বন্ড কোন দিকে কান না দিয়ে নিজের শক্তি পুনরুদ্ধারে মন দেয়। কিছু একটা খুঁজে ফিরছিল ওর চোখ। বন্ডের বেদীর ডান দিকে কাঠের এক ছোট্ট বাস মত। তাকে কোন চাবির ফুটো নেই। নিশ্চয়ই ওটার ভেতরে উষ্ণ প্রস্রবন নিয়ন্ত্রণের কলকজা রয়েছে। এই জামাটাকে কোন কাজে লাগানো যায়? সেই চিন্তাকে তখনকার মত গুটিয়ে রেখে বন্ড একটা মতলব বার করতে চেষ্টা করে। কিন্তু ওর মাথা ভীষণ ক্লান্ত। ঘড়িতে ১১-১৪। ও যেখানে বসে ছিল তার তলায় এক ক্রুদ্ধ গরগর আওয়াজ হয় এই সময়। সাথে ভীষণ গরম ভাপের এক ধাক্কা। বন্ড সেখান থেকে সরে আসে। এরপর এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণ, সাথে ছাই ছাই রঙের থকথকে কাদা চকচকে পিস্টনের মত ছিটকে উঠে আসে গর্তের মধ্যে দিয়ে। যেখান থেকে বন্ড সদ্য উঠে এসেছে সেই গর্ত দিয়ে বেরিয়ে উৎক্ষিপ্ত কাদার চাপ ঠিক ছাদের সেই ফোকর ভেদ করে চলে যায়। শুকনো উত্তাপে ঘর ভরে যায়। বন্ড কপালের ঘাম মোছে। বাষ্পে ঘর ভরে ওঠে। ঘড়িতে ১১-১৬ বাজে।
বন্ড ঘুরে দাঁড়িয়ে ওদের মুখোমুখি হল। ক্লোফেন্ড ইরমা বানট কে বলল, তুমি ঠিকই বলেছিলে। এ সেই ব্রিটিশ লোকটা! ক্লোফেল্ড বন্ডের দিকে ফিরে তাকায়। এবারে সব খুলে বললে এই তলোয়ারের ঘায়ে তোমার দ্রুত এবং সম্মানজনক মৃত্যু হবে। যদি তুমি মুখ না খোল, তাহলে তুমি ধীরে ধীরে ভয়ংকরভাবে মরবে। বন্ড খুব সহজভাবে বলল, ক্লোফেন্ড তুমি তো এত আহাম্মক ছিলে না।লন্ডন এবং টোকিওর বহু লোকই জানে আজ রাতে আমার এখানে উপস্থিত থাকার কথা। তোমার অনেক টাকা আছে। এই অবস্থায়। তুমি বড় উকিল লাগিয়ে সওয়াল করতে পার তোমার চরম শাস্তি হবে কি হবে না। কিন্তু আমাকে যদি মেরে ফেল, তুমিও তাহলে নির্ঘাৎ মরবে।
মিঃ বন্ড, তুমি সত্যি কথা বলছ না। আমার এখানে উপস্থিতির কথাও যদি সরকারীভাবে জানাজানি হয়ে থাকে তাহলে এক দঙ্গল পুলিশ আসতো আমাকে গ্রেফতার করতে। তার সাথে থাকত সি.আই.এ-র কোন হোমরা-চোমরা অফিসার। ওদের ফেরারী লিস্টে অবশ্যই আমার নাম আছে। এটা মার্কিন প্রভাব অধ্যুষিত জায়গা। কিন্তু গোড়াতেই পুলিশের বদলে একজন ইংরেজের আসা একেবারে অসম্ভব।
কে তোমাকে বলেছে, এটা পুলিশের হস্তক্ষেপ ইংল্যান্ডে থাকতেই আমি এ জায়গা সম্বন্ধে জোর গুজব শুনেছিলাম। আমি ঘুরে ফিরে দেখব বলে অনুমতি চেয়ে এখানে এসেছি। কিন্তু আমার পাত্তা সকলের জানা। আমি এ ফিরলে এর চরম প্রতিশোধ তুমি পাবে। কিন্তু মিঃ বন্ড, তুমি যে আমার পাত্তা আদৌ পেয়েছিলে তারই তো কোন চিহ্ন থাকছে না। আমার এই রাজ্যে যে তুমি প্রবেশ করেছিলে তার কোন প্রমাণই থাকবে না। আমি কিছু খবর পেয়েছি, তাতে তোমার এখানে আসাটাও মিলে যাচ্ছে। আমার এজেন্টের বর্ণনার সাথে তোমার চেহারা মিলে যাচ্ছে।
