বন্ডও-এর ব্যতিক্রম ছিল না। কোন বিশেষ সংখ্যার ঘরে পর পর দুবার বল পড়ছে কিনা এই জাতীয় জিনিসে সে বিশেষ নজর দিত।
প্রথমটা ভাল না মন্দ সে নিয়ে বন্ড তেমন মাথা ঘামাত না। তার মতে জুয়া এমনই একটা খেলা যেখানে যত বেশি চেষ্টা আর বুদ্ধির প্রয়োগ করবে সেখানে ততবেশি ফল সেই অনুপাতে পাওয়ার আশা থাকে।
বন্ডের টেবিলে গত তিন ঘণ্টার মধ্যে এরকম কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটল না। কেবল একটা জিনিস চোখে পড়ল, তা হল শেষের বারোটা ঘরে তেমন বল পড়েনি। চাকতি যে দিকে ঘোরে সেদিকেই বন্ডের খেলার অভ্যাস বরাবর। একবার জিরো ওঠোর পর খেলার কায়দা সে নিজেই বদল করে নেয়। সে একলক্ষ ফ্র্যাঙ্ক দিয়ে প্রথম দুজনের ওপর বাজি ধরল। এই ভাবে সমস্ত সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশই তার আয়ত্তে এসে গেল।
পঁচিশের নিচে কিছু উঠলে সে একলক্ষ ফ্র্যাঙ্ক জিততে শুরু করল। কারণ ছয় জনের বাজিতে ডবল লাভ হয়। সাত বাজির খেলায় ছটা বাজি তার আয়ত্তে চলে এল। সাত বারের বার তিরিশ উঠলে, তখন তাকে হারের সম্মুক্ষীণ হতে হয়। নিজস্ব লাভ হল চারলক্ষ ফ্র্যাঙ্ক। উফুল্পের সঙ্গে সে প্রথম ও শেষ ছজনে বাজি ধরল। দুবারই হেরে বসল। দুবার চাল হবার মাঝখানের ৬ জন উঠল দুবার। চার লক্ষ ফ্র্যাঙ্ক গেল। টেবিল ছেড়ে সে যখন উঠল লাভ লোকসানের তালিকায় জমা হয়েছে দশলক্ষ ফ্র্যাঙ্ক।
সে এমন ভাবে বাজি ধরতে শুরু করেছিল যাতে করে টেবিলের অন্য সকলেরই তার প্রতি দৃষ্টি যায়। সে যেভাবে জিততে শুরু করল, তা দেখে অনেকেই তার পথ অনুসরণ করল। তার মুখোমুখি বসেছিল একজন আমেরিকান। বন্ডকে এইভাবে জিততে দেখে মনে মনে সে খুব আনন্দ উপভোগ করছিল। বন্ড যা যা করছে, সেও হুবহু তাই অনুকরণ করছে। বন্ড টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়াতেই লোকটি তার সামনে এসে তাকে অভ্যর্থনা জানাল। আপনার খাওয়া পাওনা। চলুন একটা ড্রিংকের অর্ডার দিই।
বন্ডের মনে হল এই ভদ্রলোক নিশ্চয়ই সি. আই-এর লোক। বারের উদ্দেশ্যে দুজনেই হেঁটে চলল। ততক্ষণে তার বদ্ধমূল ধারণা হয়ে গেছে যে এই লোক তার পার্টনার। তাই বন্ড লোকটিকে একটা দশহাজারের চাকতি ও পরিচারকটির উদ্দেশ্যে এক হাজার ছুঁড়ে দিতে ভুলল না।
আমেরিকানটি বলল, আপনার সঙ্গে পরিচয় হয়ে ভালই লাগছে। আমার নাম ফেলিক্সলিটার।
আমি বন্ড। জেমস বন্ড।
হ্যাঁ, ঠিক তাই। দেখ কি ড্রিংক করা যায়?
