এরা পাঁচটি শাখায় বিভক্তঃ
একনম্বর শাখা : দেশে ও বিদেশে সোভিয়েট গুপ্ত সংবাদ গ্রহণে নিযুক্ত।
দুনম্বর শাখা : হাতে কলমে কাজ, তার মধ্যে হত্যাও আছে।
তিন নম্বর শাখা : বিচার, শাস্তিদান।
এ পর্যন্ত আমাদের হাতে মাত্র একজন স্মার্শ সদস্য ধরা পড়েছে। তার নাম গয়েটশেভ ওরফে গ্যারড জোনস। ১৯৪৮ সালের ৭ই আগস্ট সে হাইড পার্কে যুগোশ্লাভ রাষ্ট্রদূতাবাসের মেডিক্যাল অফিসারকে গুলি করে মারে। তদন্ত চলার সময়ে লোকটি পটাসিয়াম সায়ানাইডে তৈরি একটি কোটের বোতাম খেয়ে আত্মহত্যা করে। তার কাছ থেকে কোন সংবাদই আদায় করা যায়নি, শুধুমাত্র সে স্মার্শের সদস্য, কেবল এটুকু ছাড়া।
.
জিরো জিরো সেভেন
এস বিভাগের প্রধান নিজেই ফাইলটি নিয়ে এগিয়ে চললেন উপর তলায়। রিজেন্টপার্কের সামনে সিক্রেট সার্ভিসের গম্ভীর চেহারার অফিস বাড়ি। বারান্দা পার হয়ে শেষের ঘরটায় এসে উপস্থিত হলেন। তার উৎসাহের অন্যতম কারণ ছিল ল্যশিফের বিনাশের পরিকল্পনাটি তাঁর নিজস্ব।
এম-এর চিফ অফ স্টাফের কাছে গটমটিয়ে এগিয়ে এলেন হেড অফ এস। চিফ অফ স্টাফের বয়স কম। সে ১৯৪৪ সালের একটি নাশকতামূলক কাজে আহত হবার পর থেকে এই কাজে নিযুক্ত আছে। দুটি অভিজ্ঞতাই বেশ করুণ– তবু চিফ অফ স্টাফের মেজাজে ফুর্তির কোন অভাবই চোখে পড়ে না।
বিল, শোন, শোন, কর্তাকে একটা জিনিস রাজি করাতে চাই। যাওয়া যায়? কি বল পেনি? চিফ অফ স্টাফ জিজ্ঞেস করলেন এম-এর প্রাইভেট সেক্রেটারি মিস মানিপেনিকে। দুজন একই ঘরে বসেন।
মিস মানিপেনিকে দেখে যে কেউ আকৃষ্ট না হয়ে পারবে না, কিন্তু পিছিয়ে যাবে তার ঐ শীতল চোখ দুটি দেখে।
তা যায়। গত আধঘণ্টায় কেউ আসেনি। সুতরাং- হেড-অফ এস-এর দিকে চেয়ে মানিপেনি মুচকি হাসলেন। লোকটি তার পছন্দের তালিকায় ছিল। তাছাড়া তার বিভাগটার কথাও ভাবতে হয়।
তাহলে এই নাও। কালো ফোল্ডারটা বিলের হাতে গুঁজে দিলেন হেড অফ এস। ফোল্ডারের উপরে লাল তারা আঁটা। তার অর্থ এটা একান্তই গোপনীয়। বেশ উৎসাহী মুখ করে দেবে এটা। আমি এখানে আছি ওঁকে বোল, যদি কিছু খবর জানতে চান। আর যতক্ষণ উনি পড়ছেন তোমরা দুজনে আশা করি ওঁকে গিয়ে বিরক্ত করবে না।
ঠিক আছে স্যার। বিল একটা সুইচ টিপে ইন্টারকমের দিকে ঝুঁকে বসল।
কি ব্যাপার? আবেগহীন গলা।
আপনার জন্য হেড অফ এস একটা জরুরী ফাইল এনেছেন স্যার।
খানিকক্ষণ চুপচাপ।
নিয়ে এস।
চিফ অফ স্টাফ সুইচটা বন্ধ করে উঠে দাঁড়ালেন।
থ্যাঙ্কস বিল।
চিফ অফ স্টাফ দুটো দরজা পেরিয়ে এম এর ঘরে ঢুকলেন। পরক্ষণেই তিনি বেরিয়ে এলেন। ঘরে নীল আলো জ্বলে গেল। অর্থাৎ এখন তিনি বিশ্রাম নেবেন।
কিছুক্ষণ পরে হেড অফ এস উল্লসিত হয়ে তার পরের কর্মচারিকে বললেন, ঐ শেষের প্যারাগ্রাফটার জন্য আর একটুর জন্য সব ভন্ডুল হয়ে যেত। এম তো রেগেই অস্থির। অবশেষে মত দিয়েছেন। বললেন পাগলের মত পরিকল্পনা, তবু যদি ট্রেজারী রাজি থাকে তাহলে এগোনো যায়।
ওঁর মনে হয় ওদের রাজি না হবার কারণ নেই।
উনি ওদের বলবেন যেসব পলাতক রাশিয়ান কর্নেলদের পেছনে অনর্থক টাকা ঢালা হচ্ছে তার চেয়ে এটা অনেক ভাল প্ল্যান। রাশিয়ানগুলো এখানে আমাদের আশ্রয়ে থেকে পরে ডাবল এজেন্ট হয়। তাছাড়া এম ল্যশিফকে ধরার জন্য ব্যস্ত হয়ে আছেন। ওর হাতে উপযুক্ত লোকও আছে এই কাজের জন্য।
কে লোক?
