মন গলে না। তার সঙ্গে কাজ করার সময় নিজেই বুঝতে পারবে। দেখবে কি নিখুঁত কাজ। ওর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। সুন্দর পুরুষালী চেহারা–ভুলেও মন দিয়ে ফেল না যেন। ওর হৃদয় আছে কিনা সন্দেহ। যাক কাজটা ভালোয় ভালোয় হয়ে গেলে বাঁচি। গুড লাক।
ব্যাপারটা ভেসপারের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ। এই ব্যাপারটা তার কাছে অনেক বড় হয়ে উঠল বন্ড যখন তার প্রতি আকর্ষিত হয়েছে। সে খুশি না হয়ে পারেনি। দুজনে মিলে একসঙ্গে সময়টা উপভোগ করছে এই সামান্য কথা ফাস হতেই বন্ড একেবারে নিজেকে বদলে ফেলে। এমনভাবে নিজেকে সংযত করল যে এতটুকু মিষ্টি কথাও তার কাছে অকারণ তিক্ত হয়ে উঠছে। ভেসপারের নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছিল। যাই হোক এই ভুল সে আর করবে না। এই কথা মনে রেখেই সে বন্ডের সঙ্গে কাজ করবে।
…আসল ব্যাপার হল ভাগ্য বা কপাল। আমার পক্ষে বা বিপক্ষেও ঐ একই জিনিস।
বাকারা কি ভাবে খেলতে হয় তা বুঝিয়ে দিল ভেসপারকে। এটাও এক ধরনের জুয়া। ব্যাংকার বা খেলোয়াড় দুজনেরই ভাগ্যে হার জিতের সম্ভাবনা থাকে। ভাগ্য খারাপ হলে টাকায় টান পড়বে। হয় ব্যাংকার নতুবা খেলোয়াড়ের অবলুপ্তি ঘটবে।
আমাদের কাছে খবর এসেছে ল্যশিফ ইজিপসিয়ান সিন্ডিকেটের কাছ হতে বাকারা ব্যাংক কিনেছে। এই সিন্ডিকেটই চড়া হারে জুয়া চালায়। আগে থেকেই তাকে দশলক্ষ ফ্র্যাঙ্ক জমা দিতে হয়েছে।
তার মূলধন দাঁড়িয়েছে দুকোটি চল্লিশ লক্ষ। আমারও মূলধন প্রায় তাই। আন্দাজ করছি আজ দশজনের আসর বসবে।
ব্যাংকারের ডানদিকে ও বাঁদিকে এই দুই প্যানেলের সঙ্গে ব্যাংকার দুটি গেম খেলে। রয়্যালে এদের কম থাকায় ল্যাশিফ একটা প্যানেলের খেলোয়াড়দের সঙ্গেই খেলবে। তবে ব্যাংকারের জেতার সম্ভাবনা কম থাকলেও এরা একটা অতিরিক্ত সুবিধে ভোগ করে তা হল বাজির পরিমাণটা এরাই ঠিক করে।
টেবিলের মাঝের আসনে ব্যাংকার, পাশে একজন পার্টনার থাকে। সে তাসগুলো জড়ো করে আর ডাক দেয়। শেফ দ্য পার্টি থাকে একজন, সে শুধু মধ্যস্থতা করে। আমি থাকব ল্যশিফের মুখোমুখি। ওর সামনে একটা খোপের মধ্যে দুটো প্যাক তাস। ওর মধ্যে কোন কারচুপি করার কোন সুযোগ নেই। আমরা সব কর্মচারিদের সম্বন্ধে খোঁজ খবর নিয়েছি। ওদের দিয়ে কিছু হবে বলে মনে হয় না। তাসগুলো মার্কামারা হলে অবশ্য সুবিধে হবে। তবে তা একেবারেই অসম্ভব যদি না পার্টনারকে হাতে রাখা থাকে। সে দিকে অবশ্য আমারও দৃষ্টি থাকবে।
