ওরা একই দলের সদস্য, ফ্রান্সে এই ধরনের নাশকতামূলক কাজের সঙ্গে এরা লিপ্ত। ম্যাথিসের বন্ধুরা বাকিদলকেও ধরার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কতক্ষণ আর পালিয়ে বেড়াবে। আপনাকে হত্যা করার জন্য কুড়িল ফ্রাঙ্ক ওদের দেওয়ার কথা ছিল। যার মাধ্যমে এই কথাবার্তা হয়, সেই এজেন্টের বক্তব্য ছিল যদি নির্দেশ মত তাদের কাজ ওরা করে যায়, তবে কখনই তারা ধরা পড়বে না।
এরপর আসল ব্যাপারে আসা যাক, এজেন্ট ওদের দুটো ক্যামেরা কেস দেয়। আপনি আগেই দেখেছেন সে দুটো। চড়া রং থাকলে নাকি কাজের সুবিধা হয়। নীল কেসের মধ্যে রাখা ছিল ধোয়া বোমা, লালের মধ্যে আসল বোমা। কথা ছিল লাল কেসটা ছুঁড়লেই অন্য নীল কেসের বোতাম টিপবে।
চারদিকে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকবে, এই সুযোগে তাদের পালানোর কোন অসুবিধা হবার কথা নয়। ধোয়া কোনটা, আসলে মানুষের উদ্দেশে একটি ধাপ্পা সূচক ঘটনা বলা যায়। যাতে তারা আরো বেশি দিশেহারা হয়ে ওঠে, দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। দুটো কেসেই একই ধরনের বিস্ফোরক রাখা ছিল। এদের মধ্যে কোন তফাত ছিল না। ওরা ভেবেছিল এক ঢিলে দুটো পাখি মারবে–একদিকে আপনি ও ভাড়াকরা গুণ্ডা দুটোও মৃত্যুর কবলে পতিত হবে। তৃতীয়টির বিষয়েও ওরা নিশ্চয়ই কিছু ভেবে রেখেছিল।
বন্ড মুগ্ধ হয়ে শুনছিল। সত্যিই তাকে মারার জন্য কত চিন্তা ভাবনা করে এই প্ল্যান তৈরি করেছে। তারপর, থামলে কেন?
বুলগেরিয়ানরা ভেবেছিল কোনভাবেই এই সুযোগ তারা হাতছাড়া করবে না। তাই প্রথমেই তারা ধোয়া বোমা ছোড়ে। আপনি বলেছিলেন সহকারীর হাতটি ছিল নীল কেসের দিকে। ওরা জানত ওটা ধোয়া বোমা, কিন্তু আসলে ওটাতে শক্তিশালী বোমাই রাখা হয়েছিল। যার ফলস্বরূপ তাদের কোন অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।
তিন নম্বর লোকটা হোটেলের পেছনে তাদের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু ব্যাপার দেখেই বুঝল কোথাও গণ্ডগোল হয়েছে। সব পরিশ্রম বৃথা গেল। পরে পুলিশ যখন না ফাটা বোমাটা ওর চোখের সামনে তুলে ধরে তখন পুরো ব্যাপারটা পানির মত পরিষ্কার হয়ে যায় তার কাছে। এখনও ওর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কিন্তু এই ব্যাপারগুলো ল্যশিফের ভূমিকা কোন ভাবেই যুক্ত হচ্ছে না। কারণ এর কোন দিন ল্যশিফের নাম এর আগে শোনেনি।
ওদের সঙ্গে কথা বলেছিল সম্পূর্ণ এক তৃতীয় ব্যক্তি। সম্ভবত ল্যশিফের দেহরক্ষীদের মধ্যে কেউ হবে। কাহিনী শেষ হতেই ক্যাভিয়ার এসে হাজির। অনেকখানি করে ক্যাভিয়ার নিয়ে দুজনে খেতে শুরু করল। খানিকক্ষণ কারো মুখেই কোন কথা নেই।
একটু পরে বন্ড এই নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করল। যাক আমাকে মারতে এসে তারা নিজেরাই শেষ হয়ে গেল। ভাবতে অবাক লাগছে। আজ ম্যাথিসকে পায় কে–চব্বিশ ঘণ্টা পার হয়নি তার মধ্যে শত্রুপক্ষের পাঁচজন কুপকাত–এই বলে থামল সে। তারপর মুনজ দম্পতির কলকাঠি নাড়ার বৃত্তান্ত শোনাল।
আচ্ছা, তুমি এই কাজে এলে কি করে? কোন সেকশন আছ?