বন্ড লিটারকে হেগ অ্যান্ড হেস হুইস্কি অর্ডার দিতে বলল।
সঙ্গে শুধু বরফ। বারম্যানের দিকে তাকাল।
শোন। একটা ড্রাই মার্টিনি। শ্যামপেনের গেলাসে দেবে।
ঠিক আছে মসিয়ো।
দাঁড়াও, দাঁড়াও। তিন ভাগ গর্ডন, একভাগ ভডকা, কিমা লিনোট-এর আধ। ভাল করে ঝকাও। যখন বরফের মত ঠাণ্ডা হয়ে যাবে তখন একটুকুরো লেবুর খোসা দিয়ে নিয়ে আসবে। বুঝেছ তো?
হ্যাঁ, মসিয়ো। মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে লোকটার। ড্রিংকের বর্ণনাটা তার বেশ মনে ধরেছে।
বাঃ, দারুণ হবে। লিটার মন্তব্য না করে পারল না।
বন্ড হাসল। আমি, যখন কাজে মন দিই তখন ডিনারের আগে একটা ড্রিংকই নিই। সেই একটা যেন মনোমত আর কড়া হওয়া চাই। একটু একটু কিছু খেতে আমার ভাল লাগে না, বিশেষ করে তা যদি খেতে ভাল না হয়। আমি ভাই ড্রিংকটা নিজেই আবিষ্কার করেছি। আগে একটা নাম দিই। পরে পেটেন্ট নেব।
ফিকে সোনালি রঙের তরল পানীয় ঝকানি দিতেই বুদবুদ উঠতে শুরু করে। গ্লাসের গায়ে জমা হচ্ছে কিছু কিছু জলকণা। লম্বা একচুকুম দিয়ে বন্ড বারানকে বলল, এত ভাল হবে তা ভাবিনি। আরো ভাল হত যদি ভডকাটা আলুর বদলে শস্য দিয়ে তৈরি করা হত তাহলে বোধহয় এর স্বাদ পূর্বের থেকে অনেক বেশি সু-স্বাদু হত।
তারপর ফেলিক্স-লিটারকে বুঝিয়ে বলল, তার মানে এই নয় যে আমরা এই নিয়ে ভরসা করব।
লিটার গ্লাস হাতে করে ঘরের কোণে চলল। যেতে যেতে বলল, আপনার ভেবেচিন্তে কাজ করার পদ্ধতি একে বারেই পৃথক ধরনের। তবে আজ দুপুরে যে ব্রান্ডট তৈরি করলেন এরপর আপনি এর নাম রাখবেন মলোটভ ককটেল।
লিটারের কথায় বন্ড না হেসে পারল না।
দেখলাম জায়গাটা ছড়ি দিয়ে ঘিরে রেখেছে। ওখান দিয়ে কোন গাড়ি যেতে দিচ্ছে না। ফুটপাতের উপর দিয়ে। চালিয়ে দিচ্ছে। আশা করা যায় এর ফলে কোন শাসালো মক্কেলরা ঘাবড়ে গিয়ে পালিয়ে যাবে না।
কমিউনিস্টদের ঝগড়ার গল্প লোকের মনে ধরেছে। কেউ কেউ ভাবছে গ্যাসের শেল ফেটে গেছে। সব পোড়া গাছগুলো এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মন্টিকার্লোর মত এখানেও চটপট কাজ হলে সকালের মধ্যে দুর্ঘটনার আর কোন চিহ্নই পরে থাকবে না।
বন্ড, আপনার সঙ্গে কাজ করতে পারছি বলে আমার নিজেরও খুব ভাল লাগছে। ভাগ্যিস আপনি বোমার ঘায়ে ঘায়েল হননি। আপনার অফিসের মত এরাও মনে করে ব্যাপারটা গুরুতর এবং যেভাবে আপনি এগোচ্ছেন এটাই স্বাভাবিক পন্থা। ওয়াশিংটন একটু বেশি বিরক্ত যে আমরা না করে আপনারা এই কাজের দায়িত্ব নিয়েছেন। জানেন তো বড় কর্তাদের মতিমর্জি, লন্ডনেও নিশ্চয়ই এই একই ব্যাপার?
হ্যাঁ, হিংসে আছে খুব, বন্ড অভিযোগটা মেনে নেয়। সে যাই ঘটুক, আপাতত আপনার আদেশ আমার শিরোধার্য। যা দরকার একবার হুকুম করবেন।
ম্যাথিস ও তার দল সব দিকেই খেয়াল রেখেছে, তবুও আমি আপনার সঙ্গেই আছি।
