বন্ড মাথা নাড়ল। ম্যথিস থাকলে ভাল হয় স্যার। দেখা যাক। জেতবার চেষ্টা কর। তা না হলে আমাদের মাথা হেঁট হবে। এটা ছেলে খেলা মোটেই নয়। ল্যশিফ খেলে ভাল। আচ্ছা তাহলে গুডলাক।
থ্যাঙ্ক ইউ স্যার। বন্ড দরজার দিকে এগোল।
শোন।
ঘুরে দাঁড়াল বন্ড।
আমি তোমার সঙ্গে লোক দিতে চাই। দুটো মাথা একটা মাথার চেয়ে বেশি বুদ্ধি ধরে। তোমার খবর পাঠাবার জন্যও কাউকে প্রয়োজন। চিন্তা কোরনা। ভাল লোকই দেব।
একা কাজ করা অবশ্যই বন্ডের বেশি মনঃপূত, কিন্তু এম এর সঙ্গে তো আর তর্ক করা চলে না। ঘর থেকে বেরিয়ে আসার সময় তার মনে এই ধারণা জন্মাল যে এখন লোকটা বোকা কিম্বা অতিরিক্ত উচ্চভিলাসী না হলেই ভাল। আশা করা যায় যে সে বিশ্বাসের মর্যাদা দেবে।
.
শত্রু আড়ি পাতছে
দুদিন আগে বন্ড রয়্যাল লেজোতে এসে পৌঁছেছে। লাঞ্চের সময় তার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। রেজিস্টারে সই করার সময় তার দিকে কেউ ফিরেও তাকায়নি।
ছদ্ম ভূমিকা গ্রহণের ব্যাপারে এমন খুব একটা কিছু বলেননি। কেবল বললেন যখন খেলার টেবিলে ল্যশিফের সঙ্গে টেক্কা দেবার চেষ্টা করবে তখন আর কারো কিছু বুঝতে বাকি থাকবে না। তবু সাধারণ লোকের কাছে পরিচয় দেবার জন্য একটা বিশ্বাসযোগ্য ভূমিকা ঠিক করে রেখ।
জ্যামাইকা সম্বন্ধে বন্ডের জ্ঞান কিছু কম নয়। তাই সে একজন বিত্তবান জ্যামাইকাবাসী বাগান মালিকের পুত্র হিসেবে নিজেকে পরিচিত করাল। সেরকমভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিংসটনের শ্যফারির চার্লস দা সিলভাকে তার অ্যাটনী বলে দিলেই হবে। বাকিটা দ্য সিলভা বুঝে নেবে।
দুদিনই বিকেলটা এবং রাতটা বন্ড ক্যাসিনোতে কাটিয়েছে। এভাবে তিরিশ লক্ষ ফ্র্যাঙ্ক জেতা ছাড়াও বন্ড একবার তার তাসের হাতটা ঝালিয়ে নিল, স্নায়ুরও পরীক্ষা নিল।
ক্যাসিনোর অবস্থানটা ভাল করে মনের মধ্যে গেঁথে নিল সে। ল্যশিফকে একদিন সে ভাল করে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং লক্ষ্য করেছে লোকটার কপালও যেমন ভাল তেমনি আন্দাজও নির্ভুল।
ঠাণ্ডা পানির শাওয়ারে গোসল সেরে জানলার সামনে লেখার টেবিলটিতে বসল সে। বাইরে ঝলমলে দিন। স্ট্রীটের মরল্যান্ডের কূলে ছোট ছোট ঢেউ আছড়াচ্ছে। ডিসেপ থেকে আসা জেলেদের নৌকাগুলো সার বেঁধে চলেছে সমুদ্রের উপর দিয়ে। সেদিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বন্ড সকালের প্রাতঃরাশ শেষ করল। এতটাই মগ্ন ছিল যে টেলিফোনের শব্দে চমক ভাঙল। বন্ড প্যারিস থেকে যে রেডিও সেটটা আনতে চেয়েছিল সেটা নিয়ে একজন এসেছেন।
কেয়ারটেকারকে বলল, ওঁকে পাঠিয়ে দিন।