আমি হেড অফ এর পার্সোনাল অ্যাসিস্টেন্ট। সমস্ত প্ল্যানটা ওদেরই পরিকল্পিত। তাই তিনি এম-র মতামত নিলেন, আমাকে এই কাজে পাঠানো যায় কিনা। কাজটা হবে শুধু যোগাযোগ রেখে চলা। বন্ডের কাছ থেকে ভেসপার কিছু আশা করছিল। বন্ডকে চুপচাপ দেখে সে নিজেই বলে চলল, ম্যাথিসের সঙ্গে দেখা করে আমরা এক সঙ্গে এখানে এলাম। ডি-ওর এর পোশাকের দোকানে আমার এক বন্ধু আছে। তারই দেওয়া এই সম্মানীয় পোশাক, সকালে যেটা পরেছিলাম সেটা তারই দেওয়া। তা না হলে এদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া আমার কি সাধ্যে পড়ে?
অফিসের সবাই আমার ব্যাপারে বড়ই নির্দয়–হিংসেতে মরে যাচ্ছে ওরা। ওরা জানে না কাজটা কি টাইপের। শুধু জানে একজন ডাবল জিরোর সঙ্গে কাজ। আপনি জানেন না, আমাদের চোখে আপনার ইমেজ–আমি তো নিজেকে ধন্য বলে মনে করি যে, আপনার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে আমার। বন্ড গাম্ভীর্যের সঙ্গে বলল, এ আর এমনকি, ডাবল জিরো নাম্বারটা পাওয়ার মধ্যে কোন আহামরি তো কিছু নেই। খুন করতে প্রস্তুত থাকতে হয় সব সময়। নিউইয়র্কে এক-জাপানী হস্তরেখাবি আর স্টকহলমে এক নরওয়েজিয়ান ডাবল এজেন্ট–এই দুজনকে হত্যার পুরস্কার আমার এই খেতাব। লোকগুলো মন্দ ছিল না। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ আজ তাদের এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। সত্যিই এ এক গোলমেলে ব্যাপার। চাকরী রাখতে গেলে তাই এইসব করতেই হয়। এ ব্যাপারে এই আলোচনা একটু বন্ধ থাক। খাওয়ার প্রসঙ্গে আসি-ক্যাভিয়ারের সঙ্গে ডিম সিদ্ধ কেমন লাগছে?
সত্যি ভীষণ ভাল খেতে, এক কথায় দুর্দান্ত। মনে হচ্ছে–বন্ডের ঐ হিমশীতল দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থেমে যায়। মেয়েটি।
আমরা সকলেই এখানে কাজ করতে এসেছি। বন্ড মনে মনে নিজেকে সংযত রাখতে চেষ্টা করল। সহকর্মীর সঙ্গে সহকর্মীর মত আচরণই করা উচিত।
এবার আমাদের কার্যপদ্ধতি সম্বন্ধে আলোচনায় বসা যাক। আমি কি করব তোমার কি করনীয় তাও বুঝিয়ে বলছি আমি। ব্যাপারটা হচ্ছে এই। সংক্ষেপে বুঝিয়ে দিল বন্ড তাকে নানাবিধ সম্ভাবনার দিক।
চমৎকার সুস্বাদু আহার্য খেতে খেতে কাজের কথা চলতে লাগল। বন্ডের রূঢ় ব্যবহারে একটু দমে গিয়েছিল ভেসপার, সঙ্গে সঙ্গে একটু ক্ষুণ্ণও হয়েছিল। কিন্তু সবকিছু ঝেড়ে ফেলে বন্ডের কথাই সে একমনে শুনতে থাকল।
