গুহার মধ্যে ডাক্তার বন্ডের পাশে বসে ছিলেন। কিসীও পাশে বসে ছিল। বন্ডের হাত দুটো তার হাতের মধ্যে ছিল।
ডাক্তার বন্ডের মাথার ক্ষতস্থান ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে তাতে সালফা-গুড়ো দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিল। ক্ষতস্থানে ওষুধ দিয়ে পটি বাঁধল। তারপর বাইরে এসে কিসীকে বলল, বেঁচে যাবে কিন্তু নষ্ট স্মৃতি ফিরে পেতে অনেক সময় লাগবে। ওর যাবতীয় পুরোনো ঘটনা তোমাকে মনে করিয়ে দিতে হবে। তারপর কোন বিশেষ কাজ মনে করতে পারলে তখন ও হয়ত সব হারানোযোগসূত্র আবার ফিরে পাবে। এক্স-রে করার জন্য ওকে একবার ফাকুওকা নিয়ে যাওয়া অতি অবশ্য দরকার। আমি রাত্রিতে দেখতে আসব। তোমাকে সব কিছু দেখেশুনে রাখতে হবে। অন্তত এক সপ্তাহ যেন কোনমতে হাঁটা চলা করার চেষ্টা না করে। রোগীর পথ্য, সেবা ইত্যাদি সম্বন্ধে ডাক্তার কিসীকে ভালভাবে বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেল।
দিনের পর দিন কেটে যায়। ফাকুওকা থেকে পুলিশ আসে বারবার। টোকিও থেকে টকা নামে এক সরকারি অফিসারও এসেছিল। কুররা দ্বীপের গোপন রহস্য কুরোতেই রইল। বয়োজ্যেষ্ঠরা পাথরের মত শক্ত মুখ করে রইল।
জেমস বন্ড ক্রমে ক্রমে সেরে ওঠে। কিসী ওকে রাত্রে বেড়াতে নিয়ে যায়। মাঝে মাঝে ওরা একসঙ্গে সাঁতার কাটে, কিসী ওকে কুররা দ্বীপের সব কাহিনী শোনায়। বন্ড যখন অন্য জায়গার কথা জানতে চায়, তখন কিসী অত্যন্ত কৌশলে ওর সব প্রশ্নের জবাব দেয়।
শীত এল। বন্ড বাড়ি ফিরে আসে। কিসীর কাছে জাপানি ভাষা শিখে নিয়ে নিজেকে নানা কাজে লাগাবার চেষ্টা করে। বউও একটু একটু করে সেই ইট আর পাথরের ছোট্ট বাড়িটাকে, সমুদ্রের সেই অনন্ত দিগন্তকে তার জীবনের সত্যি বলে মেনে নেয়। কিসীর খেয়াল ছিল। সে ওকে দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে কখনো যেতে দেয়নি। তার ভয় ছিল। মে মাসের পরে মাছ ধরা যখন জোর শুরু হবে তখন যদি সমুদ্রের ওধারে কালো মস্ত দেওয়ালটাকে ও আবার দেখতে পায় তাহলে হয়ত ওর স্মৃতি ফিরে আসবে। এই স্মৃতিভ্রংশের ব্যাপারটা ছাড়া বন্ড প্রায় সেরে উঠেছিল।
একটা জিনিস কিসীকে খুব কষ্ট দিচ্ছিল। গুহায় প্রথম রাত থেকেই কিসী বন্ডের সাথে এক বিছানায় শুয়েছিল। তারপর ও যখন সুস্থ হয়ে বাড়ি এল, তখন কিসী প্রত্যেক রাত অপেক্ষা করে থাকত। বন্ড তাকে ভালবাসবে এই। আশায়। বন্ড মাঝে মাঝে তাকে চুমু খেয়েছে কিন্তু ওর শরীর যেন কিসীর কথা মনে রাখেনি। কিসী নিজেকে ওর শরীরের সাথে চেপে ধরেছে, দু হাত দিয়ে জড়িয়ে জড়িয়ে আদর করেছে। তবে কি ওর সেই ক্ষত আঘাত ওকে নিবীর্য করে তুলেছে।