ফরাসী গোয়েন্দা বিভাগ দ্বারা নিয়োজিত এই লোকটির জন্য এই ছদ্মভূমিকাই ঠিক করা হয়েছিল। লোকটি বন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলবে। বন্ড উৎসুক চোখে চেয়ে রইল দরজার দিকে। ম্যাথিস এলেই ভাল।
এক সভ্রান্ত চেহারার ব্যবসায়ী চৌকো প্যাকেটের চামড়ার হাতল ধরে ঘরে প্রবেশ করলেন। তিনিই ম্যাথিস। বন্ড উল্লসিত হয়ে অভ্যর্থনা জানাতে গেলে ম্যাথিস বাধা দেয়। সন্তর্পণে দরজাটা বন্ধ করে দেয়।
মসিয়ো, আমি এই মাত্র প্যারিস থেকে পৌঁছলাম। এই যে আপনার রেডিও, আপনি যেমন চেয়েছিলেন পাঁচ ভালভের। এখান থেকে আপনি ইউরোপের প্রত্যেকটা রাজধানী ধরতে পারবেন।
তবে তো ভালই, মুখে বলল বন্ড। ম্যাথিস বন্ডের দিকে লক্ষ্য না করে মোড়ক খুলে রেডিও সেটটা বার করল। যেখানে ম্যান্টলপিসের নিচে ইলেকট্রিক চুল্লী, সেখানেই রাখল সে।
সাড়ে এগারোটা। তাহলে রোম থেকে মিডিয়াম ওয়েভে চানসম বান্ধবদের প্রোগ্রামটা পাওয়া যেতে পারে। ওরা ইউরোপে নানা জায়গায় শো দিচ্ছে। দেখাই যাক পরীক্ষা করে।
রেডিওর পিছনে কি খুটখাট করতে লাগল ম্যাথিস। হঠাৎ ঘড় ঘড় শব্দে ঘর ভরে গেল। ম্যাথিস কাঁচুমাচু গলায় বলল, মাপ করবেন সিয়ো। ভাল করে টিউন করা ছিল না। ডায়ালটা ঠিক করে দেবার পর সঙ্গীত ভেসে এল। ম্যাথিস তখন উঠে এসে বন্ডের কাছে এল এবং এমনভাবে তার হাত চেপে ধরল যাতে করে আঙুলগুলো গুড়ো হয়ে যাবার জোগাড়।
দাঁত বার করে বন্ড বলল, এসবের মানেটা কি?
ম্যাথিসের ফুর্তির কিছু অভাব দেখা গেল না। বন্ধু তুমি ধরা পড়ে গেছ।
কি করে ওরা জানতে পারল জানি না। নিশ্চয়ই তুমি আমার কয়েকদিন আগে থেকেই ওরা তোমার খোঁজ রেখেছিল। শত্রু পক্ষের সমস্ত দলবল এখানে উপস্থিত। তোমার ঠিক উপরে আছে মুন দম্পত্তি। লোকটা জার্মান। স্ত্রী মধ্যে ইউরোপ অঞ্চলের। এই হোটেলের বাড়িটা সেকেলে ধরনের। চুল্লীর কয়েক ইঞ্চি উপরে দেখাল সে, এই যে এখানে খুব শক্তিশালী একটা রেডিও পিক আপ রয়েছে। চিমনির মধ্যে দিয়ে তারটা গেছে ওদের ঘরে মিনজদের। বৈদ্যুতিক চুল্লী পর্যন্ত। সেখানে একটা অ্যামপ্লিফায়ার আছে। ওদের ঘরে একটা রেকর্ডার আছে, আর দুটো ইয়ারফোন মুনজরা পালা করে সেটা কানে লাগিয়ে বসে থাকে। সেজন্য মুনজ বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেন না। মসিয়োও বাইরের রোদ ও জুয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখে সর্বদা স্ত্রীর পাশে বসে আছেন।
আমরা ফরাসীরা খুব চালাক, জানোই তো, বাকিটা আমরা জানলাম তোমার ঘরে ঢুকে। তুমি আসার আগে আমরা এসে তোমার চুল্লীর প্যানেলটা খুলে ফেলেছিলাম।
বন্ডের ততক্ষণে দৃষ্টি গেল প্যানেলের দিকে। সত্যি তো সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম আঁচড়ের দাগ রয়েছে।