ব্লোফেন্ড-এর চোখের কালো দুটো গর্তে আগুনের ফুলকি দপদপ করতে লাগল। মিস্টার বন্ড, আমি ওই টাকার সব কিছুই জানি। লোকটা ভীষণ নির্মম ও নিষ্ঠুর, এর আগে তার এক গুপ্তচরকে জেরা করতে পাঠিয়েছিল, তাকে সে খুইয়েচে। তোমাকেও হাতের কাছে পায়। হয়ত কিছু চাইতে, কিছুর বিনিময়ে শেষ পর্যন্ত তুমি এখানে আসতে সম্মত হয়েছ–আমাকে হত্যা করতে। আমি জানতেও চাই না তুমি কখন টের পেলে যে, ডাক্তার শ্যাটারহ্যান্ড আসলে অনস্ট স্ট্যাভরো ক্লেফেন্ড। ব্যক্তিগত কারণ তুমি হয়ত আমাকে খুন করতে চাইতে পার। কিন্তু আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই একথা তুমি চেপে গেছ। তোমার ভয়, পাছে সরকারী উদ্যোগ তোমার ব্যক্তিগত প্রতিশোধ স্পৃহার বাধা হয়ে ওঠে। বন্ড একটা সিগারেট ধরায়। খুব শান্তভাবে বলে, আমি আবার বলছি ব্লোফেল্ড, আমার যদি কিছু হয় তাহলে তুমি এবং তোমার অপকর্মের সঙ্গী হিসেবে ওই স্ত্রীলোকটি আগামী বড়দিনের মধ্যেই মারা পড়বে। ঠিক আছে, মিঃ বন্ড। আমার কাছে যে খবর আছে, সেটা এতই সুনিশ্চিত যে, আমি এখন তোমাকে নিজের হাতেই খুন করব। বহুদিন তুমি আমার পায়ের কাঁটা হয়ে আছ। আমি নিজেকে এ কালের সামুরাই বলে মনে করি। আমার তলোয়ারে এখনো কোন রক্তের দাগ পড়েনি। বউনি করার পক্ষে তোমার মাথাটা ভারি সুন্দর।
ফুলের বোঁটা থেকে মুখ তুলে তাকায় ইরমা বাট। সে বলে, প্রিয় অনেস্ট, তুমি যা স্থির কর তা সব সময়েই ঠিক হয় কিন্তু খুব সাবধান। এই জন্তুটি বড় ভয়ঙ্কর।
.
হাওয়ায় বাজে বজ্র
বন্ডের শরীরের মধ্যে একটা উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছিল। সে হাতের সিগারেটটা কার্পেটের ওপর ফেলে দিল। বন্ড বলল, তোমরা দুজনেই পাগল।
বন্ডকে ব্লোফেল্ডও বলল, ভেবে দেখ তুমি কে? সমাজে উচ্চাসীন কতগুলো স্কুল লোকের হাতের পুতুল! নিজের কু প্রবৃত্তিকে তুমি মদ, নিকোটিন আর যৌনতায় সন্তুষ্ট করে রেখেছ। একের পর এক অসৎ অসাধু কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েই তুমি খালাস।
ব্লোফেন্ড প্রকাণ্ড চেহারার লোক। হয়ত ছফিট তিন চার ইঞ্চি তার উচ্চতা। ফাঁক করা দু পায়ের মাঝখানে তলোয়ারের আগাটা রাখল। ঘরের আর এক প্রান্ত থেকে দেখে বন্ড মনে মনে স্বীকার করতে বাধ্য হল যে, ওর এই বিশাল চেহারাটা কোথায় যেন জীবনের সব ধারণাকে ছাড়িয়ে যেতে চায়। তার বিরাটত্বের কাছে আর সবাইকে যেন অতিক্ষুদ্র মনে হয়। আর বা বুকে ওই যে সোনালি কাজ করা ড্রাগনটা যাকে শিশুসুলভ অবাধ কল্পনা, উপহাস বলে উড়িয়ে দেওয়া চলে, তা যেন সকলকে জিব থেকে সত্যিকারের আগুন ছড়াচ্ছে। বন্ড তার শত্রুকে দেখতে লাগল।