কিসী একদিন বন্ডকে সাথে নিয়ে ফাকুওকা গেল। শহরে পৌঁছেই ও স্থানীয় এক দোকানে ঢুকল, দোকানের নাম দি হ্যাঁপী শপ । জাপানে সব শহরেই এই ধরনের দোকান থাকে। যাবতীয় যৌন সমস্যার সমাধান করে দেয় তারা। কিন্সী নিজের সমস্যা এক বুড়োকে বলল। সব শুনে লোকটা জানতে চাইল তার সাথে পাঁচ হাজার ইয়েন আছে কিনা। সে তো অনেক টাকা তবু কিসী যখন বলল আছে তখন বুড়ো সাদরে হুড়কো টেনে তাকে নিয়ে গেল দোকানের পিছন দিকে।
বুড়ো বেঞ্চির তলা থেকে খরগোশের খাঁচার মত একটা জিনিস টেনে বার করল। বুড়ো এরপর চাটুর মত একরকম জিনিস বার করল। আলমারি থেকে ছোট্ট এক বড়ির বাক্স বার করে বুড়ো কিসীকে বলল, এটা হচ্ছে গিরগিটি শুকনো। করে, গুড়ো করে তার পাউডার। রাতে যদি আপনার স্বামীকে খাবারের সাথে এটা খেতে দেন তো একেবারে অব্যর্থ। এ ছাড়াও নানাভাবে উত্তেজিত করার জন্য। চমৎকার এক বালিশ, বই, দিলাম। এতেই কাজ হবে।
কিসী বইটা হাতে নিয়ে দেখল মারাত্মক অশ্লীল সব ছবি। যতরকমে সম্ভব প্রেম লীলার বিশদ, বিন্যস্ত ছবি।
কিসী বলল, ঠিক আছে সব ভাল করে কাগজে মুড়ে দিন। কিসী জিনিসটা হাতে নিয়ে ছুটে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। যেন এইমাত্র সে এক শয়তানের সাথে চুক্তি করে এসেছে। নৌকায় গিয়ে সে রোমাঞ্চে আনন্দে মোড়কটা বুকে জড়িয়ে ধরে। ওরা হাত ধরাধরি করে গল্পে মশগুল হয়ে চলল সমুদ্রের তীর ধরে।
বাড়ি ফিরে কিসী মহা আনন্দে মসলা দিয়ে মাংসের স্টু বানায়। এটা বডের জন্য বিশেষ করে তৈরি। মাংস তৈরি হলে খাবারের সাথে সেই পাউডারের গুড়ো আর তরল পদার্থ মিশিয়ে ভাল করে নেড়েচেড়ে বন্ডকে খেতে দিল। আড়চোখে খাওয়া দেখল কিসী। বন্ড চেটেপুটে সব খেয়ে ফেলল। তারপর চলে এল নিজের ঘরে।
কিসী অনেকক্ষণ ধরে চুল বাঁধল, সাজগোজ করে নিজেকে সুন্দর করল। তারপর গেল বন্ডের কাছে।
বন্ড বালিশ, বই, দেখছিল। মুখ তুলে তাকিয়ে হো হো করে হেসে বলল, কিসী এ সব কোত্থেকে জোগাড় করলে?
কিসীও হেসে জবাব দিল, একটা দোকানে এক বজ্জাত লোক খুব পেছনে লেগেছিল। জোর করেই ওটা আমাকে গছিয়ে দেয়। আমি ওই লোকটার হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবার জন্য বইটা নিয়ে নিলাম। এটা হল সেই জিনিস যাকে আমরা বালিশ বই বলি। প্রেমিক প্রেমিকাদের সুবিধের জন্য।
বন্ড নিজের কিমোনো খুলে ফেলে দিল। মেঝের নরম ফুটন -এর দিকে আঙুল দেখিয়ে হিংস্রভাবে বলল, কিসী, তোমার জামা-কাপড় খোল। খুলে ওখানে শুয়ে পড়। আমরা একেবারে গোড়ার থেকে শুরু করব।
শীত গিয়ে বসন্ত আসে। কিসী আবার সব মাছ মারা মেয়ের মত উলঙ্গ হয়ে পানিতে ঝাপায়। সাথে থাকে বন্ড আর সেই পাখিটা। সূর্য ওঠে, সমুদ্রের পানি নীল হয়, পাহাড়ের আশপাশ ঢেকে রংধনু রঙের অজস্র বুনো ফুল ফোটে তারপর সব চেরী গাছ ফুলে ফুলে ভরে যায়। কিসী ভাবছিল কখন বলবে কথাটা! সে মা হতে চলেছে। এ কথা শুনে বন্ড কি তাকে বিয়ের প্রস্তাব করবে!
