১৯৪৬ সালের জানুয়ারী মাসে ল্যশিফ অনেকগুলি গণিকালয়ের মালিক হয়–কর্ডন জুন নামে পরিচিত এই বেশ্যালয়ের অনেকগুলি শাখা নর্মান্ডি ও ব্রিট্রানীতে আছে। পাঁচ কোটি ফ্রাঙ্ক দিয়ে এই গণিকালয়গুলি কেনে সে। ফ্রান্সের ট্রেড ইউনিয়নগুলির সাহায্যের অর্থ এই কাজে ব্যয় করে ল্যশিফের খুব বুদ্ধির পরিচয় মেলেনি। অন্য যে কোন ব্যবসার পরিবর্তে এই ব্যবসা বেছে নেওয়ার কারণ ল্যশিফের অসংখ্য নারীর সান্নিধ্য লাভের সুযোগ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর ফল ভাল হল না। তিন মাসও গেলনা–১৩ই এপ্রিল ফ্রান্সে একটি আইন পাস হল।
(এম ফরাসীতে লেখা এই বাক্যটি পর্যন্ত পৌঁছে বললেন। তারপর ইনটারকমের সুইচ টিপলেন।
হেড অফএস?
হ্যাঁ স্যার।
কথাটার মানে কি? বানান করে বললেন উনি।
দালালি।
তাহলে ইংরেজিতে লিখতে ক্ষতিটা কি হয়েছিল? যদি ভাষা জ্ঞান ফলানোই উদ্দেশ্য হয় তাহলে তার জায়গা এটা নয়, খেয়াল রেখ।
সরি স্যার।
সুইচটা বন্ধ করে এম আবার পড়তে লাগলেন।)
এই আইন জারী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাতারাতি সমস্ত গণিকালয় বন্ধ হয়ে গেল এবং অশ্লীল বই বিক্রিও নিষিদ্ধ হল। ল্যশিফের আর্থিক দুরবস্থা চরমে উঠল। গোপনে অশ্লীল ছবি দেখাবার চেষ্টা বিফলে গেলে তারা ঠিক করল সব কিছু বন্ধ করে দেবে। কিন্তু ইতিমধ্যে পুলিশ তার কাজকর্মের সন্ধান পেয়ে কুড়িটিরও বেশি গণিকালয় বন্ধ করে দিল। ল্যশিফের লগ্নী করা মূলধনের আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না।
ল্যাশিফ জানতেও পারেনি স্মার্শ তার পিছনে লেগেছে। একবার জানতে পারলে তার পলায়ন ছাড়া কোন দ্বিতীয় পথ থাকবে না। তার বর্তমান পরিস্থিতি যাইহোক না কেন, সে জানতে পারেনি তার প্রাণের আশংকা আছে।
ল্যশিফ ঠিক করল সে হৃতটাকা পুনরুদ্ধারের জন্য জুয়োর আশ্রয় নেবে। শেষ খবর, ইউনিয়নের তহবিল থেকে শেষ দুকোটি পঞ্চাশ লক্ষ ফ্রাঙ্কও সে তুলে নিয়েছে।
ভিক্টোরিয়া যুগের বিখ্যাত জুয়ার আজ্ঞা রয়্যাল–এবারে নানারকম কৌশলে ইউরোপ ও আমেরিকার বিত্তবান জুয়াড়ীদের এখানে আকর্ষণ করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে রয়্যাল তার পূর্ব গৌরব ফিরে পেতে চলেছে। সার্ভিসে সবচেয়ে পাকা জুয়াড়ী যে আছে তাকে যথেষ্ট টাকা দিয়ে এই লোকটিকে হারাবার জন্য নিযুক্ত করা হোক। যদি এই কাজে, কাউকে না পাঠানই সিদ্ধান্ত করা হয় তাহলে আমরা আমাদের সংগ্রহ করা সমস্ত তথ্য ও প্রস্তাব আমেরিকার সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স এজেন্সীর হাতে তুলে দিতে বাধ্য হব। তারা এই কাজে সাগ্রহে এগিয়ে আসবে।
স্বাক্ষরঃ এম
অ্যাপেনডিকস এ
নাম : ল্যশিফ