ডাবল জিরোদের কেউ, খুব সম্ভব ডাবল জিরো সেভেন। ল্যশিফের দেহরক্ষীদের কাছে অস্ত্র থাকে, সুতরাং আমাদের লোকটিকে ওর মত বলবান হতে হবে। যুদ্ধের আগে মন্টি কর্পোতে দুমাস ধরে জুয়াখেলে ও সেই সঙ্গে রুমানিয়ান দলকে অদৃশ্য কালি ও কালো শেমার কারবার সবার সম্মুখে তুলে ধরেছে। এর ফল স্বরূপ জিরো জিরো সেভেন আর দোয়াজিয়েম বুরোর ভাগ্যে মিলেছে দশলক্ষ ফ্র্যাঙ্ক। আজকের এই মন্দা বাজারে এই বা আসে কোত্থেকে।
এম-এর সঙ্গে বন্ডের কথাবার্তা খুব বেশীক্ষণ স্থায়িত্ব লাভ করেনি। বন্ড হেড অফ এস-এর রিপোর্টটা পড়ে এম এর ঘরে এসে ঢুকল।
তাহলে? জিজ্ঞেস করলেন এম।
অনেক ধন্যবাদ স্যার, কাজটা আমাকে দেওয়ার জন্য। কাজটা আমার পছন্দ, তবে জিতব কিনা এখনি বলা যাচ্ছে না। খুব চড়াবাজির খেলা তো–শুরুই হবে পাঁচ লক্ষ দিয়ে মনে হয়।
এম-এর কঠিন চোখের দিকে তাকিয়ে চুপ করে গেল সে। এই সবই এম-এর জানা।
বাকারা খেলার হার-জিতের খেলায় সম্ভাবনা কিরকম, তাঁর নিজের লোকদের ও অপরপক্ষে কারা আছে তাদের প্রত্যেকের সম্বন্ধেই জানা তার প্রধান কাজ। বন্ড ভাবল এত কথা বলার কোন প্রয়োজন ছিল না।
হারতে তো ওরাও পারে। এম বললেন, তোমার টাকার অভাব হবে না। আড়াইকোটি, ওর যা আছে, তাই। প্রথমে এক কোটি নিয়ে যাবে, তারপর আরো এক পাঠানো হবে, তুমি ওখানে গিয়ে পর্যালোচনা করার পর। আর পঞ্চাশ লক্ষ তুমি নিজেই উপার্জন করতে পারবে। একটু হাসলেন এম। আসল খেলা শুরু হবার কয়েকদিন আগেই যাও। যাওয়া আর থাকার ব্যবস্থা সম্বন্ধে কিউ-এর সঙ্গে কথা বলে নিও। টাকা পে মাস্টার দিয়ে দেবে। আমি দোয়াজিয়েম ব্যুরোকে বলেছি তোমার কাছাকাছি থাকতে। ওদের এলাকা, যতই বল বেশি হৈ চৈ না করাই ভাল। মন্টিকার্লোতে সেবার ক্যাসিনোর ব্যাপারটায় তোমার সঙ্গে ওর ভালই বনিবনা হয়েছিল। অবশ্য ওয়াশিংটনও বলতে হচ্ছে ন্যাটোরও স্বার্থ আছে। ফনটেন ব্লোতে সি আই-এস দু-একজন ভাল লোক আছে। আচ্ছা, আর কিছু