এবারে আসল খেলা। ব্যাংকার প্রথমে ঘোষণা করল পাঁচলক্ষ ফ্র্যাঙ্ক। ব্যাংকারের পর থেকে এক দুই হিসেবে খেলোয়াড় চিহ্নিত হয়। এখন এক নম্বর বাজি মেনে নিয়ে টাকাটা টেবিলে ফেলতে পারে। যদি সে এ বিষয়ে ইচ্ছুক না থাকে তবে পাস দেবে। এখন দুনম্বরের পালা, সে যদি না নেয় তবে তিন নম্বর, এই ভাবে সারা টেবিল ঘুরতে থাকে। যদি কোন একজন নিতে রাজি না থাকে তবে অনেক সময় সকলে মিলে তা গ্রহণ করে। ইচ্ছে থাকলে দর্শকদের মধ্যেও কেউ যোগ দিতে পারে। এইভাবে পাঁচলক্ষ জোগাড় হয়।
টাকার পরিমাণ এতোটাই কম থাকে যে তা পেতে কোন বেগ পেতে হয় না। বাজি যখন দশ বা কুড়িলক্ষে এসে ঠেকে তখন একজন খেলোয়াড় বা অনেকে মিলও তা গ্রহণে রাজি থাকে না। এই অবস্থা উদয় হবে তখন যখন আমি বাজি ধরব। আমার লক্ষ্য থাকবে একটাই ল্যশিফের ব্যাংক যে কোন উপায়ে ফেল করান। হয় সে আমাকে কিম্বা আমি তাকে সর্বশ্রান্ত করব। অনেকক্ষণ সময়ের ব্যাপার এখানে, তবু আমাদের দুজনের মধ্যেই কাউকে পরাজয় স্বীকার করতে হবে। অবশ্য তারা আমাদের টাকা বাড়াতে বা কমাতে–দুই করতে পারে।
ব্যাংকার হওয়ার পেছনে কিছু সুবিধে কাজ করে। আমি যে ওর পেছনে লাগছি তা জানে বলেই ওর স্নায়ু শক্ত রাখা খুব মুশকিল হবে। আমার মনে হয় না, আমার মূলধনের অংক কততে আছে তা ওর জানা। আমরা শুরু করলে সমান সমান টাকা দিয়ে করব।
কিছুক্ষণের জন্য নীরবতা। এর মধ্যে স্ট্রবেরীআর আভোকাডো পেয়ার এসে গেছে। সঙ্গে কফিও এল। এই সময় আলোচনা একটু অন্যদিকে মোড় নিল। এবার খেলার পদ্ধতিটা বোঝাতে লাগল বন্ড।
খেলাটা খুবই সহজ। তাসের তেতুন খেলাটা খেলে থাকলে তোমার এই খেলাটা অনেক বেশি সহজ হয়ে উঠবে। ব্যাংকারের কাছ থেকে এমন তাস নিতে হয় যাতে সবগুলো এক করলে একুশের কাছাকাছি দাঁড়ায়।
এখানে আমি দুটো তাস পাচ্ছি, ব্যাংকারও তাই পেয়ে থাকে। প্রথমে কেউ জিতে না গেলেও আমি আরও একটা তাস পেতে পারি। উদ্দেশ্য একটাই–দুটো বা তিনটে তাসে নয়ের যত কাছাকাছি যাওয়া যায়।
ছবিওয়ালা তাস ও দশগুলোর কোন দামই পাওয়া যায় না এখানে। টেক্কা একই থাকে, অন্য তাসের ক্ষেত্রে যা থাকে তাই। শেষ সংখ্যাটা সব সময় বলে দিতে হয়। যেমন নহলা আর সাত থাকলে যোত না হয়ে ঐ জায়গায় বসবে ছয়।
যে নয়ের কাছাকাছি আসতে পারে তার জয় আটকায় কার সাধ্য। ড্র হলে পুনরায় খেলা শুরু হয়।
খুব একাগ্রতার সঙ্গে ভেসপার বন্ডের কথা শুনে যাচ্ছিল, মুগ্ধ হচ্ছিল বন্ডের এই নিষ্ঠার ভাব দেখে।
ব্যাংকার আমাকে দুটো তাস দিল। আমি দেখলাম যে দুটো যোগ করে আট বা নয় হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আমি তাস উল্টে দেব। জয়ী হলাম আমি। আমার যদি একবারে আট বা নয় না হয় তবে ছয় বা সাতের উপর আমি তাস চাইতে পারি, নাও পারি। পাঁচের কম হলে চাইতে পারি। পাঁচ হল মোক্ষম সংখ্যা। পাঁচ হাতে এলে হারা বা জেতার সুযোগ সমান সমান হয়ে থাকে।