ছদ্মনামঃ সংখ্যা বা সাইফার এই কথাগুলির বিভিন্ন অর্থবাচক
যেমন হের জিফার
পূর্ব ইতিহাসঃ অজানা।
প্রথম দেখা যায় ১৯৪৫ এর জুন মাসে মার্কিন অধিকৃত জার্মানীর একটি উদ্বাস্তু শিবিরে। স্মৃতিভ্রংশ ও কণ্ঠনালীর পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। চিকিৎসার ফলে গলার স্বর ফিরে পায় কিন্তু পূর্ব ইতিহাস কিছুতেই স্মরণে আনতে পারে না। কেবল ঐ বছরেরই সেপ্টেম্বর মাসে যখন তাকে আলসেস-লোরেন ও স্ট্রাসবার্গে পাঠান হয় তখনকার কথা মনে আছে। রাষ্ট্রহীন ব্যক্তির পাসপোর্ট ছিল তার, নম্বর ৩০৪–৫৯৬। তখন সে ল্যশিফ নাম গ্রহণ করে।
বয়স : প্রায় ৪৫
বর্ণনাঃ উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি, ওজন ১৮ স্টোন। অত্যন্ত ফর্সা, রক্তহীন চেহারা। চুল লালচে ব্রাউন। দাড়ি গোঁফ কামানো, কটা চোখ। মুখের হাঁ ছোট, অনেকটা মেয়েলী। দামী বাঁধানো দাঁত। কান ছোট, লতি বড়, মনে হয়ে ইহুদীদের রক্ত আছে। হাত ছোট, সযত্বরক্ষিত, লোম আছে। জাতিগতভাবে ভূমধ্যসাগরীয় ও প্রাশিয়ান। পোষাক পরিচ্ছদ শৌখিন। গাঢ় রঙের ডাল বেস্টেড সুট পরে। ইংরাজি ও ফরাসী সমান ভাবে বলে। ভাল জার্মান ভাষাও জানে। মাই-এর টান আছে কথায়।
অভ্যাসঃ দামী দামী বদভ্যাস আছে। স্ত্রী সংসর্গে কোন অরুচি নেই। দ্রুতগামী গাড়ি ভাল চালায়। ছোটখাট অস্ত্র চালনায় পারদর্শী। হিসাব ও অঙ্কের জ্ঞান আছে। জুয়া ভাল খেলে। সঙ্গে সশস্ত্র দেহরক্ষী থাকে–একজন ফরাসী ও একজন জার্মান। উপসংহারঃ মারাত্মক ও শক্তিশালী সোভিয়েত এজেন্ট। লেনিন গ্রাড সেকশন। তিনি একে প্যারিস থেকে পরিচালনা করেন।
স্বাক্ষর ঃআর্কাইভিস্ট
অ্যাপেনডিকস বি
বিষয় : স্মার্শ
সংবাদ উৎসঃ নিজেদের গোপন সংগ্রহ দপ্তর, কিছু তথ্য পাওয়া গেছে দোয়াজিয়েম বুরো ও ওয়াশিংটনের সি.আই.এ থেকে।
দুই রুশ কথার সমবায়ে স্মার্শ নামের উৎপত্তি। কথা দুটির অর্থ গুপ্তচরদের হত্যা কর। বেরিয়ার হাতে এই সংস্থার সর্বময় কর্তৃত্বের ভার।
হেড কোয়ার্টার : লেনিনগ্রাড।
সোভিয়েট সিক্রেট সার্ভিসের বিভিন্ন শাখা ও সিক্রেট পুলিশের সঙ্গে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তাদের বিনষ্ট করা এদের কাজ। এটি সবচেয়ে কুখ্যাত সংস্থা। এর নাম শুনে সকলে আতঙ্কিত হয়।
১৯৪০ সালের ২২ শে আগস্ট মেক্সিকোতে ট্রটস্কির হত্যাকান্ড এদের দ্বারা সংঘটিত হয়। স্মার্শ এই কাজে সাফল্য লাভ করে প্রচুর খ্যাতি অর্জন করে।
তারপর হিটলার যখন রাশিয়া আক্রমণ করে তখন স্মার্শের নাম আবার শোনা যায়। তখন স্মার্শ দ্রুত খ্যাতি লাভ করে।
যুদ্ধের পর এই সংস্থা থেকে অনেক অবাঞ্চিত ব্যক্তিকে বার করে দেওয়া হয়। এখন মাত্র কয়েক শ ব্যক্তি এতে আছে। প্রত্যেকে অত্যন্ত কর্মক্ষম।
